বুলূগুল মারাম
وَعَنْ نُعَيْمٍ الْمُجَمِّرِ - رضي الله عنه - قَالَ: صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَبِي هُرَيْرَةَ، فَقَرَأَ: (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ثُمَّ قَرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ, حَتَّى إِذَا بَلَغَ: (وَلَا الضَّالِّينَ) , قَالَ: «آمِينَ» وَيَقُولُ كُلَّمَا سَجَدَ, وَإِذَا قَامَ مِنَ الْجُلُوسِ: اللَّهُ أَكْبَرُ. ثُمَّ يَقُولُ إِذَا سَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَشْبَهُكُمْ صَلَاةً بِرَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه النسائي (2/ 134)، وابن خزيمة (499)
২৮১. নুআইম আল মুজমির হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর পিছনে সালাত আদায় করেছি, তিনি “বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম পড়লেন তারপর সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন, তারপর ‘ওয়ালায যা-ল্লীন পর্যন্ত পড়ে। ‘আমিন বললেন এবং প্রত্যেক সিজদা যাবার সময় ও সিজদা থেকে ওঠার সময় ‘আল্লাহ আকবার বলতেন। তারপর তিনি সালাম ফিরাবার পর বলতেনmdash; ঐ সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের মধ্যে সালাতের দিক দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সর্বাধিক সাদৃশ্য রক্ষাকারী।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ৯০৫
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَرَأْتُمْ الْفَاتِحَةَ فَاقْرَءُوا: (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) , فَإِنَّهَا إِحْدَى آيَاتِهَا». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَوَّبَ وَقْفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه الدارقطني مرفوعا وموقوفا (2/ 312)، ولفظه: «إذا قرأتم الحمد الله، فاقرءوا بسم الله الرحمن الرحيم، إنها أم القرآن، وأم الكتاب، والسبع المثاني، وبسم الله الرحمن الرحيم إحداها». وقال في «العلل»: (8/ 149) عن الموقوف: هو أشبهها بالصواب
২৮২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠের সময় ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পাঠ করবে। কেননা ওটা তারই একটা আয়াত। দারাকুৎনী হাদীসটির মওকুফ হওয়াকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী মারফূ’ ও মাওকুফরূপে ২/৩১২, তোমরা যখন সূরা ফাতিহা পড়বে তখন তোমরা বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পড়বে। কেননা, সেটি হচ্ছে উম্মুল কুরআন, উম্মুল কিতাব, সাবআ মাসানী। আর বিসমিল্লাহ তারই একটি। তিনি ইলাম গ্রন্থে মাওকুফ সূত্রে (৮/১৪৯) বলেন: এটি হকের অধিক সম্ভাবনা রাখে।
ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর (১/৩৮১) গ্রন্থে বলেন, এ সনদের রাবীগণ বিশ্বস্ত। অনেক ইমাম এ হাদীসটিকে মারফূ’ হওয়ার চেয়ে মাওকুফ হওয়াটাকেই সহীহ বলেছেন। এর শাহেদ রয়েছে যা এটিকে শক্তিশালী করে। ইবনু উসাইমিন শারহু বুলুগুল মারামে (২/৭৬) উল্লেখ করেন এটা মাওকুফ আবূ হুরায়রা পর্যন্ত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়নি। আলবানী সহীহুল জামে (৭২৯) গ্রন্থে, সহীহ সিলসিলাহ সহীহাহ (১১৮৩) এর সনদকে মাওকুফ ও মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইতহাফুল মাহরা বিল ফারায়িদ আল মুবাক্কারা মিন আতরাফিল আশারা (১৪/৬৬৪) গ্রন্থে ইবনু হাজার বলেন এই হাদীসে আব্দুল হামীদ বিন জা’ফার সত্যবাদী, তবে তার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। সঠিক কথা হলো হাদীসটি মাওকুফ। ইবনুল মুলকিন খুলাস আল বাদরুল মুনীর (১/১১৯) ও আল বাদরুল মুনীর (৩/৫৫৮) গ্রন্থে এর সনদে সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর তাকীহুত তাহকীক (১/১৪৪) গ্রন্থে বলেন, যদি সহীহ হয় তাহলে তা মাওকুফ হিসেবেই সহীহ।
وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ أُمِّ الْقُرْآنِ رَفَعَ صَوْتَهُ وَقَالَ: «آمِينَ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَحَسَّنَهُ, وَالْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بما بعده، رواه الدارقطني (1/ 335)، والحاكم (1/ 223)
