হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (401)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَثْقَلُ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ: صَلَاةُ الْعِشَاءِ, وَصَلَاةُ الْفَجْرِ, وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (657)، ومسلم (651)




৪০১. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফাজর ও ইশার সালাত অধিক ভারী। এ দু সালাতের কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৪৪, ২৪২০, ৭২২৪, মুসলিম ৬৫১, তিরমিযী ২১৭, নাসায়ী ৮৪৮, আবূ দাউদ ৫৪৮, ৫৪৯, ইবনু মাজাহ ৭৯১, আহমাদ ৭২৬০, ৭৮৬৫, মালিক ২৯২, দারিামী ১২১২, ১২৭8।









বুলূগুল মারাম (402)


وَعَنْهُ قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - رَجُلٌ أَعْمَى فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! لَيْسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِي إِلَى الْمَسْجِدِ, فَرَخَّصَ لَهُ, فَلَمَّا وَلَّى دَعَاهُ, فَقَالَ: «هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ?» قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: «فَأَجِبْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (653)




৪০২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন অন্ধলোক (আবদুল্লাহ বিন উম্মু মাকতুম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এসে বললেন- হে আল্লাহর রসূল! মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মত আমার কোন লোক নেই। এটা শুনে তিনি তাকে (জামাআতে হাজির হওয়া হতে) অব্যাহতি দিলেন। যখন লোকটি ফিরে গেল তখন তাকে ডেকে বললেন, তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? লোকটি বললেন হ্যা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তবে তুমি আযানে সাড়া দাও।” (অর্থাৎ আযানের ডাকে জামাআতে হাজির হও)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬৫৩, নাসায়ী ৮৫০









বুলূগুল মারাম (403)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَأْتِ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إِلَّا مِنْ عُذْرٍ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ, وَإِسْنَادُهُ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ, لَكِنْ رَجَّحَ بَعْضُهُمْ وَقْفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح مرفوعا. رواه ابن ماجه (793)، والدارقطني (1/ 420)، وابن حبان (2064)، والحاكم (1/ 245)




৪০৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আযান শুনার পরও যে (জামাআতে)- হাজির হয় না তার সালাত (শুদ্ধ) হয় না তবে যদি ওযর (শারিয়াতসম্মত কোন কারণ) থাকে তাহলে তা স্বতন্ত্র ব্যাপার হবে। ইবনু মাজাহ, দারাকুৎনী, ইবনু হিব্বান, হাকিম; এর সানাদ মুসলিমের সানাদের শর্তনুযায়ী। কিন্তু মুহাদ্দিসীনদের কেউ কেউ “মউকুফ” হাদীস বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৫৫১, ইবনু মাজাহ ৭৯৩, দারেমী ৪২০









বুলূগুল মারাম (404)


وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَسْوَدِ - رضي الله عنه: أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - صَلَاةَ الصُّبْحِ, فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا هُوَ بِرَجُلَيْنِ لَمْ يُصَلِّيَا, فَدَعَا بِهِمَا, فَجِيءَ بِهِمَا تَرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا, فَقَالَ لَهُمَا: «مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا مَعَنَا?» قَالَا: قَدْ صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا. قَالَ: «فَلَا تَفْعَلَا, إِذَا صَلَّيْتُمَا فِي رِحَالِكُمْ, ثُمَّ أَدْرَكْتُمْ الْإِمَامَ وَلَمْ يُصَلِّ, فَصَلِّيَا مَعَهُ, فَإِنَّهَا لَكُمْ نَافِلَةٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَاللَّفْظُ لَهُ, وَالثَّلَاثَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 160 و 161)، والنسائي (2/ 112)، وأبو داود (575) و (576)، والترمذي (219)، وابن حبان (1564 و 1565) وقال الترمذي: «حسن صحيح». الفرائض: جمع فريضة، وهي اللحمة التي بين الجنب والكتف تهتز عند الفزع والخوف. وقوله: «فلا تفعلا» قال ابن حبان: لفظة زجر مرادها ابتداء أمر مستأنف




