হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (481)


وَعَنْ حُذَيْفَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - صَلَّى صَلَاةَ الْخَوْفِ بِهَؤُلَاءِ رَكْعَةً, وَبِهَؤُلَاءِ رَكْعَةً, وَلَمْ يَقْضُوا. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (5/ 385 و 399)، وأبو داود (1246)، والنسائي (3/ 167 - 168)، ولا أظن أن عزوه لابن حبان إلا من باب الوهم والخطأ. والله أعلم




৪৮১. হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়ের অবস্থায় (দুদলের মধ্যে) একদলকে এক রাকআত ও অপর দলকে এক রাকআত পড়িয়েছেন। তাঁরা ঐ সালাত (আর) পূর্ণ করেননি। mdash;আহমাদ, আবূ দাউদ ও নাসায়ী, ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ আবূ দাউদ ১২৪৬, নাসায়ী ১৫২৯, ১৫৩০।









বুলূগুল মারাম (482)


وَمِثْلُهُ عِنْدَ ابْنِ خُزَيْمَةَ: عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح




৪৮২. ইবনু খুযাইমাহ হতে ইবনু ‘আব্বাস হতে অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ১৩৪৪।









বুলূগুল মারাম (483)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «صَلَاةُ الْخَوْفِ رَكْعَةٌ عَلَى أَيِّ وَجْهٍ كَانَ». رَوَاهُ الْبَزَّارُ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه البزار (678 كشف) وعنده زيادة: «الرجل تجزئ عنه» وعنده أيضا «صلاة المسابقة» مكان صلاة الخوف




৪৮৩. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে কোন পদ্ধতিতে হোক না কেন ভয়ের সময়ের সালাত হচ্ছে এক রাকআত। -বাযযার দুর্বল সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার : বাযযার ৬৭৮। ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (৪/৯) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ দুর্বল। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (২/৩৮৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসের মতন বা মূল কথা মুনকার, সহীহ নয়।









বুলূগুল মারাম (484)


وَعَنْهُ مَرْفُوعًا: «لَيْسَ فِي صَلَاةِ الْخَوْفِ سَهْوٌ». أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الدارقطني (2/ 58/1) وضعفه




৪৮৪. ইবনু উমার (রাঃ) কর্তৃক মারফূ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ভয়ের সালাতে সাহউ সিজদা নেই। দারাকুৎনী দুর্বল সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী ২/৫৮/১। ইবনু আদী তাঁর আল কামিল ফি যুআফা (৭/১২) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবদুল হামীদ বিন আস সিররী রয়েছেন যিনি মাজহুল বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম যাহাবী তাঁর মীযানুল ইতিদাল (২/১১৮) গ্রন্থে বলেন, আস সিররী বিন আবদুল হামীদ মাতরূকুল হাদীস। আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ থেকে একই হাদীস এসেছে। যেটিকে তিনি একই গ্রন্থে (২/৫৪১) একে মুনকার বলেছেন। ইমাম সুয়ূতী তাঁর আল জামেউস সগীর (৭৬৪৪) গ্রন্থে উক্ত দু’টি বর্ণনাকেই দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী যঈফুল জামে (৪৯১১), সিলসিলা যাঈফা (৪৩৯৪) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (485)


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ, وَالْأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (802) من حديث محمد بن المنكدر، عن عائشة رضي الله عنها. وأقول: هو حديث صحيح، إلا أنه ضعيف من هذا الوجه، وبيان ذلك بالأصل




৪৮৫. ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনmdash;‘ঈদুল ফিতর ঐটি যেটিতে জনগণ (রমাযানের সওম পালনের পর) সওমবিহীন কাটাবে আর ‘ঈদুল আযহা হচ্ছে, যেদিন লোকেরা কুরবানী করে সেদিন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৮০২।









বুলূগুল মারাম (486)


وَعَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ, عَنْ عُمُومَةٍ لَهُ مِنَ الصَّحَابَةِ, أَنَّ رَكْبًا جَاءُوا, فَشَهِدُوا أَنَّهُمْ رَأَوُا الْهِلَالَ بِالْأَمْسِ, فَأَمَرَهُمْ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يُفْطِرُوا, وَإِذَا أَصْبَحُوا يَغْدُوا إِلَى مُصَلَّاهُمْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ -وَهَذَا لَفْظُهُ- وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (5/ 57 و 58)، وأبو داود (1157)




