বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عِنْدِي دِينَارٌ قَالَ: «أَنْفِقْهُ عَلَى نَفْسِكَ». قَالَ: عِنْدِي آخَرُ قَالَ: «أَنْفِقْهُ عَلَى وَلَدِكَ». قَالَ: عِنْدِي آخَرُ قَالَ: «أَنْفِقْهُ عَلَى أَهْلِكَ». قَالَ: عِنْدِي آخَرُ, قَالَ: «أَنْفِقُهُ عَلَى خَادِمِكَ». قَالَ عِنْدِي آخَرُ, قَالَ: «أَنْتَ أَعْلَمَ». أَخْرَجَهُ الشَّافِعِيُّ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ وَالْحَاكِمُ بِتَقْدِيمِ الزَّوْجَةِ عَلَى الْوَلَدِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه الشافعي (2/ 63 - 64/ رقم 209)، وأبو داود (1691)، والنسائي (5/ 62)، والحاكم (1/ 415) من طريق محمد بن عجلان، عن المقبري، عن أبي هريرة، به. «تنبيه» هذا لفظ الشافعي. وزاد وحده أيضا: قال المقبري: ثم يقول أبو هريرة: إذا حدث بهذا الحديث: يقول ولدك: أنفق علي إلى من تكلني، تقول زوجتك: أنفق علي أو طلقني. يقول خادمك: أنفق علي أو بعني. وأما قول الحافظ في رواية النسائي والحاكم بتقديم الزوجة وعلى الولد فليس كذلك وإنما هذا للنسائي فقط، وأما الحاكم فهو كغيره بتقديم الولد على الزوجة
১১৪৯। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ কোন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললো: আমার কাছে একটা দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) রয়েছে। তিনি বললেন, তুমি ওটা তোমার জন্য ব্যবহার কর লোকটা বললো: আরো একটা আছে, তিনি বললেন, তুমি ওটা তোমার সন্তানের জন্য খরচ করা। লোকটি বললো, আমার কাছে আরো একটা আছে, তিনি বললেন, তুমি তা তোমার স্ত্রীর জন্য খরচ কর। লোকটি বললো: আমার নিকট আরো একটা আছে। তিনি বললেন, তুমি সেটা তোমাদের খাদিমের জন্য খরচ করো। লোকটি বললো, আমার নিকট আরো আছে। তিনি বললেন, সে প্রসঙ্গে তুমি বেশি জানো।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ১৬৯১, নাসায়ী ২৫৩৫, ৭৩৭১, আহমাদ ৭৩৭১, ৯৭৩৬। হাকিম (১ম খণ্ড ৪১৫ পৃষ্ঠা।) তবে নাসায়ী এবং হাকিমে সন্তানের পূর্বে স্ত্রীর খরচের কথাও আছে।
وَعَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَنْ أَبَرُّ قَالَ: «أُمَّكَ». قُلْتُ: ثُمَّ مِنْ قَالَ: «أُمَّكَ». قُلْتُ: ثُمَّ مِنْ قَالَ: «أُمَّكَ». قُلْتُ: ثُمَّ مِنْ قَالَ: «أَبَاكَ, ثُمَّ الْأَقْرَبَ فَالْأَقْرَبَ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَحُسَّنَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (5139)، والترمذي، (1897)، وقال الثاني: حديث حسن
১১৫০। বাহয তার পিতা হাকীম হতে, তিনি তার দাদা (রাঃ) হতে, তিনি বলেছেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণ সাধন করার ক্ষেত্রে কে উত্তম? তিনি বললেন, তোমার মা। তারপর কে? তিনি বলেন, তোমার মা। তারপর কে? বললেন: তোমার মা। তারপরে কে? বললেন তোমার পিতা। তারপর যে তোমার যত নিকটাত্মীয় সে তত তোমার কল্যাণের বেশি হক্বদার।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ৫১৩৯, তিরমিযী ১৮৯৭, আহমাদ ১৯৫২৪, ১৯৫৪৪।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ اِمْرَأَةً قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ ابْنِي هَذَا كَانَ بَطْنِي لَهُ وِعَاءً, وَثَدْيِي لَهُ سِقَاءً, وَحِجْرِي لَهُ حِوَاءً, وَإِنَّ أَبَاهُ طَلَّقَنِي, وَأَرَادَ أَنْ يَنْتَزِعَهُ مِنِّي. فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَنْتِ أَحَقُّ بِهِ, مَا لَمْ تَنْكِحِي». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (282)، وأبو داود (2276)، والحاكم (207)، من طريق عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده. وقال الحاكم: «هذا حديث صحيح الإسناد». قلت: وحسبه التحسين للكلام المعروف في هذا السند