৪০৪. ইয়াযিদ বিন আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (মিনার খায়েফ নামক মসজিদে) ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন যখন তিনি সালাত সমাধান করলেন তখন দেখলেন যে, দুটি লোক (জামাআতে) সালাত আদায় করে নাই। তাদেরকে তিনি ডাকলেন। ফলে ঐ দুজনকে যখন তাঁর নিকটে নিয়ে আসা হল তাদের বাহুদ্বয়ের মাংসপেশী (ভয়ে) কাঁপছিল। তারপর তাদের তিনি বললেন, আমাদের সঙ্গে জামাআতে সালাত পড়তে কিসে বাধা দিল? তারা বলল আমরা আমাদের বাড়ীতে সালাত সমাধান করেছিলাম। তিনি তাদের বললেন, এরূপ করবে না। যখন তোমরা বাড়িতে সালাত আদায় করার পর ইমামকে সালাত সমাধা করার পূর্বেই পাবে তখন তোমরা তার সঙ্গেও সালাত আদায় করবে। এ সালাত তোমার জন্য নফল বলে গণ্য হবে mdash;“আহমাদ”, শব্দ বিন্যাস তারই, -আর তিন জনে। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ২১৯, আবূ দাউদ ৫৭৫, আহমাদ ১৭০২০









বুলূগুল মারাম (405)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ, فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا, وَلَا تُكَبِّرُوا حَتَّى يُكَبِّرَ, وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا, وَلَا تَرْكَعُوا حَتَّى يَرْكَعَ, وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ, فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ, وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا, وَلَا تَسْجُدُوا حَتَّى يَسْجُدَ, وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا, وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعِينَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَهَذَا لَفْظُهُ

وَأَصْلُهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (603)




৪০৫. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, আর ইমাম তাকবীর না বলা পর্যন্ত তোমরা বলবে না। যখন তিনি রুকূ করেন তখন তোমরাও রুকূ করবে। তিনি রুকূ না করা পর্যন্ত তোমরা রুকুতে যাবে না। যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। আর তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে। আর সাজদায় তোমরা ততক্ষণ যাবে না, যতক্ষণ না তিনি সিজদাতে যান। যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। যখন তিনি বসে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। আবূ দাউদ; এটা তাঁরই শব্দ। এ হাদীসের মূল বিষয় বুখারী, মুসলিমে রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪১৪, ৪১৭, বুখারী ৭২২, নাসায়ী ৯২১, ইবনু মাজাহ ৮৪৬, ১২৩৯, আবূ দাউদ ৬০৩ আহমাদ ৭১০৪, ৮২৯৭, ৮৬৭২, ৯০৭৪, দারেমী ১৩১১।

বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর অনুসরণের জন্য। তাই যখন তিনি তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, যখন তিনি রুকূ’ করেন তখন তোমরাও রুকূ’ করবে। যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলেন, তখন তোমরা رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। আর তিনি যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করবে। যখন তিনি বসে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে।









বুলূগুল মারাম (406)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - رَأَى فِي أَصْحَابِهِ تَأَخُّرًا، فَقَالَ: «تَقَدَّمُوا فَائْتَمُّوا بِي, وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (438) وتمامه: لا يزال قوم يتأخرون حتى يؤخرهم الله




৪০৬. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে তাঁর নিকট থেকে দূরে দাঁড়াতে দেখে বললেন, তোমরা আমার নিকট অগ্রসর হও এবং তোমরা আমার অনুসরণ কর আর তোমাদের পেছনে যারা থাকবে তারা তোমাদের অনুসরণ করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪৩৮, নাসায়ী ৭৯৫, আবূ দাউদ ৬৮০, ইবনু মাজাহ ৬৭৮, আহমাদ, ১০৮৯৯

পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি হচ্ছে, যারা (সালাতের কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে) পিছনে পড়ে থাকবে আল্লাহ তাদেরকে পিছনেই করে দেবেন।









বুলূগুল মারাম (407)


وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ - رضي الله عنه - قَالَ: احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - حُجْرَةً بِخَصَفَةٍ, فَصَلَّى فِيهَا, فَتَتَبَّعَ إِلَيْهِ رِجَالٌ, وَجَاءُوا يُصَلُّونَ بِصَلَاتِهِ ... الْحَدِيثَ, وَفِيهِ: «أَفْضَلُ صَلَاةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلَّا الْمَكْتُوبَةَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (731)، ومسلم (781)




৪০৭. যায়দ বিন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাটি দিয়ে একটি ছোট কক্ষ তৈরী করেছিলেন আর সেখানে তিনি (নফল) সালাত আদায় করতে লাগলেন। ফলে কিছু লোক (কামরার বাইরে) তাঁরই সালাতের অনুসরণ করতে এসে তাঁর সালাতের সাথে সালাত পড়তে লাগল। হাদীসটি দীর্ঘ। ফরয সালাত ব্যতীত অন্য সব সালাত বাড়িতে আদায় করা উত্তম।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭৩১, মুসলিম ৭৮১, তিরমিযী ৪৫০, নাসায়ী ১৫৯৯, আবূ দাউদ ১০৪৪, ১৪৪৭, আহমাদ ২১০৭২, ২১০৮৪, ২১১১৪, মুওয়াত্তা মালোক ২৯৩, দারেমী ১৩৬৬









