বুলূগুল মারাম
وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفْرًا أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهِنَّ, إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ، وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ, وَبَوْلٍ, وَنَوْمٍ. أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَابْنُ خُزَيْمَةَ وَصَحَّحَاهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه النسائي (1/ 83 - 84)، والترمذي (96)، وابن خزيمة (196)، وقال الترمذي: حسن صحيح
৬১। সাফওয়ান বিন ‘আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দিতেন যে, ‘আমরা যেন সফরে থাকাবস্থায় তিন দিন তিন রাত জানাবত (ফরয গোসলের কারণ) ব্যতীত মোজা না খুলি; এমনকি প্রস্রাব পায়খানা ও ঘুমের পরও নয়। শব্দগুলো তিরমিযী ও ইবনু খুযাইমাহর। দুজনেই এটাকে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। নাসায়ী (১/৮৩-৮৪); তিরমিযী (৯৬); ইবনু খুযাইমাহ (১৯৬); ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাসান সহীহ।
وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: جَعَلَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ, وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ. يَعْنِي: فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (276) من طريق شريح بن هانيء، قال: أتيت عائشة أسألها عن المسح على الخفين؟ فقالت: عليك بابن أبي طالب فسله، فإنه كان يسافر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. فسألناه فقال: فذكره دون قوله: يعني في المسح على الخفين، فإن هذه الجملة من صياغة الحافظ
৬২। ‘আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফির ব্যক্তির পক্ষে তিন দিন তিন রাত ও মুকিম ব্যক্তির পক্ষে এক দিন এক রাত নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ মোজার উপর মাসাহ করার সময়কাল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (২৭৬) শুরাইহ বিন হানীর সূত্রে। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) কে মোজার উপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এলাম। তিনি বললেন, তুমি ইবনু আবী তালিবকে বল কেননা সে আল্লাহর রাসূলের সাথে সফর করতো। অতঃপর আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তার উত্তরে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে في المسح على الخفين ব্যতীত বর্ণনা করেন।
وَعَنْ ثَوْبَانَ - رضي الله عنه - قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - سَرِيَّةً, فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَمْسَحُوا عَلَى الْعَصَائِبِ - يَعْنِي: الْعَمَائِمَ - وَالتَّسَاخِينِ- يَعْنِي: الْخِفَافَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (577)، وأبو داود (146)، والحاكم (169)، وقد أعل الحديث بما لا يقدح
৬৩। সওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট্ট সৈন্য বাহিনী প্রেরণ করেন। তাদেরকে পাগড়ি ও চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করতে জন্য আদেশ করেন। হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]”
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ (৫৭৭); আবু দাউদ (১৪৬); হাকিম (১৬৯); এ হাদীসের ত্রুটি বর্ণনা করা হলেও তা ক্ষতিকর নয়।
وَعَنْ عُمَرَ - مَوْقُوفًا - وَ [عَنْ] أَنَسٍ - مَرْفُوعًا: «إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ وَلَبِسَ خُفَّيْهِ فَلْيَمْسَحْ عَلَيْهِمَا, وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا, وَلَا يَخْلَعْهُمَا إِنْ شَاءَ إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ». أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَالْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
انظر الدارقطني (103 - 204)، والحاكم (181)
৬৪। ‘উমার (রাঃ) হতে মাওকুফভাবে এবং আনাস (রাঃ) হতে মারফূরূপে বৰ্ণিত হয়েছে, “তোমাদের কেউ যখন উযূ অবস্থায় মোজা পরবে সে ইচ্ছা করলে জানাবাত বা অপবিত্রতা ছাড়া মোজা না খুলে তার উপর মাসাহ করবে ও সালাত আদায় করবে; তবে গোসল করা হলে মোজা খুলতে হবে।” -দারাকুৎনী, হাকিম। হাকিম এটিকে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী (১০৩-২০৪); হাকিম (১৮২)
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم: «أَنَّهُ رَخَّصَ لِلْمُسَافِرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ, وَلِلْمُقِيمِ يَوْمًا وَلَيْلَةً, إِذَا تَطَهَّرَ فَلَبِسَ خُفَّيْهِ: أَنْ يَمْسَحَ عَلَيْهِمَا. أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه الدارقطني (194)، وابن خزيمة (192)، وهو وإن كان ضعيف السند، إلا أن له شواهد ذكرتها «بالأصل» ومن أجل ذلك حسنة البخاري، كما نقل عنه الترمذي في العلل