৪৮৬. আবূ উমাইর বিন আনাস (রাঃ) তাঁর চাচাদের (সাহাবীদের) নিকট থেকে বর্ণনা করে বলেন, একদল আরোহী এসে সাক্ষ্য দিল যে, গতকাল সন্ধ্যায় তারা আকাশে চাঁদ দেখেছে। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ইফতার করতে বললেন ও পরদিন সকালে ঈদের ময়দানে যেতে নির্দেশ দিলেন। -এ শব্দ বিন্যাস আবূ দাউদের এবং তার সানাদ সহীহ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১২৫৭,, নাসায়ী ১৫৫৭, ইবনু মাজাহ ১৬৫৩, আহমাদ ২০০৫৬, ২০০৬১









বুলূগুল মারাম (487)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لَا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ. أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
وَفِي رِوَايَةٍ مُعَلَّقَةٍ - وَوَصَلَهَا أَحْمَدُ: وَيَأْكُلُهُنَّ أَفْرَادًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (953)




৪৮৭. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। বুখারী ভিন্ন একটি মুআল্লাক (বিচ্ছিন্ন) সূত্ৰে যেটি আহমাদ সংযুক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন (সেখানে আছে এভাবে) “ঐ খেজুরগুলো তিনি একটি একটি করে খেতেন।[1]






তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৯৫৩, তিরমিযী ৫৪৩, আহমাদ ১১৮৫৯, ১৩০১৪ ইবনু মাজাহ ১৭৫৪









বুলূগুল মারাম (488)


وَعَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَطْعَمَ, وَلَا يَطْعَمُ يَوْمَ الْأَضْحَى حَتَّى يُصَلِّيَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (5/ 352)، والترمذي (542)، وابن حبان (2812) واللفظ للترمذي، وقوله عقبه: «حديث غريب» هو قول غريب. وقال الحاكم في «المستدرك» (1/ 294): هذه سنة عزيزة من طريق الرواية، مستفيضة في بلاد المسلمين




৪৮৮. ‘আবদুল্লাহ্ বিন বুরায়দাহ তাঁর পিতা বুরাইদাহ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর-এর দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না। আর ‘ঈদুল আযহার দিন সালাতের পূর্বে কিছু খেতেন না। mdash;ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৫৪২, ইবনু মাজাহ ১৭৫৬, আহমাদ ২২৪৭৪, ২২৫৩৩, দারেমী ১৬০০

বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৩১৯ গ্রন্থে এ হাদীসের সানাদকে উত্তম বলেছেন, ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারী ২/৫১৯ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ নিয়ে সমালোচনা আছে, ইমাম যাহাবী তার মীযানুল ইতিদাল ১/৩৭৩ গ্রন্থে বলেন, এর মুতাবাআত রয়েছে। আলবানী তার তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ১৩৮৫, তিরমিযী ৫৪২ গ্রন্থে এর সানাদকে সহীহ বলেছেন। ইমাম সুয়ূতী জামেউস সগীর ৬৮৮২ গ্রন্থেও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (489)


وَعَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ: أُمِرْنَا أَنْ نُخْرِجَ الْعَوَاتِقَ, وَالْحُيَّضَ فِي الْعِيدَيْنِ; يَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ, وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (324)، ومسلم (890) مع مراعاة أن الحافظ قد تصرف في اللفظ




৪৮৯. উম্মু আতীয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আদিষ্ট হতাম সাবালিকা, যুবতী ও হায়িযা মেয়েদেরকে ‘ঈদগাহে নিয়ে যাবার জন্য। তারা হাজির হবে পুণ্য কাজে এবং মুসলিমদের দুআয় সামিল হবে, তবে হায়িয নারীরা সালাত আদায়ের স্থান হতে দূরে অবস্থান করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩২৪, ৩৫১, ১৯৭১, ৯৭৪, ৯৮০, ৯৮১, ১৬৫২, মুসলিম ৮০৯০, তিরমিযী ৫৩৯, নাসায়ী ৩৯০, ১৫৫৮, ১৫৫৯, আবূ দাউদ ১৩৩৬, ১১৩৯, ইবনু মাজাহ ১৩০৭, ১৩০৩, আহমাদ ২০২৬৫, দারেমী ১৬০৯।









বুলূগুল মারাম (490)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: كَانَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - وَأَبُو بَكْرٍ, وَعُمَرُ: يُصَلُّونَ الْعِيدَيْنِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (963)، ومسلم (888)




