হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (189)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ, وَعَائِشَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ, فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ»، وَكَانَ رَجُلًا أَعْمَى لَا يُنَادِي, حَتَّى يُقَالَ لَهُ: أَصْبَحْتَ, أَصْبَحْتَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي آخِرِهِ إِدْرَاجٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (617)، ومسلم (1092) واللفظ للبخاري




১৮৯। ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তারা বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিলাল তো বস্তুতঃপক্ষে রাতে (সুবহি সাদিকের পূর্বে)। আযান দেয়। অতএব তোমরা পানাহার (সাহারী খাও) করতে থাকো যতক্ষণ না ইবনু উম্মু মাকতুম ফজরের সালাতের আযান দেয়। তিনি ছিলেন অন্ধ তাই আসবাহতা, আসবাহতা (সকাল করে ফেললেন, সকাল করে ফেললেন) না বলা পর্যন্ত তিনি (ফজরের) আযান দিতেন না[1]। এ হাদীসের শেষাংশে কিছু ইদরাজ বা রাবীর কিছু বক্তব্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার সাথে সন্নিবেশিত হয়েছে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১৭; মুসলিম ১০৯২। শব্দবিন্যাস বুখারীর

[2] হাদীসের শেষে রাবী কর্তৃক বর্ধিত অংশটুকু হচ্ছে وكان رجلا أعمى لا ينادي، حتى يقال له: أصبحت. أصبحت।









বুলূগুল মারাম (190)


-




১৯০। দেখুন পূর্বের হাদীস।












বুলূগুল মারাম (191)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: إِنَّ بِلَالًا أَذَّنَ قَبْلَ الْفَجْرِ, فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يَرْجِعَ, فَيُنَادِيَ: «أَلَا إِنَّ الْعَبْدَ نَامَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ، وَضَعَّفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (532)، وأما تضعيف أبي داود فمثله فعل الترمذي إذ قال: «حديث غير محفوظ»، وحجتهم في ذلك أن حماد بن سلمة أخطأ فيه. قلت: وتخطئة الثقة بدون بينة مردود كما فعلوا ذلك هنا




১৯১। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বিলাল (রাঃ) ফজরের (সময়ের অল্প) পূর্বে আযান দিয়েছিলেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে- ‘এ বান্দা অবশ্য ঘুমিয়ে গিয়েছিল বলে ঘোষণা দিতে নির্দেশ করলেন। আবূ দাউদ একে যঈফ (দুর্বল) রূপে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৫৩২, আবু দাউদের মতই তিরমিযীও হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন । যেমন তিনি বলেছেন: حديث غير محفوظ হাদীসটি সংরক্ষিত নয় । এ কথার সমর্থনে তাদের দলীল হচ্ছে যে, হাম্মদ বিন সালামাহ তাতে ভুল করেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: নির্ভরযোগ্য রাবীর ক্রটি বিনা প্রমাণে বর্ণনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। যেমনটি তারা করেছেন।









বুলূগুল মারাম (192)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ, فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (611)، ومسلم (383)




১৯২। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যখন আযান শুনবে তখন মুয়াযযিন যা বলেন তোমরা তাই বলবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১১; মুসলিম ৩৮৩









বুলূগুল মারাম (193)


وَلِلْبُخَارِيِّ: عَنْ مُعَاوِيَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (612) وفي رواية له برقم (914) من طريق أبي أمامة بن سهل بن حنيف قال: سمعت معاوية بن أبي سفيان، وهو جالس على المنبر، أذن المؤذن قال: الله أكبر. الله أكبر. قال معاوية: الله أكبر. الله أكبر. قال: أشهد أن لا إله إلا الله. فقال معاوية: أنا فقال: أشهد أن محمدا رسول الله. فقال معاوية: وأنا. فلما قضى التأذين. قال: يا أيها الناس! إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذا المجلس -حين أذن المؤذن- يقول: ما سمعتم مني من مقالتي




