হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (301)


وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي مُتَرَبِّعًا. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه النسائي (3/ 224)، وابن خزيمة (1238)، وأعله النسائي بقوله: «لا أعلم أحدا روى هذا الحديث غير أبي داود الحفري وهو ثقة، ولا أحسب هذا الحديث إلا خطأ. والله -تعالى- أعلم». قلت: وليس مع النسائي إلا الظن، وإن الظن لا يغني من الحق شيئا، فيبقى الحديث على صحته، حتى نتيقن من علته. والله أعلم. وصفة التربع: هو جعل باطن القدم اليمنى تحت الفخذ اليسرى، وباطن القدم اليسرى تحت الفخذ اليمنى، ووضع الكفين على الركبتين




৩০১. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চার জানুর উপর বসে (অসুস্থাবস্থায়) সালাত আদায় করতে দেখেছি। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] নাসায়ী ১৬৬১, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১২৩৮ ৷ ইমাম নাসায়ী উক্ত হাদীসটিকে দূর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আবূ দাউদ আল হায়সামী ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই, যদিও তিনি বিশ্বস্ত। আর আমি এই হাদীসটিকে সহীহ মনে করছি না। আর আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। প্রকৃতপক্ষে এটা ইমাম নাসায়ীর ধারণা বৈ কিছু নয়। আর প্রকৃত সত্যের মুকাবালায় অনুমান কোনই কাজে আসে না। তাই হাদীসটি সঠিকতার উপরই বহাল থাকবে যতক্ষণ না এর দূর্বলতার কারণ না জানা যায়।









বুলূগুল মারাম (302)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي, وَارْحَمْنِي, وَاهْدِنِي, وَعَافِنِي, وَارْزُقْنِي». رَوَاهُ الْأَرْبَعَةُ إِلَّا النَّسَائِيُّ, وَاللَّفْظُ لِأَبِي دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (850)، والترمذي (284)، وابن ماجه (898)، والحاكم (1/ 262/ 271)




৩০২. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু সিজদার মাঝখানে (বসে) বলতেন: আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া আফিনী, ওয়ারযুকনী। (হে প্ৰভু! আমায় ক্ষমা করুন, আমাকে দয়া করুন, আমাকে পথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুখী করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন।) হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৮৫০, তিরমিযী ২৮৪, ইবনু মাজাহ ৮৯৮, হাকিম ১ম খণ্ড ২৬২, ২৭১, পৃঃ









বুলূগুল মারাম (303)


وَعَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ - رضي الله عنه: أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي, فَإِذَا كَانَ فِي وِتْرٍ مِنْ صَلَاتِهِ لَمْ يَنْهَضْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَاعِدًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (823)، وهذه القعدة هي المعروفة عند الفقهاء بجلسة الاستراحة، قال الحافظ في «الفتح «(2/ 302): «وفي الحديث مشروعية جلسة الاستراحة، وأخذ بها الشافعي وطائفة من أهل الحديث، وعن أحمد روايتان، وذكر الخلال أن أحمد رجع إلى القول بها». قلت: والحنابلة يقلدون الإمام أحمد في الرواية الأولى حيث لا دليل معه، ويخالفونه في الرواية الثانية حيث الدليل معه، كل ذلك من أجل العمل بما في كتب مذهبهم المتأخرة! كالروض المربع! ولا حول ولا قوة إلا بالله




৩০৩. মালিক ইবনু হুয়াইরিস লাইসী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর সালাতের বেজোড় রাকাআতে (সিজদা হতে) উঠে না বসে দাঁড়াতেন না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৮২৩, তিরমিযী ২৮৭, নাসায়ী ১১৫২, আবূ দাউদ ৮৪৪









বুলূগুল মারাম (304)


وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَنَتَ شَهْرًا بَعْدَ الرُّكُوعِ, يَدْعُو عَلَى أَحْيَاءٍ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ, ثُمَّ تَرَكَهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري، ومسلم (677) (304)، واللفظ لمسلم




