হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (121)


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي اِمْرَأَةٌ أَشُدُّ شَعْرَ رَأْسِي, أَفَأَنْقُضُهُ لِغُسْلِ الْجَنَابَةِ? وَفِي رِوَايَةٍ: وَالْحَيْضَةِ? فَقَالَ: «لَا, إِنَّمَا يَكْفِيكِ أَنْ تَحْثِي عَلَى رَأْسِكِ ثَلَاثَ حَثَيَاتٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (330)، وزاد: ثم تفيضين عليك الماء فتطهرين




১২১। উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ‘আমি এমন নারী যে, মাথার চুল শক্তভাবে বেঁধে রাখি এবং আমি জানাবাতের (অন্য বর্ণনায়) হায়িয (থেকে পবিত্র হওয়ার) গোসলের সময় চুলের বেণী কি খুলে ফেলব? তিনি বললেন, ‘না, বরং মাথায় তিন আজলা পানি ঢালাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৩৩০; মুসলিম বৃদ্ধি করেছেন: ثم تفيضين عليك الماء فتطهرين অতঃপর তুমি তোমার উপর পানি ঢেলে দিবে এবং পবিত্রতা অর্জন করবে।









বুলূগুল মারাম (122)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لَا أُحِلُّ الْمَسْجِدَ لِحَائِضٍ وَلَا جُنُبٍ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (232)، وابن خزيمة (1327)




১২২। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি হায়িযা ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির (জুনুবী পুরুষ হোক বা নারী) জন্য মসজিদে অবস্থান বৈধ করিনি। ইবনু খুযাইমাহ সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ২৩২; ইবনু খুযাইমাহ ১৩২৭। শায়খ আলবানী ইরওয়াউল গালীল (১/২১০ হাঃ ১২৪) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে যাসারাহ বিন দাযজহ রয়েছে যাকে ইমাম বুখারী (আত-তারীখুল কাবীর ২/৬৭) যঈফ বলেছেন। সনদে তাকে নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। আলবানী তাঁর যঈফুল জামে (৬১১৭) ও তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (৪৪০) গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাযাম তাঁর মুহাল্লা (২/১৮৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আফলাত রয়েছে যে প্ৰসিদ্ধ নয় এবং বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত নয়।









বুলূগুল মারাম (123)


وَعَنْهَا قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ, تَخْتَلِفُ أَيْدِينَا فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
زَادَ ابْنُ حِبَّانَ: وَتَلْتَقِي

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (261)، ومسلم (321) (45)، وليس عند البخاري لفظه: من الجنابة
ابن حبان برقم (1111) وسندها صحيح، إلا أن الحافظ في «الفتح» (1/ 373) مال إلى أنها مدرجة




১২৩। আয়িশা (রাঃ) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র (এর পানি) থেকে জানবাতের (ফরয) গোসল করতাম, তাতে আমাদের পরস্পরের হাত পাত্রের মধ্যে আসা যাওয়া করতো”।[1]



ইবনু হিব্বানে অতিরিক্ত শব্দ এসেছে : আমাদের দুজনের হাত পরস্পরের হাতকে স্পর্শ করতো।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৬১; মুসলিম ৪৫, ৩২১; বুখারীর বর্ণনায় من الجنابة শব্দ নেই।

[2] ইবনু হিব্বান (১১১১) এর সনদ সহীহ। তবে ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারীতে হাদীসটি মুদরাজ হওয়ার পক্ষাবলম্বন করেছেন।









বুলূগুল মারাম (124)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: إِنَّ تَحْتَ كُلِّ شَعْرَةٍ جَنَابَةً, فَاغْسِلُوا الشَّعْرَ, وَأَنْقُوا الْبَشَرَ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَضَعَّفَاهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه أبو داود (248)، والترمذي (106)




