হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (141)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ شَكَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - الدَّمَ, فَقَالَ: «اُمْكُثِي قَدْرَ مَا كَانَتْ تَحْبِسُكِ حَيْضَتُكِ, ثُمَّ اغْتَسِلِي»، فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ كُلَّ صَلَاةٍ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (334) (66)




১৪১। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মু হাবিবাহ বিনতু জাহাশ তাঁর রক্তস্রাবের সমস্যার বিষয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে ব্যক্ত করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, ‘তুমি এ সমস্যা দেখা দেয়ার পূর্বে তোমার হায়িযের জন্য যে কদিন অপেক্ষা করতে সে কদিন তুমি হায়িযের বিধি নিষেধ মেনে চলবে। তারপর গোসল করবে। তারপর থেকে উম্মু হাবিবাহ প্রত্যেক সালাতের জন্যই গোসল করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬৬, ৩৩৪









বুলূগুল মারাম (142)


وَفِي رِوَايَةٍ لِلْبُخَارِيِّ: «وَتَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ». وَهِيَ لِأَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح




১৪২। বুখারীর বর্ণনায় আছে, ‘প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করবে। এ বর্ণনাটি আবূ দাউদে ও অন্যান্য কিতাবেও এই সানাদে রয়েছে।












বুলূগুল মারাম (143)


وَعَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: كُنَّا لَا نَعُدُّ الْكُدْرَةَ وَالصُّفْرَةَ بَعْدَ الطُّهْرِ شَيْئًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ, وَأَبُو دَاوُدَ وَاللَّفْظُ لَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو موقوف. رواه البخاري (326)، وأبو داود (307)




১৪৩. উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা হায়িযের পর হলদে ও মেটে রঙের রক্তকে কিছুই মনে করতাম না। এ শব্দ বিন্যাস আবূ দাউদের।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাদীসটি মাওকুফ। বুখারী ৩২৬; আবু দাউদ ৩০৭









বুলূগুল মারাম (144)


وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه: أَنَّ الْيَهُودَ كَانُوا إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ لَمْ يُؤَاكِلُوهَا, فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «اصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا النِّكَاحَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (302) ولفظه: عن أنس؛ أن اليهود كانوا إذا حاضت المرأة فيهم، لم يؤاكلوها، ولم يجامعوهن في البيوت، فسأل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم النبي صلى الله عليه وسلم، فأنزل الله تعالى: (وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ) إلى آخر الآية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اصنعوا كل شيء إلا النكاح» فبلغ ذلك اليهود، فقالوا: ما يريد هذا الرجل أن يدع من أمرنا شيئا إلا خالفنا فيه. فجاء أسيد بن حضير وعباد بن بشر فقالا: يا رسول الله! إن اليهود تقول: كذا وكذا. فلا نجامعهن؟ فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظننا أن قد وجد عليهما، فخرجا، فاستقبلهما هدية من لبن إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فأرسل في آثارهما، فسقاهما، فعرفا أن لم يجد عليهما. ومعنى «وجد»: غضب




১৪৪৷ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়াহুদী লোকেরা তাদের হায়িযা স্ত্রীর সাথে পানাহার করা পরিত্যাগ করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা (কেবল) যৌন মিলন ছাড়া (যথারীতি) তাদের সঙ্গে সবই করবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৩০২; শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, ইহুদীদের নারীরা যখন হায়েযা হয়ে পড়ত তখন তারা তাদের সাথে পানাহার করতো না, তাদের সাথে একঘরে বসবাস করতো না। সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে (وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ) "তারা তোমার কাছে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও যে, তা হলো নাপাক। সুতরাং হায়িয অবস্থায় তোমরা মহিলাদের থেকে পৃথক থাক... আয়াতটি নাযিল হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম ব্যাতিত সবকিছুই করবে। এ কথাটি ইহুদীদের নিকট পৌঁছে গেল। ফলে তারা বললো যে, এ লোকটির উদ্দেশ্য কী যে, আমরা যা করি তার বিপরীত করে বসে। অতঃপর (তাদের এ কথা শুনে) উসাইদ বিন হুযাইর (রাঃ) এবং ইবাদ বিন বাশার (রাঃ) এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীরা এমন এমন কথা বলেছে; তাহলে আমরা কি আমাদের স্ত্রীদের সাথে এমতাবস্থায় সঙ্গম করব? তাদের উভয়ের এ কথা শ্রবণ করতঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল এমনটি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের তাদের উপর রাগাম্বিত হয়েছেন। তারপর তারা দুজনে সেখান থেকে বের হয়ে গেল। ইতোমধ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দুধ হাদিয়া আসলো। তিনি তাদেরকে ডেকে পাঠালেন। (তারা এলে) তিনি তাদেরকে দুধ পান করালেন তখন তারা বুঝল যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উপর রাগ করেন নি।









