বুলূগুল মারাম
عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (5/ 8 / و12 و13)، وأبو داود (3561)، والنسائي في «الكبرى» (3/ 411)، والترمذي (1266)، وابن ماجه (2400)، والحاكم (2/ 47) من طريق الحسن، عن سمرة، به. وزادوا إلا النسائي وابن ماجه. «ثم نسي الحسن فقال: هو أمينك لا ضمان عليه». وقال الترمذي: «هذا حديث حسن صحيح». وقال الحاكم: «صحيح على شرط البخاري». قلت: ولكن الحسن مدلس، وقد عنعنه، وليس البحث هنا بحث سماع الحسن من سمرة أم لا كما فعل ذلك صاحب السبل، ولكن البحث بحث التدليس. وقد قال الذهبي في «السير» (4/ 588) «قال قائل: إنما أعرض أهل الصحيح عن كثير مما يقول فيه الحسن: عن فلان. وإن كان مما قد ثبت لُقِيّه فيه لفلان المعيّن؛ لأن الحسن معروف بالتدليس، ويدلس عن الضعفاء، فيبقى في النفس من ذلك، فإننا وإن ثبتنا سماعه من سمرة، يجوز أن يكون لم يسمع فيه غالب النسخة التي عن سمرة. والله أعلم
৮৮৯. সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধাররূপে গৃহীত বস্তু ফেরত না দেয়া পর্যন্ত গ্রহীতা (ক্ষয়-ক্ষতির) দায়ী থাকবে। -হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫৬১, তিরমিযী ১২৬৬, ইবনু মাজাহ ২৪০০, আহমাদ ১৯৫৮২, ১৯৬৪৩, দারেমী ১৫৯৬।
ইবনু হাজার আসকালানী ফাতহুল বারী ৫/২৮৫ গ্রন্থে বলেন, সামুরা থেকে হাসানের শ্রবণ বিষয়ের মতভেদ অতি আলোচিত। তিনি আত-তালখীসুল হাবীর ৩/১০২২ গ্রন্থেও একই মন্তব্য করেছেন। ইমাম শাওকানী নাইলুল আওত্বার ৬৪০ গ্রন্থেও অনুরূপ বলেছেন। শাইখ আলবানী যঈফ আবূ দাউদ ৪৭৪, ইরওয়াউল গালীল ১৫১৬, যঈফুল জামে ৩৭৩৭ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়াযী ৪/১৫৯ গ্রন্থেও একই মন্তব্য করেছেন। কিন্তু ইমাম যাহাবী আল মুহাযযিবা ৭/৩৪১৫ গ্রন্থে এর সানাদকে সালেহ বলেছেন, ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সাগরী ৫৪৫৫ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছে। আহমাদ শাকের উমদাতুত তাফসীর ১/৩৪৪ গ্রন্থে এর বিশুদ্ধতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ, وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَاسْتَنْكَرَهُ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (3535)، والترمذي (1264)، بسند حسن، وقال الترمذي: «حسن غريب». قلت: وهو صحيح بشواهده ففي الباب، عن أنس، وأبي أمامة، وأبي بن كعب، وغيرهم
৮৯০. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমার নিকটে আমানতরূপে রক্ষিত বস্তু আমানত দাতাকে ফেরত দাও। আর তোমার সাথে খেয়ানত করে এমন লোকের সাথেও তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। -তিরমিযী একে হাসান বলেছেন আর হাকিম একে সহীহ বলেছেন। আর আবূ হাতিম রাযী একে মুনকার (দুর্বল হাদীস) বলেছেন। হাদীস শাস্ত্রের একদল হাফিয হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যা আরীয়ার অন্তর্ভুক্ত।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫৩৫, তিরমিযী ১২৬৪, দারেমী ২৫৯৭।
وَعَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَتَتْكَ رُسُلِي فَأَعْطِهِمْ ثَلَاثِينَ دِرْعًا»، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَعَارِيَةٌ مَضْمُونَةٌ أَوْ عَارِيَةٌ مُؤَدَّاةٌ قَالَ: «بَلْ عَارِيَةٌ مُؤَدَّاةٌ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 222)، وأبو داود (3566)، والنسائي في «الكبرى» (3/ 409)، وابن حبان (1173)
