হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (149)


وَعَنْ مُعَاذٍ - رضي الله عنه - أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم: مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنِ اِمْرَأَتِهِ, وَهِيَ حَائِضٌ? قَالَ: «مَا فَوْقَ الْإِزَارِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَضَعَّفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (213) وتضعيف أبي داود رحمه الله في محله، ولكنه ينصب على حديث معاذ، إذ إسناده ضعيف، وفيه زيادة وهي قوله: «والتعفف عن ذلك أفضل» وهي زيادة منكرة. وتصحيحي للحديث إنما هو للجملة التي ذكرها الحافظ فقط، إذ يوجد ما يشهد لها كما هو مذكور «بالأصل». والله أعلم




১৪৯। মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হায়িয অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে কি কি কাজ হালাল বা বৈধ? তিনি বললেন, ‘পাজামা বা লুঙ্গির মধ্যে শরীরের যে অংশটুকু থাকে তা বাদে সবকিছু বৈধ। আবূ দাউদ এটিকে যঈফ (দুর্বল) রূপে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ২১৩। বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১৪৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে সা'দ বিন আবদুল্লাহ আল আগত্বাস রয়েছে যাকে হাদীস বর্ণনায় লীন (অপরিপক্ক) বলা হয়েছে, অপর একজন বর্ণনাকারী বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ, সে আন আন করে হাদীস বর্ণনাকারী মুদাল্লিস। এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তবে আবদুল্লাহ সাদ আল আসনারী থেকে হাসান সনদে এর শাহেদ হাদীস রয়েছে। শাইখ আলবানী উক্ত আবদুল্লাহ সাদ আল আসনারী বর্ণিত হাদীসটিকে সহীহ আবু দাউদ (২১২) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (150)


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَتِ النُّفَسَاءُ تَقْعُدُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بَعْدَ نِفَاسِهَا أَرْبَعِينَ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَاللَّفْظُ لِأَبِي دَاوُدَ
وَفِي لَفْظٍ لَهُ: وَلَمْ يَأْمُرْهَا النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِقَضَاءِ صَلَاةِ النِّفَاسِ. وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (311)، والترمذي (139)، وابن ماجه (648)، وأحمد (6/ 300) وقال الترمذي: غريب
ضعيف. كسابقه، وهو عند أبي داود (312)، والحاكم (175)




১৫০। উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে নিফাসের (প্রসবোত্তর স্রাব) জন্য (দীর্ঘ মেয়াদ হিসাবে) মেয়েরা চল্লিশ দিন (সালাত ও সওম ইত্যাদি হতে) অপেক্ষমান থাকতেন”। শব্দ বিন্যাস আবূ দাউদের।[1]



আবূ দাউদের শব্দে আরও আছে, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিফাসের অবস্থায় সালাত কাযা পড়বার আদেশ তাদের করতেন না। হাকিম হাদীসটি সহীহ বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ৩১১; তিরমিযী ১৩৯; ইবনু মাজাহ ৬৪৮; আহমাদ ৬/৩০০; ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীসটি গরীব'। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা গ্রন্থে (১/৩৪১) বলেন, হাদীসটি মাহফুয বা সংরক্ষিত নয়। ইবনুল কীসরানী তাঁর মা’রিফাতুত তাযকিরাহ (১৮০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে কাসীর বিন যিয়াদ রয়েছে, সে কিছু হাদীস এলোমেলোভাবে বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে শাইখ আলবানী সহীহ আবু দাউদ (৩১১) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (৩/১৩১) গ্রন্থে ও বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১৪৫) গ্রন্থে এর শাহেদ থাকার কথা বলেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর যাদুল মা'আদ (৪/৩৬৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল (২০১) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর ইলালুল কাবীর (১২৬) গ্রন্থে বলেন, আশাকরি হাদীসটি মাহফূয।

[2] যঈফ। আবু দাউদ ৩১২; হা. ১৭৫









বুলূগুল মারাম (151)


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتْ الشَّمْسُ, وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ, وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبْ الشَّفَقُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعْ الشَّمْسُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (612) (173)، وتمامه: «فإذا طلعت الشمس فأمسك عن الصلاة، فإنها تطلع بين قرني شيطان». وله ألفاظ أخر