বুলূগুল মারাম (145)


وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَأْمُرُنِي فَأَتَّزِرُ, فَيُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (300)، ومسلم (293)، واللفظ للبخاري




১৪৫৷ ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হায়িয চলাকালীন সময়ে আমাকে ইযার (লুঙ্গি বিশেষ) পরতে বলতেন। আমি তাই করতাম তারপর তিনি আমার সাথে হায়িয অবস্থায় (যৌন মিলন ব্যতীত) প্ৰেমময় আলিঙ্গন করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩০০; মুসলিম। ২৯৩ শব্দ বিন্যাস বুখারীর।









বুলূগুল মারাম (146)


وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا, عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ - قَالَ: «يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ, أَوْ نِصْفِ دِينَارٍ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ وَابْنُ الْقَطَّانِ, وَرَجَّحَ غَيْرَهُمَا وَقْفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح مرفوعا. باللفظ الذي ذكره الحافظ فقط. رواه أبو داود (264)، والنسائي (153)، والترمذي (136)، وابن ماجه (640)، وأحمد (172)، والحاكم (172)




১৪৬। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর হায়িয অবস্থায় তার সাথে যৌন মিলন করবে তার বিধান সম্বন্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ঐ ব্যক্তি যেন এক দিনার (স্বর্ণ মুদ্রা) বা অর্ধ দিনার খয়রাত (দান) করে। ইবনু হিব্বান ও হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর অন্য মুহাদ্দিসগণ-এর মাওকুফ হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাফেজ ইবনু হাজার যে শব্দে উল্লেখ করেছেন কেবল সেই শব্দে হাদীসটি মারফু' হিসেবে সহীহ। আবু দাউদ ২৬৪; নাসায়ী ১৫৩; তিরমিযী ১৩৬; ইবনু মাজাহ ৬৪; আহমাদ ১৭২, ১৭৩









বুলূগুল মারাম (147)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ?». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ فِي حَدِيثٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (304)، وهو بتمامه: عن أبي سعيد الخدري، قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في أضحى أو فطر إلى المصلي، فمر على النساء فقال: «يا معشر النساء تصدقن، فإني أريتكن أكثر أهل النار» فقلن: وبم يا رسول الله؟ قال: «تكثرن اللعن، وتكفرن العشير، ما رأيت من ناقصات عقل ودين وأذهب للب الرجل الحازم من إحداكن» قلن: وما نقصان ديننا وعقلنا يا رسول الله؟ قال: «أليس شهادة المرأة مثل نصف شهادة الرجل؟» قلن: بلى. قال: «فذلك من نقصان عقلها». «أليس إذا حاضت لم تصل ولم تصم» قلن: بلى. قال: «فذلك من نقصان دينها». وأما مسلم فقد ساق سنده برقم (80) ولم يسق لفظه، وأعاده (889) بلفظ آخر ليس فيه محل الشاهد، ولذلك يدخل هذا الحديث في أوهام الحافظ رحمه الله. ثم رأيته قال في «النكت الظراف» (3/ 440): «والواقع أن مسلما لم يسق لفظه أصلا




