বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْمُؤَذِّنُ أَمْلَكُ بِالْأَذَانِ, وَالْإِمَامُ أَمْلَكُ بِالْإِقَامَةِ». رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ وَضَعَّفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن عدي في «الكامل» (4/ 1327) وفي سنده شريك بن عبد الله القاضي، وهو سيئ الحفظ. وبه أعله ابن عدي
২০১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আযানের অধিক কর্তৃত্ব মুআযযিনের উপর ন্যস্ত আর ইকামাত ইমাম সাহেবের কর্তৃত্বাধীন। ইবনু আদী, তিনি হাদীসটিকে যঈফ (দুর্বল)ও বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু আদী তাঁর কামিল গ্রন্থে (৪/১৩২৭) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার সনদে শারীক বিন আব্দুল্লাহ আল-কাযী রয়েছে যার স্মৃতিশক্তি খুব দুর্বল। ইবনু আদীও (রহঃ) তার ত্রুটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনু হাজার বলেন, হাদীসটি শারীক বিন আব্দুল্লাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে, মুআরিক বিন ইযাদ, সে দুর্বল। (আত্-তালখীসুল হাবীর ১/৩৪৭, যঈফা নং ৪৬৬৯, ইমাম শাওকানীও শারীকের দিকে দুর্বলতার ইঙ্গিত করেছেন। (নাইলুল আওত্বর ২/৩১), ইমাম বায়হাকীও সুরক্ষিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। (সুনানুল কুবরা ২/১৯)
وَلِلْبَيْهَقِيِّ نَحْوُهُ: عَنْ عَلِيٍّ مِنْ قَوْلِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح موقوفا. رواه البيهقي (2/ 19) ولفظه: المؤذن أملك بالأذان، والإمام أملك بالإقامة
২০২। বাইহাকীতে অনুরূপ একটি হাদীস ‘আলী (রাঃ)-এর বচন বলে বর্ণিত।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মাওকুফ হিসাবে সহীহ। বায়হাকী ২/১৯; তার হাদীসের শব্দ হচ্ছে: المؤذن أملك بالأذان، والإمام أملك بالإقامة মুয়াজ্জিনের হক আযান দেয়া আর ইমামের হক হলো ইকামত দেয়া। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা (২/১৯) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মারফু সূত্রে বর্ণিত, আর এটি মাহফুয নয়।
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه النسائي في «عمل اليوم والليلة» (67و68و69)، وابن خزيمة في «صحيحه» (425و426و427) ورواه الترمذي (3594) وذاد فيه: «فماذا نقول يا رسول الله؟ قال: سلوا الله العافية في الدنيا والآخرة». قلت: وهي زيادة ضعيفة تفرَّد بها يحيى بن يمان، وفي حفظه ضعف، وفي «الأصل» زيادة تفصيل في طرق الحديث وألفاظه
২০৩। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন। [1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী তার আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ" গ্রন্থে ৬৭, ৬৮, ৬৯ ইবনু খুযাইমাহ তাঁর সহীহ ইবনু খুজাইমাহ গ্রন্থে ৪২৫, ৪২৬, ৪২৭ এবং তিরমিযী ৩৫৯৪ বৰ্ণনা করেছেন। তিরমিযী তাতে বৃদ্ধি করেছেন, فماذا نقول يا رسول الله؟ قال: سلوا الله العافية في الدنيا والآخرة হে আল্লাহ্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা তাতে কি বলবো? তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের সুস্থতা চাইবে। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: এই অতিরিক্ত অংশটুকু যঈফ, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান একাই বর্ণনা করেন। আর তাঁর স্মরণশক্তি দুর্বল।
