হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (41)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَتَى بِثُلُثَيْ مُدٍّ, فَجَعَلَ يَدْلُكُ ذِرَاعَيْهِ. أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَة

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 39)، وابن خزيمة (118) واللفظ لابن خزيمة




৪১। ‘আবদুল্লাহ বিন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে দুই তৃতীয়াংশ মুদ (প্রায় আধা সের) পরিমাণ পানি পেশ করা হলে তিনি তা দিয়ে তাঁর দুহাতের কনুই পর্যন্ত ঘষে ধুতে লাগলেন”।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ (৪/৩৯); ইবনু খুযাইমাহ (২২৮) ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন। হাদীসের শব্দ ইবনু খুযাইমাহর।









বুলূগুল মারাম (42)


وَعَنْهُ: أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يَأْخُذُ لِأُذُنَيْهِ مَاءً خِلَافَ الْمَاءِ الَّذِي أَخَذَ لِرَأْسِهِ. أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ
وَهُوَ عِنْدَ مُسْلِمٍ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ بِلَفْظٍ: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ بِمَاءٍ غَيْرَ فَضْلِ يَدَيْهِ, وَهُوَ الْمَحْفُوظُ

-

البيهقي (1/ 65) وقال: هذا إسناد صحيح
رواه مسلم (236)، وقال البيهقي: وهذا أصح من الذي قبله




৪২। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। ‘তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাথা মাসহ(মাসেহ)-এর অবশিষ্ট পানি ব্যতীত কান মাসাহ করতে নতুনভাবে পানি নিতে দেখেছেন।[1]



মুসলিমের সুরক্ষিত শব্দ বিন্যাস এরূপ- এবং তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করেছিলেন। তাঁর হস্তদ্বয়ের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত অন্য পানি দিয়ে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বায়হাকী (১/৬৫); বায়হাকী বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। তিরমিযীও একে সহীহ বলেছেন। ইমাম নববী তাঁর আল-মাজমূ (১/৪১২) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ-শারহুল মুমতি (১/১৭৮) ও শারহে বুলুগুল মারাম (১/১৮৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে শায বলেছেন। শায়খ আলবানী সিলসিলা সহীহাহ (১/৯০৫) গ্রন্থে হাদীসটি শায এবং সহীহ নয়।

[2] মুসলিম (২৩৬), ইমাম বায়হাকী বলেন, এটি পূর্বে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহীহ।









বুলূগুল মারাম (43)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «إِنَّ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ, مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ, فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (136)، ومسلم (246) (35) وقوله: «فمن استطاع» مدرج من كلام أبي هريرة. والله أعلم




৪৩। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘কিয়ামতের দিনে আমার উম্মত উযূর চিহ্ন বহনকারী গুররান মুহাজ্জালীন (উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত পা) সহ হাজির হবে। তাই ঐ উজ্জ্বলতা যারা বৃদ্ধি করতে সক্ষম তারা যেন তা বৃদ্ধি করে নেয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ। বুখারী (১৩৬); মুসলিম (৩৫, ২৪৬) শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। আর «فمن استطاع» কথাটি আবু হুরায়রা হতে মুদরাজ হিসেবে বর্ণিত।









বুলূগুল মারাম (44)


وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ فِي تَنَعُّلِهِ, وَتَرَجُّلِهِ, وَطُهُورِهُ, وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (168)، ومسلم (268) (67) من طريق مسروق، عن عائشة، به




৪৪। আয়িশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরিধান করা, চুল আচড়ানো, উযূ সহ সকল ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (১৬৮); মুসলিম (৬৭, ২৬৮) মাসরূকের সূত্রে আয়িশাহ (রাঃ) হতে।









বুলূগুল মারাম (45)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَوَضَّأْتُمْ فَابْدَءُوا بِمَيَامِنِكُمْ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4141)، والترمذي (1766)، والنسائي في «الكبرى» (5/ 482)، وابن ماجه (402)، وابن خزيمة (178) واللفظ لابن ماجه. وأما لفظ أبي داود، وابن خزيمة، فهو: «إذا لبستم، وإذا توضأتم فابدأوا بأيامنكم». وأما الترمذي والنسائي فلفظهما: كان إذا ليس قميصا بدأ بميامنه. ومن هذا يتضح لك خطأ الحافظ رحمه الله في عزوه الحديث لمخرجيه هكذا على الإطلاق




