হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (929)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَقِيءُ, ثُمَّ يَعُودُ فِي قَيْئِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ: «لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السَّوْءِ, الَّذِي يَعُودُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَرْجِعُ فِي قَيْئِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2589)، ومسلم (1622) (8)

البخاري برقم (2622)




৯২৯। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দান করে তা ফেরত গ্রহণকারী ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে। এরপর তার বমি খায়।



বুখারীর অন্য একটি বর্ণনায় আছে, খারাপ উপমা দেয়া আমাদের জন্য শোভনীয় নয়। তবু যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৫৮৯, ২৬২১, ২৬২২, মুসলিম ১৬২২, তিরমিযী ১২৯৮, নাসায়ী ৩৬৯৩, ৩৬৯৪, আবূ দাউদ ৩৫৩৮, ইবনু মাজাহ ২৩৮৫, আহমাদ ১৮৭৫, ৩২৫৯।









বুলূগুল মারাম (930)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ-, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ مُسْلِمٍ أَنْ يُعْطِيَ الْعَطِيَّةَ, ثُمَّ يَرْجِعَ فِيهَا; إِلَّا الْوَالِدُ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (2 7 و 78)، وأبو داود (3539)، والنسائي (6/ 267 - 268)، والترمذي (2132)، وابن ماجه (2377)، وابن حبان (5101)، والحاكم (2/ 46) وزادوا جميعا إلا ابن ماجه: «ومثل الذي يعطي العطية، ثم يرجع فيها كمثل الكلب، حتى إذا شبع قاء، ثم عاد في قيئه». وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح




৯৩০। ইবনু ‘উমার ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিমের জন্য কিছু দান করার পর পুনরায় তা ফেরত নেয়া হালাল নয়। তবে পিতা তার পুত্রকে যা দান করে তা ফেরত নিতে পারে। -তিরমিযী, ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৬৩৯, তিরমিযী ২১৩২, ইবনু মাজাহ ২৩৭৭, ২৪৮২, নাসাঈ ৩৬৯০, আহমাদ ২১২০, ৪৭৯৫। ইবনু হিব্বান ৫১০১ এবং হাকিমের (২/৪৬) বর্ণনায় আরো রয়েছে, যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করার পর আবার তা ফিরিয়ে নিয়ে নেয় সে ঐ কুকুরের মত যে পেট পূর্ণ করার পর বমি করে এবং কিছুক্ষণ পর আবার সেই বমির দিকে প্রত্যাবর্তন করে (অর্থাৎ আবার তা খায়)। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।









বুলূগুল মারাম (931)


وَعَنْ عَائِشَةَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا- قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقْبَلُ الْهَدِيَّةَ, وَيُثِيبُ عَلَيْهَا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2585)




৯৩১। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীয়া (উপঢৌকন) গ্ৰহণ করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৫৮৫, তিরমিযী ১৯৫৩, আবূ দাউদ ৩৫৩৬, আহমাদ ২৪০৭০।









বুলূগুল মারাম (932)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: وَهَبَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَاقَةً، فَأَثَابَهُ عَلَيْهَا, فَقَالَ: «رَضِيتَ؟» قَالَ: لَا. فَزَادَهُ, فَقَالَ: «رَضِيتَ؟» قَالَ: لَا. فَزَادَهُ. قَالَ: «رَضِيتَ؟» قَالَ: نَعَمْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (2 95)، وابن حبان (1146 موارد) وزادا: «فقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: لقد هممت أن لا أتَّهِب هبة من قرشي، أو أنصاري، أو ثقفي». قلت: وقوله: «أتَّهب» بالتاء المشددة، أي: أقبل الهدية، وأما سبب هَمِّ النبي -صلى الله عليه وسلم- بعدم قبول الهدية إلا من هؤلاء فهو كما يقول ابن الأثير (5/ 231): «لأنهم أصحاب مدن وقرى، وهم أعرف بمكارم الأخلاق؛ ولأن في أخلاق البادية جفاء، وذهابا عن المروءة، وطلبا للزيادة




