বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَنَسِ [بْنِ مَالِكٍ]- رضي الله عنه - قَالَ: أُمِرَ بِلَالٌ أَنْ يَشْفَعَ الْآذَانَ, وَيُوتِرَ الْإِقَامَةَ, إِلَّا الْإِقَامَةَ, يَعْنِي قَوْلَهُ: قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَلَمْ يَذْكُرْ مُسْلِمٌ الِاسْتِثْنَاءَ
وَلِلنَّسَائِيِّ: أَمَرَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِلَالًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (605)، ومسلم (378)
صحيح. رواه النسائي (2/ 3)
১৮১। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) যেন জোড়া বাক্যে ‘আযান ও বিজোড় বাক্যে ‘ইকামাত দেন (কাদকামাতিস সালাহ) দুবার। এভাবে (আযান-ইকামত) দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছিল। তবে মুসলিমে ইল্লাল ইকামাত তথা ‘কাদকামাতিস সালাহ দুবার বলতে হয়- কথার উল্লেখ করেননি।[1]
নাসায়ীতে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ আদেশ করেছিলেন। [2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬০৫; মুসলিম ৩৭৮
[2] নাসায়ী ২/৩
وَعَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: رَأَيْتُ بِلَالًا يُؤَذِّنُ وَأَتَتَبَّعُ فَاهُ, هَاهُنَا وَهَاهُنَا, وَإِصْبَعَاهُ فِي أُذُنَيْهِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ
وَلِابْنِ مَاجَهْ: وَجَعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ
وَلِأَبِي دَاوُدَ: لَوَى عُنُقَهُ, لَمَّا بَلَغَ «حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ» يَمِينًا وَشِمَالًا وَلَمْ يَسْتَدِرْ
وَأَصْلِهِ فِي الصَّحِيحَيْنِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 308 - 309)، والترمذي (197)، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح
ابن ماجه (711)، وهو صحيح أيضا، وإن كان في سنده ضعيف
أبو داود (520) وهو منكر
قلت(سمير بن أمين الزهيري) هو في البخاري (634)، ومسلم (503)، عن ابن أبي جحيفة، عن أبيه؛ أنه رأى بلالا يؤذن. قال: فجعلت أتتبع فاه هاهنا وهاهنا
১৮২। আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- আমি বিলাল (রাঃ)-কে তাঁর দুকানে আঙ্গুল দিয়ে আযান দিতে এবং আযানে এধার ওধার অর্থাৎ ডানে-বামে মুখ ফেরাতে দেখেছি[1]।
ইবনু মাজাহতে আছে- ‘এবং তিনি তাঁর আঙ্গুলদ্বয় তাঁর দুই কানে ঢুকিয়েছিলেন।[2]
তবে তিনি সম্পূর্ণরূপে ঘুরে যেতেন না।[3]
এর মূল বক্তব্য বুখারী, মুসলিমে রয়েছে।[4]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ৪/৩০৯-৩০৮; তিরমিযী ১৯৭। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
[2] ইবনু মাজাহ (৭১১) এ হাদীসটিও সহীহ যদিও এ হাদীসের সনদে দুর্বলতা আছে।
[3] আবু দাউদ ৫২০ হাদীসটি মুনকার।
[4] মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি বুখারীতে ৬৩৪ নং এবং মুসলিমে ৫০৩ নং এ ইবনু আবী জুহাইফাহ থেকে তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বেলাল (রাঃ) কে আযান দিতে দেখেছেন। রাবী বলেন, আমি তার মুখমণ্ডলকে এদিক ওদিক ঘুরাতে প্রত্যক্ষ করেছি।
وَعَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَعْجَبَهُ صَوْتُهُ, فَعَلَّمَهُ الْآذَانَ. رَوَاهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه ابن خزيمة (377)
১৮৩। আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর কণ্ঠস্বর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পছন্দনীয় হওয়ায় তিনি তাঁকে আযান শিখিয়ে দেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু খুযাইমাহ ৩৭৭