৪৫। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা যখন উযূ করবে তখন ডান দিক হতে আরম্ভ করবে”।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৪১৪১); তিরমিযী (১৭৬৬); নাসায়ী তাঁর সুনানুল কুবরায় (৫/৪৮২); ইবনু মাজাহ (৪০২) ইবনু খুযাইমাহ (১৭৮) ইবনু খুযইমাহ একে সহীহ বলেছেন। হাদীসের শব্দ ইবনু মাজাহর। আর আবু দাউদ ও ইবনু খুযইমাহ শব্দ হল ذا لبستم، وإذا توضأتم فابدأوا بأيامنكم তোমরা যখন পোশাক পরবে বা অযূ করবে তখন তোমাদের ডানদিক হতে শুরু করবে। তিরমিযী ও নাসায়ীর শব্দ হচ্ছে كان إذا ليس قميصا بدأ بميامنه তিনি যখন পোশাক পরতেন তখন ডান দিক হতে শুরু করতেন। এ থেকে পরিস্কার হয়ে যায় যে, হাফেজ ইবনু হাজার (রহঃ) তাখরীজ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন।









বুলূগুল মারাম (46)


وَعَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - تَوَضَّأَ, فَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ, وَعَلَى الْعِمَامَةِ وَالْخُفَّيْنِ. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (274) (83)




৪৬। মুগীরাহ বিন শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করাকালে তাঁর কপাল, পাগড়ি ও মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ মুসলিম (৮৩, ২৭৪)









বুলূগুল মারাম (47)


وَعَنْ جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - فِي صِفَةِ حَجِّ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ صلى الله عليه وسلم: «ابْدَؤُوا بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ». أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ, هَكَذَا بِلَفْظِ الْأَمْرِ وَهُوَ عِنْدَ مُسْلِمٍ بِلَفْظِ الْخَبَرِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. النسائي (536)
مسلم (2/ 888)، أي: بلفظ: «أبدأ» وانظر رقم (742)




৪৭। জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ্জের পদ্ধতি বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘(কুরআনে) আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন তোমরাও (সায়ী) তা দিয়ে শুরু কর। নাসায়ী আদেশমূলক শব্দে বর্ণনা করেছেন।[1] এবং মুসলিমে (এটা বিবৃতি সূচক শব্দ দ্বারা) বর্ণিত হয়েছে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ নাসায়ী (৫৩৬)

[2] মুসলিম (২/৮৮৮); তিনি ... শব্দে বর্ণনা করেন। দেখুন (৭৪২)









বুলূগুল মারাম (48)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا تَوَضَّأَ أَدَارَ الْمَاءَ عَلَى مُرْفَقَيْهِ. أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ بِإِسْنَادِ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الدارقطني (1/ 15/83)




৪৮। জাবির (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করার সময় তাঁর দু কনুই-এর উপর পানি ফিরাতেন।-দারীকুতনী দুর্বল সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অত্যন্ত দুর্বল। দারাকুতনী (১/১৫/৮৩) এ হাদীসের সনদে কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আকীল মাতরূক। যিয়াউদ্দীন মাকসেদী তাঁর আস সুনান ওয়াল আহকাম (১/৯৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উকাইল রয়েছে। ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেন, তিনি তেমন কেউ নন। আবু হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইমাম যাহাবী তার তানকীহুত তাহকীক (১/৪৭) গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম হচ্ছে মাতরূক। ইমাম যাঈলয়ীও তার তাখরীজুল কাশশাফ (১/৩৮৩) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আল কাফী আশ শাক (৯০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/৮০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আল কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন উকাইল রয়েছে যিনি মাতরূক। ইমাম দারাকুতনীও তাঁর সুনানে (১/২১৫) উক্ত রাবী শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন। ইমাম শওকানী ফাতহুল কাদীর (২/২৭) গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ মাতরূক আর তার দাদা দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম শাওকানী তার সাইলুল জাররার (১/৮৩) গ্রন্থে বলেন, উক্ত রাবীর বিতর্কের বিষয়টি অতি প্রসিদ্ধ। ইমাম তাঁর খুলাসা (১/১০৮) এবং আল মাজমু (১/৩৮৫) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলা সহীহাহ (২০৬৭) গ্রন্থে বলেন, এর আরও সূত্র থাকায় এটি শক্তিশালী হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি সহীহুল জামে (৪৬৯৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (49)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَابْنُ مَاجَهْ, بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن بشواهده. رواه أحمد (2/ 418)، وأبو داود (101)، وابن ماجه (399)