১৫১। আবদুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যুহরের সময় হচ্ছে, যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ে, আর মানুষের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত, তথা ‘আসরের সময় উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত। ‘আসরের সময় হচ্ছে, (কোন বস্তুর ছায়া তার সমান হবার পর হতে) সূর্যের রঙ হালকা বা ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত। মাগরিবের সময় সূর্যাস্ত থেকে আরম্ভ করে পশ্চিমকাশে লালিমা নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত। ‘ইশার, সালাতের সময় হলো, (মাগরিবের সময় শেষ হওয়া থেকে শুরু হয়ে) মধ্যরাত অবধি বিদ্যমান থাকে। ফজরের সময়, সুবহে সাদিক থেকে আরম্ভ হয়ে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৭৩, ৬১২; পূর্ণাঙ্গ হাদীস হচ্ছেঃ فإذا طلعت الشمس فأمسك عن الصلاة، فإنها تطلع بين قرني شيطان যখন সূর্য উদিত হয় তখন সালাত থেকে বিরত থাকো। কেননা সূর্য শয়তানের দু’ শিংয়ের মাঝ দিয়ে উদিত হয়।









বুলূগুল মারাম (152)


وَلَهُ مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ فِي الْعَصْرِ: وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (613) وعنده: «والشمس مرتفعة ... ». ومعنى «بيضاء نقية»: أي: لم يدخلها شيء من الصفرة، وفي الحديث السابق: ما لم تصفر الشمس




১৫২। মুসলিমে বুরাইদাহ (রাঃ)-এর হাদীসে আসর সম্পর্কে রয়েছে (সূৰ্য আলোক উজ্জ্বল থাকা পর্যন্ত)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬১৩; ইমাম মুসলিমের মতে والشمس مرتفعة এর অর্থ يضاء نقية অর্থাৎ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার সাদা। তথা তাতে হলদে রঙয়ের কোন মিশ্রণ থাকবে না। আর পূর্ববতী হাদীসে রয়েছে ما لم تصفر الشمس অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য হলুদাভ না হয়।









বুলূগুল মারাম (153)


وَمِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (614) من حديث طويل، وفيه: «ثم أمره، فأقام بالعصر




১৫৩। আর আবূ মূসা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, এবং সূর্য উঁচুতে থাকা পর্যন্ত (‘আসরের সময় থাকে)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬১৩ এটা বড় একটি হাদীসের অংশ বিশেষ। তাতে আছে- তাকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আসরের সালাত আদায় করলেন।









বুলূগুল মারাম (154)


وَعَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّيَ الْعَصْرَ, ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ, وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ مِنَ الْعِشَاءِ, وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا, وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ, وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (547)، ومسلم (647) واللفظ للبخاري. و «رحله»: بفتح الراء وسكون الحاء المهملة «مسكنة». و «حية»: أي بيضاء نقية كما في الرواية السابقة، وصح عن أحد التابعين قوله: حياتها أن تجد حرها. و «ينفتل»: أي: ينصرف




১৫৪। আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সালাত আদায় করতেন তার পর আমাদের কোন ব্যক্তি রওয়ানা হয়ে মাদীনার দূর প্রান্তের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও সূর্য জীবিত তথা সূর্যের উজ্জ্বলতা বাকী থাকতো। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত দেরিতে আদায় করা পছন্দ করতেন এবং ‘ইশা সালাতের পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলাকে অপছন্দ করতেন। আর তিনি ফজরের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যখন লোক তার পাশে বসে থাকা সঙ্গীকে চিনতে পারত। আর ষাট আয়াত থেকে একশো আয়াত তিলাওয়াত করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৪৭; মুসলিম ৬৪৭। শব্দ বিন্যাস বুখারীর। এখানে رحله শব্দটির র (ر) অক্ষরে যাবার হা (ح) অক্ষরে সাকিন সহ পড়তে হবে। حية অর্থাৎ স্বচ্ছ পরিস্কার সাদা যেমন পূর্ববতী বৰ্ণনায় রয়েছে। আর একজন তাবেয়ী হতে তার এ কথাটি সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে حياتها أن تجد حرها সূর্য জীবিত থাকার অর্থ হচ্ছে সূর্যে উত্তাপ পাওয়া।









বুলূগুল মারাম (155)