৮৯১. ইয়ালা বিন উমাইয়াহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যখন আমার দূতগণ (প্রেরিত লোকগণ) তোমার নিকটে আসবে তখন তুমি তাদেরকে ৩০টি বর্ম দিবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ওগুলো কি ক্ষতিপূরণের দায়িত্বমুক্ত সাময়িক ঋণ বিশেষ না পরিশোধ ধার মাত্র? তিনি বললেন, পরিশোধীয় ধার স্বরূপ। mdash;ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫৬২, ৩৫৬৩, ৩৫৬৬, আহমাদ ২৭০৮৯। নাসাঈ কুবরা (৩/৪০৯), ইবনু হিব্বান ১১৭৩।
وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - اسْتَعَارَ مِنْهُ دُرُوعًا يَوْمَ حُنَيْنٍ. فَقَالَ: أَغَصْبٌ يَا مُحَمَّدُ قَالَ: «بَلْ عَارِيَةٌ مَضْمُونَةٌ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (3/ 401)، وأبو داود (3562)، والنسائي في «الكبرى» (3/ 410) وهو صحيح بطرقه وشواهده
৮৯২. সাফওয়ান বিন উমাইয়াহ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট থেকে হুনাইন যুদ্ধের সময় কিছু বর্ম ধার নিয়েছিলেন, ফলে সাফওয়ান তাঁকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! এটা জোরপূর্বক গ্ৰহণ করা হল? তিনি বললেন না, ক্ষতিপূরণ দায়যুক্ত ফেরত দেয়ার শর্তে নেয়া হলো। -হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫৬২, ৩৫৬৩, ৩৫৬৬, আহমাদ ২৭০৮৯।
وَأَخْرَجَ لَهُ شَاهِدًا ضَعِيفًا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدًا. رواه الحاكم (2/ 47) وفي سنده «متروك» كما أن في متنه مخالفة أخرى
৮৯৩. ইমাম হাকিম এর একটি সমর্থক দুর্বল হাদীস ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাকিম (২/৪৭)। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ৫/৩৪৪ গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন। কিন্তু সহীহ আবূ দাউদ ৩৫৬২ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। তিনি আত তালীকাত আর রযীয়্যাহ ২/৪৮৮ গ্রন্থে এর শাহেদ থাকার কথা বলেছেন। ইমাম শাওকানীও নাইলুল আওত্বার ৬/৪১ গ্রন্থে শাহেদ থাকার কথা বলেছেন।
عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ اقْتَطَعَ شِبْرًا مِنَ الْأَرْضِ ظُلْمًا طَوَّقَهُ اللَّهُ إِيَّاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. واه البخاري (3198)، ومسلم (1610)، واللفظ لمسلم
৮৯৪. সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি যুলম করে অন্যের এক বিঘাত যমীনও আত্মসাৎ করে, ক্বিয়ামাতের দিন সাত তবক যমীনের শিকল তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪৫২, ৩১৯৮, মুসলিম ১৫১০, তিরমিযী ১৪১৮, আহমাদ ১৬৩১, ১৬৩৬, ১৬৫২, দারেমী ২৬০৬।
وَعَنْ أَنَسٍ; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ، فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ مَعَ خَادِمٍ لَهَا بِقَصْعَةٍ فِيهَا طَعَامٌ، فَكَسَرَتِ الْقَصْعَة، فَضَمَّهَا, وَجَعَلَ فِيهَا الطَّعَامَ. وَقَالَ: «كُلُوا» وَدَفَعَ الْقَصْعَةَ الصَّحِيحَةَ لِلرَّسُولِ, وَحَبَسَ الْمَكْسُورَةَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
وَالتِّرْمِذِيُّ, وَسَمَّى الضَّارِبَةَ عَائِشَةَ, وَزَادَ: فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «طَعَامٌ بِطَعَامٍ, وَإِنَاءٌ بِإِنَاءٍ». وَصَحَّحَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2481)
رواه البخاري (2481)
رواه الترمذي (1359)، وقال: حديث حسن صحيح