৪৯। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘(উযূর শুরুতে) যে ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ না বলে, তার ওযূ শুদ্ধ হয় না। ইবনু মাজাহ এটি দুর্বল সানাদে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] কতক শাহেদ তথা সমর্থক হাদীস থাকার কারণে হাদীসটি হাসান। আহমাদ (২/৪১৮); আবু দাউদ (১০১), ইবনু মাজাহ (৩৯৯)









বুলূগুল মারাম (50)


وَلِلترْمِذِيِّ: عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
سنن الترمذي (25)




৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি সাঈদ বিন যায়দ থেকে বর্ণিত হয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সুনান তিরমিযী (২৫)









বুলূগুল মারাম (51)


وَأَبِي سَعِيدٍ نَحْوُهُ
قَالَ أَحْمَدُ: لَا يَثْبُتُ فِيهِ شَيْءٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
العلل الكبير (112 - 113)
كما في «مسائل ابن هانيء» (1/ 16/3) قلت: ولكن الحديث حسن بشواهده، وصححه غير واحد من الحافظ، وقد فصلت القول فيه في الأصل




৫১। আবূ সাঈদ হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন[1]। আহমাদ বলেন, ‘বিসমিল্লাহ বলা প্রসঙ্গে কিছু প্রমাণিত নেই।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আল-ইলালুল কুবরা (১১২-১১৩)

[2] যেমনটি ‘মাসায়েল ইবনু হানী’তে (১/১৬/৩) বর্ণিত হয়েছে। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন; কিন্তু হাদীসটি কতক সমর্থক হাদীস থাকার কারণে সহীহ। হাফেজ ইবনু হাজার ব্যতীত অন্যান্যরা একে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (52)


وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم يَفْصِلُ بَيْنَ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (139)




৫২। ত্বালহা বিন মুসরিফ হতে বৰ্ণিত। তিনি (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (কাব বিন ‘আমর হামদানী) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য করতে দেখেছি। (অর্থাৎ দুই কাজে আলাদা আলাদা পানি ব্যবহার করতেন)। আবূ দাউদ এটি দুর্বল সানাদে বর্ণনা করেছেন।”[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ (১৩৯), ইবনুল মুলকিন তাঁর খুলাসা আল বাদারুল মুনীর (১/৩২) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, আর তিনি একই গ্রন্থে (২/১০৪) এবং তুহফাতুল মুহতাজ (১/১৮২) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি দুর্বল, কেননা প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের নিকট লাইস বিন আবু সুলাইম দুর্বল বর্ণনাকারী হিসেবে পরিগণিত। ইমাম তাঁর খুলাসা (১/১০১) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন আর আল মাজমু (১/৩৮৫) গ্রন্থে বলেছেনঃ এর সনদ শক্তিশালী নয়। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/৮২) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে লাইস বিন আবু সুলাইম রয়েছেন যিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম শওকানী তাঁর সাইলুল জাররার গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটিকে মুসরিফ ওয়ালিদ তলহার অজ্ঞতার কারণে ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হয়। কিন্তু ইবনুস সালাহ এর সনদকে হাসান বলেছেন ........... ।

মুহাদিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (১/৪০৪), আওনুল মা’বুদ (১/১১৭) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী যঈফ আবু দাউদ (১৩৯) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার তাঁর আত তালখীসুল হাবীর (১/১১৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনেদ লাইস বিন আবু সুলাইম দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে ইয়াহইয়া ইবনুল কাত্তান, ইবনু মুঈন, আহমাদ বিন হাম্বাল পরিত্যাগ করেছেন।









বুলূগুল মারাম (53)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - فِي صِفَةِ الْوُضُوءِ: ثُمَّ تَمَضْمَضَ - صلى الله عليه وسلم - وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا, يُمَضْمِضُ وَيَنْثِرُ مِنَ الْكَفِّ الَّذِي يَأْخُذُ مِنْهُ الْمَاءَ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو جزء من الحديث المتقدم برقم (34)