وَعَنْ جَابِرٍ- رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ- أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ: اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ, وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ, آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ, وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ, حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهذا الحديث لا يوجد في «الأصل»، وإنما هو من «أ» مع الإشارة في الهامش إلى أنه من نسخة، فأنا أثبته هنا زائدا، وإن كانت النفس تطمئن إلى ما في «الأصل» أكثر، خاصة وفيه وَهْمٌ في التخريج. والله أعلم. رواه البخاري (614)، وأبو داود (529)، والنسائي (2/ 26 - 27)، والترمذي (211)، وابن ماجه (722)
২০৪. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শুনে (নিম্ন বর্ণিত দুআটি) বলবে- উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তামমাতি ওয়াস সালাতিল কাইমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা, ওয়াব-আসহু মাকামাম মাহমুদা নিল্লাযী ওয়া আদতাহু। অর্থঃ হে আল্লাহ! পরিপূর্ণ আহবান এবং আসন্ন সালাতের তুমিই প্ৰভু। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে দান কর সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান, সুমহান মর্যাদা এবং বেহেশতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান মাকামে মাহমুদ-এ তাঁকে অধিষ্ঠিত কর, যার প্রতিশ্রুতি তুমিই তাঁকে দিয়েছ। -তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে যাবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১৪; আবু দাউদ ৫২৯; নাসায়ী ২/২৬/২৭; তিরমিযী ২১১; ইবনু মাজাহ ৭২২
عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَنْصَرِفْ, وَلْيَتَوَضَّأْ, وَلْيُعِدْ الصَّلَاةَ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (205)، والنسائي في «عشرة النساء»، (137 - 140)، والترمذي (1166)، وأحمد (1/ 86) وجعله من مسند علي بن أبي طالب، وهو خطأ منه كما نَبَّهَ على ذلك ابن كثير في «التفسير» (1/ 385)، وابن حبان في «صحيحه» (2237) قلت: والحديث ضعيف؛ لأن مَدَاره على مجهول هذا أولا. وثانيا: عند بعضهم زيادة النهي عن إتيان النساء في أدبارهن، وهذه الزيادة صحيحة بما لها من شواهد أخرى. ثالثا: الحديث لم يروه ابن ماجه، وهذا من أوهام الحافظ -رحمه الله
২০৫. আলী বিন ত্বলক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সালাতে বাতকর্ম করবে, (সালাত ছেড়ে) সরে গিয়ে উযূ করবে ও সালাত পুনরায় আদায় করবে। ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ২০৫; নাসায়ী তার ‘ইশরাতুন নিসায়’ (১৩৭-১৪০); তিরমিযী ১১৬৬; আহমাদ ১/৮৬। ইমাম আহমাদ একে মুসনাদে আলীর মুসনাদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তার দাবী ভুল। এ বিষয়ে ইবনু কাসীর তাঁর তাফসীরে (১/৩৮৫) এবং ইবনু হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে (২২৩৭) সর্তক করেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: হাদীসটি যঈফ। কেননা, এর ভিত্তি মাজহুলের উপর। আর এই বর্ধিত অংশটুকু সহীহ, যেহেতু এর পক্ষে সমর্থক হাদীস রয়েছে। তৃতীয়ত: হাদীসটি ইবনু মাজাহ বৰ্ণনা করেননি। এটা ইবনু হাজারের ভুল।
শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাঁর আল হাদীস (১/৩৬৪) গ্রন্থে এর সনদকে উত্তম বলেছেন। অপরপক্ষে ইমাম ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ (১/১৫৩) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। ইবনুল কাত্তান বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ নয়। (আল ওহম ওয়াল ইহাম ৫/১৯২) আলবানী দুর্বল বলেছেন; যাঈফুল জামে ৬০৭, আবু দাউদ ২০৫, (যঈফ আবু দাউদ ১০০৫) ইবনু কাসীর বলেন, এ হাদীসে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। (ইরশাদুল ফাকীহ ১/১৫৩)
