বুলূগুল মারাম
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَوْتِرُوا يَا أَهْلُ الْقُرْآنَ, فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1416)، والنسائي (3/ 228 - 229)، والترمذي (453)، وابن ماجه (1169)، وأحمد (877)، وابن خزيمة (1067)
৩৮১. ‘আলী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- হে আহলুল কুরআন (কুরআনের অনুসারী)! তোমরা বিতর (বিজোড়) সালাত আদায় করা। কেননা আল্লাহ বিতর আর তিনি বিজোড় (বিতর) ভালবাসেন। mdash;ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪১৬, নাসায়ী ১৬৭৫, তিরমিযী ৪৫৩, ইবনু মাজাহ ১১৬৯, ইবনু খুযাইম ১০৬৭
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «اجْعَلُوا آخِرَ صَلَاتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (998)، ومسلم (751) (151)
৩৮২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৭২, ৯৯৮ মুসলিম ৭৪৯, ৭৫০, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, আবূ দাউদ ১২৯৫, ১৩২৬, ১৪২১, ইবনু মাজাহ ১১৭৪ , ১১৭৫, আহমাদ ৪৫৫৭, ৪৮৩২, ৪৮৬৩, মুওয়াত্তা মালোক ২৬৯, ২৭৫, দারেমী ১৪৫৮
وَعَنْ طَلْقٍ بْنِ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا وِتْرَانِ فِي لَيْلَةٍ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالثَّلَاثَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 23)، وأبو داود (1439)، والنسائي (3/ 229 - 230)، والترمذي (470)، وابن حبان (2449) من طريق قيس بن طلق قال: زارني أبي يوما في رمضان، فأمسى عندنا وأفطر، فقام بنا تلك الليلة وأوتر،؛ ثم انحدر إلى مسجده فصلى بأصحابه، حتى إذا بقي الوتر، قدم رجلا، فقال: أوتر بأصحابك، فإني سمعت رسول الله -صلى الله عليه وسلم- يقول: الحديث
৩৮৩. ত্বলক বিন আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে শুনেছি এক রাতে দুবার বিতর সালাত নেই। -ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৪৭০, নাসায়ী ১৬৭৯, আবূ দাউদ ১৪৩৯
وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُوتِرُ بِـ (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى)، وَ (قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ)، وَ (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ). رَوَاهُ [ص: 113] أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ.
وَزَادَ: وَلَا يُسَلِّمُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (3/ 406 و 407)، وأبو داود (1423)، والنسائي (3/ 235 - 236)، وفي ألفاظهم اختلاف
৩৮৪. উবাই বিন কাব (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে-“সাব্বি হিসমা রাব্বিকাল আলা” ও “কুল ইয়া-আইয়ুহাল কাফিরূন” এবং “কুল হু ওয়াল্লাহু আহাদ” (সূরা তিনটি পাঠ করতেন)। নাসায়ী “কেবল শেষ রাকআতেই সালাম ফিরতেন” এ কথাটি বৃদ্ধি করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪২৩, নাসায়ী ১৭২৯, ১৭৩০, ইবনু মাজাহ ১১৭১
وَلِأَبِي دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيِّ نَحْوُهُ عَنْ عَائِشَةَ وَفِيهِ: كُلَّ سُورَةٍ فِي رَكْعَةٍ, وَفِي الْأَخِيرَةِ: (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ)، وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح دون لفظ: «والمعوذتين»، رواه أبو داود (1424)، والترمذي (463)، وقال الترمذي: حسن غريب
৩৮৫. আবূ দাউদ ও তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাতে আছে, প্রত্যেক রাকাআতে ১টি করে সূরা পাঠ করতেন। অবশেষে সূরা “কুল হু ওয়াল্লাহু আহাদ” ও মুআব্বিযাতাইন বা সূরা “ফালাক্ক” ও “নাস” পাঠ করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪২৩, ইবনু মাজাহ ১১৭৩, তিরমিযী ৪৬৩
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (754)
৩৮৬. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনmdash;সকাল (ফযর) করার পূর্বেই তোমরা বিতর সালাত আদায় করো।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭৫৪,। উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী হলেন, আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) আর তা সহীহ হাদীস।