১২৪। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক চুলের গোড়ায় নাপাকী থাকে। অতএব তোমরা (ফরয গোসলের সময়) চুলসমূহ (ভালভাবে) ধুয়ে নাও ও চামড়া পরিষ্কার করো। আবূ দাউদ ও তিরমিযী একে বর্ণনা করে যঈফ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার। আবু দাউদ ২৪৮; ইমাম আবু দাউদ বলেন, এর সনদে হারেস বিন ওয়াযীহ রয়েছে যার হাদীস মুনকার আর সে দুর্বল। তিরমিযী ১০৬ বলেন, তার হাদীস গরীব। তিনি তেমন কোন শায়খ নন। ইবনু হাযম তার আল-মুহাল্লা (২/২৩২), ইবনু আব্দুল বার আত-তামহীম (২২/৯৯), ইমাম সানিয়ানী সুবুলুস সালাম (১/১৪৪) ইমাম বায়হাকী আল খিলাফিয়াহ (২/২৪১) গ্রন্থে উক্ত হাদীসকে মুনকার ও রাবীকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী গায়াতুল মাকসুদ (২/৩৪৩), শায়খ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ হাঃ ১১৮ গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন ।









বুলূগুল মারাম (125)


وَلِأَحْمَدَ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوُهُ, وَفِيهِ رَاوٍ مَجْهُولٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (654)




১২৫। এবং আহমদে ‘আয়িশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আর হাদীসে এইরূপই রয়েছে, কিন্তু তাতে একজন মাজহুল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ, আহমাদ ৬৫৪









বুলূগুল মারাম (126)


عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ, وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا, فَأَيُّمَا رَجُلٍ أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ». وَذَكَرَ الْحَدِيثَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (335)، ومسلم (521) وتمامه: «وأحلت لي المغانم ولم تحل لأحد قبلي، وأعطيت الشفاعة، وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى الناس عامة» والسياق للبخاري. تنبيه: هكذا الحديث في الأصل دون ذكر من أخرجه وكتب بالهامش: لعله سقط متفق عليه




১২৬। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকেও দেওয়া হয়নি।



(১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়;



(২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে যে কোন স্থানে। অতঃপর রাবী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করলেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৩৫, মুসলিম ৫২১ পরিপূর্ণ হাদিসটি হচ্ছেঃ وأحلت لي المغانم ولم تحل لأحد قبلي، وأعطيت الشفاعة، وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى الناس عامة “আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কোন (নবীর জন্য) করা হয়নি। আমাকে শাফায়াতের অধিকার দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক নবীগণ তাঁদের নির্দিষ্ট জাতির উপর নাযিল হতেন। অথচ আমি সাধারণভাবে সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।









বুলূগুল মারাম (127)


وَفِي حَدِيثِ حُذَيْفَةَ عِنْدَ مُسْلِمٍ: وَجُعِلَتْ تُرْبَتُهَا لَنَا طَهُورًا, إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (522)، وأوله: «فضلنا على الناس بثلاث: جعلت صفوفنا كصفوف الملائكة، وجعلت ... » الحديث




১২৭। মুসলিমে হুযাইফাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, “পানি না পাওয়া গেলে তদস্থলে মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রকারী করা হয়েছে।”[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৫২২









বুলূগুল মারাম (128)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - عِنْدَ أَحْمَدَ: «وَجُعِلَ التُّرَابُ لِي طَهُورًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (763) وتمام لفظه: أعطيت ما لم يعط أحد من الأنبياء» فقلنا: يا رسول الله! ما هو؟ قال: نصرت بالرعب، وأعطيت مفاتيح الأرض، وسميت: أحمد، وجعل التراب لي طهورا، وجعلت أمتي خير الأمم




১২৮। আহমাদে ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমার জন্য মাটিকে পবিত্রকারী করা হয়েছে। [1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আহমাদ ৭৬৩; হাদিসটির পূর্ণ রুপ এইঃ أعطيت ما لم يعط أحد من الأنبياء» فقلنا: يا رسول الله! ما هو؟ قال: نصرت بالرعب، وأعطيت مفاتيح الأرض، وسميت: أحمد، وجعل التراب لي طهورا، وجعلت أمتي خير الأمم আমাকে যা দেয়া হয়েছে তা পূর্ববতী কোন নবীকেই দেয়া হয়নি। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা কী জিনিস? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে ভীতিসঞ্চারকারী প্ৰতাপ দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, জমীনের ধনভাণ্ডারসমূহের চাবিকাঠি আমাকে দেয়া হয়েছে, আমার নাম রাখা হয়েছে আহমাদ, আমার জন্য মাটিকে পবিত্রকারী করা হয়েছে এবং আমার উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে ভূষিত করা হয়েছে।