বুলূগুল মারাম (408)


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: صَلَّى مُعَاذٌ بِأَصْحَابِهِ الْعِشَاءَ, فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ, فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - «أَتُرِيدُ أَنْ تَكُونَ يَا مُعَاذُ فَتَّانًا? إِذَا أَمَمْتَ النَّاسَ فَاقْرَأْ: بِـ (الشَّمْسِ وَضُحَاهَا) , وَ (سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى) , وَ (اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ) , (وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى)». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (705)، ومسلم (465) (179)
وفي مسند الشافعي: عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِشَاءَ ثُمَّ يَنْطَلِقُ إِلَى قَوْمِهِ فَيُصَلِّيهَا، هِيَ لَهُ تَطَوُّعٌ، وَهِيَ لَهُمْ مَكْتُوبَةٌ الْعِشَاءُ. (1/ 308: (304)




৪০৮. জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,- সাহাবী মুআয (রাঃ) তাঁর অধীনস্থ লোকেদের নিয়ে ‘ইশা সালাত আদায় করলেন এবং ঐ সালাত তাদের পক্ষে খুব দীর্ঘ (কষ্টকর) হয়ে গেল। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এটা জানতে পেরে) তাঁকে বললেনঃ হে মুআয! তুমি কি ফিতনাহ সৃষ্টি করতে চাও? যখন তুমি লোকেদের ইমামতি করবে তখন ওয়াশশামসি ওয়াযুহাহা; সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা, ইকরা বিসমি রব্বিকা ও ওয়াললাইলি ইযা ইয়াগশা (সূরাগুলো) পাঠ করবে। শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭০৫, ৬১০, মুসলিম ৪৬৫, , নাসায়ী ৮৩৫, আবূ দাউদ ৭৯০, ইবনু মাজাহ ৮৩৬, ৯৮৬, ইবনু মাজাহ ১৩৭৭৮, ১৩৮৯৫









বুলূগুল মারাম (409)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فِي قِصَّةِ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بِالنَّاسِ, وَهُوَ مَرِيضٌ - قَالَتْ: فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ عَنْ يَسَارِ أَبِي بَكْرٍ, فَكَانَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ جَالِسًا وَأَبُو بَكْرٍ قَائِمًا, يَقْتَدِي أَبُو بَكْرٍ بِصَلَاةِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - وَيَقْتَدِي النَّاسُ بِصَلَاةِ أَبِي بَكْرٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (713)، ومسلم (418)




৪০৯. ‘আয়িশা (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় লোকেদের ইমামতি করার ঘটনা সম্বন্ধে বর্ণিত। তিনি বলেন: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে আবূ বাকরের বাম দিকে বসে গেলেন, বসে বসেই লোকেদের সালাত আদায় করাতে লাগলেন আর আবূ বাকর দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইকতিদা (অনুসরণ) করতে লাগলেন আর লোকেরা আবূ বাকরের ইকতিদা (অনুসরণ) করতে লাগল।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭১৩, মুসলিম ৪১৮, তিরমিযী ৩৬৭২, ইবনু মাজাহ ১২৩২, ১২৩৩, আহমাদ ৫১১৯, ২৩৫৮৩, মুওয়াত্তা মালেক ৪১৪, দারেমী ১২৫৭









বুলূগুল মারাম (410)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا أَمَّ أَحَدُكُمْ النَّاسَ فَلْيُخَفِّفْ, فَإِنَّ فِيهِمْ الصَّغِيرَ وَالْكَبِيرَ وَالضَّعِيفَ وَذَا الْحَاجَةِ, فَإِذَا صَلَّى وَحْدَهُ فَلْيُصَلِّ كَيْفَ شَاءَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (703)، ومسلم (467)




৪১০. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন যেন সে সংক্ষেপ করে। কেননা, তাদের মধ্যে ছোট, বড়, দুর্বল ও কর্মব্যস্তরা রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী সালাত আদায় করে, তখন ইচ্ছামত দীর্ঘ করতে পারে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭০৩, মুসলিম ৪৬৭, তিরমিযী ২৩৬, নাসায়ী ৮২৩, আবূ দাউদ ৭৯৪, আহমাদ ২৭৪৪, ৯৯৩৩, ১০১৪৪, মুওয়াত্তা মালেক ৩০৩









