হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (101)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - نَهَى أَنْ يُسْتَنْجَى بِعَظْمٍ, أَوْ رَوْثٍ، وَقَالَ: «إِنَّهُمَا لَا يُطَهِّرَانِ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَصَحَّحَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الدارقطني (1/ 56/9) وقال: إسناد صحيح. وفي «الأصل» رد على تعليل ابن عدي للحديث




১০১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাড় ও গোবর দ্বারা ইস্তেঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, ‘এ দুটি বস্তু (কোন কিছুকে) পবিত্র করতে পারে না। দারাকুৎনী সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী ১/৯/৫৬ এবং তিনি বলেছেন হাদীসের সনদটি সহীহ।









বুলূগুল মারাম (102)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «اسْتَنْزِهُوا مِنَ الْبَوْلِ, فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنْهُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الدارقطني (128/ 7)، وله ما يشهد له




১০২। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা প্রসাবের ছিটা হতে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখো। কেননা, সাধারণতঃ কবরের ‘আযাব এর কারণেই হয়ে থাকে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী ৭/১২৮









বুলূগুল মারাম (103)


وَلِلْحَاكِمِ: «أَكْثَرُ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنَ الْبَوْلِ». وَهُوَ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الحاكم (183) وقال: «صحيح على شرط الشيخين، ولا أعرف له علة، ولم يخرجاه». وقال الذهبي: وله شاهد




১০৩। হাকিমে আছেঃ “অধিকাংশ কবরের ‘শাস্তি প্রস্রাবের ছিটা থেকে সতর্ক না থাকার কারণেই হয়”। এর সানাদটি সহীহ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাকিম ১৮৩ এবং তিনি বলেছেন হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তভিত্তিক সহীহ। আমি এর কোন ত্রুটি জানি না। হাদীসটিকে বুখারী মুসলিম বর্ণনা করেন নি। ইমাম যাহাবী বলেছেন: এ হাদীসের সমর্থক হাদীস রয়েছে।









বুলূগুল মারাম (104)


وَعَنْ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي الْخَلَاءِ أَنْ نَقْعُدَ عَلَى الْيُسْرَى, وَنَنْصِبَ الْيُمْنَى. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه البيهقي (1/ 96)




১০৪। সুরাকাহ বিন মালিক (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পায়খানা করতে বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে ও ডান পা খাড়া রেখে বসার শিক্ষা দিয়েছেন। বাইহাকী যঈফ সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। বাইহাকী ১/৯৬, শাইখ বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১১৬) গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে দু'জন অস্পষ্ট বর্ণনাকারী রয়েছে। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (১/৩১৩) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম নববী তার আল মাজমু (২/৮৯) ও আল খুলাসাহ (১/১৬০) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু দাকীক আল ঈদ তার আল ইমাম (২/৫০৬) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটির সনদ মুনকাতি’ কেননা এর বর্ণনাকারী বানী মুদলাজ গোত্রের ব্যক্তির ও তার পিতার পরিচয় জানা যায়নি। ইমাম যাহাবী তাঁর আল মুহাযযাব (১/১০৫) গ্রন্থে বলেন, আবু নাঈম এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি যামআহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি যেমন মাজহুল (হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে অপরিচিত) ঠিক তেমনি তাঁর শিক্ষকও মাজহুল।









বুলূগুল মারাম (105)


وَعَنْ عِيسَى بْنِ يَزْدَادَ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلْيَنْثُرْ ذَكَرَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه ابن ماجه (326)




