বুলূগুল মারাম
وَعَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - صَلَّى عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ, وَأَتَى الْقَبْرَ, فَحَثَى عَلَيْهِ ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ, وَهُوَ قَائِمٌ. رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الدارقطني (2/ 76/1)
৫৮১. ‘আমির বিন রাবীআহ থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান বিন মাযউন (রাঃ)-এর জানাযা সালাত আদায় করেছিলেন এবং তাঁর কবরের নিকট এসে দাঁড়ান অবস্থায় তিন মুঠো মাটি দিয়েছিলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অত্যন্ত দুর্বল। দারাকুতনী ২/৭৬, হাঃ ১, ইমাম বাইহাকী তাঁর আস সুনান আল কুবরা (৩/৪১০) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ দুর্বল, তবে এর মুরসাল শাহেদ বিদ্যমান। আর এটি কখনও মারফূ’ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনুল মুলকিন তাঁর আল বদরুল মুনীর (৫/৩১৬) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।
وَعَنْ عُثْمَانَ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ وَقَالَ: «اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ وَسَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ, فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (3221)، والحاكم (1/ 370) وفي «أ»: واسألوا
৫৮২. উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুর্দার দাফন সম্পন্ন করে স্থির হয়ে দাঁড়াতেন ও বলতেন, -তোমরা তোমাদের ভাই-এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আর তার ঠিক (অবিচল) থাকার জন্য প্রার্থনা কর। কেননা সে এখনই প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩২২১, হাকিম ১/৩৭০
وَعَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ أَحَدِ التَّابِعِينَ قَالَ: كَانُوا يَسْتَحِبُّونَ إِذَا سُوِّيَ عَلَى الْمَيِّتِ قَبْرُهُ, وَانْصَرَفَ النَّاسُ عَنْهُ, أَنْ يُقَالَ عِنْدَ قَبْرِهِ: يَا فُلَانُ! قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ. ثَلَاثُ مَرَّاتٍ, يَا فُلَانُ! قُلْ: رَبِّيَ اللَّهُ, وَدِينِيَ الْإِسْلَامُ, وَنَبِيِّ مُحَمَّدٌ - صلى الله عليه وسلم. رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ مَوْقُوفًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف
৫৮৩. যমরাহ বিন হাবীব থেকে বর্ণিত। যিনি ছিলেন তাবিঈদের একজন, তিনি বলেন, মৃতের কবর ঠিকঠাক হবার পর যখন লোকজন অবসর পায় তখন কবরের নিকটে এরূপ বলাকে লোক পছন্দ মনে করতোঃ হে অমুক, তুমি বল : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) তিনবার। রাব্বিইয়াল্লাহ্ (আল্লাহ আমার প্রতিপালক)। দীনিইয়াল ইসলাম, (ইসলাম আমার দ্বীন)। নবীয়ী মুহাম্মাদ (মুহাম্মাদ সাঃ আমার নবী)। সাঈদ বিন মনসুর মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। সাঈদ ইবনু মানসূর এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (২/৬০৪) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তবে বিন বায হাশিয়া বুলুগুল মারাম (৩৬৪) বলেন, হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল এমনটি জাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
وَلِلطَّبَرَانِيِّ نَحْوُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي أُمَامَةَ مَرْفُوعًا مُطَوَّلًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. وتفصيل الكلام على هذا الحديث والأثر السابق تجده «بالأصل»، وفيه رد على كلام الحافظ في التلخيص
৫৮৪. তাবারানীতে আবূ উমামাহ হতে মারফূ সূত্রে একটি দীর্ঘ বর্ণনাতেও অনুরূপ বৰ্ণিত আছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ত্বাবারানী ১২১৪, আল-মুজামুল কবীর ৭৯৭৯। যঈফ। এ হাদীসের সানাদ দুর্বল। দেখুন আল-মাজমু’ ৫/৩০৪, ইবনুস সালাহ বলেন, এ হাদীসের সানাদ প্রতিষ্ঠিত নয়। ইবনুল কাইয়েম (রহঃ) বলেন, এ হাদীস দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকল মুহাদ্দিস একমত। এ হাদীসের রাবী ইসমাঈল বিন আইয়াশ নিজ এলাকা ব্যতীত অন্য এলাকার লোকদের থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল। আর তিনি যার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনি শামের অধিবাসী নন। বরং হেযাযের অধিবাসী। হায়সামী তাহযীবু মুখতাসারুস সুন্নান (৭/২৫০) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের একদল রাবী রয়েছেন যাদেরকে আমি চিনি না। সানয়ানী বলেন, সকল মুহাক্কিক্বদের ঐকমত্যে এ হাদীসটি দুর্বল। এ হাদীসের উপর আমল করা বিদআত। ঈ’য বিন আব্দুস সালাম বলেন, দাফনকৃত মাইয়্যেতকে তালকীন দেয়া সঠিক নয়, বরং তা বিদ্যআত।