বুলূগুল মারাম (411)


وَعَنْ عَمْرِو بْنِ سَلَمَةَ قَالَ: قَالَ أَبِي: جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - حَقًّا. قَالَ: «فَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ أَحَدُكُمْ, وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْثَرُكُمْ قُرْآنًا»، قَالَ: فَنَظَرُوا فَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَكْثَرَ قُرْآنًا مِنِّي, فَقَدَّمُونِي, وَأَنَا ابْنُ سِتٍّ أَوْ سَبْعِ سِنِينَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (4302)، وأبو داود (585، والنسائي (2/ 80 - 81) واللفظ للبخاري من حديث طويل




৪১১. ‘আমর বিন সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন- আমার পিতা বলেছেন, সত্যই আমি তোমাদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে এসেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের কেউ একজন আযান দিবে। আর যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে অধিক অবগত সে তোমাদের ইমামতি করবে। তিনি (রাবী ‘আমর) বলেন, লোকেরা তাকাল কিন্তু আমার থেকে অধিক কুরআন পাঠ্যকারী অনুসন্ধান করে পেল না। তখন তারা ইমামতি করার জন্য আমাকেই আগে বাড়িয়ে দিল। অথচ তখন আমার বয়স মাত্র ৬-৭ বছর।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৩০২, নাসায়ী ৬৩৬, আবূ দাউদ ৫৮৫, আহমাদ ১৫৪৭২, ২০১৬২









বুলূগুল মারাম (412)


وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ, فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ, فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً, فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا - وَفِي رِوَايَةٍ: سِنًّا - وَلَا يَؤُمَّنَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ, وَلَا يَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (673) و «سلما»: أي: إسلاما. و «تكرمته»: الفراش ونحوه مما يبسط لصاحب المنزل ويخص به




৪১২. ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক কুরআন আয়ত্তকারী ব্যক্তি তোমাদের (সালাতে) ইমামতি করবে। যদি তাদের মধ্যে একাধিক জন কুরআন পাঠে সমতুল্য হয় তবে যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অধিক জানে (সে ইমামতি করবে); সুন্নাতে সমতুল্য হলে যে হিজরতে অগ্রগামী, (সে ইমামতি করবে) হিজরতে সমতুল্য হলে ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী, (সে ইমামতি করবে) ভিন্ন একটি সিলমান এর স্থলে সিন্নান (শব্দটি) আছে-যার অর্থ হবে বয়সে প্রবীণ ব্যক্তি। কেউ যেন কোন ব্যক্তির অধিকার স্থলে তার অনুমতি ব্যতীত ইমামতি না করে ও তার (কোন ব্যক্তির) বিছানায় তাঁর অনুমতি ব্যতীত না বসে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬৭৩ তিরমিযী ২৩৫, নাসায়ী ৭৮০, ৭৮৩, আবূ দাউদ ৫৮২, ইবনু মাজাহ ৯৮০, আহমাদ ১৬৬১৫, ১৬৬৪৩









বুলূগুল মারাম (413)


وَلِابْنِ مَاجَهْ: مِنْ حَدِيثِ جَابِرٍ: «وَلَا تَؤُمَّنَّ امْرَأَةٌ رَجُلًا, وَلَا أَعْرَابِيٌّ مُهَاجِرًا, وَلَا فَاجِرٌ مُؤْمِنًا». وَإِسْنَادُهُ وَاهٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه ابن ماجه (1081)




৪১৩. এবং ইবনু মাজাহতে জাবির (রাঃ) এর বর্ণিত একটি হাদীস রয়েছে: কোন স্ত্রীলোক পুরুষের ইমামতি করবে না এবং কোন অজ্ঞ লোক কোন মুহাজিরের এবং কোন ফাজির (দুরাচারী) মুমিনের ইমামতি করবে না। এর সানাদ অত্যন্ত দুর্বল (ওয়াহ)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ১০৮১। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (২/৪৭) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল আ’দাবী রয়েছেন যিনি আলী বিন যায়দা বিন জাদআন থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আদাবীকে ওয়াকী’ হাদীস জালকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আর শিক্ষকও দুর্বল বর্ণনাকারী। ইবনু উসাইমীনও তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (২/২৬৯) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল (৫২৪) গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (৩/১৯৯৯) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আত তামীমী রয়েছেন। আর তাকে সমর্থন করেছেন আবদুল মালিক বিন হাবীব। কিন্তু তিনি হাদীস চুরি ও হাদীস ওলটপালটকারী হিসেবে অভিযুক্ত। আর এর সানাদে আলী বিন যায়দ বিন যাদ আন রয়েছেন, তিনিও দুর্বল।