১০৫৷ ‘ঈসা বিন ইয়াযদাদ হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন প্রসাব করবে। তখন যেন সে তার লিঙ্গকে ৩ বার নিংড়ে বা ঝেড়ে নেয়। ইবনু মাজাহ দুর্বল সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনু মাজাহ ৩২৬, ইমাম হায়সামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়েদ (১/২১২) গ্রন্থে বলেন, এর একজন বর্ণনাকারী ঈসা বিন ইয়াযদাদ সম্পর্কে বিতর্ক রয়েছে, কেননা, সে মাজহুল। যদিও ইবনু হিব্বান তাকে তাঁর বিশ্বস্ত রাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনু কাত্তান আল-ওয়াহম ওয়াল ঈহাম (৩/৩০৭) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়। ইবনু হাজার আত্-তালখীসুল হাবীর (১/১৬১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইয়াযদাদ রয়েছে। আবু হাতিম বলেন, তার বর্ণিত হাদীস মুরসাল। ইমাম বুখারী বুখারী বলেছেন, সে বিশ্বস্ত নয়। ইবনু মুঈন বলেন, ঈসা এবং তার পিতার পরিচয় জানা যায় না। উকাইলী বলেন, তার এ হাদীসটি ছাড়া আর অন্য কোন বর্ণনা নেই। বিন বায তার হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১১৭), মাজমু ফাতাওয়া (২৯/২০, ২৬/২৯৬) গ্রন্থে হাদীসটি দুর্বল বলেছেন। শায়খ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ ৬৮, সিলসিলা যাঈফাহ ১৬২১ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীনও শরহে বুলুগুল মারাম ১/৩১৪ গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (106)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - سَأَلَ أَهْلَ قُبَاءٍ, فَقَالُوا: إِنَّا نُتْبِعُ الْحِجَارَةَ الْمَاءَ. رَوَاهُ الْبَزَّارُ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. لجمعه بين الحجارة والماء، ورواه البزار (227/كشف الأستار)




১০৬। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবাবাসীকে প্রশ্ন করেন, ‘আল্লাহ তোমাদের সুনাম করেন কেন? ‘তারা বললো, আমরা সৌচ করার সময় পাথর ব্যবহার করার পর পানিও ব্যবহার করে থাকি। বাযযার যঈফ সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। হাদীসটিকে পাথর ও পানির একত্রিত করণের কারণে হাদীস যঈফ হয়েছে। বাযযার কাশফুল আসরার" এ বর্ণনা করেছেন (২২৭/)। ইমাম হায়সামী মাজমাউয যাওয়ায়েদ (১/২১৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুহাম্মদ বিন আব্দুল আযীয বিন উমার আয-যুহরী রয়েছে যাকে ইমাম বুখারী, ইমাম নাসায়ী ও অন্যান্যরা যঈফ বলেছেন। ইবনুল মুলকিন তুহফাতুল মুহতায (১/১৭০) গ্রন্থে উক্ত রাবী সম্পর্কে বলেন, সকলেই তাকে যঈফ বলেছেন। ইবনু হাজার আত-তালখীসুল হাবীর (১/১৬৯) গ্রন্থে উক্ত রাবী সম্পর্কে বলেন, আবু হাতিম ও আব্দুল্লাহ বিন শাবীব তাকে দুর্বল বলেছেন। শায়খ আলবানী ইরওয়াউল গালীল (১/৮৩) গ্রন্থে হাদীসটি দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (107)


وَأَصْلُهُ فِي أَبِي دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيّ وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - بِدُونِ ذِكْرِ الْحِجَارَةِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (44)، والترمذي (3100) عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: نزلت هذه الآية في أهل قباء: (فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ) [التوبة: 108]، قال: كانوا يستنجون بالماء، فنزلت فيهم هذه الآية. قلت: وهو وإن كان ضعيف السند إلا أن له شواهد يصح بها، وقد ذكرتها في الأصل




১০৭। এর মূল বক্তব্য আবূ দাউদ ও তিরমিযীতে রয়েছে, এবং ইবনু খুযাইমাহ আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসকে সহীহ বলেছেন। কিন্তু পাথরের কথা সেখানে উল্লেখ নেই। (শুধুমাত্র পানির কথা উল্লেখ আছে)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৪৪; তিরমিযী ৩১০০, আবু হুরাইরা হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ এ আয়াতটি কুবা বাসীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন কতক লোক ছিল যারা পবিত্রতা অর্জন করতে অত্যন্ত পছন্দ করতো। রাবী বলেন, তারা পানির দ্বারা সৌচ কার্য করতো। তাদের ব্যাপারে এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: যদিও এ হাদীসের সনদটি দুর্বল। কিন্তু এ হাদীসের কতক শাহেদ তথা সমর্থক হাদীস থাকার কারণে সেগুলো এ হাদীসকে সহীহ হাদীসে পরিণত করেছে।









বুলূগুল মারাম (108)