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - الْعِيدَيْنِ, غَيْرَ مَرَّةٍ وَلَا مَرَّتَيْنِ, بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (887)
১৮৪। জাবির বিন সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে দু ঈদের- (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার) একাধিকবার সালাত আযান ও ইকামাত ছাড়াই আদায় করেছি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৮৮৭, তিরমিযী ৫৩২, আহমাদ ২০৩৩৬, ৩০৩৮৪, আবু দাউদ ১১৪৮।
وَنَحْوُهُ فِي الْمُتَّفَقِ: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا -, وَغَيْرُهُ
১৮৫। এবং অনুরূপ হাদীস ইবনু ‘আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবী (রাঃ) হতেও বুখারী এবং মুসলিমে বিদ্যমান।
وَعَنْ أَبِي قَتَادَةٌ فِي الْحَدِيثِ الطَّوِيلِ, - فِي نَوْمهُمْ عَنِ الصَّلَاةِ - ثُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ, فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - كَمَا كَانَ يَصْنَعُ كُلَّ يَوْمٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (681) في حديث طويل
১৮৬। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে একটি দীর্ঘ হাদীসে সাহাবীগণের ফজরের সালাতের সময় ঘুমিয়ে পড়া সম্বন্ধে বর্ণিত- “অতঃপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন ও তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করলেন, যেভাবে প্রতিদিন আদায় করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬৮১।
وَلَهُ عَنْ جَابِرٍ; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ, بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (2/ 891/عبد الباقي)، وفي مسلم بعد اللفظ المذكور قوله: «ولم يسبح بينهما شيئا». قلت: وهذا هو الصواب في تلك الليلة -ليلة مزدلفة- وأما ما ذكره بعضهم أن من السنة صلاة ركعتين سنة المغرب اعتمادا منه على رواية ابن مسعود التي في «البخاري» فهو خطأ، وقد رددت عيه مفصلا بالأصل
১৮৭। মুসলিমে জাবির (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত আছে- (হজের সময় ‘আরাফাহ থেকে মিনা ফেরার পথে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় আগমন করলেন। অতঃপর এসে মাগরিব ও ইশা সালাত একই আযানে ও দুইকামতে সমাধা করলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ২/৮৯১ আব্দুল বাকী। উল্লেখিত শব্দের পর মুসলিমে আরো আছে ولم يسبح بينهما شيئا এ উভয় সালাতের মাঝে আর কোন নফল সালাত আদায় করেননি। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: ঐ মুযদালিফার রাত্রির জন্য এ কথা ঠিক আছে। আর অন্যান্যরা বর্ণনা যে উল্লেখ করেছেন যে, বুখারী থেকে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ সুত্রে বর্ণিত হাদিস দ্বারা কেউ কেউ মাগরিবের দ’রাকাত সালাতকে সুন্নাত মনে করে থাকেন যেটি ভুল। আমি “আল-আসল গ্রন্থে এর প্রতিবাদে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
وَلَهُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ: جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِإِقَامَةٍ وَاحِدَةٍ
زَادَ أَبُو دَاوُدَ: لِكُلِّ صَلَاةٍ
وَفِي رِوَايَةِ لَهُ: وَلَمْ يُنَادِ فِي وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1288) (289 و 290) وقوله: «بإقامة واحدة» أي: لكل صلاة كما هي رواية أبي داود (1928)، وهذا الحمل لرواية مسلم أولى من القول بشذوذها. وأما رواية أبي داود: «ولم يناد في واحدة منهما» فهي شاذة. والله أعلم
১৮৮। মুসলিমে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে আরো আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও ইশার সালাত এক ইকামাতে জমা (একত্ৰিত) করে আদায় করলেন। [1]