৯৩২। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন এক ব্যক্তি একটি উট দান করেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিদান দিয়ে বললেন, mdash;তুমি কি সন্তুষ্ট হলে? সে বলল-না, তিনি তাকে আরো দিয়ে বললেন সন্তুষ্ট হলে? সে বলল, না। তিনি তাকে আরো দিয়ে বললেন, সন্তুষ্ট হলে? এবারে সে বলল, জী-হাঁ। mdash;ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ৭৫০, ৭৮২, ৭৮৩, মালিক ২৭৬, নাসায়ী ১২৮, ১২৯, ইবনু মাজাহ ৫৫২, দারিমী ৭১৪, ইবনু হিব্বান ১১৪৬।









বুলূগুল মারাম (933)


وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْعُمْرَى لِمَنْ وُهِبَتْ لَهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَلِمُسْلِمٍ: أَمْسِكُوا عَلَيْكُمْ أَمْوَالَكُمْ وَلَا تُفْسِدُوهَا, فَإِنَّهُ مَنْ أَعْمَرَ عُمْرَى فَهِيَ لِلَّذِي أُعْمِرَهَا حَيًا وَمَيِّتًا، وَلِعَقِبِهِ
وَفِي لَفْظٍ: إِنَّمَا الْعُمْرَى الَّتِي أَجَازَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يَقُولَ: هِيَ لَكَ وَلِعَقِبِكَ، فَأَمَّا إِذَا قَالَ: هِيَ لَكَ مَا عِشْتَ، فَإِنَّهَا تَرْجِعُ إِلَى صَاحِبِهَا
وَلِأَبِي دَاوُدَ وَالنَّسَائِيِّ: لَا تُرْقِبُوا, وَلَا تُعْمِرُوا، فَمَنْ أُرْقِبَ شَيْئًا أَوْ أُعْمِرَ شَيْئًا فَهُوَ لِوَرَثَتِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2625)، ومسلم (1625) (25)، والسياق لمسلم، وأما البخاري فعن جابر قال: قضى النبي -صلى الله عليه وسلم- بالعمرى أنها لمن وُهِبَتْ له

رواه مسلم (1625) (26)

رواه مسلم (1625) (23) وزاد: قال معمر: وكان الزهيري يفتي به

رواه أبو داود (3556)، والنسائي (6/ 273)




৯৩৩। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উমরী বা আজীবন দান তার জন্য সাব্যস্ত হবে যার জন্য তা হেবা করা হয়েছে।[1]



মুসলিমে আছে- তোমাদের মাল তোমাদের জন্য রাখ, তা নষ্ট করে ফেল না। যদি কেউ কাউকে জীবনতক দান করে তাহলে এ দান তার জীবন ও মরণতকই হবে, আর তার মৃত্যুর পর তার সন্তানগণেরও হবে।



অন্য শব্দে এরূপ এসেছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৈধ বলেছেন ঐ উমরী দান যাতে হিবাকারী বলবে যে, এ দান তোমার জন্য ও তোমার সন্তানদের (ওয়ারিসদের) জন্যও। কিন্তু যদি বলে এ দান তোমার জীবনতক মাত্র। তাহলে ঐ দান সিদ্ধ না হয়ে মালিকেরই থেকে যাবে।[2]



আবূ দাউদে ও নাসায়ীতে আছে- তোমরা রুকবা ও উমরা করবে না। যে কিছু রুকবা বা উমরা করবে। তাহলে তা তার ওয়ারিসদের জন্যও হবে।[3]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, জাবির (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমরাহ (বস্তু) সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছেন যে, যাকে দান করা হয়েছে, সে-ই সেটার মালিক হবে।

[2] মুসলিমের বর্ণনায় আরো রয়েছে, মামার (রঃ) বলেন, ইমাম যুহরী (রঃ) এর উপরই ফতোয়া দান করতেন।

[3] বুখারী ২৬২৫, মুসলিম ১৬২৫, তিরমিযী ১৩৫০, ১৩৫১, নাসায়ী ৩৭২৭, ৩৭৩১, ৩৭৩৬।









বুলূগুল মারাম (934)