১৯৩। মুআবিয়াহ (রাঃ) হতেও অনুরূপ হাদীস বুখারীতে বর্ণিত আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১২ অন্য রেওয়ায়েতে (৯১৪) আবু উমামাহ বিন সাহল বিন হুনাইফ এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি মুয়াবিয়াহ বিন আবু সুফয়ান কে বলতে শুনেছি, তিনি মিম্বরের উপর বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় মুয়াজ্জিন আযান দিলেন; মুয়াজ্জিন বলল الله أكبر. الله أكبر মুয়াবিয়াহ বললেন الله أكبر. الله أكبر মুয়াজ্জিন বলল أشهد أن لا إله إلا الله মুয়াবিয়াহ বললেন أشهد أن لا إله إلا الله মুয়াজ্জিন বলল أشهد أن محمدا رسول الله মুয়াবিয়াহ বললেন أشهد أن محمدا رسول الله আর সাথে সাথে আমিও তাই বললাম। আযান শেষে বললেন, হে লোক সকল! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমন মজলিসে মুয়াজ্জিন যখন আযান দিতেন তখন এরকম বলতে শুনেছি যেরকম তোমরা আমাকে বলতে শুনলে।









বুলূগুল মারাম (194)


وَلِمُسْلِمٍ: عَنْ عُمَرَ فِي فَضْلِ الْقَوْلِ كَمَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ كَلِمَةً كَلِمَةً, سِوَى الْحَيْعَلَتَيْنِ, فَيَقُولُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (385) ونصه: عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذ قال المؤذن: الله أكبر. الله أكبر. فقال أحدكم: الله أكبر. الله أكبر. ثم قال: أشهد أن لا إله إلا الله. قال: أشهد أن لا إله إلا الله. ثم قال: أشهد أن محمدا رسول الله. قال: أشهد أن محمدا رسول الله. ثم قال: حي على الصلاة. قال: لا حول ولا قوة إلا بالله. ثم قال: حي على الفلاح. قال: لا حول ولا قوة إلا بالله. ثم قال: الله أكبر. الله أكبر. قال: الله أكبر. الله أكبر. ثم قال: لا إله إلا الله. قال: لا إله إلا الله. من قلبه دخل الجنة




১৯৪। এবং মুসলিমে ইবনু ‘উমার থেকে আযানের জবাবের ফযীলত সম্বন্ধে বর্ণিত রয়েছে মুয়াযযিন যা বলবেন শ্রোতা সেসব বাক্যই বলবেন। তবে “হায়ইআ আলাস সালাহ, হায়ইআ আলাল ফালাহquot; দুটির জবাবে বলবে- ‘লা হাওলা অলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।quot;[1]






তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৩৮৫









বুলূগুল মারাম (195)


وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ - رضي الله عنه - أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْنِي إِمَامَ قَوْمِي. قَالَ: «أَنْتَ إِمَامُهُمْ, وَاقْتَدِ بِأَضْعَفِهِمْ, وَاتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لَا يَأْخُذُ عَلَى أَذَانِهِ أَجْرًا». أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (531)، والترمذي (209)، وابن ماجه (714)، وأحمد (4/ 21و217)، والحاكم (1/ 199و201) وقال الترمذي: حسن كما نقل الحافظ عنه، ويتأيد نقل الحافظ بنقل غيره من الأئمة الآخرين كالنووي، والزيلعي، والمزي وغيرهم، إلا أنه في بعض النسخ التي اعتمد عليها الشيخ أحمد شاكر -رحمه الله- قول الترمذي: «حسن صحيح». ولم أجد ما يؤيد ذلك إلى الآن. فالله أعلم. قلت: ولفظ وطريق الحديث عند الترمذي، وابن ماجه يختلف عنه عند الباقين، ولم يكن يحسن من الحافظ -رحمه الله- العزو لهم كلهم هكذا إجمالا