বুলূগুল মারাম (129)


وَعَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: بَعَثَنِي النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - فِي حَاجَةٍ, فَأَجْنَبْتُ, فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ, فَتَمَرَّغْتُ فِي الصَّعِيدِ كَمَا تَمَرَّغُ الدَّابَّةُ, ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ, فَقَالَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَقُولَ بِيَدَيْكَ هَكَذَا»، ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدَيْهِ الْأَرْضَ ضَرْبَةً وَاحِدَةً, ثُمَّ مَسَحَ الشِّمَالَ عَلَى الْيَمِينِ, وَظَاهِرَ كَفَّيْهِ وَوَجْهَهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ: وَضَرَبَ بِكَفَّيْهِ الْأَرْضَ, وَنَفَخَ فِيهِمَا, ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (347)، ومسلم (368)
البخاري رقم (338)




১২৯। ‘আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোন প্রয়োজনে (কোন এক স্থানে) পাঠালেন। কিন্তু সেখানে আমি জুনুবী হয়ে পড়ি এবং পানি না পাওয়ায় ধূলার উপর (শুয়ে) গড়াগড়ি দেই যেভাবে চতুষ্পদ জন্তু গড়াগড়ি দিয়ে থাকে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে প্রত্যাবর্তন করে আমি তা বর্ণনা করি। তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘ঐ অবস্থায় তোমার পক্ষে এতটুকুই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি তোমার হাত দুটিকে এভাবে করতে (তিনি তা দেখাতে গিয়ে) তাঁর দুহাতের তালুকে এক বার মাটির উপরে মারলেন, তারপর বাম হাতকে ডান হাতের উপর মাসাহ করলেন এবং তাঁর দুহাতের বাহির ভাগ ও মুখমণ্ডলও মাসাহ করলেন।” এ শব্দ বিন্যাস মুসলিমের।[1]



বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, ‘এবং তার হাত দুটিকে মাটিতে মারলেন এবং দুহাতে ফুঁক দিলেন; তারপর দুহাত দ্বারা মুখমণ্ডল ও হাতের দুকব্জি মাসাহ করলেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩৪৭ মুসলিম ৩৬৮;

[2] বুখারী ৩৩৮









বুলূগুল মারাম (130)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «التَّيَمُّمُ ضَرْبَتَانِ: ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ, وَضَرْبَةٌ لِلْيَدَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَحَّحَ الْأَئِمَّةُ وَقْفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الدارقطني (1806)




১৩০। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তায়াম্মুমের জন্য মাটিতে দু বার হাত মারতে হয়। এক বার মুখমণ্ডলের জন্য আরেক বার কনুই পর্যন্ত দুহাতের জন্য। হাদীসবেত্তাগণ হাদীসটির মাওকুফ হওয়াকেই সহীহ বলে সাব্যস্ত করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অত্যন্ত দুর্বল। দারাকুতনী ১৮০৬। ইমাম নববী তাঁর আল-মাজমু (২/২১০) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মুনকার, এর কোন ভিত্তিই নেই। ইমাম হায়সামী তার মাযমাউয যাওয়ায়েদ (১/২৬৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আলী বিন যিবইয়ান রয়েছে, ইয়াহইয়া বিন মুঈন ও একদল মুহাদিস তাকে দুর্বল আখ্যায়িত করে বলেন, সে হচ্ছে মহামিথ্যাবাদী, খবীস। তবে আবু আলী নিসাবুরী বলেন, তার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। ইবনুল মুলকিন তার বদরুল মুনীর (২/৬৩৮) গ্রন্থে বলেন, এর শাহেদ রয়েছে।









বুলূগুল মারাম (131)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الصَّعِيدُ وُضُوءُ الْمُسْلِمِ, وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ, فَإِذَا وَجَدَ الْمَاءَ فَلْيَتَّقِ اللَّهَ, وَلْيُمِسَّهُ بَشَرَتَهُ». رَوَاهُ الْبَزَّارُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْقَطَّانِ, [وَ] لَكِنْ صَوَّبَ الدَّارَقُطْنِيُّ إِرْسَالَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البزار (310 زوائد) وما بعده يشهد له