وَعَنْ بُرَيْدَةَ بْنِ الْحَصِيبِ الْأَسْلَمِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
زَادَ التِّرْمِذِيُّ: فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْآخِرَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (977)
الترمذي (1054)، وقال: حديث حسن صحيح
৫৮৫. বুরায়দাহ বিনু হুসাইব আল-আসলামী হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আমি তোমাদের কবর যিয়ারাত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা যিয়ারত করো। তিরমিযীতে অতিরিক্ত আছে- “এটা পরকালকে স্মরণ করাবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৯৭৭, ১৯৭৭, নাসায়ী ২০৩২, ২০২৩, ৪৪২৯, আবূ দাউদ ৩৩২৫, ৩৬৯৮, আহমাদ ২২৪৪৯, ২২৪৯৪, ২২৫০৬।
زَادَ ابْنُ مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ: وَتُزَهِّدُ فِي الدُّنْيَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن ماجه (1571)
৫৮৬. ইবনু মাজাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর হাদীসে একথা বৃদ্ধি করেছেন, “এটা পৃথিবীর ব্যাপারে অনাগ্রহ সৃষ্টি করবে”।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু মাজাহ ৫১৭১, আহমাদ ৪৩০৭। মিনহাতুল আল্লাম (৪/৩৫৭) গ্রন্থে রয়েছে- এ হাদীসের সকল রাবী শক্তিশালী। তবে আইয়ুব বিন হানী নামক একজন রাবী আছেন যার সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে। হাফেয ইবনু হাজার তাঁর তাকরীব গ্রন্থে বলেন, সে সত্যবাদী তবে তাঁর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। এ হাদীসে ইবনু যুরাইজ তাদলীস করেছেন। তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কার থেকে বর্ণনা করছেন তা পরিষ্কার করেননি।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لَعَنَ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ. أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (1056)، وابن حبان (3178)، وله شواهد. وقد ذكرتها وذكرت ألفاظها، وتكلمت على أسانيدها في رسالة القول المأثور بما ورد في زيارة المرأة للقبور
৫৮৭. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বেশি বেশি) কবর যিয়ারাতকারী নারীদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। তিরমিযী, ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১০৫৬, ইবনু মাজাহ ১৫৭৬, ইবনু হিব্বান ৩১৭৮
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - النَّائِحَةَ, وَالْمُسْتَمِعَةَ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (3128)
৫৮৮. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাপ করে ক্ৰন্দনকারিণী ও তা শ্রবণকারিণীদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩১২৮, আহমাদ ১১২২৮ আলবানী তারগীব (২০৬৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, ইমাম হাইসামী তার মাজমাউয যাওয়ায়িদ (১৭) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসে আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ নামক একজন দুর্বল রাবী রয়েছে। আবূ দাউদ সুনানু আবী দাউদ (৩১২৪) গ্রন্থে সাকাতূ আনহু বলেন, এবং তার রিসালাতে মাক্কাবাসীকে বলেন প্রত্যেক সাকাতা আনহু সালেহ। ইবনু আদী আল কামিল ফি যুআফা ৬/৫৫ গ্রন্থে মাহফুয নয় বলেছেন। ইবনুল মুলকিন তাঁর আল-বাদরুল মুনীর (৫/৩৬২) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের সানাদে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান বিন আতিয়্যাহ রয়েছেন, তিনি তার পিতা হতে, তার পিতা তার দাদা থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তারা তিনজনই দুর্বল বর্ণনাকারী। বিন বায তার বুলুগুল মারামের হাশিয়া (৩৬৬) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসে আল-হাসান বিন আতিয়্যাহ আল উফী নামক রাবী রয়েছেন তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনু হাজার আসকালানী তাদের দুজনকে বিশেষভাবে দুর্বল আখ্যায়িত করে বলেছেন, তিনি সত্যবাদী। কিন্তু হাদীস বর্ণনায় ভুল করেছেন।
وَعَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أَخَذَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ لَا نَنُوحَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1306)، ومسلم (936)
৫৮৯. উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইআত গ্ৰহণকালে আমাদের কাছ হতে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না।