কিন্তু আবূ দাউদ প্রত্যেক সালাতের জন্য কথাটি বৃদ্ধি করেছেন এবং আবূ দাউদের অন্য এক বর্ণনায় আছে, “দু সালাতের মধ্যে কোন একটিতে (দ্বিতীয় সালাতে) আযান দেয়া হয়নি।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ২৯০, ২৮৯, ১২৮৮ ৷
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ, وَعَائِشَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ, فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ»، وَكَانَ رَجُلًا أَعْمَى لَا يُنَادِي, حَتَّى يُقَالَ لَهُ: أَصْبَحْتَ, أَصْبَحْتَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي آخِرِهِ إِدْرَاجٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (617)، ومسلم (1092) واللفظ للبخاري
১৮৯। ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তারা বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিলাল তো বস্তুতঃপক্ষে রাতে (সুবহি সাদিকের পূর্বে)। আযান দেয়। অতএব তোমরা পানাহার (সাহারী খাও) করতে থাকো যতক্ষণ না ইবনু উম্মু মাকতুম ফজরের সালাতের আযান দেয়। তিনি ছিলেন অন্ধ তাই আসবাহতা, আসবাহতা (সকাল করে ফেললেন, সকাল করে ফেললেন) না বলা পর্যন্ত তিনি (ফজরের) আযান দিতেন না[1]। এ হাদীসের শেষাংশে কিছু ইদরাজ বা রাবীর কিছু বক্তব্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার সাথে সন্নিবেশিত হয়েছে।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১৭; মুসলিম ১০৯২। শব্দবিন্যাস বুখারীর
[2] হাদীসের শেষে রাবী কর্তৃক বর্ধিত অংশটুকু হচ্ছে وكان رجلا أعمى لا ينادي، حتى يقال له: أصبحت. أصبحت।
-
১৯০। দেখুন পূর্বের হাদীস।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: إِنَّ بِلَالًا أَذَّنَ قَبْلَ الْفَجْرِ, فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يَرْجِعَ, فَيُنَادِيَ: «أَلَا إِنَّ الْعَبْدَ نَامَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ، وَضَعَّفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (532)، وأما تضعيف أبي داود فمثله فعل الترمذي إذ قال: «حديث غير محفوظ»، وحجتهم في ذلك أن حماد بن سلمة أخطأ فيه. قلت: وتخطئة الثقة بدون بينة مردود كما فعلوا ذلك هنا
১৯১। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বিলাল (রাঃ) ফজরের (সময়ের অল্প) পূর্বে আযান দিয়েছিলেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে- ‘এ বান্দা অবশ্য ঘুমিয়ে গিয়েছিল বলে ঘোষণা দিতে নির্দেশ করলেন। আবূ দাউদ একে যঈফ (দুর্বল) রূপে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৫৩২, আবু দাউদের মতই তিরমিযীও হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন । যেমন তিনি বলেছেন: حديث غير محفوظ হাদীসটি সংরক্ষিত নয় । এ কথার সমর্থনে তাদের দলীল হচ্ছে যে, হাম্মদ বিন সালামাহ তাতে ভুল করেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: নির্ভরযোগ্য রাবীর ক্রটি বিনা প্রমাণে বর্ণনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। যেমনটি তারা করেছেন।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ, فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (611)، ومسلم (383)
১৯২। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যখন আযান শুনবে তখন মুয়াযযিন যা বলেন তোমরা তাই বলবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১১; মুসলিম ৩৮৩