১১৫১। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত; কোন এক রমণী এসে বললো: হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ পুত্রের জন্য আমার পেট তার আধার, আমার স্তনদ্বয় তার জন্য মশক, আমার কোলই তাঁর আশ্রয় স্থল ছিল। তার পিতা আমাকে ত্বলাক (তালাক) দিয়েছে এবং আমার নিকট হতে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার ইচ্ছা করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মেয়েটিকে বললেন, তুমিই এ সন্তানের (পালনের) অধিক হাক্বদার যতক্ষণ তুমি অন্য স্বামী গ্ৰহণ না করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ২২৭৬, আহমাদ ৬৬৬৮, হাকিম ২০৭।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ امْرَأَةً قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ زَوْجِي يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِابْنِي, وَقَدْ نَفَعَنِي, وَسَقَانِي مِنْ بِئْرِ أَبِي عِنَبَةَ فَجَاءَ زَوْجُهَا, فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «يَا غُلَامُ! هَذَا أَبُوكَ، وَهَذِهِ أُمُّكَ, فَخُذْ بِيَدِ أَيُّهُمَا شِئْتَ». فَأَخَذَ بِيَدِ أُمِّهِ, فَانْطَلَقَتْ بِهِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (246)، وأبو داود (2277)، والنسائي (685 - 186)، والترمذي (1357)، وابن ماجه (2351) ولفظ الترمذي: أن النبي صلى الله عليه وسلم خير غلاما بين أبيه وأمه. ولفظ ابن ماجه وأحمد، مثله، وزادا: «يا غلام هذا أبوك، وهذه أمك» وزاد أحمد: «اختر». وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح». وفي الحديث قصة عند أبي داود: قال أبو ميمونة: بينما أنا جالس مع أبي هريرة جاءته امرأة فارسية معها ابن لها، فادعياه، وقد طلقها زوجها، فقالت: يا أبا هريرة! ورطنت له بالفارسية، زوجي يريد أن يذهب بابني، فقال أبو هريرة: استهما عليه، ورطن لها بذلك، فجاء زوجها، فقال: من يحاقني في ولدي؟ فقال أبو هريرة: اللهم إني لا أقول هذا إلا أني سمعت امرأة جاءت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا قاعد عنده فقالت: يا رسول الله… الحديث. وفيه من قوله صلى الله عليه وسلم: «استهما عليه». قبل: تخيير الغلام
১১৫২। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; কোন এক রমণী বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্বামী আমার পুত্রকে নিয়ে যেতে চান আর ঐ পুত্র আমার উপকার করছে এবং ইনাবার কুয়া হতে আমাকে পানি এনে পান করাচ্ছে। তারপর তার স্বামী এসে গেল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে বৎস! এটা তোমার পিতা আর এটা তোমার মাতা, তুমি তাদের যে কোন একজনের হাত ধরা বালকটি তার মা-এর হাত ধরলো। ফলে তার মা তাকে নিয়ে চলে গেল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ২২৭৭, তিরমিযী ১৩৫৭, নাসায়ী ৩৪৯৬, আহমাদ ৯৪৭৯, দারেমী ২২৯৩।
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ سِنَانٍ; أَنَّهُ أَسْلَمَ, وَأَبَتِ امْرَأَتُهُ أَنْ تُسْلِمَ. فَأَقْعَدَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - الْأُمَّ نَاحِيَةً, وَالْأَبَ نَاحِيَةً, وَأَقْعَدَ الصَّبِيَّ بَيْنَهُمَا. فَمَالَ إِلَى أُمِّهِ, فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِهِ». فَمَالَ إِلَى أَبِيهِ, فَأَخَذَهُ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَالْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (2244)، والنسائي (685)، والحاكم (206 - 213) وقال الحاكم: حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه
১১৫৩। রাফি ইবনু সিনান (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি ইসলাম ক্ববুল করলেন আর তার স্ত্রী ইসলাম ক্ববুল করতে অস্বীকার করে। এরূপ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কাফিরা) মাকে এক প্রান্তে বসালেন এবং পিতাকে বসালেন এবং বালকটিকে দুজনের মাঝে বসালেন। বালকটি তার মার দিকে ঝুঁকে পড়তে আরম্ভ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে দুয়া করলেন, হে আল্লাহ! তাকে সঠিক পথের সন্ধান দাও। তারপর সে তার পিতার দিকে অগ্রসর হলো, ফলে তার পিতা তাকে ধরে নিলো।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ২২৪৪, আহমাদ ২৩২৪৫।
وَعَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَضَى فِي ابْنَةِ حَمْزَةَ لِخَالَتِهَا, وَقَالَ: «الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الْأُمِّ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو قطعة من حديث رواه البخاري (2699)
