হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (81)


وَلِأَبِي دَاوُدَ أَيْضًا, عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا: «إِنَّمَا الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا». وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ أَيْضًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه أبو داود (202)




৮১। আবূ দাউদে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে আরও একটি ‘মারুফ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি হাত পা বিছিয়ে শরীর এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে যাবে তাকে উযূ করতে হবে।” এ সানাদেও দুর্বলতা রয়েছে।”[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার। আবু দাউদ (২০২), ইমাম নববী তাঁর আল মাজমু (২/২০) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটি মুনকার হওয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইবনু আবদুল বার তাঁর আত তামহীদ (১৮/২৪৩) গ্রন্থেও প্রায় একই কথা বলেছেন। হাকিম (১৩৪), ইবনু হিব্বান (২৬৬৬), শাইখ আলবানী তাঁর যাঈফুল জামে (৫৬৮) ও যঈফ আবু দাউদ (১০২৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (82)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «يَأْتِي أَحَدَكُمُ الشَّيْطَانُ فِي صَلَاتِهِ, فَيَنْفُخُ فِي مَقْعَدَتِهِ فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ أَحْدَثَ, وَلَمْ يُحْدِثْ, فَإِذَا وَجَدَ ذَلِكَ فَلَا يَنْصَرِفُ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا. أَخْرَجَهُ الْبَزَّارُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه البزار (281)




৮২। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘শয়তান সালাতে তোমাদের কারও নিকট উপস্থিত হয়ে উযূ আছে কি নেই এ নিয়ে মনের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করে। যদি কারো এমন হয় তাহলে যেন সে তার বায়ু নিৰ্গত হওয়ার শব্দ বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত সালাত ছেড়ে না দেয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বাযযার (২৮১) [দেখুন পরের হাদীসের নোট]









বুলূগুল মারাম (83)


وَأَصْلُهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. ولفظه: شكي إلى النبي صلى الله عليه وسلم: الرجل يخيل إليه أن يجد الشيء في الصلاة؟ قال: «لا ينصرف حتى سمع صوتا، أو يجد ريحا». البخاري (137)، ومسلم (361)




৮৩। অত্র হাদীসের মূল বক্তব্য বুখারী ও মুসলিমে ‘আবদুল্লাহ বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাদীসের শব্দ হচ্ছে شكي إلى النبي صلى الله عليه وسلم: الرجل يخيل إليه أن يجد الشيء في الصلاة؟ قال: «لا ينصرف حتى سمع صوتا، أو يجد ريحا। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ দেয়া হলো যে, কোন ব্যক্তি সালাতে এ ধারণা করে যে তাঁর কিছু হয়ে গেছে (তখন কী করবে), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে শব্দ পাওয়া বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত সালাত পরিত্যাগ করবে না।









বুলূগুল মারাম (84)


وَلِمُسْلِمٍ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوُهُ




৮৪। মুসলিমেও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে অনুরূপ হাদীস আছে।




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[দেখুন পূর্বের হাদীস]









বুলূগুল মারাম (85)


وَلِلْحَاكِمِ. عَنْ أَبِي سَعِيدٍ مَرْفُوعًا: «إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الشَّيْطَانُ, فَقَالَ: إِنَّكَ أَحْدَثْتَ, فَلْيَقُلْ: كَذَبْتَ». وَأَخْرَجَهُ ابْنُ حِبَّانَ بِلَفْظِ: «فَلْيَقُلْ فِي نَفْسِهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الحاكم (134)، وابن حبان (2666)، وتمامه عندهما: حتى يسمع صوتا بأذنه، أو يجد ريحا بأنفه