৬৫। আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন; “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফির ব্যক্তিকে তিন দিন তিন রাত আর মুকীম (স্থানীয়) ব্যক্তিকে এক দিন এক রাত মোজার উপর মাসাহ করতে অনুমতি প্ৰদান করেছেন, যদি সে উযূ অবস্থায় মোজা পরিধান করে থাকে।” দারাকুৎনী, আর একে ইবনু খুযাইমাহ সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। দারাকুতনী; ইবনু খুযাইমাহ (১৯২); এ হাদীসটি দুর্বল হলেও এর কয়েকটি সমর্থক হাদীস থাকার কারণে ইমাম বুখারী হাসান বলেছেন এবং ইমাম তিরমিযী তাঁর ইলাল গ্রন্থে অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।
وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ عِمَارَةَ - رضي الله عنه - أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ? قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: يَوْمًا? قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَيَوْمَيْنِ? قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَثَلَاثَةً? قَالَ: «نَعَمْ, وَمَا شِئْتَ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَقَالَ: لَيْسَ بِالْقَوِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (158)
৬৬। ‘উবাই বিন ‘ইমারাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) আরয করলেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমি কি মোজার উপর মাসাহ করতে পারি? তিনি বললেন, “হাঁ; তিনি (সাহাবী) বললেন, “দুদিন পর্যন্ত করতে পারি?” তিনি বললেন, ‘হাঁ। তিনি (সাহাবী) বললেন, ‘তিনদিন পর্যন্ত করতে পারি?” তিনি বললেন, “হাঁ” আর তুমি যে কদিন ইচ্ছে কর।” আবূ দাউদের এ বর্ণনা মজবুত নয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ (১৫৮), শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী যঈফ আবু দাউদ (১৫৮) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। মুহাদিস আযীমাবাদী তার আওনুল মা’বুদ (১/১৩৪) গ্রন্থে বলেন, বর্ণনার অজ্ঞতার কারণে এটি শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ইয়াহইয়া বিন আইয়ুবকে নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর তাহযীবুস সুনান (১/২৬৬) গ্রন্থে বলেন, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুবকে নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আর আবদুর রহমান, মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ ও আইয়ুব বিন ক্বাতান সকলেই অপরিচিত বৰ্ণনাকারী।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى عَهْدِهِ - يَنْتَظِرُونَ الْعِشَاءَ حَتَّى تَخْفِقَ رُؤُوسُهُمْ, ثُمَّ يُصَلُّونَ وَلَا يَتَوَضَّئُونَ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ
وَأَصْلُهُ فِي مُسْلِمٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (200)، والدارقطني (1/ 131/3) وقال الدارقطني: صحيح
مسلم (376) ولفظه: كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينامون. ثم يصلون ولا يتوضأون. وله روايات أخرى ذكرتها بالأصل
৬৭। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তাঁর সহাবাগণ ‘ইশার সালাতের জামাআতের জন্য অপেক্ষায় থাকতেন। আর নিদ্রায় তাদের মাথা ঝুঁকে ঝুঁকে হেলে পড়ত, তারপরও তাঁরা পুনরায় উযূ না করেই সালাত আদায় করতেন”। আবূ দাউদ এবং দারাকুৎনী একে সহীহ বলেছেন;”[1] মুসলিমে এর মূল বর্ণনা রয়েছে।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (২০০); দারাকুতনী (১/১৩১/৩); দারাকুতনী সহীহ বলেছেন।
[2] মুসলিম (৩৭৬) মুসলিমের শব্দ হচ্ছে كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينامون. ثم يصلون ولا يتوضأون রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ ঘুমাতেন। অতঃপর সালাত আদায় করতেন তবে অযূ করতেন না।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ, أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ? قَالَ: «لَا. إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ, وَلَيْسَ بِحَيْضٍ, فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلَاةَ, وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ, ثُمَّ صَلِّي». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَلِلْبُخَارِيِّ: ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ
وَأَشَارَ مُسْلِمٌ إِلَى أَنَّهُ حَذَفَهَا عَمْدًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (328)، ومسلم (333)
(1/ 332/فتح)
৬৮। ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতে আবী হুবাইশ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন রক্ত-প্রদর রোগগ্ৰস্তা (ইস্তিহাযা) মহিলা। আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো? আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, এতো শিরা হতে নির্গত রক্ত; হায়য নয়। তাই যখন তোমার হায়য আসবে তখন সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে।[1]