১১৫৪। বারা ইবনু আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযার কন্যা প্রসঙ্গে (দাবী উঠলে) খালার পক্ষে ফয়সালা দিলেন এবং বললেন, ‘খালা মায়ের স্থান অধিকারিণী।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১৭৮১, ১৮৪৪, ২৬৯৮, ৩১৮৪, ৪২৫৮, মুসলিম ১৭৮৩, তিরমিযী ৯৩৮, ১৯০৪, আর দাউদ ১৮৩২, আহমাদ ১৮০৭৪, ১৮০৯৫, দারেমী ২৫০৭।
وَأَخْرَجَهُ أَحْمَدُ: مِنْ حَدِيثِ عَلَيٍّ فَقَالَ: وَالْجَارِيَةُ عِنْدَ خَالَتِهَا, فَإِنَّ الْخَالَةَ وَالِدَةٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (770)
১১৫৫। ইমাম আহমাদ হাদীসটিকে আলি (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, তাতে আছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মেয়ে খালার নিকটে থাকবে, কেননা খালা মাতার সমতুল্য।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ৭৭২, আবূ দাউদ২২৭৮।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَتَى أَحَدَكُمْ خَادِمُهُ بِطَعَامِهِ, فَإِنْ لَمْ يُجْلِسْهُ مَعَهُ, فَلْيُنَاوِلْهُ لُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5460)، ومسلم (1663)، ولمسلم: (أُكلة أو أُكلتين) وهي أيضا للبخاري، وفسرها أحد رواة مسلم بـ: «لقمة أو لقمتين». وزاد البخاري: «فإنه ولي حره وعلاجه» ولمسلم: حره ودخانه
১১৫৬। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো খাদিম যখন তার খাবার নিয়ে আসে, তখন তাকে যদি সাথে না বসায় তাহলে সে যেন তাকে এক লুকমা বা দু লুকমা খাবার দেয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৫৫৭, মুসলিম ১৬৬৩, তিরমিযী ১৮৫৩, ইবনু মাজাহ ৩২৮৯, ৩২৯০, আহমাদ ৭২৯৩, ৭৪৬২, ৭৬৬৯, দারেমী ২০৭৩, ২০৭৪।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «عُذِّبَتْ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ سَجَنَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ, فَدَخَلْتِ النَّارَ فِيهَا, لَا هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَسَقَتْهَا إِذْ هِيَ حَبَسَتْهَا, وَلَا هِيَ تَرَكَتْهَا, تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3482)، ومسلم (2242)
১১৫৭। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মরে যায়। মহিলাটি ঐ কারণে জাহান্নামে গেল। কেননা সে বিড়ালটিকে খানা-পিনা কিছুই করাইনি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে যমীনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] উক্ত হাদীসটি মুসলিমের শব্দানুযায়ী বর্ণিত হয়েছে। কেননা বুখারীর বর্ণনায় يوم القيامة শব্দটির উল্লেখ নেই। বুখারী ২৩৬৫, ৩৩১৮, মুসলিম ২২৪২, দারেমী ২৮১৪।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ; يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ, وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ, إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ: الثَّيِّبُ الزَّانِي, وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ, وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ; الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6878)، ومسلم (1676)
১১৫৮। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সত্যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও এর প্রতি স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে এমন কোন মুসলিমের জীবননাশ বৈধ নয়, তবে যদি সে তিনটি অপরাধের কোন একটি করে বসে (১) বিবাহিত হওয়ার পর যিানা (ব্যভিচার) করে (২) অন্যায়ভাবে কারো জীবন নাশ করে, (৩) ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতঃ মুসলিমের জামাআত হতে যে দূরে চলে যায়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৮৭৮, মুসলিম ১৬৭৬, তিরমিযী ১৪০২, নাসায়ী ৪০১৬, আর দাউদ ৪৩৫২, ইবনু মাজাহ ২৫৩৪, আহমাদ ৩৬১৪, ৪০৫৫ দারেমী ২২৯৮, ২৪৪৭।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا, عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يَحِلُّ قَتْلُ مُسْلِمٍ إِلَّا فِي إِحْدَى ثَلَاثِ خِصَالٍ: زَانٍ مُحْصَنٌ فَيُرْجَمُ, وَرَجُلٌ يَقْتُلُ مُسْلِمًا مُتَعَمِّدًا فَيُقْتَلُ, وَرَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ الْإِسْلَامِ فَيُحَارِبُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ, فَيُقْتَلُ, أَوْ يُصْلَبُ, أَوْ يُنْفَى مِنَ الْأَرْضِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4353)، والنسائي (7/ 91)، والحاكم (4/ 367)