৮৯৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন এক সহধর্মিণীর কাছে ছিলেন। উম্মুল মুমিনীনদের অপর একজন খাদিমের মারফত এক পাত্রে খাবার পাঠালেন। তিনি পাত্রটি ভেঙ্গে ফেললেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জোড়া লাগিয়ে তাতে খাবার রাখলেন এবং (সাথীদেরকে) বললেন, তোমরা খাও এবং উক্ত খাদিমকে দিয়ে ভাল পেয়ালাটি (ভাঙ্গাটির বদলে) পাঠিয়ে দিলেন। আর ভাঙ্গা পেয়ালাটি রেখে দিলেন। তিরমিযী ‘আয়িশা-কে ভঙ্গকারিণী বলে উল্লেখ করেছেন। আর তিনি বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ‘খাবার নষ্ট করলে (জরিমানা স্বরূপ) খাবার ও পাত্র নষ্ট করলে তার পরিবর্তে পাত্র। তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫২২৫, ২৪৮১, তিরমিযী ১৩৫৯, ৩৯৫৫, ৩৫৬৭, ইবনু মাজাহ ২৩৩৪, আহমাদ ১১৬১৬, ১৩৩৬১, দারেমী ২৫৯৮।
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ زَرَعَ فِي أَرْضِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ, فَلَيْسَ لَهُ مِنَ الزَّرْعِ شَيْءٌ, وَلَهُ نَفَقَتُهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ
وَيُقَالُ: إِنَّ الْبُخَارِيَّ ضَعَّفَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بطرقه. رواه أحمد (3/ 465 و 4/ 141)، وأبو داود (3403)، والترمذي (1366) وقال الترمذي: حسن غريب
৮৯৬. রাফি বিন খাদীজ। (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের জমি তাদের অনুমতি ছাড়াই আবাদ করবে। সে তার জন্য কোন শস্য প্রাপ্য হবে না-কেবল সে খরচ পাবে। -তিরমিযী একে হাসান বলেছেন; বলা হয়ে থাকে, বুখারী একে যঈফ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৪০৩, তিরমিযী ১৩৬৬, ইবনু মাজাহ ২৪৬৬, আহমাদ ১৫৫০৪।
وَعَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ مِنَ الصَّحَابَةِ; مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: إِنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي أَرْضٍ, غَرَسَ أَحَدُهُمَا فِيهَا نَخْلًا, وَالْأَرْضُ لِلْآخَرِ, فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بِالْأَرْضِ لِصَاحِبِهَا, وَأَمَرَ صَاحِبَ النَّخْلِ أَنْ يُخْرِجَ نَخْلَهُ. وَقَالَ: «لَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حديث صحيح. وهو في «سنن أبي داود» (3074) وفيه قوله صلى الله عليه وسلم: «من أحيا أرضًا ميتة فهي له» وهو صحيح، وسيذكره المصنف برقم (916) وانظر ما بعده
৮৯৭. উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক সাহাবী বলেছেন, অবশ্য দুজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে একখণ্ড জমির বিবাদ মীমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হয়েছিল; তাদের এক জনের জমিতে অন্যজন খেজুর গাছ রোপণ করেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমির মালিককে জমি প্রদান করেছিলেন, আর গাছ রোপণকারীকে গাছ উঠিয়ে নিতে হুকুম দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অত্যাচারী রোপণকারীর জন্য কোন হক (দাবী) সাব্যস্ত নয়। mdash;আবূ দাউদ হাসান সানাদে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩০৭৪, ৩০৭৬, তিরমিযী ১৩৭৮, মুওয়াত্তা মালেক ১৪৫৬।
وَآخِرُهُ عِنْدَ أَصْحَابِ السُّنَنِ مِنْ رِوَايَةِ عُرْوَةَ, عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ
وَاخْتُلِفَ فِي وَصْلِهِ وَإِرْسَالِهِ, وَفِي تَعْيِين صَحَابِيِّهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
قلت: وهذا على ما فيه كما ذكر الحافظ إلا أنه أحد الشواهد الكثيرة للحديث السابق، وتفصيل القول فيها «بالأصل»، وقد قال في «الفتح» (5/ 19) بعد أن ساق هذه الشواهد: وفي أسانيدها مقال، لكن يتقوى بعضها ببعض
৮৯৮. আসহাবে সুনানে সাঈদ বিন যায়দ থেকে উরওয়াহ কর্তৃক শেষাংশে বর্ণিত হয়েছে। এর মাউসূল ও মুরসাল (যুক্ত ও ছিন্ন সূত্র) এবং সাহাবী নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে মতবিরোধ ঘটেছে।