বুলূগুল মারাম (414)


وَعَنْ أَنَسٍ, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «رُصُّوا صُفُوفَكُمْ, وَقَارِبُوا بَيْنَهَا, وَحَاذُوا بِالْأَعْنَاقِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (667)، والنسائي (2/ 92)، وابن حبان (2166) وعند ابن حبان «بالأكتاف» بدل «بالأعناق». وزادوا جميعا: «فوالذي نفسي بيده إني لأرى الشيطان يدخل من خلل الصف كأنها الحذف». والحذف: غنم سود صغار




৪১৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-তোমাদের কাতার গুলোকে খুব ভালভাবে একে অপরের সাথে মিশিয়ে নাও এবং এক কাতারকে অন্য কাতারের কাছাকাছি করো এবং কাঁধগুলোকে পরস্পরের বরাবর রাখ। ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৬৬৭, ৬৬৮, ৬৬৯, বুখারী ৭২৩, ৭১৮, মুসলিম ৪৩৩, নাসায়ী ৮১৪, ৮১৫, ৮৪৫, ইবনু মাজাহ ৯৯৩, আহমাদ ১২৪৭৩, ১৩২৫২, ১৩৩৬৬, দারেমী ১২৬৩

এই হাদীসে ওয়ালীদ বিন বুকাইর আবূ জান্নাব নামক কবি রয়েছে। ইমাম দারাকুতনি তবে মাতরূক বলেছেন। আরেক জন রয়েছে যার নাম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল আদারী নামক দুর্বল রাবী রয়েছে। তাকে ইবনুল তাফে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম বুখারী তাকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। আবূ হাতিম আর রাষী ও অনুরূপ বলেছেন। দারাকুতনী ও তাকে মাতরুক হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। আরেক জন রাবী আছে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন তার হাদীস পরিতাজ্য। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ও ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন তারা বলেন, তিনি শক্তিশালী রাবীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং হাদীস শাস্ত্রের মানদণ্ডে হাদীসটি মুনকার। হাদীসটি ইবনু মাজাহতে এককভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু হিব্বানের বর্ণনায় أعناق এর স্থলে أكتاف শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এবং সকলেই (আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনু হিব্বান) আরো বৃদ্ধি করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, فوالذي نفسي بيده إني لأرى الشيطان يدخل من خلل الصف كأنها الحذف সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ ! নিশ্চয় আমি শায়ত্বানকে কাতারের ফাঁক দিয়ে প্ৰবেশ করতে দেখছি, তাকে একটি ছোট কালো ছাগলের ন্যায় মনে হচ্ছিল।









বুলূগুল মারাম (415)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا, وَشَرُّهَا آخِرُهَا, وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا, وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (440)




৪১৫. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের উত্তম সারি (কাতার) হলো প্রথম সারি, আর নিকৃষ্ট সারি হচ্ছে পিছনের সারি এবং মেয়েদের সর্বোত্তম কাতার শেষেরটি আর নিকৃষ্ট হচ্ছে প্রথমটি।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৪৪০, তিরমিযী ২২৪, নাসায়ী ৮২০, আবূ দাউদ ৬৭৮, ইবনু মাজাহ ১০০০, আহমাদ ৭৩১৫, ৮২২৩, ৮২৮১, দারেমী ১২৬৮









বুলূগুল মারাম (416)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - ذَاتَ لَيْلَةٍ, فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ, فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بِرَأْسِي مِنْ وَرَائِي, فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (726)، ومسلم (763)




৪১৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে সালাত আদায় করতে গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথার পিছনের দিক ধরে তার ডান পাশে নিয়ে আসলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১১৭, ১৩৮, ৬৯৭, ৬৯৮, ৬৯৯, ৭২৬, মুসলিম ৭৬৩, তিরমিযী ২৩২, নাসায়ী ৪৪২, ৮০৬, আবূ দাউদ, ৫৮, ৬১০, ১৩৫৩, ১৩৫৫, ১৩৫৬, ১৩৬৪, আহমাদ ২১৬৫, ২২৪৫, ২৩:২১, মুওয়াত্তা মালোক ২৬৭, ১২৬২, দারেমী ১২৫৫