১১৫৯। আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল, তবে তিন-তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। (যথা) বিবাহিত ব্যভিচারী, জানের বদলে জান, আর নিজের দীন ত্যাগকারী মুসলিম জামাআত থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া ব্যক্তি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৩৫৩, নাসায়ী ৪০১৬, ৪০১৭, ৪০৪৮, আহমাদ ২৩৭৮৩, ২৫১৭২।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (6533)، ومسلم (1678) واللفظ لمسلم، إذ البخاري ليس عنده اللفظ: يوم القيامة
১১৬০। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিবসে মানুষের হক্ব প্রসঙ্গে সবার আগে খুনের বিচার করা হবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৬৮৬৪, মুসলিম ১৬৭৮, তিরমিযী ১৩৯৬, ১৩৯৭, নাসায়ী ৩৯৯১, ৩৯৯২, ইবনু মাজাহ ২৬১৫, ২৬১৭, আহমাদ ৩৬৬৫, ৪১৮৮, ৪২০১।
وَعَنْ سَمُرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ, وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ سَمُرَةَ, وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي سَمَاعِهِ مِنْهُ
وَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ: «وَمَنْ خَصَى عَبْدُهُ خَصَيْنَاهُ». وَصَحَّحَ الْحَاكِمُ هَذِهِ الزِّيَادَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (50 و 11 و 12 و 18 و 19)، وأبو داود (4515)، والنسائي (81)، والترمذي (1414)، وابن ماجه (2663) من طريق الحسن، عن سمُرة، به. وليس الأمر هنا إثباتَ أسَمِعَ الحسن من سمُرة أم لا؟ فهو لا شك قد ثبت سماعه منه، ولكنه رحمه الله كان يدلس، فلا يقبل من حديثه إلا ما صرح فيه بالسماع، وهو ما لا يوجد هنا. «فائدة»: في رواية الإمام أحمد (50) بالإسناد الصحيح التصريح بأن الحسن لم يسمع هذا الحديث من سمرة
ضعيف أيضا. وهذه الرواية عند أبي داود (4516)، والنسائي (80 - 21)، والحاكم (4/ 367 - 368) وعلته كعلة سابقة
১১৬১। সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করবে আমরা তাকে হত্যা করব, যে তার দাসের নাক কান কাটবে আমরা তার নাক কান কেটে নেব।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫১৫, ৪৫১৮, তিরমিযী ১৪১৪, নাসায়ী ৪৭৩৬, ৪৭৩৭, ইবনু মাজাহ ২৬৬৩, আহমাদ ১৯৫৯৮, ১৯৬১৪, দারেমী ২৩৫৮। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনানে কুবরায় ৮/৩৫ গ্রন্থে একে যঈফ বলেছেন। আর তিনি সুনানে সুগরার ৩/২১০ গ্রন্থে বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মুঈন ও শুবা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন সামুরা থেকে হাসান এর শ্রবণ করাকে। শাইখ আলবানী তাঁর তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৪০৪ গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ৪/১৯৩ গ্রন্থে বলেন, হাসান পর্যন্ত সানাদ সহীহ, মুহাদ্দিসগণ সামুরা থেকে হাসানের এ হাদীসটি শোনার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম শাওকানী তাঁর আদদিরারী আল মাযীয়্যাহ ৪১১ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে দুর্বলতা রয়েছে, কেননা হাসান এটি সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি নাইলুল আওত্বার ৭/১৫৬ গ্রন্থে এর সানাদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ আবূ দাউদ৪৫১৫, যঈফ নাসায়ী ৪৭৬৭, যঈফ তিরমিযী ১৪১৪ গ্রন্থসমূহে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনে উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২২৯ গ্রন্থে বলেনঃ একে বিচ্ছিন্নতার দোষে দুষ্ট করা হয়েছে। সঠিক হলো মুত্তাসিল।
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا يُقَادُ الْوَالِدُ بِالْوَلَدِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْجَارُودِ وَالْبَيْهَقِيُّ, وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: إِنَّهُ مُضْطَرِبٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بطرقه وشواهده. رواه أحمد (12 و 49)، والترمذي (1400)، وابن ماجه (2662)، وابن الجارود (788)، والبيهقي (8/ 38)