وَلِلْبُخَارِيِّ: عَنْ مُعَاوِيَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (612) وفي رواية له برقم (914) من طريق أبي أمامة بن سهل بن حنيف قال: سمعت معاوية بن أبي سفيان، وهو جالس على المنبر، أذن المؤذن قال: الله أكبر. الله أكبر. قال معاوية: الله أكبر. الله أكبر. قال: أشهد أن لا إله إلا الله. فقال معاوية: أنا فقال: أشهد أن محمدا رسول الله. فقال معاوية: وأنا. فلما قضى التأذين. قال: يا أيها الناس! إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذا المجلس -حين أذن المؤذن- يقول: ما سمعتم مني من مقالتي
১৯৩। মুআবিয়াহ (রাঃ) হতেও অনুরূপ হাদীস বুখারীতে বর্ণিত আছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬১২ অন্য রেওয়ায়েতে (৯১৪) আবু উমামাহ বিন সাহল বিন হুনাইফ এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি মুয়াবিয়াহ বিন আবু সুফয়ান কে বলতে শুনেছি, তিনি মিম্বরের উপর বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় মুয়াজ্জিন আযান দিলেন; মুয়াজ্জিন বলল الله أكبر. الله أكبر মুয়াবিয়াহ বললেন الله أكبر. الله أكبر মুয়াজ্জিন বলল أشهد أن لا إله إلا الله মুয়াবিয়াহ বললেন أشهد أن لا إله إلا الله মুয়াজ্জিন বলল أشهد أن محمدا رسول الله মুয়াবিয়াহ বললেন أشهد أن محمدا رسول الله আর সাথে সাথে আমিও তাই বললাম। আযান শেষে বললেন, হে লোক সকল! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমন মজলিসে মুয়াজ্জিন যখন আযান দিতেন তখন এরকম বলতে শুনেছি যেরকম তোমরা আমাকে বলতে শুনলে।
وَلِمُسْلِمٍ: عَنْ عُمَرَ فِي فَضْلِ الْقَوْلِ كَمَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ كَلِمَةً كَلِمَةً, سِوَى الْحَيْعَلَتَيْنِ, فَيَقُولُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (385) ونصه: عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذ قال المؤذن: الله أكبر. الله أكبر. فقال أحدكم: الله أكبر. الله أكبر. ثم قال: أشهد أن لا إله إلا الله. قال: أشهد أن لا إله إلا الله. ثم قال: أشهد أن محمدا رسول الله. قال: أشهد أن محمدا رسول الله. ثم قال: حي على الصلاة. قال: لا حول ولا قوة إلا بالله. ثم قال: حي على الفلاح. قال: لا حول ولا قوة إلا بالله. ثم قال: الله أكبر. الله أكبر. قال: الله أكبر. الله أكبر. ثم قال: لا إله إلا الله. قال: لا إله إلا الله. من قلبه دخل الجنة
১৯৪। এবং মুসলিমে ইবনু ‘উমার থেকে আযানের জবাবের ফযীলত সম্বন্ধে বর্ণিত রয়েছে মুয়াযযিন যা বলবেন শ্রোতা সেসব বাক্যই বলবেন। তবে “হায়ইআ আলাস সালাহ, হায়ইআ আলাল ফালাহquot; দুটির জবাবে বলবে- ‘লা হাওলা অলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।quot;[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৩৮৫
وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ - رضي الله عنه - أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْنِي إِمَامَ قَوْمِي. قَالَ: «أَنْتَ إِمَامُهُمْ, وَاقْتَدِ بِأَضْعَفِهِمْ, وَاتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لَا يَأْخُذُ عَلَى أَذَانِهِ أَجْرًا». أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (531)، والترمذي (209)، وابن ماجه (714)، وأحمد (4/ 21و217)، والحاكم (1/ 199و201) وقال الترمذي: حسن كما نقل الحافظ عنه، ويتأيد نقل الحافظ بنقل غيره من الأئمة الآخرين كالنووي، والزيلعي، والمزي وغيرهم، إلا أنه في بعض النسخ التي اعتمد عليها الشيخ أحمد شاكر -رحمه الله- قول الترمذي: «حسن صحيح». ولم أجد ما يؤيد ذلك إلى الآن. فالله أعلم. قلت: ولفظ وطريق الحديث عند الترمذي، وابن ماجه يختلف عنه عند الباقين، ولم يكن يحسن من الحافظ -رحمه الله- العزو لهم كلهم هكذا إجمالا