وَلِابْنِ حِبَّانَ: مَنْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَلَمْ يُوتِرْ فَلَا وِتْرَ لَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
أي: من حديث أبي سعيد، وهو صحيح أيضا. رواه ابن حبان (2408)
৩৮৭. ইবনু হিব্বানে রয়েছেmdash;যে ব্যক্তি বিতর সালাত আদায় করলো না। অথচ সকাল করে ফেললো, তার বিতর সালাত নাই।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হিব্বান ২৪০৮
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ نَامَ عَنْ الْوِتْرِ أَوْ نَسِيَهُ فَلْيُصَلِّ إِذَا أَصْبَحَ أَوْ ذَكَرَ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1431)، والترمذي (465)، وابن ماجه (1188)، وأحمد (3/ 44) وأعل الحديث بما لا يقدح كما كنت بينت ذلك في «الناسخ والمنسوخ» لابن شاهين (215)، ثم زدت ذلك إيضاحا بالأصل
৩৮৮. আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিতর সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে গেলো বা তা পড়তে ভুলে গেলো, সে যেন ভোরবেলা অথবা যখন তার স্মরণ হয় তখন তা পড়ে নেয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৪৩১, তিরমিযী ৪৬৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৮, আহমাদ ১০৮৭১
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَافَ أَنْ لَا يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ, وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ, فَإِنَّ صَلَاةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ, وَذَلِكَ أَفْضَلُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (755)
৩৮৯. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যে ব্যক্তি শেষ রাতে জগতে না পারার আশঙ্কা করবে। সে যেন রাতের প্রথমাংশেই বিতর সালাত আদায় করে নেয়। আর যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হবার আস্থা রাখবেmdash;সে শেষ রাতেই তা পড়বে। কেননা শেষ রাতের সালাত আল্লাহর দরবারে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। এবং এটা উত্তম।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭৫৫, তিরমিযী ৪৫৫, ইবনু মাজাহ। ১১৮৭. আহমাদ ১৩৭২
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ فَقَدْ ذَهَبَ كُلُّ صَلَاةِ اللَّيْلِ وَالْوَتْرُ، فَأَوْتِرُوا قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف بهذا اللفظ مرفوعا، رواه الترمذي (469)
৩৯০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ফজর হয়ে গেলে রাতের সালাতের সময় শেষ হয়ে যায়। অতএব তোমরা ফজর উদিত হবার পূর্বেই বিতর সালাত আদায় করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৪৬৯, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, আবূ দাউদ ১২৯৫, ১৩২৬, ১৪২১, ইবনু মাজাহ। ১১৭৪ , ১১৭৫, আহমাদ ৪৫৫৭, ৪৮৩২, ৪৮৬৩, মুওয়াত্তা মালেক ২৬৯, ২৭৫, দারেমী ১৪৫৮, ইমাম বুখারী তাঁর ইলালুল কাবীর (২৫৭) গ্রন্থে হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন। আহমাদ শাকের ইবনু হাযামের আল মুহাল্লা গ্রন্থের তাহকীকে বলেন, এটি হচ্ছে ইবনু উমার কথা, যারা এটিকে রাসূলের বাণী বানিয়েছেন তারা সন্দেহবশত অথবা ভুল করে এটি করেছেন। ইবনুল কীসরানী তাঁর দাখীরুতুল হুফফায (১/৩৩৫৮) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে সুলাইমান বিন মূসা রয়েছেন যার সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদীস মুনকার। শাইখ আলবানী যঈফুল জামে (৫৮৪) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। তবে সহীহ তিরমিযী (৪৬৯) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। ইবনুল কাত্তান তার আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম (৪/৫৭৫) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي الضُّحَى أَرْبَعًا, وَيَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (719) (79)
৩৯১. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের সালাত চার রাকআত আদায় করতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় কিছু বেশিও আদায় করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭১৯, ইবনু মাজাহ ১৩৮১, আহমাদ ২৩৯৩৫, ২৪১১৭