৮৫। আর হাকিমে আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে ‘মারফূ রূপে বৰ্ণিত আছে, “যখন শয়তান তোমাদের কারো নিকট এসে বলে যে, নিশ্চয় তুমি বায়ু নিঃস্বরণ করেছো”। তখন সে যেন বলে ‘নিশ্চয়ই তুমি মিথ্যা বলছ”। ইবনু হিব্বানে এই শব্দেঃ ‘তুমি মিথ্যে বললে কথাটা মনে মনে বলবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। হাকিম (১৩৪), ইবনু হিব্বান (২৬৬৬), তাঁদের উভয়ের বর্ণনাতে পূর্ণ হাদীসটি রয়েছে حتى يسمع صوتا بأذنه، أو يجد ريحا بأنفه, যতক্ষণ না সে নিজ কানে এর আওয়াজ শুনে অথবা নাকে গন্ধ পায়।









বুলূগুল মারাম (86)


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ وَضَعَ خَاتَمَهُ. أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَهُوَ مَعْلُولٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه أبو داود (19)، والترمذي (1746)، والنسائي (1/ 178)، وابن ماجه (303)




৮৬। আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে (পায়খানায়) যেতেন (আল্লাহর নাম খোদিত) আংটি খুলে রাখতেন। -৪ জনে (আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)। সানাদটি মালুল (ত্রুটিযুক্ত)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার। আবু দাউদ (১৯); তিরমিযী (১৭৪৬); নাসায়ী (১/১৭৮); ইবনু মাজাহ (৩০৩), ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/১১৩) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত কিন্তু ইবনু জুরাইজ যুহরী থেকে শুনেননি। বরং তিনি যিয়াদ বিন সা'দ থেকে, আর তিনি যুহরী থেকে শুনেছেন। কিন্তু সেটি অন্য শব্দে। এখানে হুমামের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু তিনি বিশ্বস্ত। ইবনু উসাইমীন তাঁর আশ শারহুল মুমতি’ (৬/১১২) গ্রন্থে হাদীসটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর তাহযীবুস সুনান (১/৩৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ সহীহ হলেও ত্রুটিপূর্ণ। শাইখ আলবানী যঈফ আবু দাউদ (১৯) গ্রন্থে একে মুনকার বলেছেন। আর যঈফ তিরমিযী (১৭৪৬) ও যঈফ নাসায়ী (৫২২৮) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (87)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ». أَخْرَجَهُ السَّبْعَةُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (142)، ومسلم (375)، وأبو داود (4)، والترمذي (5)، والنسائي (10)، وابن ماجه (296)، أحمد (3/ 99 و 101 و 282)




৮৭। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় ঢোকার সময় (নিম্নোক্ত দুঅটি) বলতেনঃ (বিসমিল্লাহ) আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযূবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি মন্দ পুরুষ ও মহিলা জিনের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (১৪২); মুসলিম (৩৭৫); আবু দাউদ (৪); তিরমিযী (৫); নাসায়ী (১০); ইবনু মাজহ (২৯৬); আহমাদ (৩/৯৯, ১০১, ২৮২)









বুলূগুল মারাম (88)


وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَدْخُلُ الْخَلَاءَ, فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ نَحْوِي إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً, فَيَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (150)، ومسلم (271)، (70) واللفظ لمسلم. والعنزة: رميح بين العصا والرمح، فيه زج




৮৮। উক্ত সাহাবী আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় যেতেন। আমি ও আমার মত একটি ছেলে চামড়ার তৈরি পাত্র ও বর্ষা নিয়ে যেতাম। তিনি সে পানি দিয়ে সৌচ কাৰ্য সমাধা করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ বুখারী (১৫০); মুসলিম (৭০, ২৭১); হাদীসের শব্দ ইমাম মুসলিমের। হাদীসের العنزة হচ্ছে বর্শা ও লাঠির মাঝামাঝি আকারের ছোট বর্শা।









বুলূগুল মারাম (89)


وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ لِي النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «خُذِ الْإِدَاوَةَ». فَانْطَلَقَ حَتَّى تَوَارَى عَنِّي, فَقَضَى حَاجَتَهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (363)، ومسلم (274) (77)