১৯৫। ‘উসমান বিন আবিল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আমার গোত্রের (সালাতের) ইমাম করে দিন। তিনি বললেন, তুমি তাদের ইমাম হলে, তবে তুমি তাদের দুর্বল লোকের প্রতি খেয়াল রাখবে এবং এমন ব্যক্তিকে মুয়াযযিন নিয়োগ করবে যে আযানের বিনিময়ে কোন মজুরী নেবে না। তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, আর হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৫৩১; তিরমিযী ২০৯; ইবনু মাজাহ ৭১৪; আহমাদ ৪/২১, ২১৭; হা, ১/১৯৯, ২০১।









বুলূগুল মারাম (196)


وَعَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ لَنَا النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «وَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ... ». الْحَدِيثَ أَخْرَجَهُ السَّبْعَةُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (628)، ومسلم (674)، وأبو داود (589)، والنسائي (2/ 9)، والترمذي (205)، وابن ماجه (9799)، وأحمد (3/ 436 و5/ 53) وله ألفاظ، وهو عند بعضهم مطولا، وعند بعضهم مختصرا. وزاد البخاري في بعض رواياته: «وصلوا كما رأيتموني أصلي» وهي عند أحمد بلفظ: «كما تروني أصلي»، وليست هذه الزيادة عند أحد من أصحاب الكتب الستة سوى البخاري. وانظر رقم (327)




১৯৬। মালিক বিন হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, যখন সালাত (এর সময়) উপস্থিত হবে তখন তোমাদের একজন আযান দিবে (এটা একটা বড় হাদীসের খণ্ডাংশ)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬২৮; মুসলিম ৬৭৪; আবু দাউদ ৫৮৯; নাসায়ী ২/৯; তিরমিযী ২০৫; ইবনু মাজাহ ৯৭৯; আহমাদ ৩/৪৩৬, ৫/৫৩ এ হাদীসের কয়েকটি শব্দবিন্যাস আছে। কেউ হাদীসটিকে সংক্ষেপে, কেউ বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর কতক বর্ণনায় وصلوا كما رأيتموني أصلي “তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখ” অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন। আর আহমাদের বর্ণনায় বর্ধিত অংশ হচ্ছে: كما تروني أصلي তোমরা যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখ৷ ” বুখারী ব্যতীত প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের অন্য কোনটিতে এই বর্ধিত অংশটুকু নেই। (দেখুন বুখারী হা: ৩২৭)









বুলূগুল মারাম (197)


وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لِبِلَالٍ: «إِذَا أَذَّنْتَ فَتَرَسَّلْ, وَإِذَا أَقَمْتُ فَاحْدُرْ, وَاجْعَلْ بَيْنَ أَذَانِكَ وَإِقَامَتِكَ قَدْرَ مَا يَفْرُغُ الْآكِلُ مِنْ أَكْلِهِ». الْحَدِيثَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَضَعَّفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه الترمذي (1959)، وتمامه: «والشارب من شربه، والمعتصر إذا دخل لقضاء حاجته، ولا تقوموا حتى تروني». وقال الترمذي: «حديث جابر هذا حديث لا نعرفه إلا من هذا الوجه، من حديث عبد المنعم، وهو إسناد مجهول، وعبد المنعم: شيخ بصري». قلت: عبد المنعم: هو ابن نعيم الأسواري، وهو منكر الحديث كما قال البخاري وأبو حاتم




১৯৭। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেন- যখন আযান দিবে থেমে থেমে দিবে। আর ইকামত অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি বলবে। আযান ও ইকামাতের মধ্যে একটা লোক খানা খেয়ে উঠতে পারে ঐ পরিমাণ সময়ের ব্যবধান রাখবে। (হাদীসটির আরো অংশ আছে।)। তিরমিযী একে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার। তিরমিযী ১০৫৯। হাদীসের পূর্ণাঙ্গ অংশ হচ্ছে والشارب من شربه، والمعتصر إذا دخل لقضاء حاجته، ولا تقوموا حتى تروني পানকারী যখন পান করা শেষ করে। কোন ব্যক্তি যখন পেশাব-পায়খানা থেকে প্রয়োজন শেষে বের হয়। আর তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না। তিরমিযী বলেন, জাবির (রাঃ) এর এই আব্দুল মুনঈম থেকে বর্ণিত সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্র আমার জানা নেই। আর সে মাজহুল তথা অপরিচিত রাবী। আবদুল মুনঈম একজন বাসরী শায়খ। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: আব্দুল মুনঈম হচ্ছে ইবনু নুয়াইম আল-আসওয়ারী। সে মুনকারুল হাদীস। যেমনটি বলেছেন ইমাম বুখারী ও আবু হাতিম (রহঃ)।