১৩১। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিন মুসলিমের জন্য পবিত্র মাটি উযূ বিশেষ (অর্থাৎ-পানির স্থলাভিসিক্ত)। যদিও সে দশ বছর ধরে পানি না পায়। তারপর পানি পেলে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে ও তার দেহে তা ব্যবহার করে (অর্থাৎ পানি দিয়ে উযূ করে)। ইবনুল কাত্তান একে সহীহ বলেছেন। কিন্তু দারাকুৎনী এটি মুরসাল হওয়াকেই সঠিক বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বাযযার ৩১০, যাওয়ায়েদ।









বুলূগুল মারাম (132)


وَلِلتِّرْمِذِيِّ: عَنْ أَبِي ذَرٍّ نَحْوُهُ, وَصَحَّحَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (124) ولفظه: «إن الصعيد الطيب طهور المسلم، وإن لم يجد الماء عشر سنين، فإذا وجد الماء فليمسه بشرته؛ فإن ذلك خير» وقال: حديث حسن صحيح




১৩২। তিরমিযীতেও আবূ যার (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে সহীহও বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১২৪; তিরমিযীর শব্দসমুহ হচ্ছেঃ إن الصعيد الطيب طهور المسلم، وإن لم يجد الماء عشر سنين، فإذا وجد الماء فليمسه بشرته؛ فإن ذلك خير “নিশ্চয়ই পবিত্র মাটি মুসলিমের জন্য পবিত্রকারী যদিও সে দশ বছর যাবৎ পানি না পায়। আর যখন পানি পেয়ে যাবে তখন সে তা তার শরীরে স্পর্শ করায় তথা ব্যবহার করে গোসল করে নেয়। কেননা এটা তার জন্য অতি উত্তম । তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (133)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: خَرَجَ رَجُلَانِ فِي سَفَرٍ, فَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ - وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ - فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا, فَصَلَّيَا, ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ فِي الْوَقْتِ. فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلَاةَ وَالْوُضُوءَ, وَلَمْ يُعِدِ الْآخَرُ, ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَذَكَرَا ذَلِكَ لَهُ, فَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ: «أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَأَتْكَ صَلَاتُكَ» وَقَالَ لِلْآخَرِ: «لَكَ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, [و] النَّسَائِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (338)، والنسائي (113)




১৩৩। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, ‘দু-জন সাহাবী সফরে বের হলেন। (পথিমধ্যে) সালাতের সময় উপস্থিত হল, কিন্তু তাদের কাছে কোন পানি ছিল না; ফলে তাঁরা উভয়ে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করলেন। তারপর (সালাতে) ওয়াক্ত থাকতেই তাঁরা পানি পেয়ে গেলেন। তাদের মধ্যে একজন উযূ করে পুনরায় সালাত আদায় করলেন আর অপর ব্যক্তি তা করলেন না। তারপর তাঁরা উভয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে জানালেন। যিনি পুনরায় সালাত আদায় করেননি। তাঁকে বললেন, তুমি সুন্নাত (নিয়ম) অনুযায়ী ঠিকই করেছ। তোমার জন্য ঐ সালাতই যথেষ্ট হয়েছে আর অপর ব্যক্তিটিকে বললেন, ‘তোমার দ্বিগুণ সওয়াব হয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৩৩৮; নাসায়ী ১১৩









বুলূগুল মারাম (134)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي قَوْلِهِ - عز وجل: (وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ) قَالَ: «إِذَا كَانَتْ بِالرَّجُلِ الْجِرَاحَةُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْقُرُوحُ, فَيُجْنِبُ, فَيَخَافُ أَنْ يَمُوتَ إِنْ اِغْتَسَلَ: تَيَمَّمَ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ مَوْقُوفًا, وَرَفَعَهُ الْبَزَّارُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (338)، والنسائي (113)
ضعيف موقوفا، ومرفوعا. والموقوف رواه الدارقطني (177/ 9) والمرفوع رواه ابن خزيمة (272)، والحاكم (165)




