বুলূগুল মারাম
عَنِ اِبْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَبْغَضُ الْحَلَالِ عِنْدَ اللَّهِ الطَّلَاقُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَرَجَّحَ أَبُو حَاتِمٍ إِرْسَالَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (2177 و 2178)، وابن ماجه (2018)، والحاكم (2/ 169) موصولًا ومرسلًا. وانظر «العلل» لابن أبي حاتم (1/ 431)
১০৬৯। ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তালাক্ব হচ্ছে হালাল বস্তুর মধ্যে আল্লাহর নিকটে সর্বাপেক্ষা ঘৃণ্য বস্তু। আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ, হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আবূ হাতিম হাদীসটির মুরসাল হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২০১৮, আবূ দাউদ২১৭৮ ৷ ইবনু উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৫/৪ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ নিয়ে আলিমগণের মধ্যে মতানৈক্য বিদ্যমান যে, এটি মুরসাল নাকি মুত্তাসিল, আর এর অর্থগত দিক দিয়েও এটি মুনকার। শাইখ আলবানী যঈফ আবূ দাউদ ২১৭৮, ইরওয়াউল গালীল ২০৪০, সিলসিলা সহীহাহ ৫/১৮ গ্রন্থত্রয়ে একে দুর্বল বলেছেন, ইমাম শাওকানী নাইলুল আওত্বার ৭/২ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে ইয়াহইয়া বিন সুলাইম যাকে নিয়ে বির্তক রয়েছে। আর মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হাদীসের সানাদে উবাইদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আল ওয়াসাফী নামক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। অপরপক্ষে ইমাম সুয়ূত্বী আল জামেউস সগীর ৫৩ গ্রন্থে, বিন বায মাজমুআ ফাতাওয়া ২৫/২৫৩ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। বিন বায বুলুগুল মারামের হাশিয়া ৬১২ গ্রন্থে বলেন, اسناده جيد قوي وقد روي مرسلا والراجح المتصل
শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২২৭, গায়াতুল মারাম ২৬১ গ্রন্থদ্বয়ে একে সহীহ বলেছেন, ইমাম ইবনুল কাইয়িম যাদুল মাআদ ৫/২২০ গ্রন্থে এর সানাদকে মুসলিম শর্তে সহীহ বলেছেন। তবে শাইখ আলবানী যঈফ নাসায়ী ৩৪০১ যঈফ বলেছেন, ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর ফাতহুল বারী ৯/২৭৫ গ্রন্থে বলেন, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত কিন্তু মাহমুদ বিন লাবীদ নয়। মাহমুদ বিন লাবীদ এর শ্রবণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয় না।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - أَنَّهُ طَلَّقَ اِمْرَأَتَهُ - وَهِيَ حَائِضٌ - فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَسَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا, ثُمَّ لْيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ, ثُمَّ تَحِيضَ, ثُمَّ تَطْهُرَ, ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ, وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ بَعْدَ أَنْ يَمَسَّ, فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا, ثُمَّ لْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا أَوْ حَامِلًا
وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى لِلْبُخَارِيِّ: «وَحُسِبَتْ عَلَيْهِ تَطْلِيقَةً
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: قَالَ ابْنُ عُمَرَ: أَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَهَا وَاحِدَةً أَوْ اثْنَتَيْنِ; فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَمَرَنِي أَنْ أُرَاجِعَهَا, ثُمَّ أُمْهِلَهَا حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً أُخْرَى, وَأَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَهَا ثَلَاثًا, فَقَدْ عَصَيْتَ رَبَّكَ فِيمَا أَمَرَكَ مِنْ طَلَاقِ امْرَأَتِكَ
وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: فَرَدَّهَا عَلَيَّ, وَلَمْ يَرَهَا شَيْئًا, وَقَالَ: «إِذَا طَهُرَتْ فَلْيُطَلِّقْ أَوْ لِيُمْسِكْ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5251)، ومسلم (1471) (1)
১০৭০। ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে স্বীয় স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় ত্বলাক (তালাক)্ব দেন। উমার ইবন খাত্তাব (রাঃ) এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রসূলুল্লাহ বললেনঃ তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে এবং নিজের কাছে রেখে দেয় যতক্ষণ না সে মহিলা পবিত্র হয়ে আবার ঋতুবতী হয় এবং আবার পবিত্র হয়। অতঃপর সে যদি ইচ্ছে করে, তাকে রেখে দিবে। আর যদি ইচ্ছে করে তবে সহবাসের পূর্বে তাকে ত্বলাক (তালাক)্ব দেবে। আর এটাই ত্বলাক (তালাক)্বের নিয়ম, যে নিয়মে আল্লাহ তাআলা স্ত্রীদের ত্বলাক (তালাক)্ব দেয়ার বিধান দিয়েছেন।
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘আপনি তাকে (ইবনু ‘উমারকে) হুকুম দিন তার স্ত্রীকে সে ফেরত নিক তারপর পবিত্র অবস্থায় বা গর্ভাবস্থায় ত্বলাক (তালাক)্ব দিক।
বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, এতে তার একটি ত্বালাক্ব হিসেবে ধরা হয়েছিল। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে- ইবনু ‘উমার (রাঃ) কোন জিজ্ঞেসকারীকে বললেন, যদি তুমি তোমার স্ত্রীকে এক বা দু-তালাক্ব দাও। তাহলে এক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করেছিলেন- যেন আমি তাকে ফেরত নিই তারপর তার অন্য একটি হায়িয হওয়া পর্যন্ত তাকে আমি ঐ অবস্থায় রেখে দিই। অতঃপর পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দিই। তারপর তাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক্ব দিই।
আর তুমি তাকে তিন তালাক্ব দিয়েছ। আর তুমি তোমার প্রভুর যে নির্দেশ তোমার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে ছিল তার বিরুদ্ধাচরণ করেছ।
অন্য বর্ণনায় আছে- ‘আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে স্ত্রী ফেরত দিয়েছিলেন আর হায়িয অবস্থার ঐ তালাক্বটিকে কোন ব্যাপার বলে মনে করেননি এবং তিনি বলেছিলেন যখন সে পবিত্র হবে তখন তালাক্ব দিবে অথবা (তালাক্ব না দিয়ে) রেখে দিবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৯০৮, ৫২৫২, ৫২.৫৩, ৫২৫৮, ৫৩৩২, ৫৩৩৩, মুসলিম ১০১৫, ১৪৭১, তিরমিযী ১১৭৫, ১১৭৬, নাসায়ী ৩৩৮৯, ৩৩৯০, ৩৩৯১, আর দাউদ ২১৭৯, ২১৮১, ২১৮২, ইবনু মাজাহ ২০১৯, ২০২২, আহমাদ ৩০৬, ৪৪৮৬, ৪৭৭৪, মালেক ১২২০, দারেমী ২২৬২, ২২৬৩।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: كَانَ الطَّلَاقُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَأَبِي بَكْرٍ, وَسَنَتَيْنِ مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ, طَلَاقُ الثَّلَاثِ وَاحِدَةٌ, فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: إِنَّ النَّاسَ قَدْ اسْتَعْجَلُوا فِي أَمْرٍ كَانَتْ لَهُمْ فِيهِ أَنَاةٌ, فَلَوْ أَمْضَيْنَاهُ عَلَيْهِمْ? فَأَمْضَاهُ عَلَيْهِمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (1472)
১০৭১। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এবং আবূ বাকর সিদ্দীকের শাসনামলে ও ‘উমার ফারুক (রাঃ)-এর প্রথম দুবছরের খেলাফতকাল পর্যন্ত একসঙ্গে প্রদত্ত তিন তালাককে একটিমাত্র তালাক গণ্য করা হতো। তারপর ‘উমার (রাঃ) বললেন- লোক তো তালাক্ব সম্পাদনের সুযোগ গ্রহণ করে তাড়াহুড়ো করছে, এমতাবস্থায় যদি আমি ওটা (তিন তালাক্বকে) তাদের উপর চালু করেই দিই! ফলে তিনি তিন তালাক্বকে তাদের উপর চালু করেই দিলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৪৭২, নাসায়ী ৩৪০৬, নাসায়ী ২১৯৯, ২২০০।
وَعَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ قَالَ: أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثَ تَطْلِيقَاتٍ جَمِيعًا, فَقَامَ غَضْبَانَ ثُمَّ قَالَ: «أَيُلْعَبُ بِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى, وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ». حَتَّى قَامَ رَجُلٌ, فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَلَا أَقْتُلُهُ رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَرُوَاتُهُ مُوَثَّقُونَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه النسائي (6/ 142 - 143)، ورواته ثقات، ولكنه من رواية مخرمة بن بكير، عن أبيه، ولم يسمع منه
১০৭২। মাহমুদ ইবনু লাবীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোন লোক সম্বন্ধে সংবাদ দেয়া হলো যে, লোকটি তার স্ত্রীকে একই সাথে তিন তালাক দিয়ে ফেলেছে। (এরূপ শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন, অতঃপর বললেন, তোমাদের মধ্যে আমি বিদ্যমান থাকা অবস্থাতেই কুরআন নিয়ে কি খেলা করা হচ্ছে? এমনকি এক ব্যক্তি (সাহাবী) দাঁড়িয়ে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে হত্যা করব না? -হাদীসটির রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২২৭, গায়াতুল মারাম ২৬১ গ্রন্থদ্বয়ে একে সহীহ বলেছেন, ইমাম ইবনুল কাইয়িম যাদুল মাআদ ৫/২২০ গ্রন্থে এর সানাদকে মুসলিম শর্তে সহীহ বলেছেন। তবে শাইখ আলবানী যঈফ নাসায়ী ৩৪০১ যঈফ বলেছেন, ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর ফাতহুল বারী ৯/২৭৫ গ্রন্থে বলেন, এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত কিন্তু মাহমুদ বিন লাবীদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন এটি সাব্যস্ত হয় না।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: طَلَّقَ أَبُو رُكَانَةَ أُمَّ رُكَانَةَ. فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «رَاجِعِ امْرَأَتَكَ»، فَقَالَ: إِنِّي طَلَّقْتُهَا ثَلَاثًا. قَالَ: «قَدْ عَلِمْتُ, رَاجِعْهَا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
وَفِي لَفْظٍ لِأَحْمَدَ: طَلَّقَ أَبُو رُكَانَةَ اِمْرَأَتَهُ فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ ثَلَاثًا, فَحَزِنَ عَلَيْهَا, فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «فَإِنَّهَا وَاحِدَةٌ». وَفِي سَنَدِهَا ابْنُ إِسْحَاقَ, وَفِيهِ مَقَالٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (2196) بسندٍ ضعيفٍ
رواه أحمد (165) وليست علته في ابن إسحاق، وإنما له علة أخرى
১০৭৩৷ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সাহাবী আবূ রুকানাহ তাঁর স্ত্রী উম্মু রুকানাহকে তালাক দিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তোমার স্ত্রীকে তুমি ‘রাজায়াত কর অর্থাৎ ফেরত নাও, উক্ত সাহাবী বললেন আমি তো তাকে তিন তালাক দিয়ে ফেলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা তো আমি জানিই, তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও।[1]
মুসনাদে আহমাদের শব্দে আছে, সাহাবী আবূ রুকানাহ তাঁর স্ত্রীকে একই বৈঠকে তিন তালাক দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাঁর স্ত্রী বিচ্ছেদ হেতু পেরেশান হয়ে পড়লেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনmdash; এটা তো একটি মাত্র তালাক গণ্য হয়েছে। হাদীস দুটির রাবী ইবনু ইসহাক-এ হাদীসে ত্রুটি রয়েছে।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২১৯৬, ২১৯৭, ২১৯৮। শাইখ বিন বায তাঁর বুলুগুল মারামের হাশিয়া ৬১৫ গ্রন্থে বলেন, ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, এর দু’টি সানাদে ইবনু ইসহাক রয়েছে, যার সম্পর্কে বিতর্ক রয়েছে, আমি (বিন বায) বলছি, ইবনু ইসহাক স্পষ্টভাবে হাদ্দাসানা বলেছেন, একারণে তাদলীস (দোষ গোপন) দূর হয়ে গেল। আর হাদীস দিয়ে দলীলও দেয়া যাবে।
وَقَدْ رَوَى أَبُو دَاوُدَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ أَحْسَنَ مِنْهُ: أَنَّ رُكَانَةَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ سُهَيْمَةَ الْبَتَّةَ, فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ بِهَا إِلَّا وَاحِدَةً, فَرَدَّهَا إِلَيْهِ النَّبِيُّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (2206) وله علل