এর সনদটি মাজহুল। এর সনদে ইয়াহইয়া আল-বুকা মাজহুল রাবী। (ইবনু আদীর আল কামিল ফিয যুয়াফা ৯/১৩), ইমাম বাইহাকী বলেন, এ হাদীসে আব্দুল মুনঈম বিন নাঈম রয়েছে তাকে ইমাম বুখারী মুনকারুর হাদীস হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর ইয়াহইয়া বিন মুসলিম আল-বুকাকে ইবনে মাঈন দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। (বাইহাকী আল আওসাত্ব ১/৪২৮)









বুলূগুল মারাম (198)


وَلَهُ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: لَا يُؤَذِّنُ إِلَّا مُتَوَضِّئٌ». وَضَعَّفَهُ أَيْضًا
فَالْحَدِيثُ ضَعِيفٌ مَرْفُوعًا وَمَوْقُوفًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (200) وضعَّفه بالانقطاع بين الزهيري وبين أبي هريرة. قلت: ورواه أيضا (201) موقوفا على أبي هريرة - ولا يصح أيضا - بلفظ: لا ينادي بالصلاة إلا متوضئ




১৯৮। তিরমিযীতে সংকলিত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তাতে আছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- উযূ আছে এরূপ ব্যক্তি ব্যতীত যেন আযান না দেয়।[1] এটাকেও তিনি যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। তিরমিযী ২০০ । যুহরী ও আবু হুরাইরা মধ্যে বিচ্ছিন্নতা থাকার কারণে তিরমিযী হাদীসটিকে যঈফ মন্তব্য করেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: তিরমিযী (২০১) নং এ আবু হুরাইরা হতে মওকুফ সূত্রে আরেকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এটিও সহীহ নয়। হাদীসের শব্দ হচ্ছে: ---- ওযূকারী ব্যক্তিই কেবল আযান দিবে।

[2] এর সনদে রয়েছে যুহরী যিনি আবু হুরায়রা থেকে শুনেননি। এর মধ্যে রয়েছে মুআবিয়া বিন ইয়াযিদ আস সাকাফী দুর্বল রাবী। (বাইহাকী কুবরা ১/৩৯৭), ইবনু কাসীরও অনুরূপ বলেছেন। (আল-আহকামুল কাবীর ১/১২৯), ইবনু সুয়ুতী তার জামেউস সগীরে এ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা (১/৩৯৭) গ্রন্থে, ইমাম ইবনু কাসীর তার আল আহকামুল কবীর (১/১২৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুআবিয়া বিন ইয়াহইয়া আস সিদকী নামক দুর্বল রাবী বিদ্যমান। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/২০৫) গ্রন্থে বলেন, যুহরী আবু হুরাইরাহ থেকে হাদীসটি শুনেনি। আর যুহরী থেকে যে বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তিনি দুর্বল। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (১/৪৪৫) গ্রন্থে, আহমাদ শাকের তাঁর শরহে সুনান আত তিরমিযী (১৪/৩৮৯) গ্রন্থে, বিন বায তাঁর মাজমূ ফাতাওয়া (৬/৩৪৫, ১০/৩৩৯) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী তাঁর যঈফুল জামে (৬৩১৭), যঈফ তিরমিযী (২০০), ইরওয়াউল গালীল (২২২) গ্রন্থে, ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (১/৪৮২) গ্রন্থে সকলেই হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (199)