২৮৩. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উম্মুল কুরআন বা সূরা ফাতিহা পাঠ সমাপ্ত করতেন তখন তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু করে ‘আমীন বলতেন। দারাকুৎনী একে হাসান বলেছেন; হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী (১/৩৩৫) হাকিম, ১/২২৩
وَلِأَبِي دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيِّ مِنْ حَدِيثِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ نَحْوُهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (932)، والترمذي (248) عن وائل بن حجر -رضي الله عنه- قال: «كان رسول الله -صلى الله عليه وسلم- إذا قرأ (ولا الضالين) قال: «آمين» ورفع بها صوته». واللفظ لأبي داود. وقال الترمذي: «حديث حسن». قلت: بل صحيح، ثم هو له شواهد أخرى مذكورة «بالأصل». وقال الحافظ في «التلخيص «(1/ 236): سنده صحيح
২৮৪. আবূ দাউদ ও তিরমিযীতে ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৯৩২, ৯৩৩, তিরমিযী সহীহ ২৪৮, নাসায়ী ৯৩২, ইবনু মাজাহ ৮৫৫, আহমাদ ১৮৩৬২, ১৮৩৬৫, ১৮৩৭৮, দারেমী ১২৪৭ তিরমিযী হাদীসটিক হাসান বললেও এটি মূলত: সহীহ হাদীস কেননা, এর পর্যাপ্ত শাহেদ হাদীস রয়েছে। ইবনু হাজার আত-তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে (১/২৩৬) এর সনদকে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: إِنِّي لَا أَسْتَطِيعُ أَنْ آخُذَ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْئًا, فَعَلِّمْنِي مَا يُجْزِئُنِي [مِنْهُ]. قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ, وَالْحَمْدُ لِلَّهِ, وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ, وَلَا حَوْلٌ وَلَا قُوَّةً إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ ... ». الْحَدِيثَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه (4/ 353و356)، وأبو داود (832)، والنسائي (2/ 143)، وابن حبان (1808)، والدارقطني (1/ 313)، والحاكم (1/ 241) من طريق إبراهيم السكسكي، عن ابن أبي أوفى. وزادوا جميعا إلا النسائي وابن حبان. «قال: يا رسول الله! هذا لله -عز وجل- فما لِيَ؟ قال: قل اللهم ارحمني وارزقني، وعافني، واهدني. فلما قام قال هكذا بيده. فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: أما هذا فقد ملأ يده من الخير». قلت: والسكسكي مُتَكَلَّمٌ فيه، ولكنه متابع
২৮৫. ‘আবদুল্লাহ্ বিন আবূ ‘আউফাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল- ‘আমি কুরআনের কোন অংশ গ্রহণে (মুখস্থ করতে) সক্ষম নই, তাই আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেন যা আমার জন্য যথেষ্ট হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বলবে, ‘সুবহানাল্লাহ, ‘আলহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম। (সংক্ষিপ্ত) ইবনু হিব্বান, দারাকুৎনী ও হাকিম। এটিকে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবূ দাউদ ৮৩২, আহমাদ ১৮৬৩১, নাসায়ী ৯২৪, ইবনু হিব্বান ১৮০৮, দারাকুতনী (৩/৩০ হাঃ ১), হাকিম (১/২৪১), নাসায়ী ও ইবনু হিব্বান ব্যতীত সকলেই এ কথা বৃদ্ধি করেছেন- “হে আল্লাহর রাসূল! এটাতো আল্লাহর জন্য। আমার জন্য কী? তিনি বলেন, তুমি বল, হে আল্লাহ! আমার প্রতি রহম কর, আমাকে রিযিক দান কর। আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে হেদায়েত কর। অতঃপর সে দাঁড়িয়ে বলল, এটাও তো তাঁরই হাতে রইল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এতটুকুই তার হাতকে কল্যাণে পরিপূর্ণ করে দিবে।
وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي بِنَا, فَيَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ - فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ - بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ, وَيُسْمِعُنَا الْآيَةَ أَحْيَانًا, وَيُطَوِّلُ الرَّكْعَةَ الْأُولَى, وَيَقْرَأُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (759)، ومسلم (451)