১৯৫। ‘উসমান বিন আবিল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আমার গোত্রের (সালাতের) ইমাম করে দিন। তিনি বললেন, তুমি তাদের ইমাম হলে, তবে তুমি তাদের দুর্বল লোকের প্রতি খেয়াল রাখবে এবং এমন ব্যক্তিকে মুয়াযযিন নিয়োগ করবে যে আযানের বিনিময়ে কোন মজুরী নেবে না। তিরমিযী একে হাসান বলেছেন, আর হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৫৩১; তিরমিযী ২০৯; ইবনু মাজাহ ৭১৪; আহমাদ ৪/২১, ২১৭; হা, ১/১৯৯, ২০১।
وَعَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ لَنَا النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «وَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ... ». الْحَدِيثَ أَخْرَجَهُ السَّبْعَةُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (628)، ومسلم (674)، وأبو داود (589)، والنسائي (2/ 9)، والترمذي (205)، وابن ماجه (9799)، وأحمد (3/ 436 و5/ 53) وله ألفاظ، وهو عند بعضهم مطولا، وعند بعضهم مختصرا. وزاد البخاري في بعض رواياته: «وصلوا كما رأيتموني أصلي» وهي عند أحمد بلفظ: «كما تروني أصلي»، وليست هذه الزيادة عند أحد من أصحاب الكتب الستة سوى البخاري. وانظر رقم (327)
১৯৬। মালিক বিন হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, যখন সালাত (এর সময়) উপস্থিত হবে তখন তোমাদের একজন আযান দিবে (এটা একটা বড় হাদীসের খণ্ডাংশ)।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬২৮; মুসলিম ৬৭৪; আবু দাউদ ৫৮৯; নাসায়ী ২/৯; তিরমিযী ২০৫; ইবনু মাজাহ ৯৭৯; আহমাদ ৩/৪৩৬, ৫/৫৩ এ হাদীসের কয়েকটি শব্দবিন্যাস আছে। কেউ হাদীসটিকে সংক্ষেপে, কেউ বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর কতক বর্ণনায় وصلوا كما رأيتموني أصلي “তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখ” অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন। আর আহমাদের বর্ণনায় বর্ধিত অংশ হচ্ছে: كما تروني أصلي তোমরা যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখ৷ ” বুখারী ব্যতীত প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের অন্য কোনটিতে এই বর্ধিত অংশটুকু নেই। (দেখুন বুখারী হা: ৩২৭)
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لِبِلَالٍ: «إِذَا أَذَّنْتَ فَتَرَسَّلْ, وَإِذَا أَقَمْتُ فَاحْدُرْ, وَاجْعَلْ بَيْنَ أَذَانِكَ وَإِقَامَتِكَ قَدْرَ مَا يَفْرُغُ الْآكِلُ مِنْ أَكْلِهِ». الْحَدِيثَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَضَعَّفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه الترمذي (1959)، وتمامه: «والشارب من شربه، والمعتصر إذا دخل لقضاء حاجته، ولا تقوموا حتى تروني». وقال الترمذي: «حديث جابر هذا حديث لا نعرفه إلا من هذا الوجه، من حديث عبد المنعم، وهو إسناد مجهول، وعبد المنعم: شيخ بصري». قلت: عبد المنعم: هو ابن نعيم الأسواري، وهو منكر الحديث كما قال البخاري وأبو حاتم
১৯৭। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে বললেন- যখন আযান দিবে থেমে থেমে দিবে। আর ইকামত অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি বলবে। আযান ও ইকামাতের মধ্যে একটা লোক খানা খেয়ে উঠতে পারে ঐ পরিমাণ সময়ের ব্যবধান রাখবে। (হাদীসটির আরো অংশ আছে।)। তিরমিযী একে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার। তিরমিযী ১০৫৯। হাদীসের পূর্ণাঙ্গ অংশ হচ্ছে والشارب من شربه، والمعتصر إذا دخل لقضاء حاجته، ولا تقوموا حتى تروني পানকারী যখন পান করা শেষ করে। কোন ব্যক্তি যখন পেশাব-পায়খানা থেকে প্রয়োজন শেষে বের হয়। আর তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না। তিরমিযী বলেন, জাবির (রাঃ) এর এই আব্দুল মুনঈম থেকে বর্ণিত সূত্র ব্যতীত অন্য কোন সূত্র আমার জানা নেই। আর সে মাজহুল তথা অপরিচিত রাবী। আবদুল মুনঈম একজন বাসরী শায়খ। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: আব্দুল মুনঈম হচ্ছে ইবনু নুয়াইম আল-আসওয়ারী। সে মুনকারুল হাদীস। যেমনটি বলেছেন ইমাম বুখারী ও আবু হাতিম (রহঃ)।