وَعَنْ عَائِشَةَ - رضي الله عنها - قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَصَابَهُ قَيْءٌ, أَوْ رُعَافٌ, أَوْ مَذْيٌ, فَلْيَنْصَرِفْ, فَلْيَتَوَضَّأْ, ثُمَّ لِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ, وَهُوَ فِي ذَلِكَ لَا يَتَكَلَّمُ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ, وَضَعَّفَهُ أَحْمَدُ
২০৬। ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির বমি, নাকের রক্ত বা মযি বের হবে সে যেন সালাত ছেড়ে দিয়ে উযূ করে, আর (এর মাঝে) কোন কথা না বলে সালাতের বাকী অংশ আদায় করে নেয়। ইবনু মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ একে যইফ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু মাজাহ (১২২১) ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আদি দিরায়াহ (১/৩১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইসমাঈল বিন আইয়াশ রয়েছে, তিনি যখন শামবাসী ব্যতীত অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করবেন তখন তা দুর্বল হিসেবে বিবেচিত হবে। ইমাম দারাকুতনী বলেন, ইবনু জুরাইয কর্তৃক তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল হিসেবে সকল মুহাদ্দিসের নিকট স্বীকৃত। ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (১/২৩৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটিকে বির্তক থাকার কারণে যথাযথ বলে বিবেচিত নয়। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (২/২১৩) বলেন, কেউ এটিকে সহীহ বলেননি। আর তিনি তাঁর আওনুল মা’বুদ (১/১৮০) গ্রন্থে বলেন, আহমাদ ও অন্যান্যরা একে দুর্বল বলেছেন, দুর্বল হওয়ার কারণ হল এটিকে মারফু’ বলাটা ভুল সঠিক হল এটি মুরসাল সূত্রে বর্ণিত। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়ায়ী (১/২১৩) গ্রন্থে বলেন, এটি দুর্বল, আর সঠিক হচ্ছে এটি মুরসাল। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ ইবনু মাজাহ (২২৫), যঈফুল জামে’ (৫৪২৬) গ্রন্থে, ইবনু উসাইমীন তাঁর বুলুগুল মারামের শরাহ (১/২৬১) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
وَ [عَنْ عَائِشَةَ - رضي الله عنها] , عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ حَائِضٍ إِلَّا بِخِمَارٍ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وإن أعله بعضهم بما لا يقدح. ورواه أبو داود (641)، والترمذي (377)، وابن ماجه (655)، وأحمد (6/ 150 و 218 و 259)، وابن خزيمة (775)
২০৭। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- হায়িযা (সাবালিকা) মেয়েদের ওড়না (মস্তকাবরণ) ব্যতীত আল্লাহ সালাত কবুল করবেন না। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] কেউ কেউ এর ত্রুটি বর্ণনা করলেও তা ক্ষতিকর নয়। আবু দাউদ ৬৪১; তিরমিযী ৩৭৭; ইবনু মাজাহ ৬৫৫; আহমাদ ৬/১৫০, ২১৮, ২৫৯; ইবনু খুযাইমাহ ৭৭৫
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لَهُ: «إِنْ كَانَ الثَّوْبُ وَاسِعًا فَالْتَحِفْ بِهِ»، يَعْنِي: فِي الصَّلَاةِ. وَلِمُسْلِمٍ: «فَخَالِفْ بَيْنَ طَرَفَيْهِ - وَإِنْ كَانَ ضَيِّقًا فَاتَّزِرْ بِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (361)، ومسلم (3010)، واللفظ هنا للبخاري
২০৮. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেনঃ কাপড় যদি বড় হয়, তাহলে শরীরে জড়িয়ে পরবে। মুসলিমে আছে, (বড়) চাদর হলে তার কিনারাদ্বয়কে দু-কাঁধের উপর বিপরীতমুখী করে রেখে নেবে। (অর্থাৎ বড় প্রশস্ত একটি কাপড়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে সালাত আদায় করা চলবে)। আর যদি ছোট হয় তাহলে লুঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৬১; মুসলিম ৩০১০। হাদীসের শব্দ বিন্যাস বুখারীর।