وَلَهُ: عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «وَمَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ». وَضَعَّفَهُ أَيْضًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (199) وقال: «حديث زياد إنما نعرفه من حديث الإفريقي، والإفريقي ضعيف عند أهل الحديث». قلت: نعم هذا هو الصواب، وإن خالف بعضهم في ذلك كالعلامة أحمد شاكر -رحمه الله- الذي وثقه، وصحَّح حديثه، وكالحازمي الذي حسَّن حديثه




১৯৯। তিরমিযীর অন্য আর একটি হাদীসে যিয়াদ বিন হারিস থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান দেবে সে ইকামাত দেবে। এটাকেও তিরমিযী যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। তিরমিযী ১৯৯ তিরমিযী বলেন, যিয়াদের এ হাদীসটি ইফরীকী ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে পাইনি। আর ইফরীকী হাদীসবেত্তানের নিকট যঈফ-দুর্বল মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: দুর্বল কথাটিই সঠিক, যদিও কেউ কেউ এ বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন আল্লামা আহমাদ শাকির তিনি তাকে শক্তিশালী রাবী বলেছেন এবং তার বর্ণিত হাদীসকে সহীহ মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে হযিমী ((রহঃ)) তার হাদীসকে হাসান বলেছেন।

ইমাম ইবনু কাসীর তাঁর আল-আহকামুল কাবীর (১/৯৭) ও ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (২/৪১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবদুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম আল ইফরিকী রয়েছে, ইমাম তিরমিযী বলেন, মুহাদ্দিসগণের নিকট তিনি দুর্বল হিসেবে পরিচিত। ইয়াহইয়া আল কাত্তান সহ অনেকেই তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। (তিরমিযী বলেন) আমি ইমাম বুখারীকে দেখেছি, তিনি এ রাবীকে হাদীস বর্ণনার যোগ্য বলে মনে করতেন। মুহাদিস আযীমাবাদী তার আওনুল মা’বূদ (২/১২৬) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (১/৪৪৩) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ (১৩৬), যঈফ আবু দাউদ (৫১৪), যাঈফুল জামে (১৩৭৭), ইরওয়াউল গালীল (১/২৫৫) গ্রন্থে ইমাম নববী তার আল খুলাসা (১/২৯৭) হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (200)


وَلِأَبِي دَاوُدَ: فِي حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ: أَنَا رَأَيْتُهُ - يَعْنِي: الْأَذَانَ - وَأَنَا كُنْتُ أُرِيدُهُ. قَالَ: «فَأَقِمْ أَنْتَ». وَفِيهِ ضَعْفٌ أَيْضًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (512)




২০০। আবূ দাউদে ‘আবদুল্লাহ বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন : ‘আমি আযান (স্বপ্নে) দেখেছি। আর আমি তা দিতেও চাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমিই ইকামাত দেবে। এর সানাদেও দুর্বলতা আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ৫১২

ইমাম বুখারী তাঁর আত-তারীখুল কাবীর (৫/১৮৩) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটির সমালোচনা হচ্ছে, একজন আরেকজন থেকে শোনার কথাটি উল্লেখ নেই। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর আওনুল মা’বুদ (২/১২৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুহাম্মদ বিন আমার আল ওয়াকিফী আল আনসারী আল বাসারী রয়েছে। তাকে ইয়াহইয়া আল কাত্তান, ইবনু নুমাইর, ইয়াহইয়া বিন মুঈন সকলেই দুর্বল বলেছেন। এ হাদীসের সনদে এ রাবীর থাকার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। শাইখ আলবানী যঈফ আবু দাউদ (৫১২) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে ইবনুল মুলকীন খুলাস আল বাদরুল মুনীর (১/১০৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি হাসান, আর এর সনদ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইবনু হাজার বলেন, এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে একজন হচ্ছে মুহাম্মাদ বিন আমর আল-ওয়াকিয়ী আল আনসারী আল বাসরী সে দুর্বল। (আত-তালখীসুল হাবীর ১/৩৪৪, আওনুল মা’বুদ ২/১২৫, কাত্তান ইবনু নুসাইর, ইয়াহয়া বিন মুঈন সকলেই তাকে দুর্বল বলেছেন। (আওনুল মা’বুদ ২/১২৫)