৫৩। ‘আলী (রাঃ) হতে উযূর পদ্ধতি সম্বন্ধে বর্ণিত। “অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলি করলেন ও তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক ঝেড়ে নিলেন। তিনি কুলি করা এবং নাক ঝাড়ার কাজ একবার নেয়া পানিতেই সমাধা করলেন। -আবূ দাউদ ও নাসায়ী।”[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] এটি পূর্বের হাদীসের একটি অংশ। হাঃ ৩৪









বুলূগুল মারাম (54)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ - رضي الله عنه - فِي صِفَةِ الْوُضُوءِ: ثُمَّ أَدْخَلَ - صلى الله عليه وسلم - يَدَهُ, فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدَةٍ, يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو جزء من الحديث المتقدم برقم (35)




৫৪. আবদুল্লাহ বিনা যায়দ (রাঃ) হতে উযূর পদ্ধতি সম্বন্ধে বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রে হাত প্রবেশ করালেন এবং একবারে নেয়া পানিতেই কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তিনি অনুরূপ তিনবার করলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] এটি পূর্বের হাদীসের একটি অংশ। হাঃ ৩৫









বুলূগুল মারাম (55)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: رَأَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - رَجُلًا, وَفِي قَدَمِهِ مِثْلُ الظُّفْرِ لَمْ يُصِبْهُ الْمَاءُ. فَقَالَ: «ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (173) ووهم الحافظ -رحمه الله- في عزوه للنسائي، إذا لم يروه لا في «الكبرى» ولا في «الصغرى» والله أعلم




৫৫। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির পায়ে নখ পরিমাণ জায়গায় উযূর পানি না পৌছা দেখে তাকে বললেন, ‘তুমি ফিরে গিয়ে তোমার উযূকে ভালভাবে সমাধা কর। আবূ দাউদ নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (১৭৩), হাদীসটিকে ইবনু হাজার নাসায়ীর সাথে সম্পৃক্ত করে ভুল করেছেন। কেননা হাদীসটিকে সুনানুল কুবরা ও সুনানুস সুগারাতে পাওয়া যায় না।









বুলূগুল মারাম (56)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ, وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (201)، ومسلم (325) (51)




৫৬। উক্ত সাহাবী [আনাস (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ‘মুদ্দ (ছয় শত গ্রাম) পানি দিয়ে উযূ ও এক সা (আড়াই কেজির সামান্য বেশী) থেকে পাঁচ ‘মুদ্দ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন।” (এক সা অর্থাৎ ৪ মুদ্দ বা ২৬৬০ গ্রাম)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (২০০১); মুসলিম (৫১, ৩২৫)









বুলূগুল মারাম (57)


وَعَنْ عُمَرَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ, فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ, ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ, وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ, إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
وَالتِّرْمِذِيُّ, وَزَادَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ, وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (234) عن عقبة بن عامر قال: كانت علينا رعاية الإبل، فجاءت نوبتي، فروحتها بعشي، فأدركت رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما يحدث الناس، فأدركت من قوله: «ما من مسلم يتوضأ فيحسن وضوءه، ثم يقوم فيصلى ركعتين، مقبل عليهما بقلبه ووجهه، إلا وجبت له الجنة» قال: فقلت: ما أجود هذه، فإذا قاتل بين يدي يقول: التي قبلها أجود، فنظرت فإذا عمر. قال: إني قد رأيتك جئت آنفا، قال: فذكره. وزاد: «الثمانية، يدخل من أيها شاء

سنن الترمذي (55)، وهذه الزيادة التي عند الترمذي لا تصح، كما هو مبين بالأصل




৫৭। ‘উমার (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করবে অতঃপর বলবে- উচ্চারণ : আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু; আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাত তওয়াবীন ওয়াজ আলনী মিনাল মুতাত্বহহিরীন। অর্থঃ ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই, এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল। যে এই দুয়া পাঠ করবে সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে- মুসলিম[1] ও তিরমিযী।