৪৯০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর এবং ‘উমার (রাঃ) উভয় ‘ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৯৫৭, ৯৬৩, মুসলিম ৮৮৮, তিরমিযী ৫৩১, নাসায়ী ১৫৬৪, ইবনু মাজাহ ১২৭৬, আহমাদ ৫৬৩০









বুলূগুল মারাম (491)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - صَلَّى يَوْمَ الْعِيدِ رَكْعَتَيْنِ, لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلَا بَعْدَهَا. أَخْرَجَهُ السَّبْعَةُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (964) وفي غير موضع، ومسلم (2/ 606/رقم 884)، وأبو داود (1159)، والنسائي (3/ 193)، والترمذي (537)، وابن ماجه (1291)، وأحمد (1/ 340/ رقم 3153)




৪৯১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতরে দু রাকআত সালাত আদায় করেন। এর পূর্বে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৯৮, ৮৫৩, ৯৬২, ১৯৬৪, ৯৭৭, মুসলিম ৮৪৪, ৮৮৬, নাসায়ী ১৫৬৯, আবূ দাউদ ১১৪২, ১১৪৭, ইবনু মাজাহ ১২৭৩, ১২৭৪, আহমাদ ১৯০৫, ১৯৮৪, ২০৬৩, দারেমী ১৬০৩, ১৬১০









বুলূগুল মারাম (492)


وَعَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - صَلَّى الْعِيدَ بِلَا أَذَانٍ, وَلَا إِقَامَةٍ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ
وَأَصْلُهُ فِي الْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1147) وزاد: «وأبا بكر، وعمر أو عثمان». وقال الحافظ في «الفتح» (2/ 452): إسناده صحيح




৪৯২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাত আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত) ব্যতীতই আদায় করেছেন। -এর মূল বক্তব্য বুখারীতে রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৯৮, ৮৫৩, ৯৬২, ১৯৬৪, ৯৭৭, মুসলিম ৮৪৪, ৮৮৬, নাসায়ী ১৫৬৯, আবূ দাউদ ১১৪২, ইবনু মাজাহ ১২৭৩, ১২৭৪, আহমাদ ১৯০৫, ১৯৮৪, ২০৬৩, দারেমী ১৬০৩, ১৬১০









বুলূগুল মারাম (493)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لَا يُصَلِّي قَبْلَ الْعِيدِ شَيْئًا, فَإِذَا رَجَعَ إِلَى مَنْزِلِهِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه ابن ماجه (1293) ولا يظن ظان أن بين هذا الحديث وبين حديث ابن عباس السابق (491) تعارض فحديث ابن عباس خاص بالصلاة في المصلى، وبهذا الجمع قال غير واحد




৪৯৩. আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতের আগে কোন সালাত আদায় করতেন না। তবে তিনি তার বাড়িতে ফিরে আসার পর দু রাকআত সালাত আদায় করতেন। -ইবনু মাজাহ হাসান সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ১২৯৩, আহমাদ ১০৮৪২, ১০৯৬২

ইবনু হাজার তার দিরায়াহ ১/২১৯ গ্রন্থে, ইমাম শাওকানী নাইলুল আওতার (৩/৩৭০) গ্রন্থে, আলবানী সহীহ ইবনু মাজাহ (১০৭৬), সহীহুল জামে (৪৮৫৯) গ্রন্থে, ইমাম সুয়ূতী জামেউস সগীর (৬৮৯৭) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম শাওকানী বলেন, এর সানাদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উকাইল রয়েছেন আর তার সম্পপর্কে সমালোচনা রয়েছে।









বুলূগুল মারাম (494)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى, وَأَوَّلُ شَيْءٍ يَبْدَأُ بِهِ الصَّلَاةُ, ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَيَقُومُ مُقَابِلَ النَّاسِ - وَالنَّاسُ عَلَى صُفُوفِهِمْ - فَيَعِظُهُمْ وَيَأْمُرُهُمْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (956)، ومسلم (889) ولم كان المصنف قد ساق لفظ البخاري، فتمامه: فإن كان يريد أن يقطع بعثا قطعه، أو يأمر بشيء أمر به، ثم ينصرف. قال أبو سعيد: فلم يزل الناس على ذلك حتى خرجت مع مروان -وهو أمير المدينة- في أضحى أو فطر، فلما أتينا المصلى إذا منبر بناه كثير بن الصلت، فإذا مروان يريد أن يرتقيه قبل أن يصلي، فجبذت بثوبه، فجبذني، فارتفع فخطب قبل الصلاة. فقلت له: غيرتم والله. فقال: أبا سعيد قد ذهب ما تعلم! فقلت: ما أعلم والله خير مما لا أعلم. فقال: إن الناس لم يكونوا يجلسون لنا بعد الصلاة، فجعلتها قبل الصلاة