وَعَنْ عُمَرَ - رضي الله عنه - قَالَ: حَمَلْتُ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ, فَأَضَاعَهُ صَاحِبُهُ, فَظَنَنْتُ أَنَّهُ بَائِعُهُ بِرُخْصٍ، فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ ذَلِكَ. فَقَالَ: «لَا تَبْتَعْهُ, وَإِنْ أَعْطَاكَهُ بِدِرْهَمٍ …» الْحَدِيثَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2622)، ومسلم (1620) وزادا: فإن العائد في صدقته، كالكلب يعود في قيئه




৯৩৪। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, এক লোককে আমি আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় আরোহণের জন্য দান করলাম। ঘোড়াটি যার নিকট ছিল, সে তার চরম অযত্ন করল। তাই সেটা আমি তার নিকট হতে কিনে নিতে চাইলাম। আমার ধারণা ছিল যে, সে তা কম দামে বিক্রি করবে। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এক দিরহামের বিনিময়েও যদি সে তোমাকে তা দিতে রাজী হয় তবু তুমি তা ক্রয় কর না। (এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ।)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৪৯০, ২৬২৩, ২৬৩৬, ২৯৭০, মুসলিম ১৬২০, তিরমিযী ৬৩৮, নাসায়ী ২৬১৫, ২৬১৬, আবূ দাউদ ১৫৯৩, ইবনু মাজাহ ২৩৯০, ২৩৯২, আহমাদ ১৬৭, ২৬০, ২৮৩, মুওয়াত্তা মালোক ৬২৪, ৬২৫। বুখারীতে রয়েছে, ... ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খারাপ উপমা দেয়া আমাদের জন্য শোভনীয় নয়। তবু যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।









বুলূগুল মারাম (935)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «تَهَادُوْا تَحَابُّوا». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي «الأَدَبِ الْمُفْرَدِ» وَأَبُو يَعْلَى بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه البخاري في «الأدب المفرد» (594) وأبو يعلى في «المسند» (6148)




৯৩৫। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অন্যকে হাদীয়া দাও। তাহলে আপোষে ভালবাসা সৃষ্টি করতে পারবে। বুখারী তাঁর আদাবুল মুফরাদে ও আবূ ইয়ালা-উত্তম সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৫৩, ৫৯৪ নাসায়ী ৪৭৪, ইবনু মাজাহ ৬৯৪, আহমাদ ২২৪৪৮, ২২৫১৭।









বুলূগুল মারাম (936)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «تَهَادَوْا, فَإِنَّ الْهَدِيَّةَ تَسُلُّ السَّخِيمَةَ». رَوَاهُ الْبَزَّارُ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه البزار (1937)، وهو وإن كان ضعيف المسند فهو أحد شواهد الحديث السابق




৯৩৬। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আপোষে উপঢৌকন দিতে থাকো, কেননা উপঢৌকন দ্বারা মনের হিংসা-বিদ্বেষজনিত গ্লানি দূর হয়ে যায়। -বাযযার দুর্বল সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম সানআনী সুবুলুস সালাম ৩/১৪৫ গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনায় দুর্বলতা রয়েছে। এর যতগুলো সানাদ আছে এর কোনটিই বিতৰ্কমুক্ত নয়। ইমাম হাইসামী মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/১৪৯ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আয়িয বিন শুরাইহ নামক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ৬/৪৫ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে বকর বিন বাক্কার দুর্বল বর্ণনাকারী। তিনি যঈফুল জামে ২৪৯২ গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন। বাযযার ১৯৩৭।