বুলূগুল মারাম (417)


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَقُمْتُ وَيَتِيمٌ خَلْفَهُ, وَأُمُّ سُلَيْمٍ خَلْفَنَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (727)، ومسلم (658)




৪১৭. আনাস (ইবনু মালিক) (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেন। আমি এবং একটি ইয়াতীম তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম আর উম্মু সুলাইম (রাঃ) আমাদের পিছনে দাঁড়ালেন। শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৩, ৫২৩, ১৩৯৮, ৩০৯১, ৩৫,১০, ৪৩৬৮, ৪৩৬৯, ৬১,৭৭, ৭২৬৬, মুসলিম ১৭, তিরমিযী ১৫৯৯, ২৬১১, নাসায়ী ৫০৩১, ৫৫৪৮, ৫৬৪৩, ৫৬৯২, আবূ দাউদ ৩৬৯০, ৩৬৯২. আহমাদ ২০১০, ২৪৭২, ২৪৯৫।









বুলূগুল মারাম (418)


وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - وَهُوَ رَاكِعٌ, فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ, فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا، وَلَا تَعُدْ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. (1)

وَزَادَ أَبُو دَاوُدَ فِيهِ: فَرَكَعَ دُونَ الصَّفِّ, ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّفِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (783)
صحيح. رواه أبو داود (684)، ولكن لفظه: قال صلى الله عليه وسلم: «أيكم الذي ركع دون الصف، ثم مشى إلى الصف؟» الحديث




৪১৮. আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন অবস্থায় পৌছলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন রুকুতে ছিলেন। তখন কাতার পর্যন্ত পৌছার পূর্বেই তিনি রুকূতে চলে যান। (এ ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ব্যক্ত করা হলে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিন।



তবে এ রকম আর করবে না। আবূ দাউদ বৃদ্ধি করেছেন : তিনি “সালাতের সারি পর্যন্ত না পৌঁছে রুকু করেন, অতঃপর রুকুর অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে সারিতে সামিল হন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৭৮৩, নাসায়ী ৮৭১, আবূ দাউদ ৬৮৩, ৬৮৪, আহমাদ ১৯৮৯২, ১৯৯২২, ১৯৯৯৪

আবূ দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, أيكم الذي ركع دون الصف، ثم مشى إلى الصف তোমাদের মধ্যে কে কাতারে না পৌঁছে রুকু আরম্ভ করে, অতঃপর এ অবস্থায় কাতারে শামিল হয়?









বুলূগুল মারাম (419)


وَعَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ [الْجُهَنِيِّ]- رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: رَأَى رَجُلًا يُصَلِّي خَلْفَ الصَّفِّ وَحْدَهُ, فَأَمَرَهُ أَنْ يُعِيدَ الصَّلَاةَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 228)، وأبو داود (682)، والترمذي (230)، وابن حبان (2198 و 2199 و 2200) وقال الترمذي: «حديث حسن». قلت: وللحديث طرق تفصيلها بالأصل




৪১৯. ওয়াসিবাহ বিন মাবাদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন লোককে একাকী সারির পেছনে সালাত আদায় করতে দেখেছিলেন, ফলে তাকে তিনি পুনরায় সালাত আদায় করার আদেশ দিলেন। আহমাদ, আবূ দাউদ, তিরমিযী (তিনি হাদীসটিকে হাসানও বলেছেন) এবং ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৬৮২, তিরমিযী ২৩০, ২৩১, ইবনু মাজাহ ১০০৪, আহমাদ ১৭৫৩৯, দারেমী ১২৮৫









বুলূগুল মারাম (420)


وَزَادَ الطَّبَرَانِيُّ مِنْ حَدِيثِ وَابِصَةَ: «أَلَا دَخَلْتَ مَعَهُمْ أَوْ اجْتَرَرْتَ رَجُلًا




৪২০. ত্ববারানীতে উক্ত ওয়াবিসাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আরও আছে, কোন সারিতে ঢুকে যাওনি কেন বা একজন সালাত আদায়কারীকে (পূর্বের সারি হতে) পেছনে টেনে নেওনি কেন?[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৬৮২, তিরমিযী ২৩০, ২৩১, ইবনু মাজাহ ১০০৪, আহমাদ ১৭৫৩৯, দারেমী ১২৮৫