বুখারীর ইবারতে আছে- “প্রতি ওয়াক্তের সালাত আদায়ের জন্য উযূ করে নিবে।[2]” ইমাম মুসলিম এ অংশটি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে আভাস দিয়েছেন।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (৩২৮); মুসলিম (৩৩৩)
[2] ফাতহুল বারী (১/৩৩২)
وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً, فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ بْنَ الْأَسْوَدِ أَنْ يَسْأَلَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «فِيهِ الْوُضُوءُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (132)، ومسلم (303)، ولفظ مسلم: (منه) بدل (فيه)
৬৯। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি এমন পুরুষ ছিলাম যে, আমার অত্যন্ত বেশি মযী নিঃসরণ হতো। তাই সাহাবী মিকদাদ (রাঃ)-কে বললামঃ আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ প্রসঙ্গে (মযী বের হলে কি করতে হবে)। জিজ্ঞাসা করে নিবেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য উযূ করতে হবে। শব্দ বিন্যাস বুখারীর।”[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (১৩২); মুসলিম (৩০৩); মুসলিমের বর্ণনায় فيه শব্দের পরিবর্তে منه শব্দ আছে।
وَعَنْ عَائِشَةَ, رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَبَّلَ بَعْضَ نِسَائِهِ, ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَضَعَّفَهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (610)، وهو وإن ضعفه البخاري، وأعله غيره إلا أن هناك من صححه وهو الصواب
৭০। আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক বিবিকে চুমু খেয়ে সালাত আদায় করতে বের হয়ে গেলেন, এতে তিনি পুনঃ উযূ করলেন না। আহমাদ, ইমাম বুখারী একে যঈফ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ (৬১০); যদিও ইমাম বুখারী (রহঃ) যঈফ বলেছেন এবং তিনি ছাড়া অন্যান্যরা এর দোষ ধরেছেন তারপরও এখানে যারা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন তাদের কথাই সঠিক।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا, فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ: أَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ, أَمْ لَا? فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا, أَوْ يَجِدَ رِيحًا». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. مسلم (362)
৭১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোন মুসল্লী যখন তার পেটের মধ্যে কোন (গোলযোগ) অনুভব করবে এবং এতে মনে সন্দেহের সৃষ্টি হবে যে, পেট হতে কিছু (বায়ু) বের হল কিনা; এমতাবস্থায় যতক্ষণ না সে তার কোন শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়। সে যেন মাসজিদ থেকে বের হয়ে না যায়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (৩৬২)
وَعَنْ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: مَسَسْتُ ذَكَرِي، أَوْ قَالَ: الرَّجُلُ يَمَسُّ ذَكَرَهُ فِي الصَّلَاةِ, أَعَلَيْهِ وُضُوءٌ? فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - «لَا, إِنَّمَا هُوَ بَضْعَةٌ مِنْكَ». أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
وَقَالَ ابْنُ الْمَدِينِيِّ: هُوَ أَحْسَنُ مِنْ حَدِيثِ بُسْرَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (182 و 183)، والنسائي (101)، والترمذي (85)، وابن ماجه (483)، وأحمد (43)، وابن حبان (207 موارد) ولكن ينبغي معرفة أن هذا الحديث منسوخ، إذ قال ابن حزم في «المحلي» (139) ولنعم ما قال: «هذا الخبر -خبر طلق- صحيح إلا أنهم لا حجة لهم فيه لوجوه: أحدها: أن هذا الخبر موافق لما كان الناس عليه قبل ورود الأمر بالوضوء من مس الفرج، هذا لا شك فيه، فإذا هو كذلك فحكمه منسوخ يقينا حين أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالوضوء من مس الفرج، ولا يحل ترك ما تيقن أنه ناسخ، والأخذ بما تيقن أنه منسوخ. وثانيها: أن كلامه عليه السلام: «هل هو إلا بضعة منك؟» دليل بين على أنه كان قبل الأمر بالوضوء منه؛ لأنه لو كان بعده لم يقل عليه السلام هذا الكلام، بل كان يبين أن الأمر بذلك قد نسخ، وقوله هذا يدل على أنه لم يكن سلف فيه حكم أصلا، وأنه كسائر الأعضاء
৭২। ত্বালক বিন ‘আলী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সাহাবী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, ‘আমি আমার লিঙ্গ স্পর্শ করে ফেলেছি অথবা বললেন, ‘যদি কেউ সালাতে তা স্পর্শ করে ফেলে, তবে এর কারণে কি তাকে উযূ করতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘না, এটা তো তোমারই (শরীরের) একটি অংশ বিশেষ। আর ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন[1] এবং ইবনুল মাদানী (বুখারীর উস্তাদ) বলেন, বুসরার হাদীস হতে এটি অধিক উত্তম।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবু দাউদ (১৮২, ১৮৩); নাসায়ী (১০১); তিরমিযী (৮৫); ইবনু মাজাহ (৪৮৩); আহমাদ (৪৩); ইবনু হিব্বান (২০৭ মাওয়ারেদ)। কিন্তু এ হাদীসটি স্পষ্টতঃ মানসূখ তথা রহিত হয়ে গেয়ে। যখন ইবনু হাযম তাঁর মুহাল্লায় (১৩৯) কত সুন্দর কথা বলেছেন যে, এ ত্বালক রাবীর হাদীস সহীহ তবে তাদের কথার দুটি দিক দিয়ে সঠিক নয়।