তিরমিযীতে অতিরিক্ত আছে, “হে আল্লাহ আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা হাসিলকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর।” তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেয়া হবে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (২৩৪)। উকবাহ বিন আমির হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের উপর। উট চরানোর দায়িত্ব ছিল। অতঃপর আমার বিশ্রামের পালা এসে গেল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলতে লক্ষ্য করলাম। আমি এ কথাটুকু শুনতে পেলাম, “কোন মুসলিম যখন উত্তমরূপে অযূ করে গভীর মনোযোগের সাথে দুরাকায়াত সালাত আদায় করে। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। রাবী বলেন, আমি বললাম এটা কতনা উত্তম। আমাকে হঠাৎ করে একজন বলল, এটা পূর্বে থেকেই উত্তম। অতঃপর আমি দেখি যে তিনি উমার (রাঃ)। তিনি বললেন, আমি তো দেখছি যে, তুমি এইমাত্র বুঝতে পেরেছ। তারপর তিনি এ হাদীস শুনালেন। এবং এর সাথে আরো বৃদ্ধি করে বললেন, আটটি দরজার যেকোনটি দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করতে পারবে।

[2] সুনান তিরমিযী (৫৫) , তিরমিযী হতে এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি সহীহ নয়।









বুলূগুল মারাম (58)


عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَتَوَضَّأَ, فَأَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ, فَقَالَ: «دَعْهُمَا, فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ» فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (206)، ومسلم (274) (79)




৫৮। মুগীরাহ বিন শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (তাবুকের যুদ্ধে) উপস্থিত ছিলাম। তিনি (ফজরের) সালাতের জন্য উযূ করার সময় আমি তাঁর পায়ের মোজা দুটো খুলে নিতে চাইলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘ও দুটি থাকতে দাও, আমি ওগুলো উযূর অবস্থায় পরেছিলাম। অতঃপর তিনি ঐগুলোর উপর মাসাহ করলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (২০৬); মুসলিম (৭৯, ২৭৪)









বুলূগুল মারাম (59)


وَلِلْأَرْبَعَةِ عَنْهُ إِلَّا النَّسَائِيَّ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - مَسَحَ أَعْلَى الْخُفِّ وَأَسْفَلَهُ. وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (165)، والترمذي (97)، وابن ماجه (550) وله عدة علل، وقد ضعفه جمع كثير من الأئمة




৫৯. নাসায়ী ব্যতীত সুনান চতুষ্টয়ে (আবূ দাউদ, তিরমিজি ও ইবনু মাজাহ) বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার মোজার উপরে ও নীচের দিকে মাসাহ করেছিলেন। এটির সানাদ দুর্বল। [1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ (১৬৫) তিরমিযী (৯৭), ইবনু মাজাহ (৫৫০); এ হাদীসে কয়েকটি ত্রুটি আছে। সকল ইমাম এ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনানে (৯৭) ইমাম বুখারী একে বিশুদ্ধ নয় বলেছেন। এবং ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিতে ক্রটির কথা বলেছেন। ইমাম বাগাবী তাঁর আশ শারহুস সুন্নাহ (১/৩৩৩) গ্রন্থে বলেন, عن أبى زرعة و محمد بن اسماعيل ليس بصحيح। ইবনু কাসীর তার ইরশাদুল ফাকীহ (১/৪৬) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, হাদীসটি মুরসালরূপে বৰ্ণিত হয়েছে। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসুদ (২/৫২) ও আওনুল মা’বুদ (১/১৪০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়ায়ী (১/২৩৫) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ বিতর্ক রয়েছে। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (১/২২৪) গ্রন্থে, বিন বায তার হাশিয়া বুলুগুল মারাম (৯০) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী যঈফ তিরমিযী (৯৭) ও যঈফ ইবনু মাজাহ (১০৮) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী তার ইলালুল কাবীর (৫৬) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটি সহীহ নয়। ইবনু আবদুল বার তার আল ইসতিযকার (১/২৬৯) গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনাকারী সাওর বিন যায়দ তিনি রাজা বিন হুওয়াই থেকে হাদীসটি শুনেননি।









বুলূগুল মারাম (60)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْيِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلَاهُ, وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِ خُفَّيْهِ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (162)




৬০. ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- ‘দ্বীন যদি কিয়াস বা বুদ্ধির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হত তবে মাসাহ করার ক্ষেত্রে মোজার উপরিভাগে মাসাহ করার চেয়ে নীচের দিক মাসাহ করাই উত্তম (গন্য) হত। অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি। -আবূ দাউদ এটিকে হাসান সানাদে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ্ আবু দাউদ (১৬২)