وَعِنْدَهُمَا مِنْ حَدِيثِ جَابِرٍ: وَالْعِشَاءُ أَحْيَانًا وَأَحْيَانًا: إِذَا رَآهُمْ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ, وَإِذَا رَآهُمْ أَبْطَئُوا أَخَّرَ, وَالصُّبْحَ: كَانَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (560)، ومسلم (646)، واللفظ للبخاري ولفظ مسلم: والعشاء أحيانا يؤخرها، وأحيانا يعجل




১৫৫। বুখারী ও মুসলিমে জাবির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে- ‘ইশার সালাত কখনও দ্রুত কখনও দেরীতে পড়তেন। যখন দেখতেন লোক একত্রিত হয়ে গেছে তখন তাড়াতাড়ি করতেন। আর তারা বিলম্বে উপস্থিত হলে বিলম্বেই আদায় করতেন। আর তিনি ফজরের সালাত খানিকটা অন্ধকারে আদায় করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৬০; মুসলিম ৬৪৬ শব্দবিন্যাস বুখারীর। মুসলিমের বর্ণনায় আছে والعشاء أحيانا يؤخرها، وأحيانا يعجل এশার সালাত কখনো বিলম্বে আদায় করতেন আবার কখনো তাড়াতাড়ি পড়ে নিতেন।









বুলূগুল মারাম (156)


وَلِمُسْلِمٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ, وَالنَّاسُ لَا يَكَادُ يَعْرِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح، وهي قطعة من الحديث السابق برقم (153)




১৫৬। মুসলিমে আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, ঐ সময় ফজরের সালাত আদায় করতেন যখন ফজর প্রকাশ অর্থাৎ সুবহে সাদিক হতো। কিন্তু লোকেরা পরস্পরকে তখনও ভালভাবে চিনতে সক্ষম হতো না।












বুলূগুল মারাম (157)


وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (559)، ومسلم (637) وقال الحافظ في «الفتح» (2/ 41): ومقتضاه المبادرة بالمغرب في أول وقتها، بحيث أن الفراغ منها يقع والضوء باق




১৫৭। রাফি বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর সেখান থেকে ফেরার পরও আমাদের লোক তার ‘নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হবার দূরবর্তী স্থানটি দেখতে পেতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৫৯; মুসলিম ৬৩৭; হাফিজ ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারীতে (২/৪১) বলেনঃ ومقتضاه المبادرة بالمغرب في أول وقتها، بحيث أن الفراغ منها يقع والضوء باق সময় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই মাগরিব সালাত আদায় করা কর্তব্য। এমনকি সালাত শেস হওয়ার পরেও যেন উজ্জ্বলতা অবশিষ্ট থাকে।









বুলূগুল মারাম (158)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - ذَاتَ لَيْلَةٍ بِالْعِشَاءِ, حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ, ثُمَّ خَرَجَ, فَصَلَّى, وَقَالَ: «إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (638) (219) و «أعتم»: أخرها حتى اشتدت عتمة الليل، وهي ظلمته




১৫৮। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক রাতে ‘ইশার সালাত আদায় করতে অনেক বিলম্ব করেছিলেন। এমন কি রাতের বেশ কিছু সময় গত হয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি বের হয়ে সালাত আদায় করে বললেন, এটাই হচ্ছে ‘ইশা সালাত আদায়ের উপযুক্ত সময়, যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্ট মনে না করতাম। তবে এসময়টাকেই নির্ধারণ করতাম।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ২১৯, ৬৩৮, 'أعتم' অৰ্থাৎ; বিলম্ব করতেন এমনটি রাতের অন্ধকার খুব ঘনীভূত হয়ে আসত।









বুলূগুল মারাম (159)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ, فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (536)، ومسلم (615) و «الإبراد» تأخير صلاة الظهر إلى أن يبرد الوقت




১৫৯। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন দিনের উত্তাপ খুব বেড়ে যাবে তখন উত্তাপ কমে (আবহাওয়া) ঠাণ্ডা হলে (যুহরের) সালাত পড়বে। কেননা কঠিন উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের তীব্ৰতা থেকে হয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৩৬; মুসলিম, ৬১৫০; হাদীসের “الإبراد“ যুহর সালাতকে ঠাণ্ডা হওয়া সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা।









বুলূগুল মারাম (160)


وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِأُجُورِكُمْ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (424)، والنسائي (172)، والترمذي (154)، وابن ماجه (672)، وأحمد (3/ 465 و 440 و 142 و 143)، وابن حبان (1490)، (1491) وفي لفظ: «أعظم للأجر»، وفي أخر: «لأجرها». وقال الترمذي: «حديث رافع بن خديج حديث حسن صحيح». ومعنى «أسفروا»: أراد صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة التي لا يتبين فيها وضوح طلوع الفجر؛ لئلا يؤدي المرء صلاة الصبح إلا بعد التيقن بالإسفار بطلوع الفجر، فإن الصلاة إذا أديت كما وصفنا كان أعظم للأجر من أن تصلى على غير يقين من طلوع الفجر. قاله ابن حبان. ومن قبل ذلك نقل الترمذي عن الشافعي وأحمد وإسحاق أنهم قالوا: معنى الإسفار: أن يضح الفجر فلا يشك فيه




১৬০। রাফি বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের সালাত স্পষ্ট সুবহি সাদিক হলে আদায় করা। কেননা তা তোমাদের জন্য অধিক পুণ্যের কারণ। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৪২৪; নাসায়ী ১৭২; তিরমিযী ১৫৪; ইবনু মাজাহ ৬৭২; আহমাদ ৩/১৪০, ১৪২, ১৪৩, ৪৪০, ৪৬৫; ইবনু হিব্বান ১৪৯০, ১৪৯১; ইমাম তিরমিযী বলেন: রাফে বিন খাদীজ এর হাদীসটি হাসান সহীহ। আর এখানে أسفروا বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদনী রাতসমূহের ক্ষেত্রে এ শব্দ প্রয়োগ করেছেন যেহেতু এমন রাত্রে ফযর উদয়ের উজ্জলতা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। এটা এজন্য যে, লোকেরা যেন ফযর উদয় হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত ফযরের সালাত আদায় না করে। কেননা, হাদীসে আমাদেরকে যে সময় ফযর সালাত আদায়ের বলা হয়েছে সে সময়ে আদায় করলে অত্যন্ত বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে ঐ সময়ের চেয়ে যে সময় ফযর উদয়ের দৃঢ়তা না নিয়েই সালাত আদায় করা হবে।









বুলূগুল মারাম (161)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ, وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (579)، ومسلم (608)




১৬১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাতের এক রাকআত সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে আদায় করতে পারলো সে পূর্ণ সালাতই পেলে, আর যে ব্যক্তি ‘আসরের সালাতের এক রাকআত সূর্যাস্তের পূর্বে আদায় করলো, সে ‘আসরের পূর্ণ সালাতই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেলে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৭৯; মুসলিম ৬০৮।









বুলূগুল মারাম (162)


وَلِمُسْلِمٍ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَهُ, وَقَالَ: «سَجْدَةً» بَدَلَ «رَكْعَةً». ثُمَّ قَالَ: وَالسَّجْدَةُ إِنَّمَا هِيَ الرَّكْعَةُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (609) ولفظه: «من أدرك من العصر سجدة قبل أن تغرب الشمس، أو من الصبح قبل أن تطلع فقد أدركها» والسجدة إنما هي الركعة




১৬২। এবং মুসলিমে ‘আয়িশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসেও অনুরূপ কথা উল্লেখ রয়েছে। তাতে রাকাআতের পরিবর্তে সিজদা শব্দ রয়েছে এবং পরে তিনি বলেন, এখানে সিজদার অর্থ রাকআত হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬০৯ মুসলিমের শব্দসমুহ হচ্ছে من أدرك من العصر سجدة قبل أن تغرب الشمس، أو من الصبح قبل أن تطلع فقد أدركها যে ব্যক্তি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের সালাতের একটি সিজদাহ পেল সে আসরের সালাত পেয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি সূর্য উঠার পূর্বে ফযরের সালাতের এক সিজদা পেল সে ফযরের সালাত পেয়ে গেল। এখানে সিজদাহ হতে রাকয়াত উদ্দেশ্য।









বুলূগুল মারাম (163)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا صَلَاةَ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
وَلَفْظُ مُسْلِمٍ: لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (586)، ومسلم (827) وفي لفظ البخاري «ترتفع» بدل «تطلع». وأن لفظ مسلم فعدا عما ذكره الحافظ فقد وقع عنده تقديم النهي عن الصلاة بعد العصر على النهي بعد صلاة الفجر. وعنده أيضا «تغرب» بدل تغيب