১১৬২। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সন্তানের হত্যার বদলে পিতাকে হত্যা করা যাবে না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী ১৪৮০, আবূ দাউদ২৮৫৮। ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনানে ১৪০০, ইমাম বাগাবী তাঁর শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৯৪ গ্রন্থে এর সানাদে ইযতিরাব সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাত্ত্বান তাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম ৩/৩৬৪ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে হাজ্জাজ বিন আরত্বআহ নামক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। মুহাম্মাদ বিন আবদুল হাদী তাঁর তানকীহ তাহকীকুত তালীক ৩/২৬০ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে হাজ্জাজ সম্পর্কে ইবনুল মুবারক বলেন, সে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাব্দলীস করত। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম ৩/৩৬৪ গ্রন্থে উক্ত রাবীকে ইযতিরাবের দোষে অভিযুক্ত করেছেন। ইবনে উসাইমীন তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫ম খণ্ড ২৩০ পৃষ্ঠায় একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর ৪/১৩১৪ গ্রন্থে হাজ্জাজ বিন আরত্বআর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, এর আরো কয়েকটি সানাদ রয়েছে। বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৬৫০ গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহ তিরমিযী ১৪০০ ও সহীহুল জামে ৭৭৪৪ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ: قُلْتُ لَعَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ مِنَ الْوَحْيِ غَيْرَ الْقُرْآنِ? قَالَ: لَا، وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النِّسْمَةَ, إِلَّا فَهْمٌ يُعْطِيهِ اللَّهُ رَجُلًا فِي الْقُرْآنِ, وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ. قُلْتُ: وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ قَالَ: الْعَقْلُ, وَفِكَاكُ الْأَسِيرِ, وَلَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (111)، وانظر أطرافه
১১৬৩। আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ)-কে বললাম, আপনাদের নিকট কি কিছু লিপিবদ্ধ আছে? তিনি বললেন, ‘না, শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আর একজন মুসলিমকে যে জ্ঞান দান করা হয় সেই বুদ্ধি ও বিবেক। এছাড়া কিছু এ সহীফাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি [আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)] বলেন, আমি বললাম, এ সহীফাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, ‘ক্ষতিপূরণ ও বন্দী মুক্তির বিধান, আর এ বিধানটিও যে, ‘কোন মুসলিমকে কাফির হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৮০, ৬৭৫৫, মুসলিম ১৩৭০, তিরমিযী ১৪১২, ২১২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৫৫, আবূ দাউদ ২০৩৪, ৪৫৩০, ইবনু মাজাহ ২৬৫৮, আহমাদ ৬০০, ৬১৬, ৭৮৪, ৮০০, দারেমী ২৩৫৬।
وَأَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ: مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ عَلِيٍّ وَقَالَ فِيهِ: «الْمُؤْمِنُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ, وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ, وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ, وَلَا يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ, وَلَا ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ». وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (122)، وأبو داود (4530)، والنسائي (89 - 20) وزادوا جميعا: ومن أحدث حدثا أو آوى محدثا، فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين
১১৬৪। অন্য সূত্রে (সানাদে) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, মুমিন মুসলিমগণ তাদের রক্তের বদলার ব্যাপারে সমান। একজন অতি সাধারণ মুসলিমের (কোন কাফির শত্রুকে) আশ্রয় দান সকল মুসলিমের নিকটে সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমের হাত অন্য সকল মুসলিমেরও হাত; (অর্থাৎ তারা একটি সংঘবদ্ধ শক্তি) কোন মুমিনকে কাফির হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না, আর কোন চুক্তিবদ্ধ (অমুসলিমকেও) চুক্তি বহাল থাকা পর্যন্ত হত্যা করা যাবে না।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৮০, ৬৭৫৫, মুসলিম ১৩৭০, তিরমিযী ১৪১২, ২১২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৫৫, আর দাউদ ২০৩৪, ৪৫৩০, ইবনু মাজাহ ২৬৫৮, আহমাদ ৬০০, ৬১৬, ৭৮৪, ৮০০, দারেমী ২৩৫৬। নাসায়ীর বর্ণনায় আরো রয়েছে, ومن أحدث حدثا أو آوى محدثا، فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين যে ব্যক্তি কোন বিদ’আত বা দীনের মধ্যে নতুন বিষয় আবিষ্কার করবে বা কোন বিদ’আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের লা’নত।
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ جَارِيَةً وُجِدَ رَأْسُهَا قَدْ رُضَّ بَيْنَ حَجَرَيْنِ, فَسَأَلُوهَا: مَنْ صَنَعَ بِكِ هَذَا? فُلَانٌ. فُلَانٌ. حَتَّى ذَكَرُوا يَهُودِيًّا. فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا, فَأُخِذَ الْيَهُودِيُّ, فَأَقَرَّ, فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يُرَضَّ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (2413)، ومسلم (1672) (17)
১১৬৫। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত; কোন এক দাসীর মস্তক দুটি পাথরের মধ্যে থেতলানো পাওয়া যায়, তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমাকে এরূপ করেছে? অমুক ব্যক্তি, অমুক ব্যক্তি? যখন জনৈক ইয়াহুদীর নাম বলা হল- তখন সে দাসী মাথার দ্বারা হ্যাঁ সূচক ইশারা করল। ইয়াহুদীকে ধরে আনা হল। সে অপরাধ স্বীকার করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তখন তার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে পিষে দেয়া হল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ২৪১৩, ২৭৪৬, ৬৮৭৬, ৬৮৭৭, মুসলিম ১৬৭২, তিরমিযী ১৩৯৪, নাসায়ী ৪৭৪০, ৪৭৪১, আর দাউদ ৪৫২৭, ৪৫২৮, ৪৫২৯, ইবনু মাজাহ ২৬৬৫, ২৬৬৬, আহমাদ ১২২৫৬, ১২৩৩০, দারেমী ২৩৫৫।
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ - رضي الله عنه: أَنَّ غُلَامًا لِأُنَاسٍ فُقَرَاءَ قَطَعَ أُذُنَ غُلَامٍ لِأُنَاسٍ أَغْنِيَاءَ, فَأَتَوا النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمْ شَيْئًا. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالثَّلَاثَةُ, بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 438)، وأبو داود (4590)، والنسائي (85 - 26) «تنبيه»: عزو الحافظ الحديثَ للثلاثة وَهْمٌ منه رحمه الله تعالى، إذ لم يروه الترمذي، ولا نسبه له المزي في «التحفة» ولا النابلسي في الذخائر
১১৬৬। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত; গরীব লোকেদের কোন এক ছেলে ধনী লোকেদের কোন এক বালকের কান কেটে ফেলে। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে বিচার প্রার্থী হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য কোন দিয়াত দেয়ার ব্যবস্থা করেননি। (তাদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ সম্ভব ছিল না বলে)।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবূ দাউদ ৪৫৯০, নাসায়ী ৪৭৫১, নাসায়ী ৪৭৫১, দারেমী ২৩৬৮।
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ; - رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلًا طَعَنَ رَجُلًا بِقَرْنٍ فِي رُكْبَتِهِ, فَجَاءَ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: أَقِدْنِي. فَقَالَ: «حَتَّى تَبْرَأَ». ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: أَقِدْنِي, فَأَقَادَهُ, ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عَرِجْتُ, فَقَالَ: «قَدْ نَهَيْتُكَ فَعَصَيْتَنِي, فَأَبْعَدَكَ اللَّهُ, وَبَطَلَ عَرَجُكَ». ثُمَّ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «أَنْ يُقْتَصَّ مِنْ جُرْحٍ حَتَّى يَبْرَأَ صَاحِبُهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَأُعِلَّ بِالْإِرْسَالِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أحمد (217)، والدارقطني (3/ 88)، وإعلاله بالإرسال لا يضره إذ له شواهد يصح بها. وقال الصنعاني: «في معناه أحاديث تزيده قوة». وقال ابن التركماني (8/ 67): روي من عدة طرق يشد بعضها بعضا