২৮৬. আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে তিনি যুহর ও ‘আসরের প্রথম দু রাকাআতে সূরাহ ফাতিহার সঙ্গে আরও দুটি সূরাহ পাঠ করতেন। কখনো কোন আয়াত শুনিয়ে পড়তেন। প্রথম রাকআত দীর্ঘ করতেন। আর শেষের দুরাকায়াতে তিনি (কেবল) সূরাহ ফাতিহা পড়তেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭৫৯, ৭৬২, ৭৭৬, ৭৭৮, ৭৭৯, মুসলিম ৪৪১, ৯৭৪, ৯৭৫, ৯৭৬, ৯৭৭, ৯৭৮, আবূ দাউদ ৭৯৮, মাজাহ ৮২৯, আহমাদ ২২১০৪, ২২০৩৩, ২২০৫৭, দারেমী ১২৯৩
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنَّا نَحْزُرُ قِيَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ, فَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ قَدْرَ: (الم تَنْزِيلُ) السَّجْدَةِ. وَفِي الْأُخْرَيَيْنِ قَدْرَ النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ. وَفِي الْأُولَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى قَدْرِ الْأُخْرَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ, وَالْأُخْرَيَيْنِ مِنْ الظُّهْرِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (452)، ونَحْزُرُ: نُقَدِّرُ
২৮৭. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনmdash;আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুহর ও ‘আসরের ‘কিয়াম-কে (কিরাআতকালে দাঁড়ান অবস্থাকে) অনুমান করতাম। তাঁর যুহরের প্রথম দুরাকআতের কিয়াম ‘সিজদা সূরা পাঠের সময়ের পরিমাণ হত, আর শেষের দুরাকআতের কিয়ামকে এর অর্ধেক পরিমাণ, আর ‘আসরের প্রথম দুরাকআতের কিয়ামকে যুহরের শেষের দুরাকআতের কিয়ামের অনুরূপ আর শেষের দুরাকআতের কিয়ামকে এর অর্ধেক সময়ের মত অনুমান করতাম।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪৫২, নাসায়ী ৪৭৫, ৪৭৬. আবূ দাউদ ৮০৪, ইবনু মাজাহ৮২৮, আহমাদ ১১৩৯৩, দারেমী ১২৮৮
وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ فُلَانٌ يُطِيلُ الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ, وَيُخَفِّفُ الْعَصْرَ, وَيَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ، وَفِي الْعِشَاءِ بِوَسَطِهِ وَفِي الصُّبْحِ بِطُولِهِ. فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَحَدٍ أَشْبَهَ صَلَاةً بِرَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مِنْ هَذَا. أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه النسائي (2/ 167 و 167 - 168) ولكن تصرف الحافظ في بعض ألفاظه
২৮৮. সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন-অমুক সাহাবী যুহরের ফারয সালাতের প্রথম দুরাকআতকে লম্বা করতেন ও ‘আসরকে হালকা করতেন এবং মাগরিবের সালাতে কুরআনের কিসারে মুফাসসাল, ‘ইশার সালাতে ওয়াসাতে মুফাসসাল ও ফজরের সালাতে তিওয়ালে মুফাসসালের সূরা পাঠ করতেন। অতঃপর আবূ হুরাইরা (রাঃ) বললেন- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের সঙ্গে এর থেকে বেশী সাদৃশ্য পূর্ণ সালাত এ ব্যক্তি ছাড়া আর কারো পিছনে পড়ি নাই। mdash;নাসায়ী সহীহ সানাদে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ৮২৭, নাসায়ী ৯৮২, ৯৮৩
‘তিওয়ালে মুফাসসাল’-সূরা হুজুরাত হতে সূরা বুরূজ পর্যন্ত সূরাসমূহকে বলা হয়। ‘আওসাত্বে মুফাসসাল’-সূরা তারিক্ব হতে সূরা বাইয়্যেনা পর্যন্ত সূরাসমূহকে বলে। ‘ক্বিসারে মুফাসসাল’-সূরা যিলযাল হতে সূরা নাস পর্যন্ত সূরাসমূহকে বলা হয়।
وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (765)، ومسلم (463)
২৮৯. জুবায়র ইবনু মুতইম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সালাতে সূরাহ আত-তূর পড়তে শুনেছি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭৬৫, ৩০৫০, ৪০২৩, ৪৮৫৪, মুসলিম ৪৬৩, ৯৮৭, আবূ দাউদ ৮১১, ইবনু মাজাহ। ৮৩২, আহমাদ ১৬২৯৩, ১৬৩২১, ১৬৩৩২, মালিক ১৭২, দারেমী ১২৯৫