বুলূগুল মারাম (201)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْمُؤَذِّنُ أَمْلَكُ بِالْأَذَانِ, وَالْإِمَامُ أَمْلَكُ بِالْإِقَامَةِ». رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ وَضَعَّفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن عدي في «الكامل» (4/ 1327) وفي سنده شريك بن عبد الله القاضي، وهو سيئ الحفظ. وبه أعله ابن عدي




২০১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আযানের অধিক কর্তৃত্ব মুআযযিনের উপর ন্যস্ত আর ইকামাত ইমাম সাহেবের কর্তৃত্বাধীন। ইবনু আদী, তিনি হাদীসটিকে যঈফ (দুর্বল)ও বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু আদী তাঁর কামিল গ্রন্থে (৪/১৩২৭) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার সনদে শারীক বিন আব্দুল্লাহ আল-কাযী রয়েছে যার স্মৃতিশক্তি খুব দুর্বল। ইবনু আদীও (রহঃ) তার ত্রুটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনু হাজার বলেন, হাদীসটি শারীক বিন আব্দুল্লাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে, মুআরিক বিন ইযাদ, সে দুর্বল। (আত্-তালখীসুল হাবীর ১/৩৪৭, যঈফা নং ৪৬৬৯, ইমাম শাওকানীও শারীকের দিকে দুর্বলতার ইঙ্গিত করেছেন। (নাইলুল আওত্বর ২/৩১), ইমাম বায়হাকীও সুরক্ষিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। (সুনানুল কুবরা ২/১৯)









বুলূগুল মারাম (202)


وَلِلْبَيْهَقِيِّ نَحْوُهُ: عَنْ عَلِيٍّ مِنْ قَوْلِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح موقوفا. رواه البيهقي (2/ 19) ولفظه: المؤذن أملك بالأذان، والإمام أملك بالإقامة




২০২। বাইহাকীতে অনুরূপ একটি হাদীস ‘আলী (রাঃ)-এর বচন বলে বর্ণিত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মাওকুফ হিসাবে সহীহ। বায়হাকী ২/১৯; তার হাদীসের শব্দ হচ্ছে: المؤذن أملك بالأذان، والإمام أملك بالإقامة মুয়াজ্জিনের হক আযান দেয়া আর ইমামের হক হলো ইকামত দেয়া। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা (২/১৯) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মারফু সূত্রে বর্ণিত, আর এটি মাহফুয নয়।









বুলূগুল মারাম (203)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه النسائي في «عمل اليوم والليلة» (67و68و69)، وابن خزيمة في «صحيحه» (425و426و427) ورواه الترمذي (3594) وذاد فيه: «فماذا نقول يا رسول الله؟ قال: سلوا الله العافية في الدنيا والآخرة». قلت: وهي زيادة ضعيفة تفرَّد بها يحيى بن يمان، وفي حفظه ضعف، وفي «الأصل» زيادة تفصيل في طرق الحديث وألفاظه




২০৩। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন। [1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী তার আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ" গ্রন্থে ৬৭, ৬৮, ৬৯ ইবনু খুযাইমাহ তাঁর সহীহ ইবনু খুজাইমাহ গ্রন্থে ৪২৫, ৪২৬, ৪২৭ এবং তিরমিযী ৩৫৯৪ বৰ্ণনা করেছেন। তিরমিযী তাতে বৃদ্ধি করেছেন, فماذا نقول يا رسول الله؟ قال: سلوا الله العافية في الدنيا والآخرة হে আল্লাহ্‌র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা তাতে কি বলবো? তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের সুস্থতা চাইবে। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: এই অতিরিক্ত অংশটুকু যঈফ, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান একাই বর্ণনা করেন। আর তাঁর স্মরণশক্তি দুর্বল।









বুলূগুল মারাম (204)