১৪৭। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হায়িয চলাকালীন সময়ে মেয়েরা কি সালাত ও সওম থেকে বিরত থাকে না? (অর্থাৎ বিরত থাকতে হয়।) এটি দীর্ঘ একটি হাদীসের খণ্ডাংশ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩০৪ পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি হচ্ছে- আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, হে মহিলা সমাজ! তোমরা সাদাকা করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে, হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ক্রটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তাঁরা বললেনঃ আমাদের দীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তাঁরা উত্তর দিলেন, ‘হাঁ'। তখন তিনি বললেন, এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, ‘হাঁ। তিনি বললেন এ হচ্ছে তাদের দীনের ত্রুটি।









বুলূগুল মারাম (148)


وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: لَمَّا جِئْنَا سَرِفَ حِضْتُ, فَقَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «اِفْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ, غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ فِي حَدِيثٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (305)، ومسلم (1211) (120)




১৪৮। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা হজ্জ ব্ৰত পালন করার উদ্দেশ্যে যখন সারিফা নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছলাম তখন আমার ঋতুস্রাব শুরু হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কাবা তাওয়াফ ব্যতীত হাজীরা যা যা করে তুমিও তাই কর।” এটি দীর্ঘ একটি হাদীসের খণ্ডাংশ।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৩০৫; মুসলিম ১২০, ১২১১









বুলূগুল মারাম (149)


وَعَنْ مُعَاذٍ - رضي الله عنه - أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم: مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنِ اِمْرَأَتِهِ, وَهِيَ حَائِضٌ? قَالَ: «مَا فَوْقَ الْإِزَارِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَضَعَّفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (213) وتضعيف أبي داود رحمه الله في محله، ولكنه ينصب على حديث معاذ، إذ إسناده ضعيف، وفيه زيادة وهي قوله: «والتعفف عن ذلك أفضل» وهي زيادة منكرة. وتصحيحي للحديث إنما هو للجملة التي ذكرها الحافظ فقط، إذ يوجد ما يشهد لها كما هو مذكور «بالأصل». والله أعلم




১৪৯। মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হায়িয অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে কি কি কাজ হালাল বা বৈধ? তিনি বললেন, ‘পাজামা বা লুঙ্গির মধ্যে শরীরের যে অংশটুকু থাকে তা বাদে সবকিছু বৈধ। আবূ দাউদ এটিকে যঈফ (দুর্বল) রূপে বর্ণনা করেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ২১৩। বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১৪৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে সা'দ বিন আবদুল্লাহ আল আগত্বাস রয়েছে যাকে হাদীস বর্ণনায় লীন (অপরিপক্ক) বলা হয়েছে, অপর একজন বর্ণনাকারী বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ, সে আন আন করে হাদীস বর্ণনাকারী মুদাল্লিস। এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তবে আবদুল্লাহ সাদ আল আসনারী থেকে হাসান সনদে এর শাহেদ হাদীস রয়েছে। শাইখ আলবানী উক্ত আবদুল্লাহ সাদ আল আসনারী বর্ণিত হাদীসটিকে সহীহ আবু দাউদ (২১২) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (150)


وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَتِ النُّفَسَاءُ تَقْعُدُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - بَعْدَ نِفَاسِهَا أَرْبَعِينَ. رَوَاهُ الْخَمْسَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَاللَّفْظُ لِأَبِي دَاوُدَ
وَفِي لَفْظٍ لَهُ: وَلَمْ يَأْمُرْهَا النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِقَضَاءِ صَلَاةِ النِّفَاسِ. وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (311)، والترمذي (139)، وابن ماجه (648)، وأحمد (6/ 300) وقال الترمذي: غريب
ضعيف. كسابقه، وهو عند أبي داود (312)، والحاكم (175)




১৫০। উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে নিফাসের (প্রসবোত্তর স্রাব) জন্য (দীর্ঘ মেয়াদ হিসাবে) মেয়েরা চল্লিশ দিন (সালাত ও সওম ইত্যাদি হতে) অপেক্ষমান থাকতেন”। শব্দ বিন্যাস আবূ দাউদের।[1]