১১৬৭। আমর, তিনি তার পিতা শুআইব (রাঃ) হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কোন এক লোক অন্য এক লোকের হাঁটুতে শিং দ্বারা আঘাত করে। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললোঃ আমার বদলা নিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি ক্ষত সেরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। লোকটি কিন্তু (সেরে যাওয়ার আগেই)। আবার এসে বললো: আমার জখমের মূল্য বা খেসারত আদায় করে দিন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার খেসারত আদায় করে দেন। তারপর লোকটি এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো খোঁড়া হয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম তুমি তা মাননি। ফলে আল্লাহ তোমাকে (তাঁর রহমত হতে) দূর করে দিয়েছেন এবং তোমার খোড়াত্ব বাতিল হয়ে গেছে। (দিয়াত আদায়ের যোগ্য রাখেননি)। এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জখম আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত জখমী লোকের পক্ষে কোন বদলা আদায়ের ফয়সালা দিতে নিষেধ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ ২১৭, দারাকুতনী ৩/৮৮ এর সানাদে ইরসালের দোষ থাকলেও তা ক্ষতিকর নয়, কেননা অনেকগুলো শাহেদ থাকার কারণে এটি সহীহর পর্যায়ভুক্ত। ইমাম সনআনী বলেন, এর সমার্থক হাদীস থাকার কারণে এটিকে শক্তিশালী করেছে। ইবনু তুর্কমান বলেন, ৮/৬৭, অনেক সানাদে বর্ণিত বলে একে অপরকে শক্তিশালী করেছে।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: اقْتَتَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ هُذَيْلٍ, فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى بِحَجَرٍ, فَقَتَلَتْهَا وَمَا فِي بَطْنِهَا, فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنَّ دِيَةَ جَنِينِهَا: غُرَّةٌ; عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ, وَقَضَى بِدِيَةِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَاقِلَتِهَا. وَوَرَّثَهَا وَلَدَهَا وَمَنْ مَعَهُمْ. فَقَالَ حَمَلُ بْنُ النَّابِغَةِ الْهُذَلِيُّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! كَيْفَ يَغْرَمُ مَنْ لَا شَرِبَ, وَلَا أَكَلَ, وَلَا نَطَقَ, وَلَا اسْتَهَلَّ, فَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا هَذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكُهَّانِ» ; مِنْ أَجْلِ سَجْعِهِ الَّذِي سَجَعَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (5758)، ومسلم (1681) (36) واللفظ لمسلم
১১৬৮। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হুযাইল গোত্রের দুজন মহিলা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্যজনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের বাচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তিনি ফায়সালা দেন যে, এর পেটের সন্তানের বদলে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দিতে হবে। আর নিহত মেয়েটির জন্য হত্যাকারিণীর আসাবাগণের (অভিভাবকদের) উপর দিয়াত (একশত উট) দেয়ার নির্দেশ দেন এবং এ দিয়াতের ওয়ারিসদের মধ্যে নিহত মহিলার সন্তান ও তাদের সঙ্গে অন্য যারা অংশীদার রয়েছে তাদের শামিল করেন। এরূপ ফায়সালার জন্য হামাল বিন নাবিগাহ আল-হুযালী বলল: হে আল্লাহর রসূল! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন হবে, যে পান করেনি, খাদ্য খায়নি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছন্দযুক্ত কথার জন্য তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ এ তো (দেখছি) গণকদের ভাই।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৭৫৮, ৫৭৬০, ৬৭৪০, ৬৯০৪, মুসলিম ১৬৮১, তিরমিযী ১৪১০, ২১১১, নাসায়ী ৪৮১৭, ৪৮১৯, আর দাউদ ৪৫৭৬, ইবনু মাজাহ ২৬৩৯, আহমাদ ৭১৭৬, ৭৬৪৬, ২৭২১২, মালেক ১৬০৮, ১৬০৯, দারেমী ২৩৮২।