১. এ হাদীসটি লজ্জাস্থান স্পর্শ করার নির্দেশ বর্ণিত হওয়ার পূর্বেকার সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে কোন সন্দেহ নেই। বিষয় যদি এমনই হয়ে থাকে। তবে এ হাদীস রহিত হওয়াতে কোন সন্দেহ নেই যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লজ্জাস্থান স্পর্শ করার কারণে অযূ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। ফলে কোন বিষয়ের রহিতকারী হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস হলে তা বর্জন করা এবং যা মানসূখ বা রহিত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জিত হয় তা গ্রহণ করা বৈধ নয়। ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা: এটা তো তোমারই (শরীরের) একটি অংশ বিশেষ”। লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে অযূ করার বিধান দেয়ার পূর্বের উক্তি হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলীল। কেননা তা পরবর্তীকালের বিষয় হত তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কথা বলতেন না। বরং এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এ কথাটি রহিত হয়ে গেছে। লজ্জাস্থান যে, “অন্যান্য অঙ্গের মতো” কথার পূর্বে এ বিষয়ে মূলতঃ কোন হুকুমই বর্ণিত হয়নি।
وَعَنْ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا; - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ». أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ
وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: هُوَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (181)، والنسائي (100)، والترمذي (82)، وابن ماجه (479)، وأحمد (6/ 406)، وابن حبان (212 موارد) وقد أعل هذا الحديث بما لا يقدح، كما هو مبين بالأصل
৭৩। বুসরাহ বিনতে সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল (রাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাঁর পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করবে সে যেন উযূ করে। ৫ জনে (আহমাদ, আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।”[1] আর ইমাম বুখারী বলেন, ‘এ বিষয়ে অধ্যায়ের হাদীসগুলোর মধ্যে এটিই সর্বাধিক সহীহ।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (১৮১); নাসায়ী; (১০০);তিরমিযী (৮২); ইবনু মাজাহ (৪৭৯), আহমাদ (৬/৪০৬); ইবনু হিব্বান (২১২ মাওয়ারেদ), এ হাদীস কিছু দোষ ধরা হলেও তা ক্ষতিকর নয়।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ: «مَنْ أَصَابَهُ قَيْءٌ أَوْ [ص: 26] رُعَافٌ, أَوْ قَلَسٌ, أَوْ مَذْيٌ فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَتَوَضَّأْ, ثُمَّ لِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ, وَهُوَ فِي ذَلِكَ لَا يَتَكَلَّمُ». أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَه
وَضَعَّفَهُ أَحْمَدُ وَغَيْرُهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن ماجه (1221)
৭৪। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির বমি হয়, নাক দিয়ে রক্ত পড়ে ও ভক্ষিত খাদ্য বস্তু মুখ পর্যন্ত চলে আসে কিংবা মাযী নিৰ্গত হয় সে যেন (সালাত ছেড়ে) ওযূ করে নেয় এবং (এর মধ্যে কারো সাথে) কোন কথা না বলে; তাহলে সে সালাতের বাকি অংশ সমাধান করে নিবে।-ইবনু মাজাহ।[1] আহমাদ ও প্রমুখ একে যঈফ বলেছেন।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু মাজাহ (১২২১)
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; - أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم: أَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ? قَالَ: «إِنْ شِئْتَ» قَالَ: أَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ? قَالَ: «نَعَمْ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (360)
৭৫। জাবির বিন সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ‘মেষ ছাগলের গোশত খেয়ে কি উযূ করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যদি তুমি চাও। জিজ্ঞেস করা হলো, ‘উটের গোশত খেয়ে কি উযূ করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘হাঁ, করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (৩৬০)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ غَسَّلَ مَيْتًا فَلْيَغْتَسِلْ, وَمَنْ حَمَلَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَالنَّسَائِيُّ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ
وَقَالَ أَحْمَدُ: لَا يَصِحُّ فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد رقم (7675)، والترمذي (993) والحديث قد أعله جماعة كالإمام أحمد كما نقل الحافظ ولكن طرق الحديث وشواهده الكثيرة لا تدع أدنى شك في تصحيحه، وانظر «الأصل» إن شئت معرفة ذلك. «تنبيه»: وهم الحافظ عي عزوه للنسائي. والله أعلم
৭৬। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন মৃতকে গোসল করায় সে নিজেও গোসল করে নিবে। আর যে ব্যক্তি কোন (মাইয়িতকে) বহন করবে। সে যেন উযূ করে। তিরমিযী একে হাসান বলেছেন।[1] ইমাম আহমাদ বলেছেন, ‘এ বিষয়ে কোন সহীহ হাদীস নেই।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ (৭৬৭৫), তিরমিযী (৯৯৩); একদল আয়েম্মায়ে কেরাম এ হাদীসের দোষ বর্ণনা করেছেন। যেমন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল। যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইবনু হাজার আসকালানী রহ, কিন্তু এ হাদীসের সনদ ও সমর্থক হাদীস এত বেশি যে এ হাদীসটির সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকে না।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ: أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ: «أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ». رَوَاهُ مَالِكٌ مُرْسَلًا, وَوَصَلَهُ النَّسَائِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَهُوَ مَعْلُولٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف، في الموطأ (1/ 199)
৭৭. আবদুল্লাহ বিন আবূ বাকর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর বিন হযমকে যে পত্র পাঠিয়েছিলেন তাতে ছিলmdash; পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে। ইমাম মালিক একে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। নাসায়ী ও ইবনু হিব্বান একে ‘মাওসুল বলেছেন। হাদীসটি মালূল (দোষযুক্ত)।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মকসূদ (২/২৭৯) গ্রন্থে, আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী (১/৩৩৬) গ্রন্থে, আবু দাউদ মারাসিল (১৯৬) গ্রন্থে এটিকে মুরসাল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (১/২৭১) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ, وَعَلَّقَهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. علقه البخاري (214/فتح)، ووصله مسلم (373)
৭৮। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় আল্লাহর যিকরে মত্ত থাকতেন। বুখারী একে মুআল্লাক বা সানাদবিহীন বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম বুখারী এক মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন "(ফাতহুল বারী ২১৪), আর ইমাম মুসলিম একে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - احْتَجَمَ وَصَلَّى, وَلَمْ يَتَوَضَّأْ. أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَلَيَّنَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الدارقطني (151 - 152)
৭৯। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঙ্গা লাগিয়ে পুনঃ উযূ না করেই সালাত আদায় করেছেন। দারাকুৎনী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে দুর্বল বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। দারাকুতনী (১৫১-১৫২), ইমাম শওকানী তাঁর আদ দিরারী আল মুযীয়া (৫২) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে সালিহ বিন মুকাতিল রয়েছেন যিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/১০৯) গ্রন্থেও উক্ত বর্ণনাকারীকে ‘শক্তিশালী নয়’ বলেছেন। তাছাড়া ইমাম নববী তাঁর আল খুলাসা (১/১৪৩), ইবনু উসাইমীন তাঁর আশ শারহুল মুমতি' (১/২৭৪) গ্রন্থে, ও মাজমু ফাতাওয়া লি উসাইমীন (১১/১৯৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْعَيْنُ وِكَاءُ السَّهِ, فَإِذَا نَامَتْ الْعَيْنَانِ اسْتَطْلَقَ الْوِكَاءُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالطَّبَرَانِيُّ وَزَادَ: «وَمَنْ نَامَ فَلْيَتَوَضَّأْ
وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ مِنْ حَدِيثِ عَلِيٍّ دُونَ قَوْلِهِ: «اسْتَطْلَقَ الْوِكَاءُ». وَفِي كِلَا الْإِسْنَادَيْنِ ضَعْفٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (4/ 97)، وأبو داود (203) وفي الأصل زيادة تفصيل
৮০। মুআবিয়াহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘চক্ষু মলদ্বারের বন্ধনস্বরূপ। চক্ষুদ্বয় ঘুমিয়ে পড়লে উক্ত বন্ধন খুলে যায়। (যার কারণে ওযূ নষ্ট হয়ে যায়) -আহমাদ ও ত্বাবারানী। আর ত্বাবারানী অতিরিক্ত শব্দ যোগ করেছেনঃ “যে ঘুমিয়ে পড়ে সে যেন উযূ করে।” এ অতিরিক্ত অংশটুকু আবূ দাউদেও ‘আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। ‘তবে এতে ‘বন্ধন খুলে যায় অংশটুকু নেই। উক্ত সানাদ দুটিই দুর্বল।”[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আহমাদ (৪/৯৭), আবু দাউদ (২০৩)