বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ, مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ, وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِثَلَاثٍ فَلْيَفْعَلْ, وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْعَلْ». رَوَاهُ الْأَرْبَعَةُ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَرَجَّحَ النَّسَائِيُّ وَقْفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1422)، والنسائي (3/ 238)، وابن ماجه (1190)، وابن حبان (2410)
৩৬৯. আবূ আইউব আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতর সালাত আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরী। যদি কেউ ৫ রাকআত বিতর সালাত আদায় করা পছন্দ মনে করে, সে সেটাই করবে; আর যে তিন রাকআত বিতর পড়া পছন্দ মনে করবে সেও সেটাই করবে; আর যে এক রাকআত বিতর পড়া পছন্দ করবে সেও সেটাই করবে। আর ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন, নাসায়ী এর মওকুফ হওয়াকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪২২, নাসায়ী ১৭১০, ১৭১১, ১৭১২, আহমাদ ২৩০৩৩, দারেমী ১৫৮২
وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: لَيْسَ الْوِتْرُ بِحَتْمٍ كَهَيْئَةِ الْمَكْتُوبَةِ, وَلَكِنْ سُنَّةٌ سَنَّهَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ وَالْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه النسائي (3/ 229)، والترمذي (453 و 454)، والحاكم (1/ 300) وقال الترمذي: حديث حسن
৩৭০. ‘আলী বিন আবী তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- বিতর সালাত ফরয সালাতের ন্যায় জরুরী নয়, বরং এটা একটি সুন্নাত, যা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চালু করেছেন। তিরমিযী একে হাসান বলেছেন আর হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৪৫৩, ৪৫৪, নাসায়ী ১৬০৫, ১৬০৬, আবূ দাউদ ১৪১৬, ইবনু মাজাহ ১১৬৯, আহমাদ ৬৫৪, ৭৬৩, দারেমী ১৫৭৯
وَعَنْ جَابِرٍ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَامَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ, ثُمَّ انْتَظَرُوهُ مِنَ [ص: 110] الْقَابِلَةِ فَلَمَّا يَخْرُجْ, وَقَالَ: «إِنِّي خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيْكُمْ الْوِتْرُ». رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف بهذا اللفظ. رواه ابن حبان (2409)
৩৭১. জাবির বিন ‘আবদিল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে কিয়াম বা রাতের সালাত জামাআত করে (তিন দিন পর পর) সম্পাদন করলেন। তারপর পরবর্তী রাতে লোকেরা তাঁর অপেক্ষায় থাকলেন; কিন্তু তিনি আর মসজিদে এলেন না। তিনি বললেন-আমি রাতের এ (তারাবীহসহ) বিতর সালাত তোমাদের উপর ফরয হয়ে যাবার আশঙ্কা করছি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] এ শব্দে হাদীসটি যঈফ। ইবনু হিব্বান ২৪০৯
وَعَنْ خَارِجَةَ بْنِ حُذَافَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ أَمَدَّكُمْ بِصَلَاةٍ هِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمُرِ النَّعَمِ» قُلْنَا: وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ? قَالَ: «الْوِتْرُ, مَا بَيْنَ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى طُلُوعِ الْفَجْرِ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1418)، والترمذي (452)، وابن ماجه (1168)، والحاكم (1/ 306) وقال الترمذي: غريب. وللحديث ما يشهد له، إلا أن شيخنا المحدث العلامة الألباني -حفظه الله تعالى- ذهب إلى تضعيف جملة «هي خير لكم من حمر النعم» لخلو الشواهد منها. ووقع في «أ»: «رواه أحمد. والأربعة» بدل: الخمسة
৩৭২. খারিজাহ বিন হুযাফাহ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আল্লাহ একটি সালাত দান করে তোমাদেরকে একটি বিশেষ সুযোগ দিয়েছেন তা তোমাদের জন্য লাল রঙ্গের উট অপেক্ষা উত্তম। আমরা বললাম-হে আল্লাহর রসূল! সেটা কি? তিনি বললেন বিতর সালাত, যা পড়া হয়৷ ‘ইশা সালাতের পর থেকে ফজর উদয় হবার পূর্ব পর্যন্ত। হাকিম একে সহীহ বলছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪১৮, তিরমিযী ৪৫২, ইবনু মাজাহ ১১৬৮, দারেমী ১৫৭৬
وَرَوَى أَحْمَدُ: عَنْ عَمْرِوِ بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ نَحْوَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (2/ 208) ولفظه: «إن الله زادكم صلاةً إلى صلاتكم، وهي الوتر». والحديث وإن كان عند أحمد بسند ضعيف، إلا أنه صحيح بما له من طرق أخرى، وشواهد كالحديث السابق، وتفصيل ذلك بالأصل