৪৯৪. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ‘ঈদমাঠে যেতেন এবং সেখানে তিনি প্রথম যে কাজ শুরু করতেন তা হল সালাত। আর সালাত শেষ করে তিনি লোকেদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন এবং তাঁরা তাঁদের কাতারে বসে থাকতেন। তিনি তাদের নাসীহাত করতেন, উপদেশ দিতেন এবং নির্দেশ দান করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩০৪, ১৪৬২, ১৯৫১, মুসলিম ৮০, ৮৮৯, নাসায়ী ১৫৭৬, ১৫৭৯, ইবনু মাজাহ ১২৮৮, আহমাদ ১০৬৭৫, ১০৮৭০।

পূর্ণাঙ্গটি হাদীসটি হচ্ছে,

فإن كان يريد أن يقطع بعثا قطعه، أو يأمر بشيء أمر به، ثم ينصرف. قال أبو سعيد: فلم يزل الناس على ذلك حتى خرجت مع مروان -وهو أمير المدينة- في أضحى أو فطر، فلما أتينا المصلى إذا منبر بناه كثير بن الصلت، فإذا مروان يريد أن يرتقيه قبل أن يصلي، فجبذت بثوبه، فجبذني، فارتفع فخطب قبل الصلاة. فقلت له: غيرتم والله. فقال: أبا سعيد قد ذهب ما تعلم! فقلت: ما أعلم والله خير مما لا أعلم. فقال: إن الناس لم يكونوا يجلسون لنا بعد الصلاة، فجعلتها قبل الصلاة

যদি তিনি কোন সেনাদল পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তবে তাদের আলাদা করে নিতেন। অথবা যদি কোন বিষয়ে নির্দেশ জারি করার ইচ্ছা করতেন তবে তা জারি করতেন। অতঃপর তিনি ফিরে যেতেন। আবূ সাঈদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লোকেরা বরাবর এ নিয়মই অনুসরণ করে আসছিল। অবশেষে যখন মারওয়ান মাদীনাহর আমীর হলেন, তখন ‘ঈদুল আযহা বা ‘ঈদুল ফিতরের উদ্দেশে আমি তাঁর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন ‘ঈদমাঠে পৌঁছলাম তখন সেখানে একটি মিম্বার দেখতে পেলাম, সেটি কাসীর ইবনু সালত (রাঃ) তৈরি করেছিলেন। মারওয়ান সালাত আদায়ের পূর্বেই এর উপর আরোহণ করতে উদ্যত হলেন। আমি তাঁর কাপড় টেনে ধরলাম। কিন্তু তিনি কাপড় ছাড়িয়ে খুত্ববাহ দিলেন। আমি তাকে বললাম, আল্লাহর কসম! তোমরা (রসূলের সুন্নাত) পরিবর্তন করে ফেলেছি। সে বলল, হে আবূ সাঈদ! তোমরা যা জানতে, তা গত হয়ে গেছে। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা তার চেয়ে ভাল, যা আমি জানি না। সে তখন বলল, লোকজন সালাতের পর আমাদের জন্য বসে থাকে না, তাই ওটা সালাতের আগেই করেছি।









বুলূগুল মারাম (495)


وَعَنْ عَمْرِوِ بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «التَّكْبِيرُ فِي الْفِطْرِ سَبْعٌ فِي الْأُولَى وَخَمْسٌ فِي الْآخِرَةِ, وَالْقِرَاءَةُ بَعْدَهُمَا كِلْتَيْهِمَا». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ
وَنَقَلَ التِّرْمِذِيُّ عَنِ الْبُخَارِيِّ تَصْحِيحَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1151) وهو وإن كان في سنده ضعف، فإن له شواهد يصح بها، وقد ذكرتها بالأصل




৪৯৫. ‘আমর বিন শুয়াইব হতে বৰ্ণিত। তিনি তাঁর পিতা থেকে তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা। করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতর-এর সালাতে অতিরিক্ত তাকবীর হচ্ছে প্রথম রাকাআতে সাত ও পরবর্তী রাকাআতে পাঁচ আর কিরাআত পাঠ উভয় ক্ষেত্রেই তাকবীরের পর। mdash;আবূ দাউদ[1] তিরমিযী হাদীসটি বুখারী থেকে নকল করেছেন, বুখারী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাদীসটি সহীহ। আবূ দাউদ তা বর্ণনা করেছেন। যদিও হাদীসটির মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে, তবুও এর শাহেদ হাদীস থাকার কারণে তা সহীহ।