১৩৪। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর বাণী ‘যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাকো[1] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, “কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর পথে কোন জখম বা আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং সে জুনুবী বা অপবিত্র হয়ে পড়ে আর গোসল করতে মৃত্যুর আশংকা করে, তবে এমতাবস্থায় সে তায়াম্মুম করবে”। দারাকুৎনী এটিকে মাওকুফরুপে ও বাযযার মারফূরূপে রিওয়ায়াত করেছেন, এবং ইমাম হাকিম ও ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৩৩৮; নাসায়ী ১১৩

[2] হাদীসটি মারফু' ও মাওকুফ উভয় হিসেবেই যঈফ। মাওকুফ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দাৱাকুতনী (৯/১৭৭) আর মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইবনু খুজাইমাহ (২৭২) ও হাকিম (১৬৫)। এ হাদীসে রয়েছে জাসারা বিনতু দাজাজা। তিনি তার বর্ণনায় ইজতিরাব ঘটিয়েছেন। ইজতিরাব হচ্ছে হাদীসের ত্রুটি। তাই এক দল মুহাদ্দিস এ হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। (তামামুল মিন্নাহ ১১৮) জাসারা বিন দাজাজাহকে ইমাম বুখারী দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন (ইরওয়াউল গালীল ১/২১০), সহীহ ইবনু খুযইমাহ (১৩২৭), আলবানী যঈফ বলেছেন, ইমাম শাওকানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (নায়লুল আওতার ১/২৮৭)









বুলূগুল মারাম (135)


وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: انْكَسَرَتْ إِحْدَى زَنْدَيَّ فَسَأَلَتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَأَمَرَنِي أَنْ أَمْسَحَ عَلَى الْجَبَائِرِ. رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه بِسَنَدٍ وَاهٍ جِدًّا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
موضوع. رواه ابن ماجه (657)




১৩৫। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমার একটি কবজি ভেঙ্গে যাওয়াতে আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (করণীয় সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে পট্টির (ব্যান্ডেজ) উপর মাসাহ করার নির্দেশ দিলেন। ইবনু মাজাহ অতি দুর্বল সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাদীসটি মাওজু বা জাল। ইবনু মাজাহ (৬৫৭)। ইমাম যাহাবী তাঁর মীযানুল ই’তিদাল (৩/২৫৮) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে উমার বিন খালিদ আল কারশী রয়েছে। যাকে ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম দারাকুতনী তাঁর সুনানে (১/৪৯৯), ইবনু হাজার তাঁর আদি দিরাইয়াহ (১/৮৩) গ্রন্থে, বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১৩৬) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আমর বিন খালিদ আল ওয়াসিতী রয়েছে যিনি মাতরুক فى اسناده عمرو بن خالد الواسطى وهو متروك ورماه وكيع وغيره بالوضع শাইখ আলবানী যঈফ ইবনু মাজাহ (১২৬), ইবনু উসাইমীন তাঁর বুলুগুল মারামের শরাহ (১/৩৭৪) গ্রন্থে হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর রাযী তার তানকীহু তাহকীকুত তা’লীক (১/২০০) গন্থে বলেন, হাদীসটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি নেই।









বুলূগুল মারাম (136)


وَعَنْ جَابِرٍ [بْنُ عَبْدِ اللَّهِ] رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي الرَّجُلِ الَّذِي شُجَّ, فَاغْتَسَلَ فَمَاتَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيهِ أَنْ يَتَيَمَّمَ, وَيَعْصِبَ عَلَى جُرْحِهِ خِرْقَةً, ثُمَّ يَمْسَحَ عَلَيْهَا وَيَغْسِلَ سَائِرَ جَسَدِهِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ بِسَنَدٍ فِيهِ ضَعْفٌ, وَفِيهِ اِخْتِلَافٌ عَلَى رُوَاتِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (336) من حديث جابر، قال: خرجنا في سفر، فأصاب رجلا منا حجر فشجه في رأسه، ثم احتلم، فسأل أصحابه، فقال: هل تجدون لي رخصة في التيمم؟ فقالوا: ما نجد لك رخصة وأنت تقدر على الماء، فاغتسل فمات، فلما قدمنا على النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بذلك، فقال: «قتلوه قتلهم الله، ألا سألوا إذ لم يعلموا، فإنما شفاه العي السؤال، ... » الحديث. وإطلاق التحسين على الحديث لأن له شواهد كما في «جامع الأصول» (764) فهو من باب الخطأ، إذ الشواهد إنما تشهد للقدر الذي ذكرته فقط هنا، وأما القدر الذي ذكره الحافظ -وهو محل الشاهد- فيبقي على ضعفه. والله أعلم