وَعَنْ جَابِرٍ- رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ- أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ: اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ, وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ, آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ, وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ, حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهذا الحديث لا يوجد في «الأصل»، وإنما هو من «أ» مع الإشارة في الهامش إلى أنه من نسخة، فأنا أثبته هنا زائدا، وإن كانت النفس تطمئن إلى ما في «الأصل» أكثر، خاصة وفيه وَهْمٌ في التخريج. والله أعلم. رواه البخاري (614)، وأبو داود (529)، والنسائي (2/ 26 - 27)، والترمذي (211)، وابن ماجه (722)




২০৪. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শুনে (নিম্ন বর্ণিত দুআটি) বলবে- উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তামমাতি ওয়াস সালাতিল কাইমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা, ওয়াব-আসহু মাকামাম মাহমুদা নিল্লাযী ওয়া আদতাহু। অর্থঃ হে আল্লাহ! পরিপূর্ণ আহবান এবং আসন্ন সালাতের তুমিই প্ৰভু। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে দান কর সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান, সুমহান মর্যাদা এবং বেহেশতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান মাকামে মাহমুদ-এ তাঁকে অধিষ্ঠিত কর, যার প্রতিশ্রুতি তুমিই তাঁকে দিয়েছ। -তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে যাবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১৪; আবু দাউদ ৫২৯; নাসায়ী ২/২৬/২৭; তিরমিযী ২১১; ইবনু মাজাহ ৭২২









বুলূগুল মারাম (205)


عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنْصَرِفْ, وَلْيَتَوَضَّأْ, وَلْيُعِدْ الصَّلَاةَ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (205)، والنسائي في «عشرة النساء»، (137 - 140)، والترمذي (1166)، وأحمد (1/ 86) وجعله من مسند علي بن أبي طالب، وهو خطأ منه كما نَبَّهَ على ذلك ابن كثير في «التفسير» (1/ 385)، وابن حبان في «صحيحه» (2237) قلت: والحديث ضعيف؛ لأن مَدَاره على مجهول هذا أولا. وثانيا: عند بعضهم زيادة النهي عن إتيان النساء في أدبارهن، وهذه الزيادة صحيحة بما لها من شواهد أخرى. ثالثا: الحديث لم يروه ابن ماجه، وهذا من أوهام الحافظ -رحمه الله




২০৫. আলী বিন ত্বলক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সালাতে বাতকর্ম করবে, (সালাত ছেড়ে) সরে গিয়ে উযূ করবে ও সালাত পুনরায় আদায় করবে। ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ২০৫; নাসায়ী তার ‘ইশরাতুন নিসায়’ (১৩৭-১৪০); তিরমিযী ১১৬৬; আহমাদ ১/৮৬। ইমাম আহমাদ একে মুসনাদে আলীর মুসনাদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তার দাবী ভুল। এ বিষয়ে ইবনু কাসীর তাঁর তাফসীরে (১/৩৮৫) এবং ইবনু হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে (২২৩৭) সর্তক করেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: হাদীসটি যঈফ। কেননা, এর ভিত্তি মাজহুলের উপর। আর এই বর্ধিত অংশটুকু সহীহ, যেহেতু এর পক্ষে সমর্থক হাদীস রয়েছে। তৃতীয়ত: হাদীসটি ইবনু মাজাহ বৰ্ণনা করেননি। এটা ইবনু হাজারের ভুল।

শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাঁর আল হাদীস (১/৩৬৪) গ্রন্থে এর সনদকে উত্তম বলেছেন। অপরপক্ষে ইমাম ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ (১/১৫৩) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। ইবনুল কাত্তান বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ নয়। (আল ওহম ওয়াল ইহাম ৫/১৯২) আলবানী দুর্বল বলেছেন; যাঈফুল জামে ৬০৭, আবু দাউদ ২০৫, (যঈফ আবু দাউদ ১০০৫) ইবনু কাসীর বলেন, এ হাদীসে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। (ইরশাদুল ফাকীহ ১/১৫৩)









বুলূগুল মারাম (206)