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقْرَأُ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ يَوْمَ الْجُمْعَةِ: (الم تَنْزِيلُ) السَّجْدَةَ, وَ (هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ) مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (891)، ومسلم (880) واللفظ للبخاري
২৯০. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমুআহর দিন ফজরের সালাতে (الم تَنْزِيلُ) (সূরা সিজদা) এবং (هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ) (সূরা দাহর) দুটি সূরাহ তিলাওয়াত করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৮৯১, ১০৬৮, মুসলিম ৮৮০, নাসায়ী ৯৫৫, ইবনু মাজাহ ৮২৩, আহমাদ ৯২৭৭, ৯৭৫২, দারেমী ১৫৪২
وَلِلطَّبرَانِيِّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ: يُدِيمُ ذَلِكَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الطبراني في «الصغير» (986) بسند ضعيف، وله علة أخرى أبان أبو حاتم عنها في «العلل» (1/ 204/586)
২৯১. তাবারানীতে ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছেmdash;তিনি ফজরে এ সূরা দুটি সব সময়ই পাঠ করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তাবারানী সগীর ৯৮৬, (দুর্বল সূত্রে); মাজমাউয যাওয়ায়িদ (২/১৭১) ইবনু রজব তাঁর ফাতহুল বারী (৫/৩৮৩) গ্রন্থে বলেন, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত। তবে আবুল আহওয়াস থেকে মুরসাল রূপে বৰ্ণিত হয়েছে। অন্য একটি সূত্রে আবুল আহওয়াস আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে মুত্তাসিলরূপে বর্ণনা করেছেন। সেখানে المداومة (সর্বদা) কথাটি উল্লেখ নেই। ইমাম হাইসামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়িদ (২/১৭১) গ্রন্থে বলেন, এর সকল রাবী বিশ্বস্ত। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর ফাতহুল বারী (২/৪৩৯) গ্রন্থে বলেন, এর সকল রাবী বিশ্বস্ত, কিন্তু সঠিক কথা হচ্ছে আবূ হাতিম এটিকে মুরসাল বলেছেন। ইবনু হাজার তাঁর নাতায়িজুল আফকার (১/৪৭১) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, আর এর সকল বর্ণনাকারীকে বিশ্বস্ত বলেছেন। বিন বায তাঁর মাসায়িলুল ইমাম (২৮০) গ্রন্থে হাদীসটি উত্তম বলেছেন। বলেছেন, আর এর সকল বর্ণনাকারীকে বিশ্বস্ত বলেছেন। বিন বায তাঁর মাসায়িলুল ইমাম (২৮০) গ্রন্থে হাদীসটি উত্তম বলেছেন।
وَعَنْ حُذَيْفَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَمَا مَرَّتْ بِهِ آيَةُ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ عِنْدَهَا يَسْأَلُ, وَلَا آيَةُ عَذَابٍ إِلَّا تَعَوَّذَ مِنْهَا. أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (871)، والنسائي (3/ 225 - 226)، والترمذي (262)، وابن ماجه (1351)، وأحمد (5/ 382)، وأوله: صليت مع النبي -صلى الله عليه وسلم-، فكان يقول في ركوعه: «سبحان ربي العظيم». وفي سجوده سبحان ربي الأعلى، وما مر آية رحمة ... الحديث. وزاد ابن ماجه: «وإذا مر بآية فيها تنزيه لله سبح». وأما لفظ النسائي: قال حذيفة: صليت مع النبي -صلى الله عليه وسلم- ليلة فافتتح البقرة، فقلت: يركع عند المائة فمضى، فقلت: يركع عند المائتين فمضى، فقلت: يصلي بها في ركعة، فمضى. فافتتح النساء فقرأها ثم افتتح آل عمران، فقرأها، يقرأ مترسلا، إذا مر بآية فيها تسبيح سبح، وإذا مَرَّ بسؤال سأل، وإذا مر بتعوذ تعوذ، ثم ركع، فقال: «سبحان ربي العظيم»، وكان ركوعه نحوًا من قيامه، ثم رفع رأسه، فقال: «سمع الله لمن حمده، فكان قيامه قريبا من ركوعه، ثم سجد فجعل يقول: «سبحان ربي الأعلى»، فكان سجوده قريبا من ركوعه. قلت: وبنحو لفظ النسائي رواه مسلم في «صحيحه» (772)
২৯২. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন- আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি (সালাতে) কুরআন পড়ে রহমতের আয়াতে পৌছে রহমত কামনা করতেন এবং আযাবের আয়াতে পৌছে আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭৭২, তিরমিযী ২৬২, আবূ দাউদ ৮৭১, ৮৭৪, নাসায়ী ১০০৮, ১০:০৯, ১০৪৬, ১৬৬৪, ইবনু মাজাহ ১৩৫১, আহমাদ ২২৭৫০, ২২৮৫৮, ২২৮৬৬, দারেমী ১৩০৬