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ; - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: فِي خُطْبَتِهِ يَوْمَ النَّحْرِ بِمِنًى «إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ [وَأَعْرَاضَكُمْ] عَلَيْكُمْ حَرَامٌ, كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (67)، ومسلم (1679)
৮৯৯. আবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানী দিবসে মিনায় ভাষণ দানকালে বলেছেন, ‘তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের তোমাদের এ দিন, তোমাদের এ মাস, তোমাদের এ শহর মর্যাদাসম্পন্ন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৭, ১০৫, ১৭৪১, ৩১৯৭, মুসলিম ১৬৭৯, ইবনু মাজাহ ২৩৩, আহমাদ ১৯৮৭৩, ১৯৮৯৪, দারেমী ১৯১৬।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بِالشُّفْعَةِ فِي كُلِّ مَا لَمْ يُقْسَمْ, فَإِذَا وَقَعَتِ الْحُدُودُ وَصُرِّفَتْ الطُّرُقُ فَلَا شُفْعَةَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
وَفِي رِوَايَةِ مُسْلِمٍ: «الشُّفْعَةُ فِي كُلِّ شِرْكٍ: أَرْضٍ, أَوْ رَبْعٍ, أَوْ حَائِطٍ, لَا يَصْلُحُ أَنْ يَبِيعَ حَتَّى يَعْرِضَ عَلَى شَرِيكِهِ
وَفِي رِوَايَةِ الطَّحَاوِيِّ: قَضَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِالشُّفْعَةِ فِي كُلِّ شَيْءٍ, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2257) وصرفت: بينت
৯০০. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়নি, তাতে শুফআহ এর ফয়সালা দিয়েছেন। যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তাও পৃথক হয়ে যায়, তখন শুফআহ এর অধিকার থাকে না। -শব্দ বিন্যাস বুখারী থেকে গৃহীত।[1]
মুসলিমে আর একটি বর্ণনায় আছে- শুফআহ প্রত্যেক অংশ বিশিষ্ট বস্তুতে রয়েছেmdash;তা জমি হোক, বাড়ি হোক বা প্রাচীরবেষ্টিত বাগ-বাগিচা হোক। এগুলি তার শরীকদারকে বিক্রয় করার প্রস্তাব না দিয়ে অন্যের কাছে বিক্রয় করা সঙ্গত নয়- (অন্য বর্ণনায় শরীকদারকে বিক্রয়ের প্রস্তাব না দেয়া পর্যন্ত বৈধ হবে না।)
তাহাবীর বর্ণনায় আছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত বস্তুতেই ‘শুফআহর বিধি জারী করেছিলেন। তাহাবীর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] وصرفت - চলাচলের পথ অন্য দিকে ফিরিয়ে নেয়া। বুখারী ২২১৩, ২২১৪, ২২৫৭, ২৪৯৫, ২৪৯৬, ৬৯৭৬, মুসলিম ১৬০৮, তিরমিযী ১৩৭০, নাসায়ী ৪৬৪৬, ৪৭০০, আবূ দাউদ ৩৫১৪, ইবনু মাজাহ ২৪৯৯, আহমাদ ১৩৭৪৩, দারেমী ২৬২৮।
وَعَنْ أَبِي رَافِعٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْجَارُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ, وَفِيهِ قِصَّةٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2258) من طريق عمرو بن الشريد قال: «وقفت على سعد بن أبي وقاص فجاء المِسْوَر بن مَخْرَمة فوضع يده على إحدى منكبيَّ، إذ جاء أبو رافع مولى النبي -صلى الله عليه وسلم- فقال: يا سعد ابتع مني بيتي في دارك. فقال سعد: والله ما أبتاعهما. فقال المسور: والله لتبتاعهما. فقال سعد: والله لا أزيدك على أربعة آلافٍ مُنَجَّمَة أو مقطعة. فقال أبو رافع: لقد أعطيت بها خمسمائة دينار، ولولا أني سمعت النبي -صلى الله عليه وسلم- يقول: الجار أحق بسقبه ما أعطيتكها بأربعة آلاف، وأنا أعطي بها خمسمائة دينار، فأعطاه إياه». والسقب: بالسين المهلة وأيضًا الصاد المهلة: القرب والملاصقة. ومنجمة أو مقطعة: المراد مؤجلة على أقساط معلومة