১০৭৪। আবূ দাউদ অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে সূত্রটি এর থেকে উত্তম-তাতে আছে, অবশ্য আবূ রুকানাহ তাঁর স্ত্রী সুহায়মাহকে ‘আল-বাত্তাহ তালাক্ব দিয়েছিলেন। আর তিনি বলেছিলেন- আল্লাহর শপথ! ‘আমি তো এতে একটি মাত্র তালাকেরই ইচ্ছা করেছিলাম। ফলে নবী (রহঃ) তাঁর স্ত্রীকে তার নিকট ফেরত দিয়েছিলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২২০৬, ১২০৮, তিরমিযী ১১৭৭, ইবনু মাজাহ ২০৫১, দারেমী ২২৭২। মুহাদ্দিস আমীমাবাদী তাঁর আওনুল মা’বুদ ৬/১৪৩ গ্রন্থে বলেন, ইবনু হযম তাঁর আল মাহাল্লী ১০/১৯০ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে আবদুল্লাহ বিন আলী ও উজাইর বিন আবদ নামক দুজন অপরিচিত বৰ্ণনাকারী রয়েছে। ইমাম শাওকানী নাইলুল আওত্বার ৭/১১ গ্রন্থে একে দুর্বল মুযতারাব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইবনুল কাইয়িম তাঁর তাহযীবুস সুনান ৬/২৬৬ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২১৯ গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে কয়েকটি ত্রুটি রয়েছে। যঈফ আবূ দাউদে ২২০৬, একে দুর্বল বলেছেন।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «ثَلَاثٌ جِدُّهنَّ جِدٌّ, وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ, وَالطَّلَاقُ, وَالرَّجْعَةُ». رَوَاهُ الْأَرْبَعَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (2194)، والترمذي (1184)، وابن ماجه (2039)، وله شواهد منها ما ذكره الحافظ هنا، وانظر «التلخيص» (3/ 209 - 210)
১০৭৫। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে বাস্তবিকই বলা হলেও যথার্থ বিবেচিত হবে অথবা উপহাসচ্ছলে বলা হলেও যথার্থ গণ্য হবে: বিবাহ, তালাক ও প্রত্যাহার। নাসায়ী ব্যতীত চার জনে; হাকিম সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ২১৯৪, মুসলিম ১১৮৪, ইবনু মাজাহ ২০৩৯।
وَفِي رِوَايَةٍ لِابْنِ عَدِيٍّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ ضَعِيفٍ: «الطَّلَاقُ, وَالْعِتَاقُ, وَالنِّكَاحُ
১০৭৬। ইবনু ‘আদীর অন্য একটি দুর্বল বর্ণনায় আছে- (ঐ তিনটি হচ্ছে) তালাক, দাসমুক্তি ও বিবাহ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু আদী তাঁর আল কামিল ফিয যু’আফা (৭/১০৯) গ্রন্থে হাদীসটির মতনকে মুনকার বলেছেন। ইবনুল কীসরানী তাঁর দাখীরাতুল হুফফায (২/১১৮১) গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে গালিব আল জাযৱী রয়েছে। সে বিশ্বস্ত নয়। শায়খ আলবানী তাঁর ইরওয়াউল গালীল (৬/২২৫) গ্রন্থে গালিব বিন আবদুল্লাহ আল জাযরীকে অত্যন্ত দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।
وَلِلْحَارِثِ ابْنِ أَبِي أُسَامَةَ: مِنْ حَدِيثِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَفَعَهُ: «لَا يَجُوزُ اللَّعِبُ فِي ثَلَاثٍ: الطَّلَاقُ, وَالنِّكَاحُ, وَالْعِتَاقُ, فَمَنْ قَالَهُنَّ فَقَدَ وَجَبْنَ». وَسَنَدُهُ ضَعِيفٌ
১০৭৭। উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে একটা মারফূ সূত্রে হারিস ইবনু আবি উসামাহ হতে বর্ণিত হয়েছে; তিনটি ব্যাপারে খেল-তামাশা চলে না। তালাক, বিবাহ ও দাসমুক্তিতে। এ সম্বন্ধে যে কথা বলবে তার উপর তা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। এর সানাদ দুর্বল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর (৪/১২৪৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে মুনক্বাতি’ বলেছেন। শায়খ আলবানী তাঁর ইরওয়াউল গালীল (৬/২২৬) গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম সনা’আনী তাঁর সুবুলুস। সালাম (৩/২৭৫) গ্রন্থে বলেন, এর মধ্যে ইবনু লাহিয়া ও এর মধ্যে ইনকিতা রয়েছে। ইমাম শাওকানী তাঁর নাইলুল আওত্বার (৭/২১) গ্রন্থেও এর সানাদে ইনকিতা।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا, مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَكَلَّمْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5269)، ومسلم (127)، من طريق قتادة، عن زرارة بن أوفى، عن أبي هريرة، به. وزاد البخاري: قال قتادة: إذا طلق في نفسه فليس بشيء