৩০৪. আনাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাসব্যাপী আরবের কতিপয় গোত্রের প্রতি বদদুআ করার জন্য সালাতে রুকূর পর দুআ কুনূত পাঠ করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১০০১, ১০০২, ১০০৩, ১৩০০. ২৮০১, ২৮১৪, ৩০৬৪, ৩১৯০, ৪০৮৮, ৪০৯০, ৪০৯১, ১০৯৪, ৪০৯৫, ৪০৯৬, ৬৩৯৪, মুসলিম ৬৭৭, নাসায়ী ১০৭০, ১০৭৪১, ১০৭৭, আবূ দাউদ ১৪৪৪, ইবনু মাজাহ ১১৮৩, ১১৮৪, আহমাদ ১১৭৪০, ১১৭৪২, ১২২৪৪, দারেমী ১৫৯৬, ১৫৯৯









বুলূগুল মারাম (305)


وَلِأَحْمَدَ وَالدَّارَقُطْنِيِّ نَحْوُهُ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ, وَزَادَ: فَأَمَّا فِي الصُّبْحِ فَلَمْ يَزَلْ يَقْنُتُ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه أحمد (3/ 162)، والدارقطني (2/ 39)




৩০৫. আহমদ ও দারাকুৎনীতে অনুরূপ রয়েছে। তবে ভিন্ন একটি সানাদে কিছু অতিরিক্ত কথা রয়েছেঃ “কিন্তু ফজরের সালাতে তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় না নেয়া পর্যন্ত ‘কুনূত করা ছাড়েননি।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ১২২৪৬, দারাকুতনী ৩৯ পৃঃ হাঃ ১৭১১, ১৭১২, ১৭১৩, ১৭২২









বুলূগুল মারাম (306)


وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم: كَانَ لَا يَقْنُتُ إِلَّا إِذَا دَعَا لِقَوْمٍ, أَوْ دَعَا عَلَى قَوْمٍ. [ص: 90] صَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه ابن خزيمة (620)




৩০৬। তাঁর [আনাস (রাঃ)] থেকেই বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল কোন সম্প্রদায়ের পক্ষে দুআ বা বিপক্ষে বদদুআ (অভিসম্পতি) করার জন্য ‘কুনূত করতেন। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সিলসিলাহ সহীহাহ হাঃ ৬৩৯, মুসলিম এর শর্তে এ হাদীসের সানাদ সহীহ।









বুলূগুল মারাম (307)


وَعَنْ سَعْدِ بْنِ طَارِقِ الْأَشْجَعِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَتِ! إِنَّكَ قَدْ صَلَّيْتَ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَأَبِي بَكْرٍ, وَعُمَرَ, وَعُثْمَانَ, وَعَلَيٍّ, أَفَكَانُوا يَقْنَتُونَ فِي الْفَجْرِ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ, مُحْدَثٌ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, إِلَّا أَبَا دَاوُدَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه النسائي (2/ 203)، والترمذي (402)، وابن ماجه (1241)، وأحمد (3/ 472 و 6/ 394)، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح




৩০৭. সাদ ইবনু তারেক আল-আশজাঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে পিতা! আপনি অবশ্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর, ‘উমার, উসমান ও ‘আলী (রাঃ)-এর পিছনে সালাত আদায় করেছেন। তাঁরা কি ফজরের সালাতে দুআ কুনূত পড়তেন? তিনি বলেন, হে বৎস! এটা তো বিদআত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৪০২, ইবনু মাজাহ ১২৪১, নাসায়ী ১০৮০, আহমাদ ১৫৪৪৯, ২৬৬৬৮









বুলূগুল মারাম (308)


وَعَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي قُنُوتِ الْوِتْرِ: اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ, وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ, وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ, وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ, وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ, فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ, إِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ, تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ

وَزَادَ الطَّبَرَانِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ: «وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ

زَادَ النَّسَائِيُّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ فِي آخِرِهِ: «وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ*

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1425)، والنسائي (3/ 248)، والترمذي (464)، وابن ماجه (1178)، وأحمد (1/ 199 و 200)

*ضعيف. رواه النسائي (3/ 248) وزاد: «محمد» وسنده منقطع كما صرح بذلك الحافظ في التلخيص




৩০৮. হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিতর সালাতের কুনূতে পড়ার জন্য কতগুলো বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন যা আমি বিতর সালাতের কুনূতে পড়ে থাকি।



উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদায়তা, ওয়া আফিনী ফীমান আফায়তা, ওয়া তাওয়াল-লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা, ওয়া বারিক লী ফীমা আতায়তা, ওয়া কিনী শাররা মা কাদায়তা, ফাইন্নাকা তাকদী ওয়া লা ইয়ুকদা আলায়কা ইন্নাহু লা ইয়াদিল্লু মান ওয়ালায়তা, তাবারাকতা রাব্বানা ওয়া তাআলায়তা।



অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দান কর, যাদের তুমি হিদায়াত করেছ তাদের সাথে। আমাকে মাফ করে দাও, যাদের মাফ করেছ তাদের সাথে। আমার অভিভাবক হও, যাদের অভিভাবক হয়েছে তাদের সাথে। তুমি আমাকে যা দান করেছ তাতে বরকত দাও। আর আমাকে ঐ অনিষ্ট হতে বাঁচাও, যা তুমি নির্ধারণ করেছ। তুমি ফায়সালা কর কিন্তু তোমার উপরে কেউ ফায়সালা করতে পারে না। তুমি যার সাথে শত্রুতা রাখ, সে সম্মান লাভ করতে পারে না। নিশ্চয়ই অপমান হয়না সেই যাকে তুমি মিত্র হিসাবে গ্রহণ করেছ। হে আমাদের রব! তুমি বরকতময়, তুমি উচ্চ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামমুং-এর উপর রহমত অবতীর্ণ হোক।



তাবারানী ও বাইহাকী বৃদ্ধি করেছেন: উচ্চারণ : ওয়ালা ইয়াউযযু মান ‘আদাইতা “তুমি যার সাথে শক্ৰতা পোষণ কর সে কখনো ইজ্জত লাভ করতে পারে না।” নাসায়ীতে ভিন্ন সূত্রে আরো রয়েছে : উচ্চারণ: ওয়া সল্লাল্লাহু ‘আলান নাবিয়্যি। “আর নবীর প্রতি আল্লাহর সালাত (দরুদ) বর্ষিত হোক।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪২৫, তিরমিযী ৪৬৪, নাসায়ী ১৭৪৫, ১৭৪৬, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, আহমাদ ১৭২০, ২৭৮২০, দারেমী ১৫৯১, বাইহাকী ২য় খণ্ড ২০৯, পৃঃ, হাঃ ৪৬৩৭, ৩২৬৩, তাবারানী ২৭০১, ২৭০৩, ২৫০৫, ২৫০৭, আবূ দাউদ ১৪২৫

কুনূতের শেষে وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ শব্দগুলো বলা সম্পর্কিত বৰ্ণনার ব্যাপারে ইমাম নববী তাঁর আল মাজমূ’ (৩/৪৯৯) গ্রন্থে এবং ইমাম সাখাবী তাঁর আল কাওলুল বাদী’ (২৬১) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ হাসান অথবা সহীহ ও আল আযকার (৮৭) গ্রন্থে এর সানাদকে হাসান বলেছেন। ইবনুল মুলকিন তাঁর তুহফাতুল মুহতাজ (১/৪১০) গ্রন্থে এর সানাদকে হাসান বলেছেন। পক্ষান্তরে ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর নাতায়িজুল আফকার (২/১৫৩) গ্রন্থে বলেন, এই অতিরিক্ত অংশটির সানাদ গরীব, সাব্যস্ত নয়, কেননা আবদুল্লাহ বিন আলী পরিচিত নয়। ইবনু হাজার আত তালখীসুল হাবীব (১/৪০৫) গ্রন্থে উপরোক্ত ইমাম নববীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি যে সহীহ অথবা হাসান বলেছেন, তা সঠিক নয়, কেননা, হাদীসটি মুনকাতি’ বা বিচ্ছিন্ন। শাইখ আলবানী তামামুল মিন্নাহ (২৪৩) গ্রন্থে বলেন, কুনূতের শেষে যে অতিরিক্ত শব্দগুলো রয়েছে সেটি দুর্বল। কেননা, এর সানাদে অজ্ঞতা ও বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। শাইখ আলবানী যঈফ নাসায়ী (১৭৪৫) গ্রন্থে দুর্বল ও ইরওয়াউল গালীল (২/১৭৬), সিফাতুস সালাত (১৮০) গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (309)


وَلِلْبَيْهَقِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُعَلِّمُنَا دُعَاءً نَدْعُو بِهِ فِي الْقُنُوتِ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ. وَفِي سَنَدِهِ ضَعْفٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه البيهقي (2/ 210)