৯০১. আবূ রাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘরের প্রতিবেশী সর্বাপেক্ষা শুফআহর হকদার। -এর মধ্যে একটি ঘটনা রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৫৮, ৬৯৭৭, ৬৯৭৮, ৬৯৮০, ৬৯৮১, নাসায়ী ৪৭০২, আবূ দাউদ ৩৫১৬, ইবনু মাজাহ ২৪৯৫, আহমাদ ২৩৩৫৯, ২৬৬৩৯।
বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে,
عمرو بن الشريد قال: وقفت على سعد بن أبي وقاص فجاء المِسْوَر بن مَخْرَمة فوضع يده على إحدى منكبيَّ، إذ جاء أبو رافع مولى النبي -صلى الله عليه وسلم- فقال: يا سعد ابتع مني بيتي في دارك. فقال سعد: والله ما أبتاعهما. فقال المسور: والله لتبتاعهما. فقال سعد: والله لا أزيدك على أربعة آلافٍ مُنَجَّمَة أو مقطعة. فقال أبو رافع: لقد أعطيت بها خمسمائة دينار، ولولا أني سمعت النبي -صلى الله عليه وسلم- يقول: الجار أحق بسقبه ما أعطيتكها بأربعة آلاف، وأنا أعطي بها خمسمائة دينار، فأعطاه إياه». والسقب: بالسين المهلة وأيضًا الصاد المهلة: القرب والملاصقة. ومنجمة أو مقطعة: المراد مؤجلة على أقساط معلومة
আমর ইবনু শারীদি ((রহঃ)) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) এসে তাঁর হাত আমার কাঁধ রাখেন। এমতাবস্থায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি’ চিত্র এসে বললেন, হে সা’দ! আপনার বাড়ীতে আমার যে দু’টি ঘর আছে, তা আপনি আমার নিকট হতে খরিদ করে নিন। সা’দ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম, আমি সে দু’টি খরিদ করব না। তখন মিসওয়ার ক্ষেত্রে বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি এ দু’টো অবশ্যই খরিদ করবেন। সা’দ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে কিস্তিতে চার হাজার (দিরহাম)-এর অধিক দিব না। আবূ রাফি’ (রাঃ) বললেন, এই ঘর দু’টির বিনিময়ে আমাকে পাঁচশ’ দীনার দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। আমি যদি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, প্রতিবেশী অধিক হকদার তার নৈকট্যের কারণে, তাহলে আমি এ দু’টি ঘর আপনাকে চার হাজার (দিরহাম)-এর বিনিময়ে কিছুতেই দিতাম না। আমাকে এ দু’টি ঘরের বিনিময়ে পাঁচশ’ দীনার দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তারপর তিনি তা তাকে (সাদকে) দিয়ে দিলেন।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «جَارُ الدَّارِ أَحَقُّ بِالدَّارِ». رَوَاهُ النَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَلَهُ عِلَّةٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه النسائي في «الكبرى» كما في «التحفة» (4/ 69) من طريق قتادة، عن الحسن، عن سمرة، ومن هذا الوجه رواه أبو داود (3517)، والترمذي (1368) وقال الترمذي: «حديث سمرة حديث حسن صحيح، وروى عيسى بن يونس، عن سعيد بن أبي عَرُوبة، عن قتادة، عن أنس، عن النبي -صلى الله عليه وسلم-. والصحيح عند أهل العلم حديث الحسن عن سمرة، ولا نعرف حديث قتادة، عن أنس إلا من حديث عيسى بن يونس». قلت: ومن الوجه الثاني رواه ابن حبان (1153) وإلى هذا الاختلاف يشير قول الحافظ: «وله علة». وخلاصة الكلام أن الحديث عند قتادة من وجهين: الأول: عن الحسن، عن سمرة، وهو الصواب عند أهل العلم. والثاني: عن أنس، به. وأيًّا كان الأمر فهو ضعيف من الوجهين؛ لعدم تصريح قتادة والحسن بالسماع؛ وكلاهما موصوف بالتدليس
৯০২. আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাড়ির প্রতিবেশী বাড়ির বেশী হকদার। নাসায়ী, ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। এর একটি দুর্বল দিক রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৫১/৭, তিরমিযী ১৩৬৮, আহমাদ ১৯৫৮৪, ১৯৬২০, ১৯৬৭০