وَعَنْ عَائِشَةَ - رضي الله عنها - قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَصَابَهُ قَيْءٌ, أَوْ رُعَافٌ, أَوْ مَذْيٌ, فَلْيَنْصَرِفْ, فَلْيَتَوَضَّأْ, ثُمَّ لِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ, وَهُوَ فِي ذَلِكَ لَا يَتَكَلَّمُ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ, وَضَعَّفَهُ أَحْمَدُ




২০৬। ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির বমি, নাকের রক্ত বা মযি বের হবে সে যেন সালাত ছেড়ে দিয়ে উযূ করে, আর (এর মাঝে) কোন কথা না বলে সালাতের বাকী অংশ আদায় করে নেয়। ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ একে যইফ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু মাজাহ (১২২১) ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আদি দিরায়াহ (১/৩১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইসমাঈল বিন আইয়াশ রয়েছে, তিনি যখন শামবাসী ব্যতীত অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করবেন তখন তা দুর্বল হিসেবে বিবেচিত হবে। ইমাম দারাকুতনী বলেন, ইবনু জুরাইয কর্তৃক তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল হিসেবে সকল মুহাদ্দিসের নিকট স্বীকৃত। ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (১/২৩৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটিকে বির্তক থাকার কারণে যথাযথ বলে বিবেচিত নয়। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (২/২১৩) বলেন, কেউ এটিকে সহীহ বলেননি। আর তিনি তাঁর আওনুল মা’বুদ (১/১৮০) গ্রন্থে বলেন, আহমাদ ও অন্যান্যরা একে দুর্বল বলেছেন, দুর্বল হওয়ার কারণ হল এটিকে মারফু’ বলাটা ভুল সঠিক হল এটি মুরসাল সূত্রে বর্ণিত। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়ায়ী (১/২১৩) গ্রন্থে বলেন, এটি দুর্বল, আর সঠিক হচ্ছে এটি মুরসাল। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ ইবনু মাজাহ (২২৫), যঈফুল জামে’ (৫৪২৬) গ্রন্থে, ইবনু উসাইমীন তাঁর বুলুগুল মারামের শরাহ (১/২৬১) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (207)


وَ [عَنْ عَائِشَةَ - رضي الله عنها] , عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ حَائِضٍ إِلَّا بِخِمَارٍ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وإن أعله بعضهم بما لا يقدح. ورواه أبو داود (641)، والترمذي (377)، وابن ماجه (655)، وأحمد (6/ 150 و 218 و 259)، وابن خزيمة (775)




২০৭। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- হায়িযা (সাবালিকা) মেয়েদের ওড়না (মস্তকাবরণ) ব্যতীত আল্লাহ সালাত কবুল করবেন না। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] কেউ কেউ এর ত্রুটি বর্ণনা করলেও তা ক্ষতিকর নয়। আবু দাউদ ৬৪১; তিরমিযী ৩৭৭; ইবনু মাজাহ ৬৫৫; আহমাদ ৬/১৫০, ২১৮, ২৫৯; ইবনু খুযাইমাহ ৭৭৫









বুলূগুল মারাম (208)


وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لَهُ: «إِنْ كَانَ الثَّوْبُ وَاسِعًا فَالْتَحِفْ بِهِ»، يَعْنِي: فِي الصَّلَاةِ. وَلِمُسْلِمٍ: «فَخَالِفْ بَيْنَ طَرَفَيْهِ - وَإِنْ كَانَ ضَيِّقًا فَاتَّزِرْ بِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (361)، ومسلم (3010)، واللفظ هنا للبخاري




২০৮. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেনঃ কাপড় যদি বড় হয়, তাহলে শরীরে জড়িয়ে পরবে। মুসলিমে আছে, (বড়) চাদর হলে তার কিনারাদ্বয়কে দু-কাঁধের উপর বিপরীতমুখী করে রেখে নেবে। (অর্থাৎ বড় প্রশস্ত একটি কাপড়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে সালাত আদায় করা চলবে)। আর যদি ছোট হয় তাহলে লুঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৬১; মুসলিম ৩০১০। হাদীসের শব্দ বিন্যাস বুখারীর।