وَعَنْ عُمَرَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم -[قَالَ]: «الْمَيِّتُ يُعَذَّبُ فِي قَبْرِهِ بِمَا نِيحَ عَلَيْهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1292)، ومسلم (927) (17)
৫৯০. ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিলাপ করে কাঁদার ফলে মুর্দাকে কবরে ‘আযাব দেয়া হয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১২৯২, ১২৮৮, ১২৯০, মুসলিম ৯২৭, ৯২৮, ৯২৯, তিরমিযী ১০০২, নাসায়ী ১৮৫৩, ১৮৫৮, ইবনু মাজাহ ১৫৯৩, আহমাদ ২০৯, ৩২৮৮।
وَلَهُمَا: نَحْوُهُ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1291)، ومسلم (933)، ولفظه: «من نيح عليه فإنه يعذب بما نيح عليه» زاد مسلم: يوم القيامة
৫৯১। মুগীরাহ বিন শুবাহ (রাঃ) হতেও অনুরূপ হাদীস উক্ত কিতাবদ্বয়ে (বুখারী, মুসলিমে) রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১২৮৮, ১২৯১, ১২৯২ মুসলিম ৯৩৩, তিরমিযী ১০০০, আহমাদ ১৭৬৭৪, ১৭৭১৯, ১৭৮২৭, বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, যে (মৃত) ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর ‘আযাব দেয়া হবে। মুসলিম শেষে يوم القيامة শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন।
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: شَهِدْتُ بِنْتًا لِلنَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - تُدْفَنُ, وَرَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - جَالِسٌ عِنْدَ الْقَبْرِ، فَرَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَدْمَعَانِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1285)
৫৯২. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক কন্যা [উম্মু কুলসুম (রা.)]-এর দাফনকালে উপস্থিত হলাম। আল্লাহর রসূল কবরের পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আমি তাঁর চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে দেখলাম।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১২৪২, ১২৮৫, আহমাদ ১১৭৬৬, ১২৯৮৫।
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا تَدْفِنُوا مَوْتَاكُمْ بِاللَّيْلِ إِلَّا أَنْ تُضْطَرُّوا». أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ وَأَصْلُهُ فِي «مُسْلِمٍ»، لَكِنْ قَالَ: زَجَرَ أَنْ يُقْبَرَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ, حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه ابن ماجه (1521)
৫৯৩. জাবির (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মৃতদেরকে রাতের বেলা দাফন করবে না, তবে উপায় না থাকলে করবে। -ইবনু মাজাহ। এর মূল বক্তব্য মুসলিমে রয়েছে। কিন্তু তিনি (রাবী) বলেন, নবী এ সম্বন্ধে কড়াকড়ি করেছেন-রাত্রে কবর দিলে জানাযার সালাত আদায় না করে যেন তা কবরস্থ না করা হয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৯৪৩, নাসায়ী ১৮৯৫, আবূ দাউদ ৩১৪৮, আহমাদ ১৩৭৩২।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَمَّا جَاءَ نَعْيُ جَعْفَرٍ -حِينَ قُتِلَ- قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - «اصْنَعُوا لِآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا, فَقَدْ أَتَاهُمْ مَا يَشْغَلُهُمْ». أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ, إِلَّا النَّسَائِيَّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (1/ 205)، وأبو داود (3132)، والترمذي (998)، وابن ماجه (1610)، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح
৫৯৪. ‘আবদুল্লাহ বিন জাফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন জাফরের নিহত (শহীদ) হবার সংবাদ (মাদীনাহতে) পৌঁছল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাফরের পরিবারবর্গের জন্য তোমরা খাবার তৈরি করা। কারণ তাদের নিকট এমন এক বিপদ এসেছে যা তাদেরকে শোকাভিভূত কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ফেলেছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ৯৯৮, আবূ দাউদ ২১৩২, ইবনু মাজাহ ১৬১০।
وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى المَقَابِرِ: «السَّلَامُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ, وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ, أَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (975)
৫৯৫. সুলাইমানের পিতা বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের কবরস্থানে যাবার সময় এ দুআটি শিক্ষা দিতেন।
উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম আহলিদ-দিয়ারী, মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা, ওয়া ইন্না ইনশা আল্লাহু বিকুম লাহিকূনা, আসআলুল্লাহা লানা ওয়া লাকুমুল আফিয়াহ।
অর্থ: ঈমানদার ও মুসলিম কবরবাসীর উপর শান্তি বৰ্ষিত হোক এবং আমি আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। আল্লাহর কাছে আমাদের এবং তোমাদের জন্য প্রশান্তি চাচ্ছি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৯৭৫, নাসায়ী ২০৪০, ইবনু মাজাহ ১৫৪৭, আহমাদ ২২৪৭৬, ২২৫৩০।
وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بِقُبُورِ الْمَدِينَةِ, فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: «السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ, يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ, أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ, وَقَالَ: حَسَنٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الترمذي (1053) وقال: حديث حسن غريب. قلت: وهذا الحديث ضعيف؛ لضعف سنده -وإن كان هناك ما يشهد له- خاصة وإن هذا الحديث فيه جملة منكرة
৫৯৬. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহর কবরস্থান হয়ে যাচ্ছিলেন, এমন সময় তাদের দিকে মুখ করে এই দুআ বললেন-
‘আসসালামু ‘আলাইকুম ইয়া আহলাল কবূরি, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা অলাকুম আনতুম সালাফুনা অ-নাহনু বিল আসারি।
অর্থ: হে কবরবাসী, তোমাদের উপর শান্তি বৰ্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন, (পরকালের যাত্রায়) তোমরা আমাদের অগ্রগামী আর আমরা তোমাদের পশ্চাতে গমনকারী।
-তিরমিযী একে হাসানরূপে রিওয়ায়াত করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১০৫৩
ইবনু হাজার আসকালানী তার আল ফুতুহাতে আররব্বানিয়্যাহ (৪/২২০) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান আখ্যায়িত করে বলেন, কাবূস ব্যতীত এ হাদীসের সকল রাবী বিশুদ্ধ, কেননা সে বিতর্কিত। বিন বায তার বুলুগুল মারামের হাশিয়ায় (৩৭০) বলেন, এর সানাদের রাবী কাবুস বিন আবূ যাবীনার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে, অবশিষ্ট সকল রাবী বিশ্বস্ত।
শাইখ আলবানী তাহকীক রিয়াযুস স্বালিহীন (৫৮৯), তাখরীজ মিশকাত (১৭০৯) গ্রন্থদ্বয়ে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তিনি তার আহকামুল জানায়িয (২৪৯) গ্রন্থে উক্ত রাবী সম্পর্কে বলেন, তার থেকে দলীল গ্রহণ করা যায় না, সম্ভবত ইমাম তিরমিযী এ হাদীসের অনেক শাহেদ থাকার কারণে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, কেননা সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা এর অর্থ সুসাব্যস্ত।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ, فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1393)
৫৯৭. ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মৃতদের গালি দিও না। কারণ, তারা স্বীয় কর্মফল পর্যন্ত পৌছে গেছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৫১৬, নাসায়ী ১৯২৬, আবূ দাউদ ৪৮৯৯, আহমাদ ২৪৯৪২, দারেমী ২৫১১
وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ عَنِ المُغِيرَةِ نَحْوَهُ, لَكِنْ قَالَ: فَتُؤْذُوا الْأَحْيَاءَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (1982)
৫৯৮. তিরমিযী মুগীরাহ থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে গালি না দেয়ার স্থলে: “এতে তোমরা জীবিতদের কষ্ট দিবে” কথাটি উল্লেখ রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৯৪২, ১৯৮২, আহমাদ ১৭৭৪৩
عَنِ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - بَعَثَ مُعَاذًا - رضي الله عنه - إِلَى الْيَمَنِ ... فَذَكَرَ الْحَدِيثَ, وَفِيهِ: أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ, تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ, فَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1395)، ومسلم (19)، ولفظه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث معاذا إلى اليمن، فقال له: «إنك تأتي قوما أهل كتاب، فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله، فإن هم أطاعوا لذلك، فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة في أموالهم، تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم، فإن هم أطاعوا لذلك، فإياك وكرائن أمولهم، واتق دعوة المظلوم؛ فإنها ليس بينها وبين الله حجاب