বুলূগুল মারাম (937)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ! لَا تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح رواه البخاري (2566)، ومسلم (1030) و «فرسن»: قال الحافظ في «الفتح»: «بكسر الفاء والمهملة بينهما راء ساكنة وآخره نون، وهو: عُظَيْمٌ قليل اللحم، وهو للبعير موضع الحافر للفرس، ويطلق على الشاة مجازا، ونونه زائدة وقيل: أصلية، وأشير بذلك إلى المبالغة في إهداء الشيء اليسير وقبوله لا إلى حقيقة الفرسن؛ لأنه لم تَجْر العادة بإهدائه، أي: لا تمنع جارة من الهدية لجارتها الموجود عندها لاستقلاله، بل ينبغي أن تجود لها بما تيسر، وإن كان قليلًا فهو خير من العدم، وذكر الفرسن على سبيل المبالغة




৯৩৭। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- হে মুসলিম নারীগণ! কোন মহিলা প্রতিবেশিনী যেন অপর মহিলা প্রতিবেশিনীর হাদিয়া তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা ছাগলের সামান্য গোশতযুক্ত হাড় হলেও।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬০১৭, মুসলিম ১০৩০, তিরমিযী ২১৩০, আহমাদ ৭৫৩৭, ৮০০৫। হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী ‘ফাতহুল বারী’তে فرسن শব্দের অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ তা একটি ছোট হাড় যেখানে গোশত কম থাকে।









বুলূগুল মারাম (938)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-, عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ وَهَبَ هِبَةً, فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا, مَا لَمْ يُثَبْ عَلَيْهَا». رَوَاهُ الْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ, وَالْمَحْفُوظُ مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ عُمَرَ, عَنْ عُمَرَ قَوْلُهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
لا يصح رفعه. رواه الحاكم (2/ 52)، مرفوعا وقال: «هذا الحديث صحيح على شرط الشيخين، ولم يخرجاه، إلا أن يكون الحمل فيه على شيخنا». قلت: وشيخه هو: إسحاق بن محمد بن خالد الهاشمي، قال الحافظ في «اللسان» (1/ 417): «الحمل فيه عليه بلا ريب، وهذا الكلام معروف من قول عمر غير مرفوع». وأما الموقوف، فرواه مالك في «الموطأ» (2/ 754 / 42) بسند صحيح، ولفظه: «من وهب هبة لصلة رحم، أو على وجه صدقة، فإنه لا يرجع فيها. ومن وهب هبة يرى أنه إنما أراد بها الثواب، فهو على هبته، يرجع فيها إذا لم يُرْضَ منها




৯৩৮। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন হেবা বা দান করে সেই তার উপর বেশী হকদার, যতক্ষণ তার কোন বিনিময় প্রাপ্ত না হয়। -হাকিম একে সহীহ বলেছেন; মাহফূয় (সংরক্ষিত) সানাদ হিসেবে এটা ইবনু ‘উমার হতে, উমার (রাঃ)-এর কথা বর্ণিত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম দারাকুতনী তাঁর সুনান (২/৬৩৭) গ্রন্থে বলেন, এটি মারফূ’ হিসেবে সাব্যস্ত নয়, রবং সঠিক হচ্ছে এটি মাওকুফ। ইমাম বাইহাকী আস সুনান কুবরা (৬/১৮১) গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। শাইখ আলবানী যঈফুল জামে ৫৮৮৩, সিলসিলা যাঈফা ৩৬২ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (939)


عَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِتَمْرَةٍ فِي الطَّرِيقِ، فَقَالَ: «لَوْلَا أَنِّي أَخَافُ أَنْ تَكُونَ مِنَ الصَّدَقَةِ لَأَكَلْتُهَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2431)، ومسلم (1071) والسياق للبخاري




৯৩৯। আনাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তায় পড়ে থাকা খেজুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার যদি আশঙ্কা না হত যে এটি সাদাকার খেজুর তাহলে আমি এটা খেতাম।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২০৫৫, ২৪৩১, ২৪৩৩, মুসলিম ১০৭১, আবূ দাউদ ১৬৫১, ১৬৫২, আহমাদ ২৭৪১৮, ১১৯৩৪।









বুলূগুল মারাম (940)


وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَسَأَلَهُ عَنِ اللُّقَطَةِ فَقَالَ: «اعْرِفْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا, ثُمَّ عَرِّفْهَا سَنَةً, فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا وَإِلَّا فَشَأْنُكَ بِهَا
قَالَ: فَضَالَّةُ الْغَنَمِ
قَالَ: هِيَ لَكَ, أَوْ لِأَخِيكَ, أَوْ لِلذِّئْبِ
قَالَ: فَضَالَّةُ الْإِبِلِ
قَالَ: مَا لَكَ وَلَهَا مَعَهَا سِقَاؤُهَا وَحِذَاؤُهَا, تَرِدُ الْمَاءَ, وَتَأْكُلُ الشَّجَرَ, حَتَّى يَلْقَاهَا رَبُّهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (91)، ومسلم (1722) و «عفاصها «بكسر المهملة، وتخفيف الفاء، الوعاء تكون فيه النفقة. و «وكاءها «: الخيط يشد به العفاص. و «سقاؤها «: جوفها. و «حذاؤها «: خُفُّها. وفي هذا تنبيه من النبي -صلى الله عليه وسلم- إلى أن الإبل غير محتاجة إلى الحفظ بما رَكَّبَ الله في طباعها من الجلادة على العطش وتناول الماء بغير تعب لطول عنقها، وقوتها على المشي




৯৪০। যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেছেন, কোন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এসে পতিত (হারানো) বস্তু সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, তুমি তার থলে ও বাঁধন চিনে রাখ তার পর তা এক বছর ধরে ঘোষণা দিতে থাকো, যদি মালিক এসে যায় ভাল, নচেৎ তুমি তাকে ব্যবহারে নিতে পারবে। লোকটি বলল: ‘হারানো ছাগল পাওয়া গেলে? তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার হবে, নাহলে তোমার ভাইয়ের, না হলে বাঘের। লোকটি বলল, হারানো উটের কি হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘উট নিয়ে তোমার কী হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির নিকট যেতে পারে এবং গাছ খেতে পারে। কাজেই তাকে ছেড়ে দাও, এমন সময়ের মধ্যে তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৯১, ২৩৭২, ২৪২৭, ২৪২৮, ২৪৩০, ২৪৩৬, মুসলিম ১৭২২, তিরমিযী ১৩৭২, আবূ দাউদ ১৭০৪, ১৭০৬, ইবনু মাজাহ ২৫০৪, ২৫০৭, আহমাদ ১৬৫৯৮, মুওয়াত্তা মালেক ১৪৮২।









বুলূগুল মারাম (941)


وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ آوَى ضَالَّةً فَهُوَ ضَالٌّ, مَا لَمْ يُعَرِّفْهَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري




৯৪১। যায়দ বিন খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি হারানো পশুকে আশ্রয় দেবে প্রচার না করা পর্যন্ত সে পথভ্রষ্ট (অন্যায়কারী) বলে গণ্য হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৭২৫, আহমাদ ১৬৭৭।









বুলূগুল মারাম (942)


وَعَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ وَجَدَ لُقَطَةً فَلْيُشْهِدْ ذَوَيْ عَدْلٍ, وَلْيَحْفَظْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا, ثُمَّ لَا يَكْتُمْ, وَلَا يُغَيِّبْ, فَإِنْ جَاءَ رَبُّهَا فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا, وَإِلَّا فَهُوَ مَالُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَابْنُ الْجَارُودِ, وَابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 261 - 262 و 266 - 267)، وأبو داود (1709)، والنسائي في «الكبرى «(3/ 418)، وابن ماجه (2505)، وابن حبان (1169 موارد)، وابن الجارود (671)




৯৪২। ইয়ায বিন হিমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন হারানো বস্তু পাবে সে যেন নির্ভরযোগ্য দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী করে রাখে এবং ঐ বস্তুর পাত্র ও তার বন্ধন (সঠিক পরিচয় লাভের নিদর্শনগুলো) তার স্বীয় অবস্থায় ঠিক রাখে, অতঃপর তাকে গোপন বা গায়েব করে না রাখে। তারপর যদি ঐ বস্তুর মালিক এসে যায় তাহলে সেই প্রকৃত হকদার হবে, অন্যথায় তা আল্লাহর মাল হিসেবে যাকে তিনি দেন তারই হবে। --ইবনু খুযাইমাহ, ইবনু জারূদ ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৭০৯, ইবনু মাজাহ ২৫০৫, আহমাদ ১৭০২৭, ১৭৮৭২।