১৩৬। জাবির বিন আবদিল্লাহ (রাঃ) থেকে মাথায় জখম হওয়া এক সাহাবী সম্পর্কে বর্ণিত- যিনি গোসল করার পর মারা গিয়েছিলেন। তাঁর জন্য তায়াম্মুমই যথেষ্ট হতো, সে ক্ষতস্থানে পট্টি বেঁধে নিত। অতঃপর তার উপর মাসাহ করে নিত এবং বাকি সমস্ত শরীর ধুয়ে নিত। আবূ দাউদ দূর্বল সানাদে এবং তাতে বর্ণনাকারীর ব্যাপারেও মতানৈক্য রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ (৩৩৬) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা সফরে রওয়ানা হলাম। আমাদের এক সাথীর পাথর লেগে মাথা ফুড়ে গেল। অতঃপর তার স্বপ্নদোষ হল। সে তার সাথীদের কাছে এ মর্মে জিজ্ঞেস করলে যে, তার জন্য কি তায়াম্মুমের অনুমতি আছে? তারা বললেন, আমরা তোমার জন্য এ ব্যাপারে কোন অনুমতি পাচ্ছি না। আর তুমি তো পানি ব্যবহারে সক্ষম। ফলে ঐ ব্যক্তি গোসল করল, অতঃপর মারা গেল। যখন সফর শেষে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ঘটনা বিবৃত করলাম, তিনি বললেন, তার সাথীগণ তাকে ধ্বংস করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। যেহেতু তাদের এ সম্পর্কিত জ্ঞান নেই। তাহলে কেন জিজ্ঞাসা করলো না। আর ঐ ব্যক্তির জিজ্ঞেস করার অর্থই হলো সে (গোসল করার) ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। .... আল-হাদীস।

বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১৩৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আয যুবাইর বিন খারাক আল যাযারী রয়েছে, যাকে ইমাম দারাকুতনী ও ইমাম আবু দাউদ শক্তিশালী নয় বলে মন্তব্য করেছেন। আর ইবনু আব্বাস বর্ণিত হাদীসটিতে দুর্বলতা ও সনদের বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফুল জমে (৪০৭৪) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন তার বুলুগুল মারামের শরাহ (১/৩৭৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে ও ইযতিরাবি (পরস্পর বিরোধিতা) সংঘটিত হয়েছে। ইবনু হাজার তাঁর তালখীসুল হাবীর (১/২২৯) গ্রন্থে দারাকুতনী ও ইমাম যাহাবীর মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, দারাকুতনী বলেন, সে শক্তিশালী নয়। ইমাম যাহাবী বলেন, “এ রাবীটি সত্যবাদী ও হাদীসটি এবং আলীর হাদীসটি যুক্ত করলে শক্তিশালী হয়”। ইমাম সনআনী সুবুলুস সালাম (১/১৫৪) ইবনু হাজারের উপরোক্ত মন্তব্য নকল করেছেন।









বুলূগুল মারাম (137)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: مِنْ السُّنَّةِ أَنْ لَا يُصَلِّيَ الرَّجُلُ بِالتَّيَمُّمِ إِلَّا صَلَاةً وَاحِدَةً, ثُمَّ يَتَيَمَّمُ لِلصَّلَاةِ الْأُخْرَى. رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ جِدًّا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الدارقطني (185)