এর সনদটি মাজহুল। এর সনদে ইয়াহইয়া আল-বুকা মাজহুল রাবী। (ইবনু আদীর আল কামিল ফিয যুয়াফা ৯/১৩), ইমাম বাইহাকী বলেন, এ হাদীসে আব্দুল মুনঈম বিন নাঈম রয়েছে তাকে ইমাম বুখারী মুনকারুর হাদীস হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর ইয়াহইয়া বিন মুসলিম আল-বুকাকে ইবনে মাঈন দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। (বাইহাকী আল আওসাত্ব ১/৪২৮)
وَلَهُ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: لَا يُؤَذِّنُ إِلَّا مُتَوَضِّئٌ». وَضَعَّفَهُ أَيْضًا
فَالْحَدِيثُ ضَعِيفٌ مَرْفُوعًا وَمَوْقُوفًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (200) وضعَّفه بالانقطاع بين الزهيري وبين أبي هريرة. قلت: ورواه أيضا (201) موقوفا على أبي هريرة - ولا يصح أيضا - بلفظ: لا ينادي بالصلاة إلا متوضئ
১৯৮। তিরমিযীতে সংকলিত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তাতে আছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- উযূ আছে এরূপ ব্যক্তি ব্যতীত যেন আযান না দেয়।[1] এটাকেও তিনি যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। তিরমিযী ২০০ । যুহরী ও আবু হুরাইরা মধ্যে বিচ্ছিন্নতা থাকার কারণে তিরমিযী হাদীসটিকে যঈফ মন্তব্য করেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: তিরমিযী (২০১) নং এ আবু হুরাইরা হতে মওকুফ সূত্রে আরেকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এটিও সহীহ নয়। হাদীসের শব্দ হচ্ছে: ---- ওযূকারী ব্যক্তিই কেবল আযান দিবে।
[2] এর সনদে রয়েছে যুহরী যিনি আবু হুরায়রা থেকে শুনেননি। এর মধ্যে রয়েছে মুআবিয়া বিন ইয়াযিদ আস সাকাফী দুর্বল রাবী। (বাইহাকী কুবরা ১/৩৯৭), ইবনু কাসীরও অনুরূপ বলেছেন। (আল-আহকামুল কাবীর ১/১২৯), ইবনু সুয়ুতী তার জামেউস সগীরে এ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা (১/৩৯৭) গ্রন্থে, ইমাম ইবনু কাসীর তার আল আহকামুল কবীর (১/১২৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুআবিয়া বিন ইয়াহইয়া আস সিদকী নামক দুর্বল রাবী বিদ্যমান। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/২০৫) গ্রন্থে বলেন, যুহরী আবু হুরাইরাহ থেকে হাদীসটি শুনেনি। আর যুহরী থেকে যে বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তিনি দুর্বল। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (১/৪৪৫) গ্রন্থে, আহমাদ শাকের তাঁর শরহে সুনান আত তিরমিযী (১৪/৩৮৯) গ্রন্থে, বিন বায তাঁর মাজমূ ফাতাওয়া (৬/৩৪৫, ১০/৩৩৯) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী তাঁর যঈফুল জামে (৬৩১৭), যঈফ তিরমিযী (২০০), ইরওয়াউল গালীল (২২২) গ্রন্থে, ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (১/৪৮২) গ্রন্থে সকলেই হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
وَلَهُ: عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «وَمَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ». وَضَعَّفَهُ أَيْضًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (199) وقال: «حديث زياد إنما نعرفه من حديث الإفريقي، والإفريقي ضعيف عند أهل الحديث». قلت: نعم هذا هو الصواب، وإن خالف بعضهم في ذلك كالعلامة أحمد شاكر -رحمه الله- الذي وثقه، وصحَّح حديثه، وكالحازمي الذي حسَّن حديثه