৮৯। মুগীরাহ বিন শুবা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘পানির পাত্রটি নাও, তারপর তিনি সামনে চলতে থাকলেন এবং আমার দৃষ্টির আড়ালে গিয়ে প্রয়োজন পূর্ণ করলেন”।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ বুখারী (৩৬৩); মুসলিম (৭৭, ২৭৪)









বুলূগুল মারাম (90)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «اتَّقُوا اللَّاعِنِينَ: الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ, أَوْ فِي ظِلِّهِمْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (269)




৯০। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দুটি (লানত) তথা অভিশাপ বর্ষণকারী কাজ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখ- (১) যে মানুষ চলাচলের রাস্তায় বা (২) (বিশ্রাম করার) ছায়াতে পায়খানা করা।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ মুসলিম (৩৬৯)









বুলূগুল মারাম (91)


زَادَ أَبُو دَاوُدَ, عَنْ مُعَاذٍ: وَالْمَوَارِدَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. أي بلفظ: «والموارد» وباقيه صحيح. رواه أبو داود (26) ولفظه: «اتقوا الملاعن الثلاث: البراز في الموارد، وقارعة الطريق، والظل




৯১। আবূ দাউদ মুআয (রাঃ) এর বরাতে “(পুকুর, নদীর) ‘ঘাটে শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ অর্থাৎ موارد এ শব্দটি যঈফ। আর অবশিষ্ট অংশটুকু সহীহ। আবু দাউদ (২৬); আবু দাউদের শব্দগুলো হচ্ছেঃ “তিনটি অভিশাপের কাজ থেকে মুক্ত থাকঃ পানিতে নামার স্থানে (ঘাটে), জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় ও ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করা হতে”।









বুলূগুল মারাম (92)


وَلِأَحْمَدَ; عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: «أَوْ نَقْعِ مَاءٍ». وَفِيهِمَا ضَعْفٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (2715)




৯২। আহমাদ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, ‘পানি আবদ্ধ থাকে এমন ক্ষেত্রে (পায়খানা করা নিষেধ)। এ দুটি সানাদের মধ্যেই দুর্বলতা আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আহমাদ ২৭১৫, ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/১১৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে (প্রসিদ্ধ দুর্বল বর্ণনাকারী) ইবনু লাহিয়া রয়েছেন, আর ইবনু আব্বাস থেকে কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট নয়। শাইখ আলবানী সহীহুল জামে (১১৩) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। সহীহ তারাগীব (১৪৭) গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। ইরওয়াউল গালীল (১/১০১) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ হাসান হতো যদি এর সনদে যার নাম উল্লেখ হয়নি, তিনি যদি না থাকতেন। ইমাম সুয়ুতী তার আল জামেউস সগীর (১৪০) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। আহমাদ শাকের মুসনাদ আহমাদ (৪/২৫৩) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (93)


وَأَخْرَجَ الطَّبَرَانِيُّ النَّهْيَ عَنْ تَحْتِ الْأَشْجَارِ الْمُثْمِرَةِ, وَضَفَّةِ النَّهْرِ الْجَارِي. مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
منكر. رواه الطبراني بتمامه في «الأوسط» كما في مجمع البحرين (349)، وفي «الكبير» الشطر الأخير منه كما في مجمع الزوائد




৯৩। আর তাবারানী বর্ণনা করেছেনঃ ফলদার গাছ-পালার নীচে ও প্রবহমান নদী নালার কিনারায় পায়খানা করা নিষেধ। ইবনু ‘উমার (রাঃ)-র বর্ণিত এ হাদীসটির সানাদ যঈফ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুনকার । পূর্ণ হাদীসটি তাবারানী তাঁর মুজামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি রয়েছে মাযমা'আল বাহরাইন (৩৪৯); আর মুজামুল কাবীরে এর শেষাংশ বর্ণিত হয়েছে; যেমন বর্ণিত হয়েছে মাযমাউয যাওয়ায়েদে (১০৪), ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/১১৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ফুরাত বিন সায়িব নামক একজন মাতরূক বর্ণনাকারী রয়েছেন।









বুলূগুল মারাম (94)


وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَغَوَّطَ الرَّجُلَانِ فَلْيَتَوَارَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَنْ صَاحِبِهِ, وَلَا يَتَحَدَّثَا، فَإِنَّ اللَّهَ يَمْقُتُ عَلَى ذَلِكَ». رَوَاهُ. وَصَحَّحَهُ ابْنُ السَّكَنِ, وَابْنُ الْقَطَّانِ, وَهُوَ مَعْلُولٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف




৯৪। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দুব্যক্তি যখন এক সঙ্গে পায়খানা করতে বসবে তখন একে অপরকে দেখতে না পাওয়া যায় সে জন্য আড়াল করে বসে। আর যেন তারা পরস্পর বাক্যআলাপ না করে। কেননা আল্লাহ তাআলা এতে অত্যন্ত নাখোশ হন। আহমাদ আর ইবনু সাকান ও ইবনু কাত্তান একে সহীহ বলেছেন। হাদীসটি মালুল (ত্রুটিপূর্ণ)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। ইবনুল কাত্তান তাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম (৫/২৬০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ উত্তম। ইবনুল মুলকিন তাঁর তুহফাতুল মুহিতায (১/১৬৪) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি সহীহ অথবা হাসান। শাইখ আলবানী সিলসিলা সহীহাহ (৩১২০) গ্রন্থে এর সনদেক হাসান বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (95)


وَعَنْ أَبِي قَتَادَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يُمْسِكَنَّ أَحَدُكُمْ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ, وَهُوَ يَبُولُ, وَلَا يَتَمَسَّحْ مِنَ الْخَلَاءِ بِيَمِينِهِ, وَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (153)، ومسلم (267) (63)




৯৫। আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যেন প্ৰসাব করার সময় তার লিঙ্গ কখনও ডান হাতে না ধরে। শৌচ করতে সময় যেন ডান হাত ব্যবহার না করে আর পানি পান করার সময় যেন পানপত্রে শ্বাস না ছাড়ে”। শব্দ মুসলিমের।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৫৩; মুসলিম ৬৩, ২৬৭।









বুলূগুল মারাম (96)


وَعَنْ سَلْمَانَ - رضي الله عنه - قَالَ: لَقَدْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ, أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ, أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ, أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ عَظْمٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (262) قيل لسلمان: قد علمكم نبيكم صلى الله عليه وسلم كل شيء حتى الخراءة. قال: أجل. لقد نهانا ... الحديث




৯৬। সালমান (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিষেধ করেছেন: আমরা পায়খানা বা প্ৰসাব করার সময় যেন কিবলাহমুখী না হই, ডান হতে সৌচ কর্ম না করি, তিন খানা পাথরের কমে ইস্তেঞ্জা না করি, আর গোবর ও হাড় ইস্তেঞ্জার কাজে যেন ব্যবহার না করি।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ২৬২; সালমান (রাঃ) কে বলা হলো তোমাদের নবী তোমাদেরকে সবকিছুই শিক্ষা দেয় এমনটি পেশাব পায়খানার নিয়মও। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন......।









বুলূগুল মারাম (97)


وَلِلسَّبْعَةِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي أَيُّوبَ - رضي الله عنه: «لَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلَا بَوْلٍ, وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (144 و 394)، ومسلم (264)، وأبو داود (9)، والنسائي (12 - 23)، الترمذي (8)، وابن ماجه (318)، وأحمد (5/ 414 و 416 و 417 و 421)




৯৭। সাত জনে (আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) আবূ আইউব আনসারী (রাঃ) হতে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে, ‘তোমরা কিবলাহকে (কাবা ঘরকে) পায়খানা বা প্রস্রাবের সময় সামনে পিছনে রাখবে না বরং পূর্ব বা পশ্চিমে (ডান বা বাম) রাখবে। (উল্লেখ্য মদীনাবাসীদের কিবলাহ দক্ষিণে।)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৪৪, ৩৯৪; মুসলিম ২৬৪; আবু দাউদ ৯; নাসায়ী ১২-২৩; তিরমিযী ৮; ইবনু মাজাহ। ৩১৮; আহমাদ ৫/৪১৪, 8১৬, ৪১৭, ৪২১