১০৭৮। আবূ হুরাইরা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার উম্মতের হৃদয়ে যে খেয়াল জাগ্রত হয় আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কার্যে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫২৬৯, মুসলিম ১২৭, তিরমিযী ১১৮৩, নাসায়ী ৩৪৩৩, ৩৪৩৪, ৩৪৩৫, আর দাউদ ২২০৯, ইবনু মাজাহ ২০৪০, আহমাদ ৮৮৬৪, ৯২১৪, ৯৭৮৬।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا-, عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ, وَالنِّسْيَانَ, وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ». رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ, وَالْحَاكِمُ, وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ: لَا يَثْبُتُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه ابن ماجه (2045)، والحاكم (2/ 189)، وفي «الأصل» تفصيل ذلك وبيان من صحَّحه من العلماء
১০৭৯। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ্ আমার উম্মাতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কৃত কাজের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। -আবূ হাতিম বলেন: এর সানাদ ঠিক নয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২০৪৫।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: إِذَا حَرَّمَ امْرَأَتَهُ لَيْسَ بِشَيْءٍ. وَقَالَ: (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) [الأحزاب: 21] رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
وَلِمُسْلِمٍ: إِذَا حَرَّمَ الرَّجُلُ عَلَيْهِ امْرَأَتَهُ, فَهِيَ يَمِينٌ يُكَفِّرُهَا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه ابن ماجه (2045)، والحاكم (2/ 189)، وفي «الأصل» تفصيل ذلك وبيان من صحَّحه من العلماء
১০৮০। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হারাম বলে ঘোষণা দেয় সে ক্ষেত্রে কিছু (অর্থাৎ ত্বলাক (তালাক)) হয় না। তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।
মুসলিমে আছে, যখন কোন লোক তার স্ত্রীকে হারাম বলে ব্যক্ত করে তখন তা শপথ বা কসম বলে গণ্য হয়-তার জন্য তাকে কসমের কাফফারা দিতে হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫২৬৬, ৪৯১১, মুসলিম ১৪৭৩, নাসায়ী ৩৪২০, ইবনু মাজাহ ২০৩৭, আহমাদ ১৯৭৭।
وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ ابْنَةَ الْجَوْنِ لَمَّا أُدْخِلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَدَنَا مِنْهَا. قَالَتْ: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ, قَالَ: «لَقَدْ عُذْتِ بِعَظِيمٍ, الْحَقِي بِأَهْلِكِ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5254)
১০৮১। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জাওনের কন্যাকে যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (একটি ঘরে) পাঠানো হল আর তিনি তার নিকটবর্তী হলেন, তখন সে বলল, আমি আপনার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তো এক মহামহিমের কাছে পানাহ চেয়েছ। তুমি তোমার পরিবারের কাছে গিয়ে মিলিত হও।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫২৫৪, নাসায়ী ৩৪১৭, ইবনু মাজাহ ২০৫০। তালাক্ব শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ বলেও তালাক্ব দেয়া যায়। এমনকি নিয়ত করলেও তালাক্ব পতিত হয়ে যায়। এ ধরনের তালাককে ‘ত্বালাকে কিনায়াহ’ বলে।
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا طَلَاقَ إِلَّا بَعْدَ نِكَاحٍ, وَلَا عِتْقَ إِلَّا بَعْدَ مِلْكٍ». رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ, وَهُوَ مَعْلُولٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الحاكم (2/ 204) ولم أجده في المطبوع من مسند أبي يعلى. والله أعلم. والحديث صحيح بشواهده التي بعده