আল ইলালুল কাবীর ২১৮ গ্রন্থে ইমাম বুখারী বলেনঃ الصحيح حديث الحسن عن سمورة وحديث قتادة عن أنس ليس بمحفوظ সঠিক কথা হচ্ছে সামুরা থেকে হাসানের হাদীস এবং আনাস থেকে কাতাদার হাদীস মাহফূয (নিরাপদ) নয়। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ১৫৩৯, সহীহ আবূ দাউদ ৩৫১৭ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। অনুরূপ ইমাম সুয়ূতীও আল জামেউস সগীর ৩৫৭৪ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْجَارُ أَحَقُّ بِشُفْعَةِ جَارِهِ, يُنْتَظَرُ بِهَا - وَإِنْ كَانَ غَائِبًا - إِذَا كَانَ طَرِيقُهُمَا وَاحِدًا». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (3/ 303)، وأبو داود (3518)، والنسائي في «الكبرى» كما في «التحفة» (2/ 229)، والترمذي (1369)، وابن ماجه (2494) وقد أعلّ الحديث بما لا يقدح
৯০৩. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিবেশী অন্যের চেয়ে তার শুফআহর অধিক হকদার- যদি উভয়ের রাস্তা এক হয় তাহলে প্রতিবেশী অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য (বিক্রয়কারী) প্রতিবেশীকে তার বাড়ি ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে (তাকে না জানিযে অন্যের কাছে বিক্রয় করতে পারবে না)। -এর সকল রাবী নির্ভরযোগ্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৩৬৯, আবূ দাউদ ৩৫১৮, ইবনু মাজাহ ২৪৯৪, আহমাদ ১৩৮৪১।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: الشُّفْعَةُ كَحَلِّ الْعِقَالِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَزَّارُ, وَزَادَ: «وَلَا شُفْعَةَ لِغَائِبٍ». وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدًا. رواه ابن ماجه (2500) وقال الحافظ في «التلخيص» (3/ 56) إسناده ضعيف جدًا
৯০৪. ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনndash; ‘শুফআর হক উট বাঁধা রশি খুলে ফেলার অনুরূপ। -বাযযারে আরো আছে- অনুপস্থিত শরীকের জন্য শুফআহার হক কার্যকর নয়। -এ হাদীসের সানাদ যঈফ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২৫০০। ইবনু হাজার তাঁর দিরায়াহ (২/২০৩) গ্রন্থে এর সানাদেক যঈফ বলেছেন, অনুরূপভাবে ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম (৩/১২০) গ্রন্থে বলেন, এর দ্বারা দলিল সাব্যস্ত হবে না। ইমাম শাওকানী তাঁর আস সাইলুল জাররার (৩/১৭৫) গ্রন্থে বলেন, মুনকার, প্রমাণিত নয়। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফুল জামে (৩৪৩৯) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল ১৫৪২ ও যঈফ ইবনু মাজাহ ৪৯০ গ্রন্থে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। এর সানাদে ইবনুল বাইলামানী রয়েছেন যিনি তাঁর পিতা থেকে যে কপি থেকে বর্ণনা করেন সেটি জাল। তার দলিল গ্রহণযোগ্য নয়। ইবনু আদী তাঁর আল কামিল ফি যু’আফা (৭/৩৮৪) গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান আল বাইলামানী সে দুর্বল। ইবনু উসাইমীন তার বুলুলুগুল মারামের শরাহ (৪/২২৯) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ দুর্বল আর মতন হচ্ছে শায (বিরল)।
عَنْ صُهَيْبٍ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «ثَلَاثٌ فِيهِنَّ الْبَرَكَةُ: الْبَيْعُ إِلَى أَجَلٍ، وَالْمُقَارَضَةُ، وَخَلْطُ الْبُرِّ بِالشَّعِيرِ لِلْبَيْتِ, لَا لِلْبَيْعِ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن ماجه (2289)
৯০৫. তিনটি জিনিসের মধ্যে বরকত রয়েছে: মেয়াদ নির্দিষ্ট করে ক্রয়-বিক্রয়, মুকারা যা ব্যবসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে গমে যব মিশানো, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়। mdash;ইবনু মাজাহ দুর্বল সনদে।[1]