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
وَأَصْلُهُ فِي الْبُخَارِيِّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (343)، عن أبي سعيد الخدري قال: خرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين إلى قباء، حتى إذا كنا في بني سالم، وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم على باب عتبان. فصرخ به، فخرج يجر إزاره، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أعجلنا الرجل» فقال عتبان: يا رسول الله. أرأيت الرجل يعجل عن امرأته ولم يمن ماذا عليه؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنما» الحديث

البخاري. (180)، ولفظه: «إذا أعجلت -أو قحطت- فعليك الوضوء» وهو رواية لمسلم




১০৮। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পানি নির্গত (শুক্রপাত) হলেই পানির ব্যবহার অবধারিত বা ফরয।[1] এর মূল বক্তব্য বুখারীতে রয়েছে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৩৪৩, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি রোববার দিবস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কুবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। চলতে চলতে আমরা যখন বানী সালেমে পৌঁছে তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উতবান (রাঃ) এর দরজায় অবতরণ করলেন। এতে উতবান লুঙ্গি টানতে টানতে বাইরে বের হয়ে এলেন। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যক্তিটি আমাদের জন্য তাড়াহুড়া করছে। তখন উতবান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কোন ব্যক্তি আযল করল অথচ মনি বের হয়নি। তবে এর বিধান কী?

[2] বুখারী ১৮০









বুলূগুল মারাম (109)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ, ثُمَّ جَهَدَهَا, فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
زَادَ مُسْلِمٌ: وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (291)، ومسلم (348)




১০৯। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর চার শাখার (অঙ্গের) মধ্যে বসবে (সঙ্গমে লিপ্ত হবে) তখন তার পক্ষে গোসল ফরয হবে।[1]” মুসলিম এ কথাটি বর্ধিত করেছেনঃ “যদিও শুক্রপাত না হয়।”[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৯১; মুসলিম ৩৪৮

[2] এ হাদীসটিও সহীহ









বুলূগুল মারাম (110)


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ; أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ - وَهِيَ امْرَأَةُ أَبِي طَلْحَةَ - قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحِي مِنَ الْحَقِّ, فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ الْغُسْلُ إِذَا احْتَلَمَتْ? قَالَ: «نَعَمْ. إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ». الْحَدِيثَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (282)، ومسلم (313)، وزاد مسلم: «فقالت أم سلمة: يا رسول الله! وتحتلم المرأة؟ فقال: تربت يداك! فبم يشبهها ولدها». وزاد في رواية أخرى: «قالت: قلت: فضحت النساء
(ملاحظة): هذا الحديث لا يوجد في الأصل وأشار ناسخ «أ» إلى أنه من نسخة، مع العلم بأن الحديث ذكر في متن «أ»، وليس بالهامش




১১০ ৷ উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। আবূ তালহাহ এর স্ত্রী উম্মু সুলাইম বলেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহ হক কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না, নারীর উপরও কি গোসল ফরয হবে। যদি তার ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) হয়ে থাকে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, যদি সে পানি (কাপড়ে বা দেহে বীর্যের চিহ্ন) দেখে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৮২, মুসলিম ৩১৩। মুসলিম এতে বৃদ্ধি করেছেন فقالت أم سلمة: يا رسول الله! وتحتلم المرأة؟ فقال: تربت يداك! فبم يشبهها ولدها অতঃপর উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েদেরও স্বপ্নদোষ হয়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার হাত ধূলায় ধূষরিত হোক! তবে কিসে সন্তান তার সদৃশ হয়? অন্য এক বর্ণনায় আরো বৃদ্ধি করেছেন, তা হচ্ছে قالت: قلت: فضحت النساء উম্মু সালামাহ বলেনঃ আমি বললাম, আর মহিলারা হেসে ফেললো।









বুলূগুল মারাম (111)


وَعَنْ أَنَسِ [بْنِ مَالِكٍ]- رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ- قَالَ: «تَغْتَسِلُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
زَادَ مُسْلِمٌ: فَقَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ: وَهَلْ يَكُونُ هَذَا? قَالَ: «نَعَمْ فَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
عزوه للمتفق عليه وهم الحافظ -رحمه الله- إذا الحديث لم يروه البخاري
تحرف في «الأصلين» إلى «أم سلمة» وما أثبته من صحيح مسلم
صحيح. رواه مسلم (311) وهو بتمامه: عن أنس بن مالك؛ أن أم سليم سألت نبي الله صلى الله عليه وسلم: عن المرأة ترى في منامها ما يرى الرجل؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا رأت ذلك المرأة فلتغتسل» فقالت أم سليم: واستحييت من ذلك. قالت: وهل يكون هذا؟ فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم: نعم. فمن أين يكون الشبه. إن ماء الرجل غليظ أبيض. وماء المرأة رقيق أصفر. فمن أيهما علا أو سبق يكون منه الشبه