১৬৩। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি তিনি বলেন; ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের সালাত ব্যতীত অন্য কোন সালাত (আদায় জায়েজ) নেই। আর ‘আসর সালাতের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নেই।



মুসলিমের শব্দগুলো হচ্ছে: ফজরের সালাতের পর অন্য কোন সালাত নেই।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৮৬; মুসলিম ৮২৭।









বুলূগুল মারাম (164)


وَلَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ: ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّي فِيهِنَّ, وَأَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ, وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ, وَحِينَ تَتَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ
وَالْحُكْمُ الثَّانِي عِنْدَ «الشَّافِعِيِّ» مِنْ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (831) و «قائم الظهيرة»: أي قيام الشمس وقت الزوال، وذلك عند بلوغها وسط السماء فإنها عند ذلك يبطئ حركتها




১৬৪। এবং মুসলিমে ‘উকবাহ বিন ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এমন তিনটি সময় রয়েছে যে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে, মৃতকে কবর দিতে নিষেধ করেছেনঃ (১) সূর্য উজ্জ্বল হয়ে উঠা হতে কিছুটা উপরে উঠা পর্যন্ত, (২) এবং ঠিক দুপুর হলে যে পর্যন্ত না সূর্য (পশ্চিম আকাশে) ঝুঁকে পড়ে, (৩) আর যখন সূর্য ঝুঁকে পড়ে অস্ত যাবার উপক্রম হয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ মুসলিম ৮৩১. “قائم الظهيرة” দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূর্য ঢলে যাবার পূর্বে স্থির হওয়া। এ সময় ঠিক আকাশের মাঝ বরাবর অবস্থান করে এবং সূর্যের গতি কিছুক্ষণের জন্য স্থির থাকে।









বুলূগুল মারাম (165)


حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ. وَزَادَ: إِلَّا يَوْمَ الْجُمْعَةِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الشافعي في «المسند» (139/ 408) عن أبي هريرة؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الصلاة نصف النهار، حتى تزول الشمس إلا يوم الجمعة. قلت: وفي إسناده متروكان




১৬৫। কিন্তু শাফিঈ (রহঃ)-এর নিকট দ্বিতীয় হুকুম যেটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে যঈফ সানাদে বর্ণনা করে তাতে বৃদ্ধি করেছেনঃ “জুমুআহর দিন ব্যতীত”।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অত্যন্ত যঈফ। শাফিয়ী তাঁর মুসনাদে (১৩৯, ৪০৮) আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক দুপুরে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না তা ঢলে যায়। তবে শুক্রবার ব্যতীত। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: এ হাদীসে দু’জন মাতরূক রাবী আছে।









বুলূগুল মারাম (166)


وَكَذَا لِأَبِي دَاوُدَ: عَنْ أَبِي قَتَادَةَ نَحْوُهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (1083) عن أبي قتادة، عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ أنه كره الصلاة نصف النهار إلا يوم الجمعة، وقال: «إن جهنم تسجر إلا يوم الجمعة». قلت: وفي سنده ضعف وانقطاع. وأما عن الصلاة نصف النهار، فقد قال ابن القيم في «الزاد» (1/ 380): «اختلف الناس في كراهة الصلاة نصف النهار على ثلاثة أقوال. أحدها: أنه ليس وقت كراهة بحال، وهو مذهب مالك. الثاني: أنه وقت كراهة في يوم الجمعة وغيرها، وهو مذهب أبي حنيفة والمشهور من مذهب أحمد. الثالث: أنه وقت كراهة إلا يوم الجمعة، فليس بوقت كراهة، وهذا مذهب الشافعي». ا. هـ. قلت: ومذهب الشافعي هو أعدل المذاهب، وهو الذي تدل عليه الأحاديث الصحيحة




১৬৬। আবূ দাউদেও আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ১০৮৩ আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক দুপুরে সালাত আদায় করা অপছন্দ করেছেন। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তাঁর যাদুল মা’আদে (১/৩৮০) বলেন, ঠিক দুপুরে সালাত আদায় অপছন্দনীয় হওয়ার ব্যাপারে মানুষেরা তিনটি অভিমত পোষণ করেছেন।