আবূ দাউদের শব্দে আরও আছে, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিফাসের অবস্থায় সালাত কাযা পড়বার আদেশ তাদের করতেন না। হাকিম হাদীসটি সহীহ বলেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ৩১১; তিরমিযী ১৩৯; ইবনু মাজাহ ৬৪৮; আহমাদ ৬/৩০০; ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীসটি গরীব'। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনান আল কুবরা গ্রন্থে (১/৩৪১) বলেন, হাদীসটি মাহফুয বা সংরক্ষিত নয়। ইবনুল কীসরানী তাঁর মা’রিফাতুত তাযকিরাহ (১৮০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে কাসীর বিন যিয়াদ রয়েছে, সে কিছু হাদীস এলোমেলোভাবে বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে শাইখ আলবানী সহীহ আবু দাউদ (৩১১) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (৩/১৩১) গ্রন্থে ও বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম (১৪৫) গ্রন্থে এর শাহেদ থাকার কথা বলেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর যাদুল মা'আদ (৪/৩৬৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল (২০১) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর ইলালুল কাবীর (১২৬) গ্রন্থে বলেন, আশাকরি হাদীসটি মাহফূয।

[2] যঈফ। আবু দাউদ ৩১২; হা. ১৭৫









বুলূগুল মারাম (151)


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتْ الشَّمْسُ, وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ, وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبْ الشَّفَقُ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ, وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعْ الشَّمْسُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (612) (173)، وتمامه: «فإذا طلعت الشمس فأمسك عن الصلاة، فإنها تطلع بين قرني شيطان». وله ألفاظ أخر




১৫১। আবদুল্লাহ বিন ‘আমর (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যুহরের সময় হচ্ছে, যখন সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ে, আর মানুষের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত, তথা ‘আসরের সময় উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত। ‘আসরের সময় হচ্ছে, (কোন বস্তুর ছায়া তার সমান হবার পর হতে) সূর্যের রঙ হালকা বা ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত। মাগরিবের সময় সূর্যাস্ত থেকে আরম্ভ করে পশ্চিমকাশে লালিমা নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত। ‘ইশার, সালাতের সময় হলো, (মাগরিবের সময় শেষ হওয়া থেকে শুরু হয়ে) মধ্যরাত অবধি বিদ্যমান থাকে। ফজরের সময়, সুবহে সাদিক থেকে আরম্ভ হয়ে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ১৭৩, ৬১২; পূর্ণাঙ্গ হাদীস হচ্ছেঃ فإذا طلعت الشمس فأمسك عن الصلاة، فإنها تطلع بين قرني شيطان যখন সূর্য উদিত হয় তখন সালাত থেকে বিরত থাকো। কেননা সূর্য শয়তানের দু’ শিংয়ের মাঝ দিয়ে উদিত হয়।









বুলূগুল মারাম (152)


وَلَهُ مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ فِي الْعَصْرِ: وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (613) وعنده: «والشمس مرتفعة ... ». ومعنى «بيضاء نقية»: أي: لم يدخلها شيء من الصفرة، وفي الحديث السابق: ما لم تصفر الشمس




১৫২। মুসলিমে বুরাইদাহ (রাঃ)-এর হাদীসে আসর সম্পর্কে রয়েছে (সূৰ্য আলোক উজ্জ্বল থাকা পর্যন্ত)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬১৩; ইমাম মুসলিমের মতে والشمس مرتفعة এর অর্থ يضاء نقية অর্থাৎ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার সাদা। তথা তাতে হলদে রঙয়ের কোন মিশ্রণ থাকবে না। আর পূর্ববতী হাদীসে রয়েছে ما لم تصفر الشمس অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য হলুদাভ না হয়।









বুলূগুল মারাম (153)


وَمِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (614) من حديث طويل، وفيه: «ثم أمره، فأقام بالعصر




১৫৩। আর আবূ মূসা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, এবং সূর্য উঁচুতে থাকা পর্যন্ত (‘আসরের সময় থাকে)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬১৩ এটা বড় একটি হাদীসের অংশ বিশেষ। তাতে আছে- তাকে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আসরের সালাত আদায় করলেন।









বুলূগুল মারাম (154)


وَعَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّيَ الْعَصْرَ, ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ, وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ مِنَ الْعِشَاءِ, وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا, وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ, وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (547)، ومسلم (647) واللفظ للبخاري. و «رحله»: بفتح الراء وسكون الحاء المهملة «مسكنة». و «حية»: أي بيضاء نقية كما في الرواية السابقة، وصح عن أحد التابعين قوله: حياتها أن تجد حرها. و «ينفتل»: أي: ينصرف