১১১। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মেয়েরাও যদি স্বপ্নে (যৌন মিলন) দেখে যা পুরুষরা দেখে থাকে তাহলে তার সম্বন্ধে বলেছেন, (শুক্রের চিহ্ন দেখতে পেলে) “তাকে গোসল করতে হবে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহ)[1]



মুসলিমে অতিরিক্ত আছেঃ “অতঃপর উম্মু সালামাহ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, “এটা কি হয়! (অর্থাৎ স্বপ্নে কি মেয়েদের বীর্য নির্গত হয়?” তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘হাঁ, হয়। নচেৎ সন্তান কিভাবে (মেয়েদের) সাদৃশ্য হয়ে থাকে?”[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হাজার আসকালানী ভুল বশতঃ মুত্তাফাকুন আলাইহি বলেছেন। কেননা এ হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেননি।

[2] মুসলিম ৩১১ হাদীসটির পুরোটাই বৰ্ণনা করেছেন। তা হচ্ছে- আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন মহিলা যদি স্বপ্নে পুরুষেরা যেরকম দেখে থাকে সেরকম দেখে তাহলে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন নারী যদি এরকম কিছু দেখে তবে সে গোসল করবে। অতঃপর উম্মু সুলাইম বলেন, আমি এ কথায় লজ্জা পেয়ে গেলাম। রাবী বলেন, উম্মু সুলাইম বললেন, এটা কি করে সম্ভব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই সম্ভব। তাহলে সন্তান-সন্ততি পিতামাতার সদৃশ হয়ে থাকে কোত্থেকে? পুরুষের বীর্য গাঢ় এবং সাদা এবং নারীর বীর্য হালকা এবং হলদে বর্ণের। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে যার বীর্য শক্তিশালী হয় বা পূর্বে জরায়ুতে প্রবেশ করে সন্তান তার সদৃশ হয়ে থাকে।









বুলূগুল মারাম (112)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يَغْتَسِلُ مِنْ أَرْبَعٍ: مِنَ الْجَنَابَةِ, وَيَوْمَ الْجُمُعَةِ, وَمِنَ الْحِجَامَةِ, وَمِنْ غُسْلِ الْمَيِّتِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (348)، وابن خزيمة (256)، والحديث عند أبي داود من فعله، وعند ابن خزيمة من قوله




১১২। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি কারণে গোসল দিতেন। জুনুবী (সঙ্গমের ফলে অপবিত্র) হলে, জুমুআহর দিবসে, সিঙ্গা লাগালে ও মৃতকে গোসল দিলে। আবূ দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ৩৪৮; ইবনু খুযাইমাহ ২৫৬; আব্দুর রহমান মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়ায়ী (৩/৪২৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম সানয়ানী সুবুলুস সালাম (১/৩৩৩) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুসয়াব বিন শাইবাহ রয়েছে যিনি বিতর্কিত। শায়খ আলবানী যঈফ আবু দাউদ ৩৪৮, সুনান আবু দাউদ ৩১৬০ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর আওনুল মা’বুদ (৮/২৪৩) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী আত্-তালখীসুল হাবীর (২/৫৮৭) গ্রন্থে এর শাহেদ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। শায়খ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (৫১৬) গ্রন্থে এর সনদ সম্পর্কে বলেন, এটি মুসলিমের শর্তনুযায়ী।









বুলূগুল মারাম (113)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - فِي قِصَّةِ ثُمَامَةَ بْنِ أُثَالٍ, عِنْدَمَا أَسْلَم - وَأَمَرَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يَغْتَسِلَ. رَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ
وَأَصْلُهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو في «مصنف عبد الرازق» (6/ 9 - 10/ 9834) وفيه: فأمره أن يغتسل فاغتسل

البخاري (4372)، ومسلم (1764) من حديث أبي هريرة أيضا، وفيه: «فانطلق -أي: ثمامة- إلى نخل قريب من المسجد، فاغتسل