বুলূগুল মারাম (943)


وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ التَّيْمِيِّ - رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى عَنْ لُقَطَةِ الْحَاجِّ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1724)




৯৪৩। ‘আবদুর রহমান বিন উসমান তাইমী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্ব পালনকারীদের পড়ে থাকা কোন বস্তু উঠাতে নিষেধ করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৭২৪, আবূ দাউদ ১৭১৯, আহমাদ ১৫৪৬।









বুলূগুল মারাম (944)


وَعَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلَا لَا يَحِلُّ ذُو نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ, وَلَا الْحِمَارُ الْأَهْلِيُّ, وَلَا اللُّقَطَةُ مِنْ مَالِ مُعَاهَدٍ, إِلَّا أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه أبو داود (3804)




৯৪৪। মিকদাদ বিন মাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাবধান! তীক্ষ্ম বড় দাঁতধারী হিংস্র পশু, গৃহপালিত গাধা আর যিম্মীদের পড়ে থাকা কোন মাল তোমাদের জন্য হালাল নয়। তবে যদি যিম্মী মালিক সেটাকে নিস্প্রয়োজন মনে করে তাহলে তা কুড়িয়ে নেয়া যাবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৩৮০৪।









বুলূগুল মারাম (945)


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا, فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6732)، ومسلم (1615)




৯৪৫। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অংশের হকদারদের মীরাস পৌঁছে দাও। অতঃপর যা বাকী থাকবে তা (মৃতের) নিকটতম পুরুষের জন্য।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৭৩২, ৬৭৩৫, ৬৭৩৭, ৬৭৪৫, মুসলিম ১৬১৫, তিরমিযী ২০৯৪, আবূ দাউদ ২৮৯৮, ইবনু মাজাহ ২৭৪০, ২৬৫২, ২৬৫৭, দারেমী ২৯৮৬।









বুলূগুল মারাম (946)


وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ, وَلَا يَرِثُ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6764)، ومسلم (1614) رواه البخاري (4283) بلفظ «المؤمن» بدل «المسلم» في الموضعين




৯৪৬। উসামাহ বিন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম কাফেরের উত্তরাধিকারী হয় না, আর কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীতে المسلم শব্দের স্থলে المؤمن শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে; দু স্থানেই। বুখারী ১৫৮৮, ৩০৫৮, ৪২৮৩, ৬৭৬৩, মুসলিম ১৬১৪, তিরমিযী ২১০৭, আবূ দাউদ ২৯০৯, ইবনু মাজাহ ২৭২৯, ২৭৩০, আহমাদ ২১৩০১, ২১৩১৩, মুওয়াত্তা মালেক ১১০৪, ১১০৫, দারেমী ২৯৯৮, ৩০০০।









বুলূগুল মারাম (947)


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - فِي بِنْتٍ, وَبِنْتِ اِبْنٍ, وَأُخْتٍ - قَضَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «لِلِابْنَةِ النِّصْفَ, وَلِابْنَةِ الِابْنِ السُّدُسَ - تَكْمِلَةَ الثُّلُثَيْنِ- وَمَا بَقِيَ فَلِلْأُخْتِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6736) من طريق هزيل بن شرحبيل قال: سئل أبو موسى؛ عن ابنة. وابن ابن. وأخت؟ فقال: للابنة النصف. وللأخت النصف. وائت ابن مسعود فسيتابعني، فسئل ابن مسعود، وأخبر بقول أبي موسى؟ فقال: لقد ضللت إذًا وما أنا من المهتدين، أقضي فيها بما قضى النبي -صلى الله عليه وسلم-: … فذكره. وزاد: فأتينا أبا موسى، فأخبرناه بقول ابن مسعود. فقال: لا تسألوني ما دام هذا الحبر فيكم