৫৯৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয (রাঃ)-কে ইয়ামান দেশে (শাসক হিসেবে) প্রেরণ করেন। অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে রয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদাকাহ (যাকাত) ফরয করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে।[1] শব্দ বিন্যাস বুখারীর।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে,
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث معاذا إلى اليمن، فقال له: «إنك تأتي قوما أهل كتاب، فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله، فإن هم أطاعوا لذلك، فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة في أموالهم، تؤخذ من أغنيائهم وترد على فقرائهم، فإن هم أطاعوا لذلك، فإياك وكرائن أمولهم، واتق دعوة المظلوم؛ فإنها ليس بينها وبين الله حجاب
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’আয (রাঃ)-কে ইয়ামান দেশে (শাসক হিসেবে) প্রেরণ করেন। অতঃপর বললেন, সেখানকার অধিবাসীদেরকে এ সাক্ষ্য দানের প্রতি আহবান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। যদি সেটা তারা মেনে নেয়। তবে তাদেরকে অবগত কর যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সদাকাহ (যাকাত) ফার্য করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে। আর দরিদ্রদের মাঝে প্রদান করা হবে। যদি সেটা তারা মেনে নেয়। তবে তুমি তাদের কেবল ভাল ভাল সম্পদ যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা হতে সাবধান থেকো। আর মাযলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।
[2] বুখারী ১৪৫৮, ১৪৯৬, ২৪৪৮, মুসলিম ১৯, তিরমিযী ৬২৫, ২০১৪, নাসায়ী ২৪২৫, আবূ দাউদ ১৫৮৪, ইবনু মাজাহ ১৭৮৩, আহমাদ ২০৭২, দারেমী ১৬১৪।
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ - رضي الله عنه - كَتَبَ لَهُ - هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَهَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى الْمُسْلِمِينَ, وَالَّتِي أَمَرَ اللَّهُ بِهَا رَسُولَهُ: «فِي أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الْإِبِلِ فَمَا دُونَهَا الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسٍ شَاةٌ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ أُنْثَى فَإِنْ لَمْ تَكُنْ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٍ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلَاثِينَ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ أُنْثَى, فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ إِلَى سِتِّينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ، فَإِذَا بَلَغَتْ وَاحِدَةً وَسِتِّينَ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ، فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ إِلَى تِسْعِينَ فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ, فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ, فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ, وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ
وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ إِلَّا أَرْبَعٌ مِنَ الْإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا
وَفِي صَدَقَةِ الْغَنَمِ سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ, فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ إِلَى مِائَتَيْنِ فَفِيهَا شَاتَانِ, فَإِذَا زَادَتْ عَلَى مِائَتَيْنِ إِلَى ثَلَاثمِائَةٍ فَفِيهَا ثَلَاثُ شِيَاهٍ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلَاثِمِائَةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ، فَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةٍ شَاةً وَاحِدَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ, إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ، وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ, وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ
وَلَا يُخْرَجُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ, إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ، وَفِي الرِّقَةِ رُبُعُ الْعُشْرِ, فَإِنْ لَمْ تَكُنْ إِلَّا تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا, وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ مِنَ الْإِبِلِ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ, فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ, وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اِسْتَيْسَرَتَا لَهُ, أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا, وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ الْحِقَّةُ, وَعِنْدَهُ الْجَذَعَةُ, فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْجَذَعَةُ, وَيُعْطِيهِ الْمُصَّدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (1454) ومما تجدر الإشارة إليه أنه لا توجد رواية واحدة في البخاري بهذا السياق، ولكن الحافظ جمع بين روايات الحديث، وانظر البخاري رقم (1448)، لتقف على أطراف الحديث
৬০০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আবূ বাকর (রাঃ) আনাস (রাঃ)-এর কাছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহ তাআলা যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন সে সম্পর্কে লিখে জানালেন, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে, চব্বিশ ও তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত বকরী দ্বারা আদায় করা হবে। প্রতিটি পাঁচটি উটে একটি বকরী এবং উটের সংখ্যা পচিশ হতে পয়ত্ৰিশ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায।[1] ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি মাদী বিনতে লাবূন।[2] ছয়চল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত ষাড়ের পালযোগ্য একটি হিককা[3], একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জাযাআ[4], ছিয়াত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত দুটি বিনতে লাবূন, একানব্বইটি হতে একশ বিশ পর্যন্ত ষাঁড়ের পালযোগ্য দুটি হিককা আর একশ বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে বিনতে লাবূন এবং (অতিরিক্ত) প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি করে হিককা। যার চারটির বেশি উট নেই, সেগুলোর উপর কোন যাকাত নেই, তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে দিতে পারবে।[5]
আর বকরীর যাকাত সম্পর্কে : গৃহপালিত বকরী চল্লিশটি হতে একশ বিশটি পর্যন্ত একটি বকরী। এর বেশি হলে দুশটি পর্যন্ত দুটি বকরী। দুশর অধিক হলে তিনশ পর্যন্ত তিনটি বকরী। তিনশর অধিক হলে প্রতি একশ-তে একটি করে বকরী। কারো গৃহপালিত বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে একটিও কম হলে তার উপর যাকাত নেই। তবে স্বেচ্ছায় দান করলে তা করতে পারে।
যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশুকে (পালের বকরীকে) একত্র করা যাবে না। আর (যাকাত না দেয়ার বা কম দেয়ার উদ্দেশে) একত্রিত দলকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। পশুপালের শরীকদের মধ্যে হলে নায্যভাবে যাকাত আদায়ের হিসাব আপোষে মিল করে নেবে। যাকাতে দাঁত পড়া[6], বয়স্ক পশু দেয়া চলবে না। ত্রুটিযুক্ত পশু ও পাঠা যাকাত দেয়া যাবে না, তবে যদি সদাকাহ গ্ৰহণকারী সেচ্ছায় নেয়। তবে ভিন্ন কথা। চাদির জন্য ওশরের চারভাগের একভাগ (অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের একভাগ)। যদি একশত নব্বই দিরহাম বা তার কম থাকে। তবে-তবে যাকাত দিতে হবে না, তবে যদি মালিক ইচ্ছা করে দিতে পারে।
যদি কারো উট এমন পর্যায়ে পৌছায় যাকে একটি জাযাআহ (পঞ্চম বর্ষে পতিত উটনী) সদাকাহ দিতে হবে, আর যদি তার নিকট না থাকে। বরং হিক্কা থাকে তাহলে তার নিকট হতে হিক্কা নেয়া হবে। আর তার সাথে দুটি ছাগল গ্রহণ করা হবে। যদি কারো উট এমন পর্যায়ে পৌছায় যাকে একটি হিক্কা (চতুর্থ বর্ষে পতিত উটনী) সদাকাহ দিতে হবে, অথচ যদি তার নিকট না থাকে। বরং জাযাআহ থাকে তাহলে তার নিকট হতে জাযquot;আহ নেয়া হবে। আর আদায়কারী তাকে কুড়িটি দিরহাম অথবা দুটি ছাগল ফিরিয়ে দিবে। [7]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যে উটনীর বয়স এক বছর পূর্ণ হয়ে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।
[2] যে উটনীর দু’বছর পূর্ণ হয়ে তৃতীয় বছরে পড়েছে।
[3] হিক্কাহ বলা হয় এমন উটনীকে যার তিন বছর পূর্ণ হয়ে চতুৰ্থ বছরে উপনীত হয়েছে।
[4] যে উটনীর চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে তাকে “জাযায়া” বলা হয়।
[5] رَبُّهَا এর অর্থ হচ্ছে: صاحبها এখানে এর দ্বারা যাকাতদাতাকে বুঝানো হচ্ছে।
[6] هرمة শব্দের অর্থ যার দাঁত পড়ে যায়। অর্থাৎ শেষ বয়সে উপনীত হওয়া জন্তু যাকাতের মাল হিসেবে দেয়া যাবে না।
[7] বুখারী ১৪৪৮, ১৪৫০, নাসায়ী ২৪৪৭, ২৪৫৫, ৫২০১, আবূ দাউদ ১৫৬৭, ইবনু মাজাহ ১৮০০, আহমাদ ১১৬৭৮, ১২২২৬, ১২২০৯।