বুলূগুল মারাম (98)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ أَتَى الْغَائِطَ فَلْيَسْتَتِرْ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. ووهم الحافظ في نسبته لعائشة رضي الله عنها، وإنما الحديث لأبي هريرة عند أبي داود (35)




৯৮। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পায়খানায় যাবে সে নিজকে যেন পৰ্দা (আড়াল) করে নেয়। আবূ দাউদ [1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। শায়খ আলবানী তাঁর সিলসিলা যঈফাহ (১০২৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত্-তালখীসুল হাবীর (১/১৪৯) গ্রন্থে এ হাদীসের বর্ণনাকারী আবু সা'দ আল-জিবরানী আল-হিমসী ব্যাপারে বিতর্কের কথা বলেছেন। বলা হয়ে থাকে যে তিনি সাহাবী, কিন্তু কথাটি ঠিক নয়। ইমাম শাওকানী নাইলুল আওত্বার (১/৯৩) গ্রন্থে উক্ত রাবীর বিতর্কিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে মাজহুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।









বুলূগুল মারাম (99)


وَعَنْهَا; - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ الْغَائِطِ قَالَ: «غُفْرَانَكَ». أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ، وَصَحَّحَهُ أَبُو حَاتِمٍ, وَالْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (30)، والترمذي (7)، وابن ماجه (300)، والنسائي في «عمل اليوم والليلة» (79)، وأحمد (655)، وابن حبان (1444)، والحاكم (185)، من حديث عائشة رضي الله عنها




৯৯। [আয়িশা (রাঃ)] থেকেই বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা করে বের হওয়ার সময় বলতেন, গুফরানাকা (তোমার নিকট ক্ষমা চাইছি)- আবূ হাতিম ও হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1] পাঁচজনে বর্ণনা করেছেন।




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাদীসটিকে আয়িশাহ (রাঃ) এর সম্পর্কিত করে ইবনু হাজার ভুল করেছেন। হাদীসটি মূলতঃ আবু হুরাইরা হতে আবু দাউদে (৩৫) বর্ণিত।









বুলূগুল মারাম (100)


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: أَتَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - الْغَائِطَ, فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَهُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ, فَوَجَدْتُ حَجَرَيْنِ, وَلَمْ أَجِدْ ثَالِثًا. فَأَتَيْتُهُ بِرَوْثَةٍ. فَأَخَذَهُمَا وَأَلْقَى الرَّوْثَةَ, وَقَالَ: «هَذَا رِكْسٌ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
زَادَ أَحْمَدُ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ: ائْتِنِي بِغَيْرِهَا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (156)
رواه أحمد (1/ 450)، والدارقطني (1/ 55) واللفظ للدارقطني، وأما لفظ أحمد، فهو: «ائتني بحجر». وهي زيادة صحيحة




১০০। ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা করার স্থানে এসে আমাকে তিনটি পাথর আনাতে বললেন। আমি দুটি পাথর পেলাম; তৃতীয়টি পেলাম না। তাই আমি তাকে (তৃতীয়টির স্থলে) এক টুকরো শুকনো গোবর দিলাম। তিনি পাথর দুখানা নিয়ে গোবরখানা ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘এটি নোংরা।[1] আহমাদ ও দারাকুৎনীঃ “এর বদলে অন্য কিছু নিয়ে এস।” কথাটি বৃদ্ধি করেছেন[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৫৬, ৩৮৫৯, মুসলিম ৪৫০, তিরমিযী ১৭, নাসায়ী ৩৯, ইবনু মাজাহ ৩১৪

[2] আহমাদ (৩৬৭৭); দারাকুতনী (১/৫৫); হাদীসের শব্দ ইমাম দারাকুতনীর। আর ইমাম আহমাদ (রহঃ) এর শব্দ হচ্ছে ائتني بحجر এটা অতিরিক্ত এবং সহীহ।