৩৭৩. ইমাম আহমাদ ‘আমার বিন শুআইব থেকে বর্ণনা করেছে তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ২/২০৮। আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সালাতের সাথে আরেকটি সালাত বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হচ্ছে বিতরের নামায। হাদীসটি যদিও আহমাদের বর্ণনায় দুর্বল সানাদে বর্ণিত হয়েছে, তবুও এর বিভিন্ন সূত্র এবং শাহেদ হাদীস থাকার কারণে তা সহীহ।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْوِتْرُ حَقٌّ, فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِسَنَد لَيِّنٍ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (1419)، والحاكم (1/ 305 - 306)
৩৭৪. ‘আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- বিতর সালাত জরুরী বা অবধারিত। অতএব যে তা আদায় না করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় (অর্থাৎ আমাদের অনুসারী নয়)। আবূ দাউদ দুর্বল সানাদে; হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪১৯, আহমাদ ২২৫১০। আলবানী আত তারগীব ৩৪০, তাখরীজ মিশকাত ১২৩০ গ্রন্থদ্বয়ে হাদীস টিকে দুর্বল বলেছেন। মুনযিরী বলেন, এর সানাদে ওবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আবূল মুনীর রয়েছে। ইমাম যাহাবী তানকীহুত তাহকীক (১/২১১) গ্রন্থে তাকে লীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফাতহুল বারী ২/৫৬৫ গ্রন্থে ইবনু হাজার উক্ত রাবীকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। পক্ষান্তরে উমদাতুল কারী শরহে সহীহুল বুখারী ৭/১৬ গ্রন্থে আল্লামা আয়নী জামেউস স্বগীর (৯৬৬৩) গ্রন্থে ইমাম সুয়ূতী হাদীস টিকে সহীহ বলেছেন। সুনানুল কুবরা (২/৪৭০) গ্রন্থে ইমাম বায়হাক্বী বলেন ইবনে মুয়ীন ওবাইদুল্লাহকে বিশ্বস্থ হিসেবে অবহিত করেছেন। ইমাম বুখারী বলেন সে মুনকার হাদীস বর্ননা কারী। ইবনু আদী বলেন তার মধ্যে কোন সমস্যা নেই।
وَلَهُ شَاهِدٌ ضَعِيفٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عِنْدَ أَحْمَدَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف أيضا. وهو عند أحمد (2/ 443)، ولفظه: من لم يوتر فليس منا
৩৭৫. আহমাদে আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক যে দুর্বল বর্ণনাটি রয়েছে সেটি উপরোক্ত হাদীসের সমাৰ্থক বা শাহিদ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] উক্ত হাদীসটিও দুর্বল। আহমাদ ২/৪৪৩। ইমাম আহমাদ তা বর্ণনা করেছেন। হাদীসের শব্দ হচ্ছে ن لم يوتر فليس منا যে বিতর না পড়বে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (অৰ্থাৎ আমাদের অনুসারী নয় )
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: [مَا] كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً, يُصَلِّي أَرْبَعًا, فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ, ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا, فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ, ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا. قَالَتْ عَائِشَةُ, فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ? قَالَ: «يَا عَائِشَةُ, إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلَا يَنَامُ قَلْبِي». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1147)، ومسلم (738)، وما بين الحاصرتين سقط من أ
৩৭৬. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতে) এগার রাকআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাকআত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি তিন রাকআত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, (একদা) আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি বিতরের পূর্বে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেন : আমার চোখ দুটি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২০১৩, ৩৫৬৯, ১১৪৭, মুসলিম ৭৩৮, তিরমিযী ৪৩৯, নাসায়ী ১৬৯৭, আবূ দাউদ ১৩৪১, আহমাদ ১৩৫৫৩, ২৩৯৪০, ২৪০৫৬, মুসলিম ২৬৫
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا عَنْهَا: كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ عَشْرَ رَكَعَاتٍ, وَيُوتِرُ بِسَجْدَةٍ, وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ, فَتِلْكَ ثَلَاثُ عَشْرَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1140)، ومسلم (738) (128)
৩৭৭. উক্ত কিতাবদ্বয়ে (বুখারী ও মুসলিমে) উক্ত রাবী বর্ণিত ভিন্ন এক হাদীসে রয়েছে: তিনি রাতে ১০ রাকআত তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতেন, আর ১ রাকআত বিতর আদায় করতেন, তারপর ফজরের দুরাকআত সুন্নাত আদায় করতেন, এভাবে মোট তের রাকআত সালাত হতো।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১২৩, ১১৪০, মুসলিম ৭২৪, ৭৩৬, ৭৩৭, তিরমিযী ৪৩৯, ৪৪০, নাসায়ী ৬৮৫, ১৬৯৬ আবূ দাউদ ১২৫৪, ১২৫৫, ইবনু মাজাহ ১১৯৮, ১৩৫৮, আহমাদ ২৩৫৩৭, ২৩৫৫৩, মুসলিম ২৪৩ ২৬৪, দারেমী ১৪৭৩, ১৪৭৪।
وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً, يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ, لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ إِلَّا فِي آخِرِهَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (737) وعزوه للبخاري وهم
৩৭৮. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকেই বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত তের রাকআত আদায় করতেন। তার মধ্যে ৫ রাকআত বিতর সালাত আদায় করতেন এবং তাতে শেষ রাকাআতে গিয়ে একটি মাত্র বৈঠক করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১২৩, ১১4০, মুসলিম ৭২৪, ৭৩৬, ৭৩৭, তিরমিযী ৪৩৯, ৪৪০, নাসায়ী ৬৮৫, ১৬৯৬ আবূ দাউদ ১২৫৪, ১২৫৫, ইবনু মাজাহ ১১৯৮, ১৩৫৮, আহমাদ ২৩৫৩৭, ২৩৫৫৩, মুসলিম ২৪৩ ২৬৪, দারেমী ১৪৭৩, ১৪৭৪
وَعَنْهَا قَالَتْ: مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِمَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (996)، ومسلم (745)
৩৭৯. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকেই বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (রাঃ) রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ বিভিন্ন রাতে বিভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরীর সময় তিনি বিতর আদায় করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৯৯৬, মুসলিম ৭৪৫, তিরমিযী ৪৫৬, নাসায়ী ১৬৮১ আবূ দাউদ ১৪৩৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৫ , আহমাদ ২৪৪৫৩, দারেমী ১৫৮৭
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَا عَبْدَ اللَّهِ! لَا تَكُنْ مِثْلَ فُلَانٍ, كَانَ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ, فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيلِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1152)، ومسلم (1159) (185)
৩৮০. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না, সে রাত জেগে ইবাদাত করত, পরে রাত জেগে ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১১৩১, ১১৫৩, ১৯৭৪, মুসলিম ১১৫৯, তিরমিযী ৭৭০, নাসায়ী ১৬৩০, ২৩৪৪, ২৩৮৮, আবূ দাউদ ১৩৮৮, ১৩৮৯, ১৩৯০, ইবনু মাজাহ ১৩৪৬, ১৭১২, ইবনু মাজাহ ৬৪৪১, ৬৫৫, দারেমী ৩৪৮৬
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَوْتِرُوا يَا أَهْلُ الْقُرْآنَ, فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1416)، والنسائي (3/ 228 - 229)، والترمذي (453)، وابن ماجه (1169)، وأحمد (877)، وابن خزيمة (1067)
৩৮১. ‘আলী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- হে আহলুল কুরআন (কুরআনের অনুসারী)! তোমরা বিতর (বিজোড়) সালাত আদায় করা। কেননা আল্লাহ বিতর আর তিনি বিজোড় (বিতর) ভালবাসেন। mdash;ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪১৬, নাসায়ী ১৬৭৫, তিরমিযী ৪৫৩, ইবনু মাজাহ ১১৬৯, ইবনু খুযাইম ১০৬৭
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «اجْعَلُوا آخِرَ صَلَاتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (998)، ومسلم (751) (151)
৩৮২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৭২, ৯৯৮ মুসলিম ৭৪৯, ৭৫০, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, আবূ দাউদ ১২৯৫, ১৩২৬, ১৪২১, ইবনু মাজাহ ১১৭৪ , ১১৭৫, আহমাদ ৪৫৫৭, ৪৮৩২, ৪৮৬৩, মুওয়াত্তা মালোক ২৬৯, ২৭৫, দারেমী ১৪৫৮
وَعَنْ طَلْقٍ بْنِ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا وِتْرَانِ فِي لَيْلَةٍ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالثَّلَاثَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 23)، وأبو داود (1439)، والنسائي (3/ 229 - 230)، والترمذي (470)، وابن حبان (2449) من طريق قيس بن طلق قال: زارني أبي يوما في رمضان، فأمسى عندنا وأفطر، فقام بنا تلك الليلة وأوتر،؛ ثم انحدر إلى مسجده فصلى بأصحابه، حتى إذا بقي الوتر، قدم رجلا، فقال: أوتر بأصحابك، فإني سمعت رسول الله -صلى الله عليه وسلم- يقول: الحديث
৩৮৩. ত্বলক বিন আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে শুনেছি এক রাতে দুবার বিতর সালাত নেই। -ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৪৭০, নাসায়ী ১৬৭৯, আবূ দাউদ ১৪৩৯
وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُوتِرُ بِـ (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى)، وَ (قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ)، وَ (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ). رَوَاهُ [ص: 113] أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ.