وَلَهُمَا مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: لَا يُصَلِّي أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى عَاتِقِهِ مِنْهُ شَيْءٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (359)، ومسلم (516)
২০৯. এবং বুখারী, মুসলিমে আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে আছে- (বড় কাপড় থাকলে) ঘাড়ের উপর কিছু না দিয়ে যেন কেউ এক কাপড়ে সালাত আদায় না করে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৫৯; মুসলিম ৫১৯
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّهَا سَأَلَتْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم: «أَتُصَلِّي الْمَرْأَةُ فِي دِرْعٍ وَخِمَارٍ, بِغَيْرِ إِزَارٍ قَالَ: «إِذَا كَانَ الدِّرْعُ سَابِغًا يُغَطِّي ظُهُورَ قَدَمَيْهَا». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَصَحَّحَ الْأَئِمَّةُ وَقْفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف مرفوعا وموقوفا. رواه أبو داود (640)، وقال عقبه: «روى هذا الحديث مالك بن أنس، وبكر بن مضر، وحفص بن غياث، وإسماعيل بن جعفر، وابن أبي ذئب، وابن إسحاق عن محمد بن زيد، عن أمه، عن أم سلمة، لم يذكر أحد منهم النبي -صلى الله عليه وسلم- قصروا به على أم سلمة - رضي الله عنها». قلت: وهذا الموقوف هو الصواب كما نقل الحافظ عن الأئمة، ولكن لا يعني صحة الموقوف، فَفَرْقٌ بين صواب الرواية وصحتها، إذ الموقوف أيضا سنده ضعيف، وعليه فلا حجة في قول الصنعاني في «السبل» (1/ 276) وقول تابعه الفقي بأن الموقوف له حكم الرفع
২১০. উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত- তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, মেয়েরা কি জামা ও দোপাট্টা (ওড়না) পরে সালাত আদায় করতে পারবে? তিনি বললেন, হাঁ, পারবে- যদি জামা দ্বারা পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢাকা যায়। মুহাদ্দিসগণ এর মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য) হওয়াকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মারফূ’ ও মাওকুফ উভয় হিসেবেই যঈফ। আবু দাউদ ৬৪০
ইবনুল কাত্তান বলেন, হাদীসটি মুনকাতি (আহকামুন নাযর ১৮৪), আলবানী হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। কেননা, এতে রয়েছে উম্ম মুহাম্মাদ তিনি অপরিচিত। (ইরওয়াউল গালীল ১/৩০৪)
وَعَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فِي لَيْلَةٍ مَظْلَمَةٍ, فَأَشْكَلَتْ عَلَيْنَا الْقِبْلَةُ, فَصَلَّيْنَا. فَلَمَّا طَلَعَتِ الشَّمْسُ إِذَا نَحْنُ صَلَّيْنَا إِلَى غَيْرِ الْقِبْلَةِ, فَنَزَلَتْ: (فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ) [البقرة: 115]. أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَضَعَّفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه الترمذي (345 و 2957)، وقال: «هذا حديث غريب، لا نعرفه إلى من حديث أشعث السمان؛ أبي الربيع، عن عاصم بن عبيد الله، وأشعث يُضَعَّفُ في الحديث». ونحو ذلك قال في الموطن الأول. قلت: العلة ليست في أشعث فقط، فهو وإن كان متروكا إلا أن عاصم بن عبيد الله أيضا سيئ الحفظ. وذهب شيخنا -حفظه الله- إلى أن هذا الحديث لا علة له إلا عاصم بن عبيد الله باعتبار متابعة عمرو بن قيس الملائي - وهو ثقة - لأشعث كما عند أبي داود الطيالسي (1145)، وأقول: هذا وَهْم من الشيخ -حفظه الله-، فإن المُتَابع هو «عمر بن قيس سندل» وهو متروك أيضا، ولعل وقوع التحريف في «مسند الطيالسي» كان سبب ذلك الوهم. وأما حديث جابر الذي يشهد لهذا الحديث فهو أوهى منه فلا يفرح به. وعليه فلا ينفك الضعف عن الحديث بل هو ضعيف جدا كما تقدم