৩০৯. বাইহাক্বীতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে, তিনি বলেন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দুআ শিখিয়ে দিতেন, যার দ্বারা আমরা ফজরের কুনূতের সময় দুআ করতাম। এর সানাদে দুর্বলতা রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বাইহাকী ২৯৬০, ৩২৬৬

ইবনু উসাইমিন শারহু বুলুগুল মারামে (২/১৪০) نَدْعُو بِهِ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ অংশটুকুকে দুর্বল বলেছেন। তবে ফজরের স্বালাতে কুনূত করতে নিষেধ সংক্রান্ত হাদীস গুলো বিশুদ্ধ নয়। আয যূয়াফা আল কাবীর লিল উকাইলী (৩/৩৬৭) গ্রন্থে উকাইলী বলেন, আর ইমাম বুখারী বলেছেন মুহাদ্দীসগণ তার হাদীস বর্জন করেছে। বায়হাক্বী সুনানে আল কুবরা (২/২/১৪) গ্রন্থে ফজরের স্বালাতে কুনূত পড়া বিদআত সম্পর্কিত হাদীসটি সহীহ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। কেননা এর সানাদে রয়েছে আবূ লায়লা আল কুফী, আর সে হচ্ছে মাতরুক। মিযানুল ই’তিদাল (৪/৫৬৬) গ্রন্থে ইমাম যাহাবী বলেন, ফজরের স্বালাতে কুনূত পড়া বিদআত সম্পর্কিত হাদীসের এক জন রাবী আবূ লায়লাকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (310)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ, وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ». أَخْرَجَهُ الثَّلَاثَةُ
وَهُوَ أَقْوَى مِنْ حَدِيثِ وَائِلٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (840)، والنسائي (2/ 207)، والترمذي (269)، ولفظ الترمذي: «يعمد أحدكم فيبرك في صلاته برك الجمل». وهي رواية لأبي داود (841)، والنسائي (2/ 207)




৩১০. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে সাজদায় যাবে তখন যেন উটের মত না বসে এবং সে যেন হাঁটুদ্বয় রাখার পূর্বে তার দুহাত মাটিতে রাখে।



এ হাদীসটি ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস থেকে শক্তিশালী।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৮৪০, ৮৪১, নাসায়ী ১০৯০, ১০৯১, তিরমিযী ২৬৯, আহমাদ ৮৭৩২, দারোমী ১৩২১









বুলূগুল মারাম (311)


رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا سَجَدَ وَضَعَ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ. أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ
فَإِنْ لِلْأَوَّلِ شَاهِدًا مِنْ حَدِيثِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (838)، والنسائي (2/ 206 - 207)، والترمذي (268) وابن ماجه (882)، وقال الترمذي: «هذا حديث حسن غريب، لا نعرف أحدا رواه مثل هذا غير شريك». قلت: وهو سيئ الحفظ




৩১১. উক্ত হাদীসে আছে: আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সিজদার সময় তাঁর দু হাতের পূর্বে দু হাঁটু মাটিতে রাখতে দেখেছি। প্রথম হাদীসটি অধিক শক্তিশালী কারণ, ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাদীস উক্ত হাদীসের শাহিদ (অনুরূপ),[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ৮৮২, তিরমিযী ২৬৮, নাসায়ী ১০৮৯, ১১৫৪, আবূ দাউদ ৮৩৮, দারেমী ১৩২০ আলবানী ৮৩৮, নাসায়ী ১০৮৯, তিরমিযী ১৬৮, ইরওয়াউল গালীল ৩৫৭ গ্ৰন্থসমূহে হাদীটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। আত-তালখীসুল খাবীর (৪১৩) গ্রন্থে ইবনু হাজার বলেন, হাদীসটি শরীফ এক ভাবে বর্ননা করেছেন। এই হাদীসের শাহিদ রয়েছে, আওনুল মা’বুদ (৩/৪২) গ্রন্থে আযীমাবাদী বলেন, এই হাদীসের সানাদে ইবনু আব্দিল্লাহ আন নাখয়ী রয়েছে আর তার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। কোন কোন বর্ননায় “তিনি যখন দাড়াতেন তখন হাঁটুর উপর দাঁড়াতেন, এবং ভড় করতেন রানের উপর” এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি যয়ীফ। ইবনু বাযের মাজমুয়া ফাতওয়া (৬১/১১,৩৩/১১) গ্রন্থে হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখা প্রমাণিত বলে মন্তব্য করেছে। তিনি তার অপর গ্রন্থে ফাতওয়ানুর আলাদ দার (৮/২৮৬) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছে। ইরওয়াউল গালীল (২/৭৭) গ্রন্থে আলবানী হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন। তুহফাতুল আহওয়াযী (২/১৩) গ্রন্থে আব্দুর রহমান মুবারকপুরী হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনু রাজাব হাদীসটিকে মুরসাল ও মুনকাতি বলেছেন। তবে, হাটুর পূর্বে হাত রাখার হাদীসকে মুহাদ্দীসগণ সহীহ বা হাসান বলে অভিহিত করেছেন। জামেউস স্বাগীর লিস সুয়ূতী (৬৭৩) আওনুল মা’বুদ ৩/৪৩, আল মাহাল্লী ৪/১২৯