৯৪৭। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সলা করেছেন, কন্যা পাবে অর্ধাংশ আর পৌত্রী পাবে ষষ্ঠাংশ। এভাবে দুতৃতীয়াংশ পূর্ণ হবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ পাবে বোন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে,

هزيل بن شرحبيل قال: سئل أبو موسى؛ عن ابنة. وابن ابن. وأخت؟ فقال: للابنة النصف. وللأخت النصف. وائت ابن مسعود فسيتابعني، فسئل ابن مسعود، وأخبر بقول أبي موسى؟ فقال: لقد ضللت إذًا وما أنا من المهتدين، أقضي فيها بما قضى النبي -صلى الله عليه وسلم-: … فذكره. وزاد: فأتينا أبا موسى، فأخبرناه بقول ابن مسعود. فقال: لا تسألوني ما دام هذا الحبر فيكم

হুযায়ল ইবনু শুরাহবীল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ মূসা (রাঃ)-কে কন্যা, পুত্রের কন্যা এবং ভগ্নির (মীরাস) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তখন তিনি বললেন, কন্যার জন্য অর্ধেক আর ভগ্নির জন্য অর্ধেক। (তিনি বললেন) তোমরা ইবনু মাস’উদ (রাঃ) -এর কাছে যাও, তিনিও হয়ত আমার মতই বলবেন। অতঃপর ইবনু মাস’উদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল এবং আবূ মূসা (রাঃ) যা বলেছেন সে সম্পর্কে তাঁকে জানানো হল। তিনি বললেন, (ও রকম সিদ্ধান্ত দিলে)। আমি তো পথভ্রষ্ট হয়ে যাব, হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকব না। আমি এ ব্যাপারে ঐ ফায়সালাই দিচ্ছি, যে ফায়সালা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদান করেছিলেন। কন্যা পাবে অর্ধাংশ আর পৌত্রী পাবে ষষ্ঠাংশ। এভাবে দু’তৃতীয়াংশ পূর্ণ হবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ পাবে বোন। এরপর আমরা আবূ মূসা (রাঃ)-এর কাছে আসলাম এবং ইবনু মাস’উদ (রাঃ) যা বললেন, তা তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, এ অভিজ্ঞ মনীষী যতদিন তোমাদের মাঝে থাকবে ততদিন আমার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করো না। বুখারী ৬৭৩৬, ৬৭৪২, তিরমিযী ২০৯৩, আবূ দাউদ ২৮৯০, ইবনু মাজাহ ২৭২১, আহমাদ ৩৬৮৪, ৪০৬২।









বুলূগুল মারাম (948)


وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ
وَأَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ بِلَفْظِ أُسَامَةَ
وَرَوَى النَّسَائِيُّ حَدِيثَ أُسَامَةَ بِهَذَا اللَّفْظِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (2/ 178 و 195)، وأبو داود (2911)، والنسائي في «الكبرى «(4/ 82)، وابن ماجه (2731) وزادوا جميعًا إلا ابن ماجه: «شتى «. وزاد ابن الجارود في روايته (967): «والمرأة ترث من دية زوجها وماله، وهو يرث من ديتها ومالها ما لم يقتل أحدهما صاحبه، فإن قتل أحدهما صاحبه لم يرث من ديته وماله شيئا، وإن قتل أحدهما صاحبه خطأ، ورث من ماله، ولم يرث من ديته». وسندها حسن أيضًا




৯৪৮। ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিরা একে অপরের ওয়ারিস হবে না। -ইমাম হাকিম (রহঃ) উসামাহ (রাঃ)-এর বর্ণিত শব্দ বিন্যাসে এবং নাসায়ী (রহঃ) উসামাহ (রাঃ)-এর হাদীসকে অত্র (‘আবদুল্লাহ-এর) হাদীসের শব্দে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২৯১১, ইবনু মাজাহ ২৭৩১, আহমাদ ৬৬২৬, ৬৮০৫।