২১১. ‘আমির বিন রাবিআহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন এক অন্ধকার রাত্রে ছিলাম। সালাতের সময় কিবলার দিক নির্ণয় করা আমাদের উপর কঠিন হয়ে পড়লো। আমরা সালাত সমাধান করলাম। কিন্তু ভোরে যখন সূর্যোদয় হল তখন জানা গেল যে, আমরা কিবলামুখী হয়ে সালাত আদায় করিনি। অতঃপর আয়াত অবতীর্ণ হয় : “তোমরা যেদিকেই মুখ কর না কেন, সেই দিকেই আল্লাহর চেহারা রয়েছে”।-তিরমিযী একে যঈফ (দুর্বল) রূপে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৩৪৫, ২৯৫৭ অত্যন্ত দুর্বল।
ইমাম সনয়ানী বলেন, এ হাদীসে আলআস বিন সাঈদ আস সাসান রয়েছে, সে দুর্বল। (সুবুলুস সালাম ১/২১২)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ, وَقَوَّاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (344) وقال: حديث حسن صحيح. قلت: وليس في إسناده إلا الحسن بن بكر شيخ الترمذي فيه جهالة، وللحديث طرق أخرى وشواهد يصح بها، إلا أن هذا الطريق هو الذي قوَّاه البخاري
২১২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলবাসীদের জন্যে) পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে কিবলাহ রয়েছে। তিরমিযী; - বুখারী (রহঃ) একে কাবী (মজবুত) সানাদের হাদীসের মধ্যে গণ্য করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৩৪৪; তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: এ হাদীসের সনদে ইমাম তিরমিযীর শায়খ হাসান বিন বাকর ব্যতীত আর কারো ব্যাপারে অস্পষ্টতা নেই। এ হাদীসের আরো কতক সূত্র এবং সমর্থক হাদীস রয়েছে যা একে সহীহ হাদীসে উন্নীত করে দেয়। তাছাড়া এ সুত্রটিকে বুখারী শক্তিশালী মন্তব্য করেছেন।
وَعَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
زَادَ الْبُخَارِيُّ: يُومِئُ بِرَأْسِهِ, وَلَمْ يَكُنْ يَصْنَعُهُ فِي الْمَكْتُوبَةِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه البخاري (1093)، ومسلم (701) وهذه الصلاة صلاة السبحة بالليل كما في رواية مسلم، وبعض روايات البخاري، واللفظ الذي ذكره الحافظ هنا هو لفظ البخاري
هذه الزيادة للبخاري برقم (1097)، ويومئ برأسه أي في الركوع والسجود
২১৩. ‘আমির বিন রাবিআহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে কোন দিকে গমনকারী সওয়ারী (জন্তুর) উপর সালাত আদায় করতে দেখেছি।[1] বুখারী বৃদ্ধি করেছেন : (রুকূ সিজদার সময়) তিনি তাঁর মাথা নুইয়ে ইঙ্গিত করতেন। আর তিনি ফারয সালাতে এরূপ করতেন না।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১০৯৩; মুসলিম ৭০১। হাদীসে উল্লেখিত সালাত ছিল নফল সালাত। মুসলিমের রেওয়ায়েতে এর বর্ণনা রয়েছে। তাছাড়া বুখারীরও কতক বর্ণনায় রয়েছে। এখানে শব্দ বিন্যাস বুখারীর।
[2] এখানে অতিরিক্ত অংশটুকু ইমাম বুখারীর (১০৯৭)।
وَلِأَبِي دَاوُدَ: مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ: كَانَ إِذَا سَافَرَ فَأَرَادَ أَنْ يَتَطَوَّعَ اسْتَقْبَلَ بِنَاقَتِهِ الْقِبْلَةِ, فَكَبَّرَ, ثُمَّ صَلَّى حَيْثُ كَانَ وَجْهُ رِكَابِهِ. وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (1225) وصححه غير واحد
২১৪. আবূ দাউদে আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের অবস্থায় যখন নফল সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন তখন তিনি সওয়ারী জন্তুটিকে কিবলামুখী করে নিয়ে আল্লাহু আকবার (তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে) বলে সালাত আরম্ভ করতেন, তারপর তাঁর সওয়ারীর মুখ যে কোন দিকে যেতো। এর সানাদটি হাসান।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবু দাউদ ১২২৫