সম্পদের মালিক যৌথ ব্যবসায় কল্যাণমূলক যে কোন শর্ত করতে পারে
৯০৫-১. হাকিম বিন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি যৌথভাবে কারবার করার জন্য কোন ব্যক্তিকে কোন মাল দিলে এ শর্তগুলো আরোপ করতেনঃ জানোয়ার ও কাঁচা অস্থায়ী মালে আমার পুঁজি লাগবে না, আমার মাল সামুদ্রিক যানে চাপবে না, কোন প্লাবন ভূমিতে তা নিয়ে রাখবে না। যদি তুমি এরূপ কিছু কর তাহলে তুমি আমার মালের খেসারত দিতে বাধ্য থাকবে। mdash;দারাকুতনী, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।[2]
ইমাম মালিক মুআত্তায় বলেছেন- আলা বিন আবদুর রহমান বিন ইয়াকুব হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (ইয়াকুব) উসমান (রাঃ)-এর মাল নিয়ে উভয়ের মধ্যে লাভ বণ্টিত হবার শর্তে ব্যবসা করেছিলেন। -এই হাদীস মাওকুফ সূত্রে সহীহ।[3]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫৩৭ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে তিনজন অপরিচিত বৰ্ণনাকারী রয়েছে। ইমাম শাওকানী আদ দুরারী আল মাযিয়্যাহ ২৮৪ গ্রন্থে বলেন, এতে দু’জন অপরিচিত রাবী রয়েছে। তিনি নাইলুল আওত্বার ৫/৩৯৪ গ্রন্থে বলেন, নাসর ইবনুল কাসেম আবদুর রহীম বিন দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যারা উভয়েই অপরিচিত। শাইখ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ ৪৫৪, যঈফুল জামে ২৫২৫ গ্রন্থদ্বয়ে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। আবার তাখরীজ মিশকাত ২৮৬৬ গ্রন্থে শুধু দুর্বল বলেছেন। কিন্তু সিলসিলা যাঈফা ২১০০ গ্রন্থে একে মুনকার বলেছেন। মীযানুল ইতিদাল ২/৬০৫ গ্রন্থে ইমাম যাহাবীও একে মুনকার বলেছেন।
[2] দারাকুতনী (৩/৬৩) শক্তিশালী সানাদে বর্ণনা করেছেন।
[3] মুওয়াত্তা মালিক (২/৬৮৮)।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَامَلَ أَهْلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا مِنْ ثَمَرٍ, أَوْ زَرْعٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا: فَسَأَلُوا أَنْ يُقِرَّهُمْ بِهَا عَلَى أَنْ يَكْفُوا عَمَلَهَا وَلَهُمْ نِصْفُ الثَّمَرِ, فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «نُقِرُّكُمْ بِهَا عَلَى ذَلِكَ مَا شِئْنَا» , فَقَرُّوا بِهَا, حَتَّى أَجْلَاهُمْ عُمَرُ
وَلِمُسْلِمٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - دَفَعَ إِلَى يَهُودِ خَيْبَرَ نَخْلَ خَيْبَرَ وَأَرْضَهَا عَلَى أَنْ يَعْتَمِلُوهَا مِنْ أَمْوَالِهِمْ, وَلَهُ شَطْرُ ثَمَرِهَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2329)، ومسلم (1551) (1)
رواه البخاري (2338)، ومسلم (1551) (6) وزادا: إلى تيماء وأريحاء
رواه مسلم (1551) (5) ووقع في «أ»: «ولهم» بدل: «وله». وعند مسلم: «ولرسول الله -صلى الله عليه وسلم- شطر ثمرها». وأيضًا البخاري (2331) بنحوه
৯০৬. ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের সঙ্গে উৎপাদিত ফল কিংবা ফসলের অর্ধেক শর্তে খায়বারের জমি বৰ্গ দিয়েছিলেন।
উক্ত সহীহ দ্বয়ের অন্য বর্ণনায় আছে- তখন ইয়াহুদীরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুরোধ করল যেন তাদের সে স্থানে বহাল রাখা হয় এ শর্তে যে, তারা সেখানে চাষাবাদের দায়িত্ব পালন করবে; আর ফসলের অর্ধেক তাদের থাকবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আমরা এ শর্তে তোমাদের এখানে বহাল থাকতে দিব যতদিন আমাদের ইচ্ছা। কাজেই তারা সেখানে বহাল রইল। অবশেষে ‘উমার (রাঃ) তাদেরকে নির্বাসিত করে দেন।[1]