১৩৭। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘সুন্নাত (পদ্ধতি) হচ্ছে মানুষ তায়াম্মুম দ্বারা মাত্র এক ওয়াক্তেরই সালাত আদায় করবে তারপর অন্য সালাতের জন্য আবারো তায়াম্মুম করবে।” দারুকুৎনী অতি দূর্বল সানাদে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অত্যন্ত দুর্বল। দারাকুতনী ১৮৫; ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা (১/২২২) গ্রন্থে, ও আল খিলাফিয়্যাত (১/৪৬৫) গ্রন্থে, ইবনুল মুলকিন তার (২/৬৭৪) গ্রন্থে বলেন, ইমাম সনআনী তার সুবুলুস সালাম (১/১৫৫) গ্রন্থে এর সনদে আল হাসান বিন আম্মারাহ রয়েছেন, যাকে ইমাম দারাকুতনী দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী সিলসিলাহ যঈফা (৪২৩) গ্রন্থে হাদীসটিকে জাল বলেছেন। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (৩/২০৮) গ্রন্থে বলেন, ইবনুল মাদীনী আল হাসান বিন আম্মারাহকে হাদীস জালকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। আহমাদ, মুসলিম ও আবু হাতিম উক্ত রাবীকে মাতরূক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইবনু হাজার তার তালখীসুল হাবীর (১/২৪১) গ্রন্থে হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। ইমাম ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ (১/৭৫) গ্রন্থে বলেন, আল হাসান বিন আম্মারাহকে একেবারেই পরিত্যাক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। শু'বাহ তাকে মিথ্যাবাদী ও হাদীস জালাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। এরপরেও ইমাম দারাকুতনী কয়েকটি উত্তম সনদসহকারে হাদীসটিকে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।









বুলূগুল মারাম (138)


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ أَبِي حُبَيْشٍ كَانَتْ تُسْتَحَاضُ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ دَمَ الْحَيْضِ دَمٌ أَسْوَدُ يُعْرَفُ, فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَأَمْسِكِي مِنَ الصَّلَاةِ, فَإِذَا كَانَ الْآخَرُ فَتَوَضَّئِي, وَصَلِّي». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالْحَاكِمُ, وَاسْتَنْكَرَهُ أَبُو حَاتِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (286)، والنسائي (185)، وابن حبان (1348)، والحاكم (174) وزادوا خلا ابن حبان: فإنما هو عرق




১৩৮। আয়িশা (রাঃ) আবূ হুবায়সের কন্যা ফাতিমাহ, ‘ইসতিহাযা (প্রদর রোগ) নামক রোগে ভুগতেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, ‘অবশ্য হায়িয্যের রক্ত কালো বর্ণের, তা (সহজেই) চেনা যায়। যখন এমন রক্ত দেখতে পাবে তখন সালাত বন্ধ করে দিবে। তারপর যখন অন্য রক্ত দেখা দেয় তখন উযূ করে সালাত আদায় কর। আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনু হিব্বান ও হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন; আবূ হাতিম এটিকে মুনকার হাদীসের মধ্যে গণ্য করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবু দাউদ ২৮৬, নাসাঈ, ১৮৫ ইবনু হিব্বান ১৩৪৮; হাকিম ১৭৪; হাদীসটিকে ইবনু হিব্বান ব্যতীত সকলেই فإنما هو عرق “এটাতো এক শিরা থেকে বয়ে আসা রক্ত" কথাটি বৃদ্ধি করেছেন।









বুলূগুল মারাম (139)


وَفِي حَدِيثِ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ: لِتَجْلِسْ فِي مِرْكَنٍ, فَإِذَا رَأَتْ صُفْرَةً فَوْقَ الْمَاءِ, فَلْتَغْتَسِلْ لِلظُّهْرِ وَالْعَصْرِ غُسْلًا وَاحِدًا, وَتَغْتَسِلْ لِلْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ غُسْلًا وَاحِدًا, وَتَغْتَسِلْ لِلْفَجْرِ غُسْلًا, وَتَتَوَضَّأْ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (296)، عن أسماء بنت عميس، قالت: قلت: يا رسول الله. إن فاطمة بنت أبي حبيش استحيضت منذ كذا وكذا، فلم تصل، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «سبحان الله! هذا من الشيطان، لتجلس ... » الحديث