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلَا وَإِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا, فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ, وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ, فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (479) من طريق عبد الله بن معبد، عن ابن عباس قال: كشف رسول الله -صلى الله عليه وسلم- الستارة، والناس صفوف خلف أبي بكر، فقال: «أيها الناس! إنه لم يبق من مبشرات النبوة إلا الرؤيا الصالحة يراها المسلم، أو تُرَى له، ألا وإني ... » الحديث. وقمن: بفتح الميم وكسرها، جدير وحقيق
২৯৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এ ব্যাপারে সজাগ হয়ে যাও যে, আমাকে রুকূ ও সিজদার অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অতএব তোমরা রুকুতে তোমাদের প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব বর্ণনা কর এবং সিজদাতে গিয়ে আকুল প্রার্থনা কর, তাতে তোমাদের দুআ যথাৰ্থ কবুল করা হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪৭৯, ৪৮১, নাসায়ী ১০৪৫, ১১:২০, আবূ দাউদ ৮৭৬, ইবনু মাজাহ ৩৮৯৯, আহমাদ ১৯০৩, দারেমী ১৩২৫, ১৩২৬
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ [رَبَّنَا] وَبِحَمْدِكَ, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (817)، ومسلم (484)، وزاد «يتأول القرآن». قلت: إشارة إلى قوله تعالى: (فسبح بحمد ربك واستغفره إنه كان توبا) - كما في رواية مسلم
২৯৪. ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকূ ও সিজদায় سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي “হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি আপনি আমাকে ক্ষমা করুন” পাঠ করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৮১৭, ৭৯৪, ৪২৯৩, ৪৯৬৭, ৪৯৬৮, মুসলিম ৮৮৪, নাসায়ী ১০৪৭, ১১২২, ১১২৩, দারেমী ৮৭৭, ইবনু মাজাহ ৮৮৯, আহমাদ ২৩৬৪৩, ২৩৭০৩, ২৪১৬৪
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ, ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ, ثُمَّ يَقُولُ: «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ» حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنَ الرُّكُوعِ, ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ: «رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ» ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَهْوِي سَاجِدًا, ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ, ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ, ثُمَّ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي الصَّلَاةِ كُلِّهَا, وَيُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنِ اثْنَتَيْنِ بَعْدَ الْجُلُوسِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (789)، ومسلم (392)
২৯৫. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর রুকূতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখনسَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলতেন। অতঃপর সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাকাআতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাকাআতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭৮৯, ৭৯৫, ৮০৩, মুসলিম ৩৯২, নাসায়ী ১০২৩
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ: «اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ, وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ, أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ, أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ - وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ - اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ, وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ, وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (477)
২৯৬. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে বলতেনmdash;