১১৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক সুমামাহ বিন উসাল (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইসলাম আনয়নের সময় গোসল দেয়ার আদেশ করেছিলেন। আবদুর রাযযাক[1] এর মূল বক্তব্য বুখারী ও মুসলিমে আছে।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসান্নিফ আব্দুর রাযযাক (৬/৯-১০/৯৮৩৪)। তাতে আছে فأمره أن يغتسل فاغتسل তাঁকে গোসল করার নির্দেশ করলেন। ফলে সে গোসল করলো।

[2] বুখারী ৪৩৭২, মুসলিম ১৭৬৪ এটিও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাতে আছে فانطلق -أي: ثمامة- إلى نخل قريب من المسجد، فاغتسل ফলে তিনি তথা সুমামাহ মসজিদের নিকটবর্তী কোন খেজুর বাগানে গেলেন এবং গোসল করলেন।









বুলূগুল মারাম (114)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «غُسْلُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ». أَخْرَجَهُ السَّبْعَةُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (879)، ومسلم (846)، وأبو داود (341)، والنسائي (3/ 92)، وابن ماجه (1089)، وأحمد (3/ 60) «تنبيه»: وهم الحافظ رحمه الله في عزوه الحديث للترمذي




১১৪। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্ৰত্যেক সাবালেগ মুসলিমের জন্য জুমুআহর দিন গোসল করা ওয়াজিব।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৮৭৯; মুসলিম ৮৪৬; আবু দাউদ ৩৪১; নাসায়ী ৩/৯২; ইবনু মাজাহ ১০৮৯; আহমাদ ৩/৬০; হাফেজ ইবনু হাজার হাদীসটিকে তিরমিযীর সাথে সম্পর্কিত করে ভুল করেছেন। এ হাদীসে গোসল ফরয হওযার বিধান পরবর্তি হাদীসের কারণে আর ওয়াজিব থাকে নি। তবে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।









বুলূগুল মারাম (115)


وَعَنْ سَمُرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ, وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (354)، والترمذي (497)، والنسائي (3/ 94)، وأحمد (51 و 15 و 22)، وقال الترمذي: «حديث حسن». قلت: وعزو الحافظ الحديث للخمسة وهم منه رحمه الله إذ الحديث ليس عند ابن ماجه، عن سمرة، وإنما عنده عن أنس. انظر «الجمعة وفضلها» لأبي بكر المروزي (31 بتحقيقي) والحافظ نفسه عزاه في «الفتح» لأصحاب السنن الثلاثة




১১৫। সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন উযূ করবে সে ভালোই করবে। আর যে ব্যক্তি গোসল দিবে সে আরও উত্তম কাজ করল। তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবু দাউদ ৩৫৪; তিরমিযী ৪৯৭; নাসায়ী ৩/৯৪; আহমাদ ১৫, ২২, ৫১। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান।









বুলূগুল মারাম (116)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَهَذَا لَفْظُ التِّرْمِذِيِّ وَحَسَّنَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (229)، والنسائي (144)، والترمذي (146)، ابن ماجه (594)، وأحمد (1/ 83)، وابن حبان (799) ولبعضهم ألفاظ أخر




১১৬। ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুরআন পড়াতেন, জুনুবী হওয়ার আগ পর্যন্ত। এ শব্দ বিন্যাস তিরমিযীর আর তিনি একে হাসান বলে মন্তব্য করেছেন এবং ইবনু হিব্বান সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ২২৯; নাসায়ী ১৪৪; তিরমিযী ১৪৬; ইবনু মাজহ ৫৯৪; আহমাদ ৬২৮; ইবনু হিব্বান '৭৯৯ ইমাম যাহাবী মীযানুল ইতিদাল (২/৪৩১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আব্দুল্লাহ বিন সালামাহ আল হামাদানী রয়েছে যার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণ সমালোচনা করেছেন।









বুলূগুল মারাম (117)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ أَهْلَهُ, ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَعُودَ فَلْيَتَوَضَّأْ بَيْنَهُمَا وُضُوءًا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
زَادَ الْحَاكِمُ: فَإِنَّهُ أَنْشَطُ لِلْعَوْدِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (308)
مستدرك الحاكم (152) وهي زيادة صحيحة أيضا