وَزَادَ: وَلَا يُسَلِّمُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (3/ 406 و 407)، وأبو داود (1423)، والنسائي (3/ 235 - 236)، وفي ألفاظهم اختلاف
৩৮৪. উবাই বিন কাব (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে-“সাব্বি হিসমা রাব্বিকাল আলা” ও “কুল ইয়া-আইয়ুহাল কাফিরূন” এবং “কুল হু ওয়াল্লাহু আহাদ” (সূরা তিনটি পাঠ করতেন)। নাসায়ী “কেবল শেষ রাকআতেই সালাম ফিরতেন” এ কথাটি বৃদ্ধি করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪২৩, নাসায়ী ১৭২৯, ১৭৩০, ইবনু মাজাহ ১১৭১
وَلِأَبِي دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيِّ نَحْوُهُ عَنْ عَائِشَةَ وَفِيهِ: كُلَّ سُورَةٍ فِي رَكْعَةٍ, وَفِي الْأَخِيرَةِ: (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ)، وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح دون لفظ: «والمعوذتين»، رواه أبو داود (1424)، والترمذي (463)، وقال الترمذي: حسن غريب
৩৮৫. আবূ দাউদ ও তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাতে আছে, প্রত্যেক রাকাআতে ১টি করে সূরা পাঠ করতেন। অবশেষে সূরা “কুল হু ওয়াল্লাহু আহাদ” ও মুআব্বিযাতাইন বা সূরা “ফালাক্ক” ও “নাস” পাঠ করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪২৩, ইবনু মাজাহ ১১৭৩, তিরমিযী ৪৬৩
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (754)
৩৮৬. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনmdash;সকাল (ফযর) করার পূর্বেই তোমরা বিতর সালাত আদায় করো।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭৫৪,। উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী হলেন, আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) আর তা সহীহ হাদীস।
وَلِابْنِ حِبَّانَ: مَنْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَلَمْ يُوتِرْ فَلَا وِتْرَ لَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
أي: من حديث أبي سعيد، وهو صحيح أيضا. رواه ابن حبان (2408)
৩৮৭. ইবনু হিব্বানে রয়েছেmdash;যে ব্যক্তি বিতর সালাত আদায় করলো না। অথচ সকাল করে ফেললো, তার বিতর সালাত নাই।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হিব্বান ২৪০৮
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ نَامَ عَنْ الْوِتْرِ أَوْ نَسِيَهُ فَلْيُصَلِّ إِذَا أَصْبَحَ أَوْ ذَكَرَ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1431)، والترمذي (465)، وابن ماجه (1188)، وأحمد (3/ 44) وأعل الحديث بما لا يقدح كما كنت بينت ذلك في «الناسخ والمنسوخ» لابن شاهين (215)، ثم زدت ذلك إيضاحا بالأصل
৩৮৮. আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিতর সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে গেলো বা তা পড়তে ভুলে গেলো, সে যেন ভোরবেলা অথবা যখন তার স্মরণ হয় তখন তা পড়ে নেয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪৩১, তিরমিযী ৪৬৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৮, আহমাদ ১০৮৭১