১৯৯। তিরমিযীর অন্য আর একটি হাদীসে যিয়াদ বিন হারিস থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান দেবে সে ইকামাত দেবে। এটাকেও তিরমিযী যঈফ (দুর্বল) বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। তিরমিযী ১৯৯ তিরমিযী বলেন, যিয়াদের এ হাদীসটি ইফরীকী ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে পাইনি। আর ইফরীকী হাদীসবেত্তানের নিকট যঈফ-দুর্বল মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: দুর্বল কথাটিই সঠিক, যদিও কেউ কেউ এ বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন আল্লামা আহমাদ শাকির তিনি তাকে শক্তিশালী রাবী বলেছেন এবং তার বর্ণিত হাদীসকে সহীহ মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে হযিমী ((রহঃ)) তার হাদীসকে হাসান বলেছেন।
ইমাম ইবনু কাসীর তাঁর আল-আহকামুল কাবীর (১/৯৭) ও ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (২/৪১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবদুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম আল ইফরিকী রয়েছে, ইমাম তিরমিযী বলেন, মুহাদ্দিসগণের নিকট তিনি দুর্বল হিসেবে পরিচিত। ইয়াহইয়া আল কাত্তান সহ অনেকেই তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। (তিরমিযী বলেন) আমি ইমাম বুখারীকে দেখেছি, তিনি এ রাবীকে হাদীস বর্ণনার যোগ্য বলে মনে করতেন। মুহাদিস আযীমাবাদী তার আওনুল মা’বূদ (২/১২৬) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (১/৪৪৩) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ (১৩৬), যঈফ আবু দাউদ (৫১৪), যাঈফুল জামে (১৩৭৭), ইরওয়াউল গালীল (১/২৫৫) গ্রন্থে ইমাম নববী তার আল খুলাসা (১/২৯৭) হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
وَلِأَبِي دَاوُدَ: فِي حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ: أَنَا رَأَيْتُهُ - يَعْنِي: الْأَذَانَ - وَأَنَا كُنْتُ أُرِيدُهُ. قَالَ: «فَأَقِمْ أَنْتَ». وَفِيهِ ضَعْفٌ أَيْضًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (512)
২০০। আবূ দাউদে ‘আবদুল্লাহ বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন : ‘আমি আযান (স্বপ্নে) দেখেছি। আর আমি তা দিতেও চাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমিই ইকামাত দেবে। এর সানাদেও দুর্বলতা আছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ৫১২
ইমাম বুখারী তাঁর আত-তারীখুল কাবীর (৫/১৮৩) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটির সমালোচনা হচ্ছে, একজন আরেকজন থেকে শোনার কথাটি উল্লেখ নেই। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর আওনুল মা’বুদ (২/১২৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুহাম্মদ বিন আমার আল ওয়াকিফী আল আনসারী আল বাসারী রয়েছে। তাকে ইয়াহইয়া আল কাত্তান, ইবনু নুমাইর, ইয়াহইয়া বিন মুঈন সকলেই দুর্বল বলেছেন। এ হাদীসের সনদে এ রাবীর থাকার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। শাইখ আলবানী যঈফ আবু দাউদ (৫১২) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে ইবনুল মুলকীন খুলাস আল বাদরুল মুনীর (১/১০৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি হাসান, আর এর সনদ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইবনু হাজার বলেন, এ হাদীসের রাবীদের মধ্যে একজন হচ্ছে মুহাম্মাদ বিন আমর আল-ওয়াকিয়ী আল আনসারী আল বাসরী সে দুর্বল। (আত-তালখীসুল হাবীর ১/৩৪৪, আওনুল মা’বুদ ২/১২৫, কাত্তান ইবনু নুসাইর, ইয়াহয়া বিন মুঈন সকলেই তাকে দুর্বল বলেছেন। (আওনুল মা’বুদ ২/১২৫)