১৫৪। আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের সালাত আদায় করতেন তার পর আমাদের কোন ব্যক্তি রওয়ানা হয়ে মাদীনার দূর প্রান্তের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও সূর্য জীবিত তথা সূর্যের উজ্জ্বলতা বাকী থাকতো। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত দেরিতে আদায় করা পছন্দ করতেন এবং ‘ইশা সালাতের পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলাকে অপছন্দ করতেন। আর তিনি ফজরের সালাত আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যখন লোক তার পাশে বসে থাকা সঙ্গীকে চিনতে পারত। আর ষাট আয়াত থেকে একশো আয়াত তিলাওয়াত করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৪৭; মুসলিম ৬৪৭। শব্দ বিন্যাস বুখারীর। এখানে رحله শব্দটির র (ر) অক্ষরে যাবার হা (ح) অক্ষরে সাকিন সহ পড়তে হবে। حية অর্থাৎ স্বচ্ছ পরিস্কার সাদা যেমন পূর্ববতী বৰ্ণনায় রয়েছে। আর একজন তাবেয়ী হতে তার এ কথাটি সহীহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে حياتها أن تجد حرها সূর্য জীবিত থাকার অর্থ হচ্ছে সূর্যে উত্তাপ পাওয়া।









বুলূগুল মারাম (155)


وَعِنْدَهُمَا مِنْ حَدِيثِ جَابِرٍ: وَالْعِشَاءُ أَحْيَانًا وَأَحْيَانًا: إِذَا رَآهُمْ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ, وَإِذَا رَآهُمْ أَبْطَئُوا أَخَّرَ, وَالصُّبْحَ: كَانَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (560)، ومسلم (646)، واللفظ للبخاري ولفظ مسلم: والعشاء أحيانا يؤخرها، وأحيانا يعجل




১৫৫। বুখারী ও মুসলিমে জাবির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে- ‘ইশার সালাত কখনও দ্রুত কখনও দেরীতে পড়তেন। যখন দেখতেন লোক একত্রিত হয়ে গেছে তখন তাড়াতাড়ি করতেন। আর তারা বিলম্বে উপস্থিত হলে বিলম্বেই আদায় করতেন। আর তিনি ফজরের সালাত খানিকটা অন্ধকারে আদায় করতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৬০; মুসলিম ৬৪৬ শব্দবিন্যাস বুখারীর। মুসলিমের বর্ণনায় আছে والعشاء أحيانا يؤخرها، وأحيانا يعجل এশার সালাত কখনো বিলম্বে আদায় করতেন আবার কখনো তাড়াতাড়ি পড়ে নিতেন।









বুলূগুল মারাম (156)


وَلِمُسْلِمٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى: فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ, وَالنَّاسُ لَا يَكَادُ يَعْرِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح، وهي قطعة من الحديث السابق برقم (153)




১৫৬। মুসলিমে আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, ঐ সময় ফজরের সালাত আদায় করতেন যখন ফজর প্রকাশ অর্থাৎ সুবহে সাদিক হতো। কিন্তু লোকেরা পরস্পরকে তখনও ভালভাবে চিনতে সক্ষম হতো না।












বুলূগুল মারাম (157)


وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (559)، ومسلم (637) وقال الحافظ في «الفتح» (2/ 41): ومقتضاه المبادرة بالمغرب في أول وقتها، بحيث أن الفراغ منها يقع والضوء باق




১৫৭। রাফি বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা মাগরিবের সালাত আদায় করতাম। অতঃপর সেখান থেকে ফেরার পরও আমাদের লোক তার ‘নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হবার দূরবর্তী স্থানটি দেখতে পেতেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৫৯; মুসলিম ৬৩৭; হাফিজ ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারীতে (২/৪১) বলেনঃ ومقتضاه المبادرة بالمغرب في أول وقتها، بحيث أن الفراغ منها يقع والضوء باق সময় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই মাগরিব সালাত আদায় করা কর্তব্য। এমনকি সালাত শেস হওয়ার পরেও যেন উজ্জ্বলতা অবশিষ্ট থাকে।