وَلَهُ عَنْهَا: أَنَّهَا سُئِلَتْ: هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي الضُّحَى? قَالَتْ: لَا, إِلَّا أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (717)
৩৯২. মুসলিমে ‘আয়িশা (রাঃ) থেকেই বৰ্ণিত। তিনি জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন- আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যোহা বা চাশতের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন- না; তবে তিনি কোন সফর থেকে বাড়ি ফিরলে তা আদায় করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭১৭, নাসায়ী ২১৮৪, ২১৮৫, আবূ দাউদ ১২৯২। পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি হচ্ছে, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন আমল পরিত্যাগ করতে চান। অথচ তিনি তা করতে পছন্দ করেন, তিনি এই আশংকায় তা পরিত্যাগ করেন যে, লোকেরা এই আমলটি করা শুরু করবে। অতঃপর তা তাদের উপর ফরয হয়ে যাবে।
وَلَهُ عَنْهَا: مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ, وَإِنِّي لَأُسَبِّحُهَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (718)، وتمامه: وإن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليدع العمل، وهو يحب أن يعمل به، خشية أن يعمل به الناس، فيفرض عليهم. قلت: والحديث أيضا عند البخاري (1128) بتمامه
৩৯৩. মুসলিমে ‘আয়িশা (রাঃ) থেকেই আরো বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখি নি। অবশ্য আমি তা পড়ে থাকি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭১৮, বুখারী ১১২৮, আবূ দাউদ ১২৯৩, আহমাদ ২৩৫০৫, মালিক ৩৬০, দারিমী ১৪৫৫
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «صَلَاةُ الْأَوَّابِينَ حِينَ تَرْمَضُ الْفِصَالُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (748) وفيه: أن زيد بن أرقم رأى قوما يصلون من الضحى. فقال: أما لقد عملوا أن الصلاة في غير هذه الساعة أفضل. إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الحديث بنصه. ومن الواضح أن عزو الحافظ الحديث للترمذي إنما هو وهم
৩৯৪. যায়িদ বিন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আল্লাহর প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিদের নফল সালাত তখন (পড়া হয়) যখন উটের বাচ্চা পা গরম বালুতে দগ্ধ হয় অর্থাৎ মরুভূমিতে সূর্যের প্রখরতায় উটের বাচ্চ মাকে ছেড়ে যখন ছায়ায় চলে আসে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৭৪৮, আহমাদ ১৮৭৭৯, ১৮৭৮৪, দারেমী ১৪৫৭।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى الضُّحَى ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بَنَى اللَّهُ لَهُ قَصْرًا فِي الْجَنَّةِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَاسْتَغْرَبَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (473) وقال: حديث غريب
৩৯৫. আনাস ((রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যে ব্যক্তি বার রাকআত চাশতের সালাত আদায় করবে। আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একখানা অট্টালিকা নির্মাণ করবেন। তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব (একক সানাদ বিশিষ্ট্য) বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৪৭৩, ইবনু মাজাহ ১৩৮০, শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ তারগীব (৪০৩), যঈফুল জামে (৫৬৫৮), যঈফ তিরমিযী (৪৭৩), যঈফ ইবনু মাজাহ (২৫৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তিনি তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (১২৬৭) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদের ত্রুটি হচ্ছে, এতে মূসা বিন ফুলান বিন আনাস রয়েছেন, যিনি মাজহুল। ইমাম নববী তাঁর আল খুলাসা (১/৫৭১) গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন।
وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: دَخَلَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بَيْتِي, فَصَلَّى الضُّحَى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ - رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي صَحِيحِهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن حبان (2531) وفي سنده انقطاع
৩৯৬. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করে চাশতের ৮ রাকআত সালাত আদায় করেছিলেন। mdash;ইবনু হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাশীয়া বুলুগুল মারাম (২৭২) গ্রন্থে বিন বায বলেন, এর সানাদে আবূ মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ হান্তাব আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ননা করেছেন। তবে তিনি আয়িশা (রাঃ) হতে শ্রবন করেছেন কিনা এই বিষয়ে মতানৈক্য করা হয়েছে। এ ছাড়া অবশিষ্ট রাবীর মধ্যে কোন অসুবিধা নেই।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (645)، ومسلم (650) و «الفذ»: أي: المنفرد
৩৯৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামাআতে সালাতের ফাষীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৪৫, মুসলিম ৬৫০, তিরমিযী ২১৫, নাসায়ী ৮৩৭, ইবনু মাজাহ ৭৮৯, আহমাদ ৪৬৫৬, ৫৩১০, মুওয়াত্তা মালেক ২৯০
فذ শব্দের অর্থ হচ্ছে, منفرد অর্থাৎ একাকী। একাকী নামাযরত ব্যক্তিকে মুনাফারিদ বলা হয়।
وَلَهُمَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (648)، ومسلم (649)
৩৯৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত পঁচিশ গুণ অধিক সওয়াব রাখে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৭৬, ৪৪৫, ৪৭৭, ৬৪৮, মুসলিম ৬৪৯, তিরমিযী ২১৫, ২১৬, নাসায়ী ৭৩১, ৮৩৮, আবূ দাউদ ৪৬৯, ৪৭০, ইবনু মাজাহ ৭৮৬, ৭৮৭. আহমাদ ৮১৪৫, ৭৩৬৭, মুওয়াত্তা মালেক ২৯১, ৩৮২, দারেমী ১২৭৬
وَكَذَا لِلْبُخَارِيِّ: عَنْ أَبِي سَعِيدٍ, وَقَالَ: دَرَجَةً
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (646) «تنبيه»: قد وقع خلاف في العدد وتمييزه في أحاديث فضل صلاة الجماعة، وقد تناولتها بالتفصيل في الأصل
৩৯৯. আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বুখারীতেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। কিন্তু তাতে জুয-এর স্থলে দরজাহ শব্দ আছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৪৬, আবূ দাউদ ৫৬০, ইবনু মাজাহ ৭৮৮, আহমাদ ১১১২৯
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ فَيُحْتَطَبَ, ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلَاةِ فَيُؤَذَّنَ لَهَا, ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا فَيَؤُمَّ النَّاسَ, ثُمَّ أُخَالِفُ إِلَى رِجَالٍ لَا يَشْهَدُونَ الصَّلَاةَ, فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ يَعْلَمُ أَحَدُهُمْ أَنَّهُ يَجِدُ عَرْقًا سَمِينًا أَوْ مِرْمَاتَيْنِ حَسَنَتَيْنِ لَشَهِدَ الْعِشَاءَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (644)، ومسلم (651) العرق: هو العظم إذا كان عليه لحم، وإذا لم يكن عليه لحم فهو العراق. المرماة: ما بين ظلفي الشاة من اللحم، وقيل في تفسيرها غير ذلك
৪০০. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানী কাঠ সংগ্ৰহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর সালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর সালাতের আযান দেয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকেদের ইমামতি করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকেদের নিকট যাই এবং (যারা সালাতে শামিল হয়নি) তাদের ঘর জ্বলিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশতহীন মোটা হাড় বা ছাগলের ভালো দুটি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ‘ইশা সালাতের জামাআতেও হাযির হতো। শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪, মুসলিম ৬৫১, তিরমিযী ২১৭, নাসায়ী ৮৪৮, আবূ দাউদ ৫৪৮, ৫৪৯, ইবনু মাজাহ ৭৯১, আহমাদ ৭২৬০, ৭৮৫৬, মুওয়াত্তা মালেক ২৯২ দারেমী ১২১২, ১২৭৪ عرق বলা হয় ঐ হাড়কে যাতে গোশত রয়েছে, আর যে হাড়ে গোশত নেই তাকে عراق তথা মাংসাশূন্য হাড় বলা হয়। ছাগলের দুই খুরের মাঝখানের গোশতকে مرماة বলা হয়।