১. সেটা কোন অপছন্দনীয় সময় নয়। এটা ইমাম মালিকের অভিমত।

২. জুমুআহ এবং অন্যান্য সব সালাতের ক্ষেত্রেই সে সময়টায় সালাত আদায় অপছন্দীয়। এটা ইমাম আবু হানীফার অভিমত এবং ইমাম আহমাদ (রহঃ) এর প্রসিদ্ধ অভিমত।

৩. সে সময়টা জুমুআহ ব্যতীত অন্যান্য দিনের জন্য সালাত আদায়ের অপছন্দনীয় সময়। জুমুআর দিনে কোন অপছন্দনীয় সময় নেই। এটা ইমাম শাফিয়ীর (রহঃ) এর অভিমত। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: ইমাম শাফিয়ীর অভিমতই ন্যায়ভিত্তিক অভিমত। এ অভিমতের পক্ষে সহীহ হাদীসসমূহ প্রমাণিত রয়েছে। ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি মুরসাল। কেননা; বর্ণনাকারী আব্দুল খালীল আবু কাতাদাহ থেকে শুনেননি। এছাড়া এ হাদীসে লাইস বিন আবু সুলাইম রয়েছেন। তিনি দুর্বল রাবী (আত্-তালখীসুল হাবীর ১/৩১১), ইমাম শাওকানী বলেন, হাদীসটি মুনকাতি। এর মধ্যে লাইস বিন আবু সুলাইম দুর্বল। (নাইলুল আওতার ৩/১১২), ইমাম যাহাবীও লাইসকে দুর্বল বলেছেন। (তানকীহুত তাহকীক ১/২০২)। ইবনু হাজার বলেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ হচ্ছে একক বৰ্ণনাকারী আর তিনি সত্যবাদী। (আত্-তালখীসুল হাবীর ১/২৮৬), ইমাম শাওকানীও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন। (নাইলুল আওতার ১/৪১১), দারাকুতনী বলেন, হাদীসটি গরীব, এর সকল রাবী বিশ্বস্ত (আল-বাদারুল মুনীর ৩/১৮৮)









বুলূগুল মারাম (167)


وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ, لَا تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ [أَ] ونَهَارٍ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1894)، والنسائي (184 و 523)، والترمذي (868)، وابن ماجه (1254)، وأحمد (4/ 80 و 81 و 82 و 83 و 84)، وابن حبان (1552 و 1553 و 1554) وقال الترمذي: حديث حسن صحيح




১৬৭। যুবাইর বিন মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে ‘আবদি মানাফ এর বংশধরগণ, তোমরা কাউকে এ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং সালাত আদায় করতে নিষেধ করবে না। যে কোন সময় যে কেউ তা করতে চায়। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ১৮৯৪; নাসায়ী ১৮৪, ৫২৩; তিরমিযী ৮৬৮; ইবনু মাজাহ ১২৬৫; আহমাদ ৪/৮০, ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪; ইবনু হিব্বান ১৫৫২, ১৫৫৩, ১৫৫৪। ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।









বুলূগুল মারাম (168)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «الشَّفَقُ الْحُمْرَةُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَصَحَّحَ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَغَيْرُهُ وَقْفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الدارقطني في «السنن» (1/ 269/3) وتمام لفظه: فإذا غاب الشفق، وجبت الصلاة




১৬৮। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, ‘শাফাক্ব এর অর্থ হুমরা (সূর্যাস্তের পরবর্তী পশ্চিমাকাশে দৃশ্যমান লাল আভা)। ইমাম দারাকুতনী এটিকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন এবং অন্যান্যরা একে মাওকুফ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। দারাকুতনী ১/৩/২৬৯। হাদীসটির শব্দসমষ্টি হচ্ছেঃ فإذا غاب الشفق، وجبت الصلاة যখন শাফাক অস্তমিত হবে ইশার সালাতের সময় উপস্থিত হবে। শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলা যঈফাহ (৩৭৫৯) গ্রন্থে, যঈফুল জামে (৩৪৪০) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (৩৩৩) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে হাশীম বিন বাশীর রয়েছে সে আবদুল্লাহ আল উমরী থেকে কোন হাদীসই শুনেনি। ইমাম নববী তাঁর তাহযীব আল আসমা ওয়াল লুগাত (৩/১৬৫) গ্রন্থে বলেন, ইবনু উমার থেকে হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোন প্রমাণ নেই।