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم: «الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلَّا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ, وَلَهُ عِلَّةٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (317)، وهو وإن كان معلولا بالإرسال؛ إلا أنها ليست بعلة قادحة، ولذلك مال الحافظ نفسه إلى تصحيح الحديث في «التلخيص» (1/ 277) ونقل ابن تيمية في «الفتاوى» (22/ 160) تصحيح الحفاظ له
২১৫. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত পৃথিবীর সব জায়গাই সালাত আদায়ের স্থান। এ হাদীসের সানাদে কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী। ৩১৭। হাদীসটিতে যদিও ইরসাল এর ত্রুটি বিদ্যমান তবুও এমন কোন দোষত্রুটি নেই যা ক্ষতিকর। এ কারণে হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীরে এ হাদীসটির সহীহ হওয়ার মত ব্যক্তি করেছেন। আর ইবনু তাইমিয়্যাহ তাঁর ‘ফাতাওয়া’য় ২২/১৬০ কতক হাদীসের হাফেজের এ হাদীসটি সহীহ হওয়ার মন্তব্য বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-[قَالَ]: نَهَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يُصَلَّى فِي سَبْعِ مَوَاطِنَ: الْمَزْبَلَةِ, وَالْمَجْزَرَةِ, وَالْمَقْبَرَةِ, وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ, وَالْحَمَّامِ, وَمَعَاطِنِ الْإِبِلِ, وَفَوْقَ ظَهْرِ بَيْتِ اللَّهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَضَعَّفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. وقد تحرَّف في الأصل: «ابن عمر» إلى: «ابن عمرو». رواه الترمذي (346/ 347) وهذا الحديث من مناكير زيد بن جبيرة كما قال الساجي، وكما هو صنيع ابن عدي في «الكامل»، والذهبي في الميزان إذ عَدَّا هذا الحديث من مناكيره، ومجيء الحديث من طريق آخر لا يشفع لمن صحَّحه! كالعلامة الشيخ أحمد شاكر -رحمه الله-، إذ هما «جميعا واهيين» كما قال أبو حاتم في «العلل» (1/ 148)
২১৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি জায়গায় সালাত আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন- (১) ময়লা ফেলার স্থানে, (৩) পশু যবহ করার স্থানে, (৩) কবরস্থানে, (৪) চলাচলের রাস্তায়, (৫) হাম্মামে (গোসল খানায়), (৬) উট বাঁধবার স্থানে, (৭) বাইতুল্লাহর ছাদের উপর।
-তিরমিযী বর্ণনা করে একে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার। তিরমিযী ৩৪৬-৩৪৭
এ হাদীসে রয়েছে যায়েদ বিন জুবাইরাহ। তাকে ইমাম যাহাবী ওয়াহিন দুর্বল বলেছেন। তালকীহুত তাহকীক ১/১২৪, ইমাম যায়লাঈ বলেন, তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলেই ঐকমত্য। (নাসবুর রায়াহ ২/৩২৩), ইবনু কাসীর বলেন, সে হচ্ছে মাতরূক (ইরশাদুল ফাকীহ ১/১১৩), ইবনু হাজার তাকে অত্যন্ত দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। এর সনদে ইবনু মাজেদ আব্দুল্লাহ বিন সালিহ ও আব্দুল্লাহ বিন উমার আল আমরী দুর্বল রাবী। (আত-তালখীসুল হাবীর ১/৩৫৩)
وَعَنْ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا تُصَلُّوا إِلَى الْقُبُورِ, وَلَا تَجْلِسُوا عَلَيْهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (972) وفي «أ»: «أخرجه» بدل: رواه