১০৮২। জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিবাহ সম্পাদন হওয়ার পর ব্যতীত তালাক নেই, আর দাস-দাসীর উপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ব্যতীত দাসত্ব মুক্তি নেই। -হাকিম সহীহ বলেছেন, এর সানাদটির মধ্যে কিছু দুর্বলতা রয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাকিম ২/২০৪। শাইখ সুমাইর আয যুহাইরী বলেন, আমি মুসনাদে আবূ ইয়ালার মুদ্রণে এটি পাইনি। আল্লাহই ভাল জানেন। আর হাদীসটি শাহেদ থাকার কারণে সহীহ। যা সামনে আসছে।
وَأَخْرَجَ ابْنُ مَاجَهْ: عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ مِثْلَهُ, وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ, لَكِنَّهُ مَعْلُولٌ أَيْضًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه ابن ماجه (2048)، وانظر ما قبله، وما بعده. وحسَّن إسناده البوصيريُّ في الزوائد
১০৮৩। ইবনু মাজাহ মিসওয়ার বিন মাখরামাহ থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার সানাদটি হাসান, কিন্তু এটাও ত্রুটিযুক্ত।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু মাজাহ ২০৪৮।
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا نَذْرَ لِابْنِ آدَمَ فِيمَا لَا يَمْلِكُ, وَلَا عِتْقِ لَهُ فِيمَا لَا يَمْلِكُ, وَلَا طَلَاقَ لَهُ فِيمَا لَا يَمْلِكُ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ, وَنُقِلَ عَنْ الْبُخَارِيِّ أَنَّهُ أَصَحُّ مَا وَرَدَ فِيهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (2190 و 2191 و 2192)، والترمذي (1181)، وقال الأخير. «وفي الباب عن علي، ومعاذ بن جبل، وجابر، وابن عباس، وعائشة. قال أبو عيسى: حديث عبد الله بن عمرو حديث حسن صحيح. وهو أحسن شيء روي في هذا الباب». قلت: وقول البخاري نقله البيهقي في «الخلافيات»، وانظر «التلخيص» (310) وفي «الأصل» بيان لكل هذه الشواهد وطرقها
১০৮৪। “আমার বিন শুআইব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বিষয়ে মালিকানা নেই, সে বিষয়ে আদম সন্তানের কোন মানৎ মানা চলবে না এবং মালিকানা প্রতিষ্ঠা ব্যতীত কোন দাসত্ব মুক্তি নেই, বিবাহ সম্পাদনের মাধ্যমে স্ত্রীর অধিকার অর্জন ব্যতীত তালাকু নেই। mdash;তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, বুখারী (রহঃ) হতে বর্ণিত, এ ব্যাপারে হাদীসের মধ্যে এটি সর্বাধিক সহীহ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১১৮১, আবূ দাউদ২১৯০, ইবনু মাজাহ ২০৪৭।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا, عَنْ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ, وَعَنِ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبُرَ, وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ, أَوْ يَفِيقَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ إِلَّا التِّرْمِذِيَّ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (600 - 101و 144)، وأبو داود (4398)، والنسائي (656)، وابن ماجه (2041)، وابن حبان (142)، والحاكم (2/ 59) بسند صحيح. وأيضا له شواهد أخرى مذكورة بالأصل
১০৮৫। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছেঃ ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়। -হাকিম সহীহ বলেছেন, ইবনু হিব্বানও বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৩৯৮, নাসায়ী ৩৪৩২, ইবনু মাজাহ ২০৪১, আহমাদ ২৪১৭৩, ২৪১৮২, দারেমী ২২৯৬।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ الرَّجُلِ يُطَلِّقُ, ثُمَّ يُرَاجِعُ, وَلَا يُشْهِدُ? فَقَالَ: أَشْهِدْ عَلَى طَلَاقِهَا, وَعَلَى رَجْعَتِهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا مَوْقُوفًا, وَسَنَدُهُ صَحِيحٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (2186)، ولفظه تاما: طلقت لغير سنة، وراجعت لغير سنة؛ أشهد على طلاقها، وعلى رجعتها، ولا تعد