বুলূগুল মারাম (312)


ابْنِ عُمَرَ - رضي الله عنه - صَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَذَكَرَهُ الْبُخَارِيُّ مُعَلَّقًا مَوْقُوفًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه ابن خزيمة (627) ولفظه: عن ابن عمر «أنه كان يضع يديه قبل ركبتيه، وقال: كان رسول الله -صلى الله عليه وسلم- يفعل ذلك». وهذا الحديث أُعِلَّ بما لا يَقْدَحُ، وقد صححه غير ابن خزيمة: الحاكمُ، وشيخنا الألباني حفظه الله. والموقوف علقه البخاري (2/ 290 /فتح)




৩১২. আর ইবনু খুযাইমাহ একে (ইবনু ‘উমারের হাদীসকে) সহীহ বলেছেন, এবং বুখারীও এটাকে মুআল্লাক-মাওকুফরূপে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু খুযায়মা উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, হাঃ ৬২৭। তা হচ্ছে, ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত – তিনি তাঁর দু’হাঁটু রাখার পূর্বে দু’হাত রাখতেন এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। উক্ত হাদীসটিকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে যা ঠিক নয়। হাদীসটিকে ইমাম ইবনু খুযায়মা, হাতেম এবং আলবানী (রহঃ) সহীহ বলেছেন। আসল কথা হচ্ছে, ইমাম বুখারী (রহঃ) তা তা’লীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (ফাতহুল বারী ২ খণ্ড ২৯০, পৃঃ)









বুলূগুল মারাম (313)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا قَعَدَ لِلتَّشَهُّدِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى, وَالْيُمْنَى عَلَى الْيُمْنَى, وَعَقَدَ ثَلَاثَةً وَخَمْسِينَ, وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا, وَأَشَارَ بِالَّتِي تَلِي الْإِبْهَامَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (580) (115)، والرواية برقم (116)




৩১৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদে (আত্তাহিয়াতু পড়ার জন্য) বসতেন তখন বাম হাত বাম হাঁটুর উপর ও ডান হাত ডান হাঁটুর উপর রাখতেন এবং (আরাবীয় পদ্ধতিতে) তিপ্পান্ন গণনার ন্যায় (ডান) হাতের শাহাদাত ব্যতীত আঙ্গুলগুলোকে গুটিয়ে নিতেন এবং শাহদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।



মুসলিমের ভিন্ন একটি রিওয়ায়াতে রয়েছে : আঙ্গুলগুলোকে ভাঁজ করে নিয়ে কেবল বৃদ্ধাঙ্গুলির নিকটতম শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৫৮০, তিরমিযী ২৯৪, নাসায়ী ১১৬০, ১১৬৬, ১২৬৭, আবূ দাউদ ৯৮৭, ইবনু মাজাহ ৯১৩, আহমাদ ৪৫৬১, মুওয়াত্তা মালেক ১৯৯, দারেমী ১৩৩৯









বুলূগুল মারাম (314)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: الْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ, وَالصَّلَوَاتُ, وَالطَّيِّبَاتُ, السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
وَبَرَكَاتُهُ, السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ, أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ, وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ, ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعَاءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ, فَيَدْعُو». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ

وَلِلنَّسَائِيِّ: كُنَّا نَقُولُ قَبْلِ أَنْ يُفْرَضَ عَلَيْنَا التَّشَهُّدُ

وَلِأَحْمَدَ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - عَلَّمَهُ التَّشَهُّد, وَأَمَرَهُ أَنْ يُعَلِّمَهُ النَّاسَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (831)، ومسلم (402) وزاد البخاري في رواية (6265): «وهو بين ظهرانينا، فلما قبض قلنا: السلام. يعني على النبي -صلى الله عليه وسلم». قال الحافظ: «ظاهرها أنهم كانوا يقولون: السلام عليك أيها النبي بكاف الخطاب في حياة النبي -صلى الله عليه وسلم-، فلما مات النبي -صلى الله عليه وسلم- تركوا الخطاب وذكروه بلفظ الغيبة، فصاروا يقولون: السلام على النبي». وانظر «صفة الصلاة» لشيخنا حفظه الله ص (18 - 25) وص (161 - 162)

هذه الرواية للنسائي في «الكبرى» (1/ 378 / 120) بسند صحيح

ضعيف. رواه أحمد (3562)، وفي سنده انقطاع




৩১৪. আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন: তাই যখন তোমরা কেউ সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন বলে-



التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ, وَالصَّلَوَاتُ, وَالطَّيِّبَاتُ, السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ, السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ, أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ, وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ



উচ্চারণ: আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াতু তাইয়্যিবাতু আসসালামু আলাইকা আইয়্যূহান-নাবিইউ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু।



“সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক।” (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল)-ও পড়বে। শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[1]



নাসায়ীতে আছে, আমাদের উপর তাশাহহুদ ফারয হবার পূর্বে আমরা উপরোক্ত তাশাহহুদ পড়তাম।



আহমাদে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (ইবনু মাসউদকে) তাশাহহুদ শিখিয়েছিলেন আর এ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, লোকেদেরকেও তিনি যেন তা শিখিয়ে দেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর এক বর্ণনায় আরো রয়েছে, এ সময় তিনি আমাদের মাঝেই অবস্থান করছিলেন। তারপর যখন তার ওফাত হয়ে গেল, তখন থেকে আমরা السلام عليك এ স্থলে السلام على النبي পড়তে লাগলাম। হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, প্রকৃতপক্ষে সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় সম্বোধন করে বলতেন, السلام عليك أيها النبي মূলতঃপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তখন সাহাবীরা সম্বোধন করা ছেড়ে দিলেন এবং غائب এর সীগাহ উল্লেখ করে বলতেনঃ السلام على النبي

শাইখ আলবানী তাঁর আসল সিফাতুস সালাত সালাত ৩/৮৭৩ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে দুর্বলতা ও বিচ্ছিনতা রয়েছে। তিনি ইরওয়াউল গালীল ২/২৭ গ্রন্থেও এর দুর্বলতার কথাই বলেছেন।

[2] বুখারী ৮৩৫, ১২০২, ৬২৩০, ৬২৬৫, মুসলিম ৪০২, তিরমিযী ২৮৯, ১১০৫, নাসায়ী ১২৫২, ১১৬৩, ১১৬৪ আবূ দাউদ ৯৬৮ ইবনু মাজাহ ৮৯৯, আহমাদ ৩৫৫২ ৩৬১৫, ৩৮৬৭, ৪৪০৮, দারিামী ১৩৪০, ১৩৪১









বুলূগুল মারাম (315)


وَلِمُسْلِمٍ: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ: «التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ ... ». إِلَى آخِرِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (403) وقوله: «إلى آخره» يعني: التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ، الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ




৩১৫. মুসলিমে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহহুদ শিখিয়েছিলেন তা নিম্নরুপ ছিল : ‘সকল বরকতসমৃদ্ধ মান মর্যাদা আর পবিত্র ইবাদাত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই ....... শেষ পর্যন্ত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ২৯০, মুসলিম ৪০৩ তিরমিযী ২৯০, নাসায়ী ১১৭৪, আবূ দাউদ, ৯৭৪, ইবনু মাজাহ ৯০০, আহমাদ ২৬৬০, ২৮৮৭









বুলূগুল মারাম (316)


وَعَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - رَجُلًا يَدْعُو فِي صَلَاتِهِ, لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ, وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «عَجِلَ هَذَا» ثُمَّ دَعَاهُ, فَقَالَ: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ, ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - ثُمَّ يَدْعُو بِمَا شَاءَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالثَّلَاثَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (6/ 18)، وأبو داود (1481)، والنسائي (3/ 44 - 45)، والترمذي (3477)، وابن حبان (1960)، والحاكم (1/ 230 و 268) وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح». وعند أحمد «لم يذكر الله» بدل «لم يحمد الله». وعند الحاكم: «لم يحمد الله ولم يمجده». وأما النسائي فلفظه في «الكبرى» (1/ 380 - 381/ 1207)، وفي «المجتبى». «أن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- سمع رجلًا يدعو في صلاته لم يمجد الله ولم يصل على النبي -صلى الله عليه وسلم-، فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: عجلت أيها المصلي، ثم علَّمهم رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: وسمع رسول الله -صلى الله عليه وسلم- رجلًا يصلي فمجَّد الله، وحمده، وصلى على النبي -صلى الله عليه وسلم-: فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: ادع تُجَب، وسَلْ تُعْطَ




৩১৬. ফুযালাহ বিন ‘উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির সালাত আদায় করার সময় শুনলেন যে, সে দুআ করল বটে কিন্তু আল্লাহর প্রশংসা করল না ও নবীর প্রতি সালাত (দরুদ) পাঠ করল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি তাড়াতাড়ি করেছে। তারপর তিনি তাকে ডেকে বললেন-যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করবে তখন সে প্রথমে আল্লাহর হামদ ও গুণগান পাঠ করবে, তারপর নবীর উপর সালাত (দরূদ) পাঠ করবে, তারপর স্বীয় পছন্দমত দুআ (নির্বাচন করে) পাঠ করবে। তিরমিযী, ইবনু হিব্বান ও হাকীম এটিকে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪৮১, তিরমিযী ৩৪৭৬, ৩৪৭৭ নাসায়ী ১২৮৪ আহমাদ ২৩৪১৯ ইবনু হিব্বান হাঃ ১৯৬০, হাকিম ১ম খণ্ড ২৩০ ও ২৬৮, পৃঃ। ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম আহমাদের বর্ণনায়, لم يحمد الله এর বদলে لم يذكر الله এর উল্লেখ রয়েছে। ইমাম হাকিমের বর্ণনায় لم يحمد الله ولم يمجده উল্লেখ রয়েছে। ‘মুজতাবা’ গ্রন্থে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক লোককে সালাত পাঠরত অবস্থায় দোয়া পাঠ করতে শুনলেন, সে আল্লাহর গুণকীর্তনও করলো না এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপরও দরূদ পাঠ করলো না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মুসল্লী তুমি তাড়াহুড়া করলে। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শিক্ষা দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপর একজন লোককে সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর গুণকীর্তন, প্রশংসা এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠ করতে শুনলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি দোয়া কর, তোমার দোয়া কবুল করা হবে। তুমি যা চাও তাই প্রাপ্ত হবে।









বুলূগুল মারাম (317)


وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ, فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ فَسَكَتَ, ثُمَّ قَالَ: «قُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ, وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ, كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ, وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ, وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ, كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. وَالسَّلَامُ كَمَا عَلَّمْتُكُمْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وَزَادَ ابْنُ خُزَيْمَةَ فِيهِ: فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ, إِذَا نَحْنُ صَلَّيْنَا عَلَيْكَ فِي صَلَاتِنَا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (405)
حسن. رواه ابن خزيمة (711)، وزاد صلى الله عليك




৩১৭. আবূ মাসউদ (উকবাহ বিন ‘আমির) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, বাশীর বিন সাদ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ আপনার উপর আমাদের সালাত (দরূদ) পাঠের আদেশ করেছেন, তবে আমরা কিরূপে আপনার উপর সালাত (দরূদ) পাঠ করব? তিনি একটু নীরবতা পালন করলেন, তারপর বললেন,



উচ্চারণ: আল্লাহুমা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বারাকতা, ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।



অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর বংশধরদের উপর রহমত নাযিল কর, যেমন তুমি ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের উপর করেছিলে। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত, অতি মহান। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ এবং তাঁর বংশধরদের উপর বরকত নাযিল কর, যেমন তুমি ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের উপর নাযিল করেছিলে। তুমি প্রশংসিত, অতি মহান।