১১৭। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের পর পুনরায় সঙ্গমের ইচ্ছা করবে। সে যেন উভয় সঙ্গমের মাঝে একবার উযূ করে।[1]



আর হাকিম এ কথাটি বৃদ্ধি করেছেনঃ “পুনর্মিলনের জন্য এটা (উযূ করা) তৃপ্তিদায়ক”।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৩০৮।

[2] মুসতাদরাক হাকিম। ১৫২; বর্ধিত অংশটুকুও সহীহ। সহীহ তিরমিযী ১৪১।









বুলূগুল মারাম (118)


وَلِلْأَرْبَعَةِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَنَامُ وَهُوَ جُنُبٌ, مِنْ غَيْرِ أَنْ يَمَسَّ مَاءً. وَهُوَ مَعْلُولٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (228) والنسائي في «الكبرى»، والترمذي (118 و 119)، وابن ماجه (583) وأما عن تعليل من أعله فتفصيل ذلك في «الأصل» إذ ليست كل علة تقدح في صحة الحديث. وانظر أيضا «ناسخ الحديث ومنسوخه» لابن شاهين (129) بتحقيقي




১১৮। আর ৪ জনে (আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) বর্ণনা করেছেন। তিনি (‘আয়িশা) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সময় পানি ব্যবহার না করেও জুনুবী (গোসল ফরয) অবস্থায় ঘুমাতেন। হাদীসটি মালুল (ত্রুটিযুক্ত)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ২২৪; নাসায়ী তাঁর আস-সুনানুল কুবরায়; তিরমিযী ১১৮, ১১৯; ইবনু মাজাহ ৫৮৩









বুলূগুল মারাম (119)


وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ, ثُمَّ يُفْرِغُ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ, فَيَغْسِلُ فَرْجَهُ, ثُمَّ يَتَوَضَّأُ, ثُمَّ يَأْخُذُ الْمَاءَ, فَيُدْخِلُ أَصَابِعَهُ فِي أُصُولِ الشَّعْرِ, ثُمَّ حَفَنَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ, ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى سَائِرِ جَسَدِهِ, ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (248)، ومسلم (316)، وبما أن المؤلف ساق لفظ مسلم فعنده بعد قول: «أصول الشعر» إضافة وهي قولها: حتى إذا رأى أن قد استبرأ




১১৯। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফরয গোসল করতেন তখন প্রথমে দু হাত ধুয়ে নিতেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত দ্বারা বাম হাতে পানি ঢেলে তাঁর গুপ্তাঙ্গ ধৌত করতেন। তারপর উযূ করতেন। তারপর গোসলের জন্য পানি নিতেন এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ মাথার চুলের গোড়ায় প্রবেশ করাতেন। তারপর তাঁর মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি বইয়ে ধুতেন, তারপর পা ধুতেন। মুক্তাফাকুন আলাইহি। আর শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪৮; মুসলিম ৩১৬









বুলূগুল মারাম (120)


وَلَهُمَا فِي حَدِيثِ مَيْمُونَةَ: ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى فَرْجِهِ, فَغَسَلَهُ بِشِمَالِهِ, ثُمَّ ضَرَبَ بِهَا الْأَرْضَ
وَفِي رِوَايَةٍ: فَمَسَحَهَا بِالتُّرَابِ
وَفِي آخِرِهِ: ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِالْمِنْدِيلِ، فَرَدَّهُ, وَفِيهِ: وَجَعَلَ يَنْفُضُ الْمَاءَ بِيَدِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري، (249)، وانظر أطرافه، ومسلم (317)




১২০। বুখারী, মুসলিমেই মায়মুনাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ “তারপর (হাত ধোয়ার পর) তার গুপ্তাঙ্গে পানি ঢাললেন ও বাম হাত দিয়ে তা ধুয়ে নিলেন, তারপর মাটিতে হাত ঘষে মেজে নিলেন।”



অন্য রিওয়ায়াতে আছে, “মাটিতে হাত মাজলেন।” এই বর্ণনার শেষাংশে আছে, “আমি [আয়িশা (রাঃ)] তাকে একখানা রুমাল এগিয়ে দিলাম। কিন্তু তিনি তা ফেরত দিয়ে দিলেন। এতে আরো আছে, ‘এবং তিনি (তার চুলের পানি) হাত দ্বারা ঝাড়তে লাগলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪৯; মুসলিম ৩১৭