১৩৯। আবূ দাউদে আসমা বিনতু উমাইস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে- একটা বড় পানির গামলাতে বসবে। অতঃপর হলদে রং এর রক্ত দেখতে পাও তবে যুহর ও ‘আসরের জন্য একবার এবং মাগরিব ও ইশা সালাতের জন্য একবার গোসল করবে এবং ফজর সালাতের জন্য একবার করে গোসল করবে। আর এর মাঝে (প্রত্যেক সালাতের জন্য) উযূ করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ২৯৬, আসমা বিনতে উমাইস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ফাতিমাহ বিনতে হুবাইসের এমন বেশি পরিমাণে হায়জ হচ্ছে যে , সে সালাত আদায় করতে পারছে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুবহানাল্লাহ! এতো শয়তানের পক্ষ থেকে হয়েছে। সে বসবে.......।









বুলূগুল মারাম (140)


وَعَنْ حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ قَالَتْ: كُنْتُ أُسْتَحَاضُ حَيْضَةً كَبِيرَةً شَدِيدَةً, فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَسْتَفْتِيهِ, فَقَالَ: «إِنَّمَا هِيَ رَكْضَةٌ مِنَ الشَّيْطَانِ, فَتَحَيَّضِي سِتَّةَ أَيَّامٍ, أَوْ سَبْعَةً, ثُمَّ اغْتَسِلِي, فَإِذَا اسْتَنْقَأْتِ فَصَلِّي أَرْبَعَةً وَعِشْرِينَ, أَوْ ثَلَاثَةً وَعِشْرِينَ, وَصُومِي وَصَلِّي, فَإِنَّ ذَلِكَ يُجْزِئُكَ, وَكَذَلِكَ فَافْعَلِي كَمَا تَحِيضُ النِّسَاءُ, فَإِنْ قَوِيتِ عَلَى أَنْ تُؤَخِّرِي الظُّهْرَ وَتُعَجِّلِي الْعَصْرَ, ثُمَّ تَغْتَسِلِي حِينَ تَطْهُرِينَ وَتُصَلِّينَ الظُّهْرَ وَالْعَصْرِ جَمِيعًا, ثُمَّ تُؤَخِّرِينَ الْمَغْرِبَ وَتُعَجِّلِينَ الْعِشَاءِ, ثُمَّ تَغْتَسِلِينَ وَتَجْمَعِينَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ, فَافْعَلِي. وَتَغْتَسِلِينَ مَعَ الصُّبْحِ وَتُصَلِّينَ». قَالَ: «وَهُوَ أَعْجَبُ الْأَمْرَيْنِ إِلَيَّ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَحَسَّنَهُ الْبُخَارِيُّ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (287)، والترمذي (128)، وابن ماجه (627)، وأحمد (6/ 439)




১৪০। হামনাহ বিনতু জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমার ‘ইস্তেহাযা নামক ব্যাধির জন্য অত্যন্ত কঠিনরূপে রক্তস্রাব হতো। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ বিষয়ে ফতোয়ার জন্য এলাম। তিনি বললেন, ‘এটা শয়তানের আঘাত জনিত কারণেই (হচ্ছে), তুমি ছয় বা সাত দিন হায়িয পালন করবে। তারপর হায়িযের গোসল করে পবিত্র হয়ে প্রতি মাসে চব্বিশ বা তেইশ দিন নিয়মমাফিক সালাত আদায় করবে, সওম পালন করবে ও সালাত আদায় করবে, তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট হবে। এভাবে হায়িযা মহিলার মত প্রতি মাসে করতে থাকবে। যদি তোমার পক্ষে সম্ভব হয় তাহলে যুহরকে পিছিয়ে দিয়ে এবং ‘আসরকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গোসল করে দু ওয়াক্তের সালাত একসঙ্গে আদায় করবে। অনুরূপভাবে মাগরিবকে পিছিয়ে ও ‘ইশাকে এগিয়ে নিয়ে গোসল করে উভয় সালাত আদায় করবে এবং ফজর সালাতের জন্য গোসল করে তা আদায় করবে। [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন] আমার নিকটে এটাই অধিক পছন্দ। তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন আর বুখারী একে হাসান বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবু দাউদ ২৭৮; তিরমিযী ১২৮; ইবনু মাজাহ ৬২৭-; আহমাদ ৬/৪৩৯