ইবনু খুযাইমাহ তাতে বৃদ্ধি করেছেন: “আমরা আমাদের সালাতে যখন আপনার প্রতি সালাত পাঠ করব তখন কিরূপে আপনার উপর সালাত (দরূদ) পাঠ করব?”[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ মুসলিম ৪০৫, তিরমিযী ৩২২০, নাসায়ী ১২৮৫, ১২৮৬, আবূ দাউদ ৯৭৯, আহমাদ ১৬৬১৯, হাসান: সহীহ ইবনু খুযাইমাহ হাঃ ৭১১









বুলূগুল মারাম (318)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ, يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ, وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ, وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ, وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الْأَخِيرِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (588)، وعزوه للبخاري وهم من الحافظ -رحمه الله- إذ الحديث ليس فيه، وإنما الذي في البخاري من فعله -صلى الله عليه وسلم-، وهذا من أمره. ولفظه في «البخاري» (1377): كان رسول الله -صلى الله عليه وسلم- يدعو: «اللهم إني أعوذ بك من عذاب القبر، ومن عذاب النار، ومن فتنة المحيا والممات، ومن فتنة المسيح الدجال». وهذه الرواية عند مسلم (588) (131)، فهذا اللفظ هو المتفق عليه وليس الذي ذكره الحافظ

صحيح. رواه مسلم (588) (130)




৩১৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন তোমাদের কেউ তাঁশাহহুদ পড়ে শেষ করবে তখন যেন চারটি জিনিস থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চায় (তা হলো) উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযূবিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নামা, ওয়া মিন ‘আযাবিল কাবরি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ-দাজ্জাল। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি জাহান্নামের শাস্তি হতে, কবরের শাস্তি হতে, জীবন ও মরণের ফিতনা হতে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা হতে।[1]



মুসলিমের বর্ণনায় আছে: “যখন তোমাদের কেউ শেষের বৈঠকের তাশাহহুদ শেষ করে” (তারপর উপরোক্ত দুআটি পড়বে)।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর (হাঃ ১৩৭৭) বর্ণনায় রয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন, اللهم إني أعوذ بك من عذاب القبر، ومن عذاب النار، ومن فتنة المحيا والممات، ومن فتنة المسيح الدجال হে আল্লাহ! আমি আপনার সমীপে পানাহ চাচ্ছি ক্ববরের শাস্তি হতে, জাহান্নামের শাস্তি হতে, জীবন ও মরণের ফিতনা হতে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা হতে।

[2] বুখারী ১৩৭৭, মুসলিম ৫৮৮, তিরমিযী ৩৬০৪, নাসায়ী ১৩১০, ৫৫০৫, ৫৫০৬, ৫৫০৮, ৫৫০৯, আবূ দাউদ ৯৮৩, ইবনু মাজাহ ৯০৯, আহমাদ ৭১৯৬, ৩৭২৮০, ১০৩৮৯, দারেমী ১৩৪৪









বুলূগুল মারাম (319)


وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ - رضي الله عنه - أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي. قَالَ: «قُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا, وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ, فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ, وَارْحَمْنِي, إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (834)، ومسلم (2705)




৩১৯. আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। একদা তিনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করলেন, আমাকে সালাতে পাঠ করার জন্য একটি দুআ শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, এ দুআটি বলবে-



اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا, وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ, فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ, وَارْحَمْنِي, إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ



উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাছিরাঁও, ওয়া লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলী মাগফিরাতান মিন ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফূরুর রহীম।



“হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অধিক যুলম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ হতে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৩২৬, ৭৩৮৮, ৮৩৪, মুসলিম ২৭০৫, তিরমিযী ৩৫৩১, নাসায়ী ১৩০২, ইবনু মাজাহ ৩৮৩৫, আহমাদ ৮২৯









বুলূগুল মারাম (320)


وَعَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَكَانَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ: «السَّلَام عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ»، وَعَنْ شِمَالِهِ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ [وَبَرَكَاتُهُ]». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (997) تنبيه: وقع في المطبوع من «البلوغ»: زيادة «وبركاته» في تسليمه عن الشمال، وهو خطأ فاحش، وإن زعم بعضهم أنها زيادة صحيحة




৩২০. ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছিলাম। তিনি (সালাত সমাপ্তকালে) ডান দিকে আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু (আল্লাহর শান্তি, করুণা ও আশিষ আপনাদের উপর বর্ষিত হোক) এবং বাম দিকে আসসালামু আলাইকুম, ওয়া রহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহু বলে সালাম ফেরালেন। আবূ দাউদ সহীহ সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৯৯৭