মুসলিমে আছে- উৎপন্ন ফল ও শস্যের অর্ধেকের বিনিময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের ইহুদীদেরকে সেখানকার খেজুর বাগান ও আবাদী জমি তাদের নিজ ব্যয়ে আবাদ করার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় আরো রয়েছে, অবশেষে ‘উমার (রাঃ) তাদেরকে তাইমা ও আরীহায় নির্বাসিত করে দেন। বুখারী ২২৮৬, ২৩২৮, ২৩২৯, ২৩৩১, ২৩৩৮, ২৪৯৯, মুসলিম ১৫৫১, তিরমিযী ১৩৮৩, নাসায়ী ৩৮৬৩, ৩৮৬৪, ৩৮৬৫, আবূ দাউদ ৩০০৮, ৩৩৯৩ , ৩৩৯৪, ইবনু মাজাহ ২৪৫৩, ২৪৬৭, ৪৪৯০, ৪৬৪৯, ৪৭১৮, মুওয়াত্তা মালেক ১৪১৫।
وَعَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ قَيْسٍ قَالَ: سَأَلْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - عَنْ كِرَاءِ الْأَرْضِ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ? فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ, إِنَّمَا كَانَ النَّاسُ يُؤَاجِرُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى الْمَاذِيَانَاتِ, وَأَقْبَالِ الْجَدَاوِلِ, وَأَشْيَاءَ مِنَ الزَّرْعِ, فَيَهْلِكُ هَذَا وَيَسْلَمُ هَذَا, وَيَسْلَمُ هَذَا وَيَهْلِكُ هَذَا, وَلَمْ يَكُنْ لِلنَّاسِ كِرَاءٌ إِلَّا هَذَا, فَلِذَلِكَ زَجَرَ عَنْهُ, فَأَمَّا شَيْءٌ مَعْلُومٌ مَضْمُونٌ فَلَا بَأْسَ بِهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَفِيهِ بَيَانٌ لِمَا أُجْمِلَ فِي الْمُتَّفَقَ عَلَيْهِ مِنْ إِطْلَاقِ النَّهْيِ عَنْ كِرَاءِ الْأَرْضِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1547) (116) (ج 3 ص 1183) والماذيانات: مسايل المياه، وقيل: ما ينبت حول السواقي. وأقبال الجداول: أوائل ورؤوس الأنهار الصغيرة
৯০৭. হানযালাহ বিন কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাফি বিন খাদীজ (রাঃ)-কে সোনা ও রৌপ্যের বিনিময়ে জমি ইজারায় (লাগানোর) বৈধতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাহাবী রাফি) বললেন, এতে কোন দোষ নেই। লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে পানি প্রবাহের স্থলে, নহর ও নালার পাড়ের আর কোন ক্ষেতের অংশ বিশেষের বিনিময়ে ঠিকার লেনদেন করত। এসবের কোনটি নষ্ট হয়ে যেত। আর কোনটি ঠিক থাকত এবং কোনটি ঠিক থাকত আর কোনটি নষ্ট হয়ে যেত, আর তখন এসব ঠিক ব্যতীত অন্য কোনরূপ ঠিক ছিল না। এই (অনিশ্চিত অবস্থার) ঠিকা সম্বন্ধেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধমক দিয়েছেন।
কিন্তু এমন জ্ঞাত বস্তু যা নিশ্চিত ফলপ্রসূ ও জিম্মাদারীর যোগ্য তাতে ঠিকা দেয়ার ব্যবস্থায় কোন দোষ নেই।
অত্র কেতাবের সংকলক আসকালানী (রহঃ) বলেছেন- এ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত সাধারণভাবে জমি ঠিকা দেয়ার নিষেধাজ্ঞাসূচক সংক্ষিপ্ত হাদীসটির বিশ্লেষণ স্বরূপ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২২৮৬, ২৩২৭, ২৩৩২, ২৩৩৯, ২৩৪৪, ২৩৪৭, মুসলিম ১৫৪৭, ১৫৪৮, তিরমিযী ১২২৪, ১৩৮৪, নাসায়ী ৩৮৬২, ৩৮৬৩, ৩৮৬৪, আবূ দাউদ ৩৩৯২, ৩৩৯৩, ইবনু মাজাহ ২৪৪৯, ২৪৫৩, আহমাদ ৪৫৭২ মুওয়াত্তা মালেক ১৪/১৫।
وَعَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنِ الْمُزَارَعَةِ [وَأَمَرَ] بِالْمُؤَاجَرَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1549) (119)
৯০৮। সাবিত ইবনু যাহহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎপন্ন বস্তুর মধ্যে অংশ ধার্য চাষ আবাদের ব্যবস্থাকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং ঠিকা প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৫৪৯, আহমাদ ১৫৯৫৩, দারেমী ২৬১৬।