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ, وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ, أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ, أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ - وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ - اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ, وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ, وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদু মিল আস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মা শিতা মিন শাইয়িম বাদু। আহলাস সানায়ী ওয়ালমাজদি, আহাক্কু মা কালাল ‘আবদু, ওয়া কুল্লুনা লাকা আবদুন। আল্লাহুম্মা লা মানি আ লিমা আ‘তায়তা, ওয়ালা মতিয়া লিমা মানাতা, ওয়া লা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার জন্য আসমান যমীন পরিপূর্ণ প্রশংসা আর এর ব্যতীত আরো অন্য বস্তু পরিপূর্ণ প্রশংসাওmdash;যা তুমি চাও। তুমি প্রশংসা ও মর্যাদার একমাত্র অধিকারী, এটা বড়ই ন্যায্য কথা যা তোমার বান্দা বলল, আমরা সকলেই তোমারই বান্দা। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের যা দেবে তাতে বাধা দেবার কেউ নেই এবং তুমি যা দেবে না তা দেবারও কেউ নেই। কোন শক্তিমানই সাহায্য করতে পারে না। কারণ সকল শক্তিই তোমারই করায়ত্তে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ১০৬৮, আবূ দাউদ ৮৪৭, আহমাদ ১১৪১৮, দারেমী ১৩১৩
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ: عَلَى الْجَبْهَةِ - وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أَنْفِهِ - وَالْيَدَيْنِ, وَالرُّكْبَتَيْنِ, وَأَطْرَافِ الْقَدَمَيْنِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (812)، ومسلم (490) (230) وزادا: ولا نَكْفُتْ الثيابَ ولا الشعر
২৯৭. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু হাত, দু হাঁটু এবং দু পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৮০৯, ৮১০, ৮১২, ৮১৫, ৮১৬, মুসলিম ৪৯০, তিরমিযী ২৭৩, নাসায়ী ১০৯৩, ১০৯৬, ১০৯৭, ১০৯৮, ১১১৩, ১১১৫, আবূ দাউদ ৮৮৯, ৮৯০, ৮৮৩, ৮৮, ১০৪০, আহমাদ ১৯২৮, ২৩০০, ২৪৩২, ২৫২৩, ২৫৭৯, দারেমী ১৩১৮, ১৩১৯
وَعَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا صَلَّى فَرَّجَ بَيْنَ يَدَيْهِ, حَتَّى يَبْدُوَ بَيَاضُ إِبِطَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (807)، ومسلم (495)
২৯৮. ইবনু বুহাইনা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন, তখন উভয় হাত এমন ফাঁক করতেন যে, তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। বুখারী-মুসলিম[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৮০৭, ৩৯০, ৩৫৫৫, মুসলিম ৪৯৫, নাসায়ী ১১০৬, আহমাদ ২২৪১৫
وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا سَجَدْتَ فَضَعْ كَفَّيْكَ, وَارْفَعْ مِرْفَقَيْكَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (494)
২৯৯. বারাআ বিন ‘আযিব (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যখন সিজদা করবে তখন তোমার দু-হাতের তালু মাটিতে রাখবে ও কনুইদ্বয় উঁচু করে রাখবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪৯৪, নাসায়ী ১১:০৪, আবূ দাউদ ৮৯৬), আহমাদ ১৮০২২, ১৮১২৫, ১৮২২৬
وَعَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا رَكَعَ فَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ, وَإِذَا سَجَدَ ضَمَّ أَصَابِعَهُ. رَوَاهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الحاكم (1/ 224) مقتصرا على شطره الأول، وروى الشطر الثاني (1/ 227) وقال في الموضوعين: صحيح على شرط مسلم
৩০০. ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ করার সময় আঙ্গুলগুলো (হাঁটুর উপর) ফাঁক-ফাঁক করে রাখতেন, আর যখন সিজদাতে যেতেন তখন তাঁর আঙ্গুলগুলোকে মিলিয়ে রাখতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাকিম ১ম খণ্ড ২২৪ পৃঃ, ২২৭, মুসলিম এর শর্তে সহীহ বলেছেন।