১০৮৬। ‘ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ঐ লোক সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হলেন, যে ব্যক্তি তালাক দিয়ে রাজআত বা স্ত্রীকে ফেরত নেয় আর ফেরত নেয়ার কোন সাক্ষী রাখে না। তিনি বললেন, স্ত্রীর তালাকের ও তার রাজাআতের উপর সাক্ষী রাখবে; আবূ দাউদএরূপ মাওকুফ সানাদে বর্ণনা করেছেন, এ হাদীসের সানাদ সহীহ।[1]
ইমাম বায়হাক্বী এ শব্দে বর্ণনা করেছেন- ‘ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) এমন ব্যক্তি সম্বন্ধে তিনি জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন ‘যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ফেরত নেয়। কিন্তু ফেরত নেয়ার স্বাক্ষী করে রাখে না।
অতঃপর তিনি বলেছিলেনmdash;‘এটা সুন্নাত তরীকা নয়। বরং সে এখন তার সাক্ষী করে রাখুক। তাবারানী, অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত করেছেন যে, সে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ২১৮৬, ইবনু মাজাহ ২০২৫।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ, - أَنَّهُ لَمَّا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ، قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - لِعُمَرَ: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
১০৮৭। ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন- তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর পিতা) উমর (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তাকে (আবদুল্লাহ) হুকুম করুন সে যেন তার স্ত্রীকে ফেরত নেয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৪৯০৮, ৫২৫২, ৫২৫৩, ৫২৫৮, ৫৩৩২, ৫৩৩৩, মুসলিম ১০১৫, ১৪৭১, তিরমিযী ১১৭৫, ১১৭৬, নাসায়ী ৩৩৮৯, ৩৩৯০, ৩৩৯১, আবূ দাউদ ২১৭৯, ২১৮১, ২১৮২, ইবনু মাজাহ ২০১৯, ২০২২, আহমাদ ৩০৬, ৪৪৮৬, ৪৭৭৪, মালেক ১২২০, দারেমী ২২৬২, ২২৬৩।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: آلَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مِنْ نِسَائِهِ وَحَرَّمَ, فَجَعَلَ الْحَرَامَ حَلَالًا, وَجَعَلَ لِلْيَمِينِ كَفَّارَةً. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ, وَرُوَاتُهُ ثِقَاتٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه الترمذي (1201) من طريق مسلمة بن علقمة، أنبأنا داود بن أبي هند (ووقع في السنن: داود بن علي. وهو خطأ)، عن عامر الشعبي، عن مسروق، عن عائشة، به. وقال: «حديث مسلمة بن علقمة، عن داود. رواه علي بن مسهر وغيره: عن داود، عن الشعبي، أن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا. وليس فيه: عن مسروق، عن عائشة. وهذا أصح من حديث مسلمة بن علقمة». وابن مسهر أضبط وأتقن من مسلمة لا شك في ذلك، خاصة وأن مسلمة هناك من تكلم في حفظه فضلا عن روايته عن داود، فقد سئل الإمام أحمد عنه فقال: «شيخ ضعيف الحديث. حدث عن داود بن أبي هند أحاديث مناكير». قلت: وهذا منها، كما قال الذهبي في «الميزان» (409)
১০৮৮। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে (নিকটবর্তী না হবার জন্য) ‘ঈলা বা কসমও হারাম করেছিলেন। ফলে হালাল কাজকে হারাম করেছিলেন এবং তিনি এরূপ শপথ ভঙ্গ করার জন্য কাফফারা প্ৰদান করেছিলেন। --রাবীগুলো নির্ভরযোগ্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১২০১, ইবনু মাজাহ ২০৭২। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল ৮/২০০ গ্রন্থে বলেন, মাসলামা বিন আলকামা ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত। তিনি সহীহ ইবনু মাজাহ ১৬৯৮ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। ইমাম শাওকানী নাইলুল আওত্বার ৭/৫৬ গ্রন্থে এর সকল বর্ণনাকারীকে বিশ্বস্ত বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব তাঁর আল হাদীস ৪/১৬৬ গ্রন্থে বলেন, এটি মুরসাল হিসেবে সহীহ সানাদে বর্ণিত হয়েছে।