[2] আবূ দাউদ ১১৫১, ১১৫২, ইবনু মাজাহ ১২৭৮।









বুলূগুল মারাম (496)


وَعَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - يَقْرَأُ فِي الْأَضْحَى وَالْفِطْرِ بِـ (ق) , وَ (اقْتَرَبَتْ) أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

صحيح. رواه مسلم (891)




৪৯৬. আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ‘ঈদুল ফিতর ও ‘ঈদুল আযহার সালাতে সূরা ‘ক্কাফ ও সূরা ‘ইকতারাবাত (সূরা ক্বামার) পাঠ করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৮৯১, তিরমিযী ৫৬৪, নাসায়ী ১৫৬৭, আবূ দাউদ ১১৫৪, আহমাদ ২১৪০৪, মুওয়াত্তা মালেক ৪৩৩









বুলূগুল মারাম (497)


وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا كَانَ يَوْمُ الْعِيدِ خَالَفَ الطَّرِيقَ. أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح لغيره. رواه البخاري (986)، وله شواهد ذكرتها في «الأصل»، ومنها حديث ابن عمر الآتي




৪৯৭. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদ মাঠে আসা যাওয়ার সময় রাস্তা পরিবর্তন করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৯৮৬









বুলূগুল মারাম (498)


وَلِأَبِي دَاوُدَ: عَنِ ابْنِ عُمَرَ, نَحْوُهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بما قبله وبما له من شواهد. رواه أبو داود (1156) ولفظه: عن ابن عمر؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ يوم العيد في طريق، ثم رجع في طريق آخر




৪৯৮. আবূ দাউদ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতেও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১১৫৬, ইবনু মাজাহ ১১৯৯। আবূ দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ يوم العيد في طريق، ثم رجع في طريق آخر রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন এক রাস্তা দিয়ে যেতেন। আর অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরতেন।









বুলূগুল মারাম (499)


وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - الْمَدِينَةَ, وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا. فَقَالَ: «قَدْ أَبْدَلَكُمُ اللَّهُ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا: يَوْمَ الْأَضْحَى, وَيَوْمَ الْفِطْرِ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1134)، والنسائي (3/ 179 - 180)




৪৯৯. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদীনাহতে আগমন করেন। সে সময় তারা (মদীনাহবাসীগণ) দুটো দিনে খেলাধূলা করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাদেরকে এ দুটোর পরিবর্তে উত্তম দুটো দিন দিয়েছেন। আযহার দিন, ফিতরের দিন। আবূ দাউদ, নাসায়ী উত্তম সানাদ সহকারে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১১৩৪, নাসায়ী ১৫৫৬, আহমাদ ১১৫৯৫, ১২৪১৬।









বুলূগুল মারাম (500)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: مِنَ السُّنَّةِ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى الْعِيدِ مَاشِيًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ, وَحَسَّنَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (530) وأما قوله: «هذا حديث حسن» فليس بحسن، إذ إسناده تالف، وفيه عدة علل، ولا يقال بأن له شواهد، فكلها لا تصلح للاستشهاد بها بل ضعفها الحافظ بنفسه. وتخريج الشواهد والكلام عليها مفصل بالأصل




৫০০. ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুন্নাত হচ্ছে ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া-তিরমিযী একে হাসানরূপে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৫৩০, ইবনু মাজাহ ১২৯৬

ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (৩/৩৫২) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের সানাদে খালিদ বিন ইলিয়াস রয়েছেন। যিনি শক্তিশালী রাবী নন, এরূপ মন্তব্য করেছেন বাযযার। ইবনু মুঈন ও ইমাম বুখারী বলেন, সে মানসম্পন্ন রাবী নয়। ইমাম আহমাদ ও নাসায়ী তাকে মাতরুক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইমাম নববী তাঁর মাজমু (৫/১০) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের সানাদের উৎস হচ্ছে হারিস আল আওয়া থেকে যার যঈফ হওয়ার ব্যাপারে আলিমগণ ঐকমত। ইবনু উসাইমীনও তাঁর মাজমূ ফাতাওয়া (২০/৪০৯) গ্রন্থে উক্ত রাবীদের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। অনুরূপভাবে হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারী (২/৫২৩) গ্রন্থেও এর সানাদকে যঈফ বলেছেন।