বুলূগুল মারাম (158)


وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - ذَاتَ لَيْلَةٍ بِالْعِشَاءِ, حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ, ثُمَّ خَرَجَ, فَصَلَّى, وَقَالَ: «إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (638) (219) و «أعتم»: أخرها حتى اشتدت عتمة الليل، وهي ظلمته




১৫৮। ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক রাতে ‘ইশার সালাত আদায় করতে অনেক বিলম্ব করেছিলেন। এমন কি রাতের বেশ কিছু সময় গত হয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি বের হয়ে সালাত আদায় করে বললেন, এটাই হচ্ছে ‘ইশা সালাত আদায়ের উপযুক্ত সময়, যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্ট মনে না করতাম। তবে এসময়টাকেই নির্ধারণ করতাম।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ২১৯, ৬৩৮, 'أعتم' অৰ্থাৎ; বিলম্ব করতেন এমনটি রাতের অন্ধকার খুব ঘনীভূত হয়ে আসত।









বুলূগুল মারাম (159)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ, فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (536)، ومسلم (615) و «الإبراد» تأخير صلاة الظهر إلى أن يبرد الوقت




১৫৯। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন দিনের উত্তাপ খুব বেড়ে যাবে তখন উত্তাপ কমে (আবহাওয়া) ঠাণ্ডা হলে (যুহরের) সালাত পড়বে। কেননা কঠিন উত্তাপ জাহান্নামের আগুনের তীব্ৰতা থেকে হয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৩৬; মুসলিম, ৬১৫০; হাদীসের “الإبراد“ যুহর সালাতকে ঠাণ্ডা হওয়া সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা।









বুলূগুল মারাম (160)


وَعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِأُجُورِكُمْ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (424)، والنسائي (172)، والترمذي (154)، وابن ماجه (672)، وأحمد (3/ 465 و 440 و 142 و 143)، وابن حبان (1490)، (1491) وفي لفظ: «أعظم للأجر»، وفي أخر: «لأجرها». وقال الترمذي: «حديث رافع بن خديج حديث حسن صحيح». ومعنى «أسفروا»: أراد صلى الله عليه وسلم في الليالي المقمرة التي لا يتبين فيها وضوح طلوع الفجر؛ لئلا يؤدي المرء صلاة الصبح إلا بعد التيقن بالإسفار بطلوع الفجر، فإن الصلاة إذا أديت كما وصفنا كان أعظم للأجر من أن تصلى على غير يقين من طلوع الفجر. قاله ابن حبان. ومن قبل ذلك نقل الترمذي عن الشافعي وأحمد وإسحاق أنهم قالوا: معنى الإسفار: أن يضح الفجر فلا يشك فيه




১৬০। রাফি বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের সালাত স্পষ্ট সুবহি সাদিক হলে আদায় করা। কেননা তা তোমাদের জন্য অধিক পুণ্যের কারণ। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৪২৪; নাসায়ী ১৭২; তিরমিযী ১৫৪; ইবনু মাজাহ ৬৭২; আহমাদ ৩/১৪০, ১৪২, ১৪৩, ৪৪০, ৪৬৫; ইবনু হিব্বান ১৪৯০, ১৪৯১; ইমাম তিরমিযী বলেন: রাফে বিন খাদীজ এর হাদীসটি হাসান সহীহ। আর এখানে أسفروا বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদনী রাতসমূহের ক্ষেত্রে এ শব্দ প্রয়োগ করেছেন যেহেতু এমন রাত্রে ফযর উদয়ের উজ্জলতা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। এটা এজন্য যে, লোকেরা যেন ফযর উদয় হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত ফযরের সালাত আদায় না করে। কেননা, হাদীসে আমাদেরকে যে সময় ফযর সালাত আদায়ের বলা হয়েছে সে সময়ে আদায় করলে অত্যন্ত বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে ঐ সময়ের চেয়ে যে সময় ফযর উদয়ের দৃঢ়তা না নিয়েই সালাত আদায় করা হবে।