২১৭. আবূ মারসাদ আল-গানবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতmdash; তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, তোমরা কবরকে সামনে রেখে সালাত আদায় করবে না ও তার উপর বসো না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৯৭২।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ, فَلْيَنْظُرْ, فَإِنْ رَأَى فِي نَعْلَيْهِ أَذًى أَوْ قَذَرًا فَلْيَمْسَحْهُ, وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (650) وصحَّحه ابن خزيمة (786)، ولفظه: قال أبو سعيد الخدري - رضي الله عنه- بينما رسول -صلى الله عليه سلم- يصلي بأصحابه، إذ خلع نعليه، فوضعهما عن يساره، فلما رأى ذلك القوم ألقوا نعالهم، فلما قضى رسول الله -صلى الله عليه وسلم- صلاته قال: «ما حملكم على إلقائكم نعالكم؟» قالوا: رأيناك ألقيت نعليك، فألقينا نعالنا، فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: «إن جبريل أتاني، فأخبرني أن فيها قذرا». وقال -صلى الله عليه وسلم-: «إذا جاء أحدكم ... الحديث». قلت: وأُعِلَّ بالإرسال، ولا يضر ذلك، خاصة وهناك ما يشهد له، ثم الموصول هو الراجح، كما ذهب إلى ذلك أبو حاتم في «العلل» (1/ 330/121)
২১৮. আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোন মুসলিম মসজিদে আসলে সে যেন তার জুতার প্রতি লক্ষ্য করে, যদি তাতে কোন নাপাকি বা ময়লা বস্তু দেখে তবে যেন তা মুছে পরিষ্কার করার পর তা পরে সালাত আদায় করে। ইবনু মাজাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৬৫০; ইবনু খুজাইমাহ (৭৮৬) এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাদীসের শব্দ হচ্ছে:
قال أبو سعيد الخدري - رضي الله عنه- بينما رسول -صلى الله عليه سلم- يصلي بأصحابه، إذ خلع نعليه، فوضعهما عن يساره، فلما رأى ذلك القوم ألقوا نعالهم، فلما قضى رسول الله -صلى الله عليه وسلم- صلاته قال: «ما حملكم على إلقائكم نعالكم؟» قالوا: رأيناك ألقيت نعليك، فألقينا نعالنا، فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: «إن جبريل أتاني، فأخبرني أن فيها قذرا». وقال -صلى الله عليه وسلم-: «إذا جاء أحدكم ... الحديث
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ সালাতের মধ্যেই তিনি জুতা খুলে তার বাম পার্শ্বে রাখলেন। লোকেরা তা দেখে তারাও তাদের জুতা খুলে ফেলল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন, কিসে তোমাদেরকে জুতাসমূহ খুলে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাঁরা বললেন, আমরা আপনাকে আপনার জুতা খুলে ফেলতে দেখেছি; তাই আমরা আমাদের জুতাসমূহ খুলে ফেলেছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে বলেছিলেন যে, আপনার জুতাতে নাপাকী রয়েছে (তাই আমি জুতা খুলে ফেলেছিলাম)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপযুক্ত উক্তি করেন।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا وَطِئَ أَحَدُكُمْ الْأَذَى بِخُفَّيْهِ فَطَهُورُهُمَا التُّرَابُ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (386)، وصحَّحه ابن حبان (1404)، وهو وإن كان حسن الإسناد إلا أنه صحيح بشواهده المذكورة بالأصل
২১৯. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ তার চামড়ার মোজায় কোন নাপাক বস্তু পাড়ায় তবে ঐ মোজাদ্বয়ের পবিত্ৰতাকারী হচ্ছে মাটি। (অর্থাৎ মাটিতে ঘসে পাক ও সাফ করে নেবে)- ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৮৬৩; ইবনু হিব্বান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাদীসটির সনদ হাসান হলেও কয়েকটি সমর্থক হাদীস থাকার কারণে সহীহ হাদীসে পরিণত হয়েছে।
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ, إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ, وَالتَّكْبِيرُ, وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (537) في الحديث الطويل المعروف بحديث الجارية
২২০. মুআবিয়াহ বিন হাকাম হাকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই সালাত মানুষের কথা-বার্তা বলার ক্ষেত্র নয়, এটা তো কেবল তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠের জন্যই সুনির্দিষ্ট।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৫৩৭