হাদীস বিএন


বুলূগুল মারাম





বুলূগুল মারাম (161)


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ, وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (579)، ومسلم (608)




১৬১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের সালাতের এক রাকআত সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে আদায় করতে পারলো সে পূর্ণ সালাতই পেলে, আর যে ব্যক্তি ‘আসরের সালাতের এক রাকআত সূর্যাস্তের পূর্বে আদায় করলো, সে ‘আসরের পূর্ণ সালাতই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেলে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৭৯; মুসলিম ৬০৮।









বুলূগুল মারাম (162)


وَلِمُسْلِمٍ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَهُ, وَقَالَ: «سَجْدَةً» بَدَلَ «رَكْعَةً». ثُمَّ قَالَ: وَالسَّجْدَةُ إِنَّمَا هِيَ الرَّكْعَةُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (609) ولفظه: «من أدرك من العصر سجدة قبل أن تغرب الشمس، أو من الصبح قبل أن تطلع فقد أدركها» والسجدة إنما هي الركعة




১৬২। এবং মুসলিমে ‘আয়িশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসেও অনুরূপ কথা উল্লেখ রয়েছে। তাতে রাকাআতের পরিবর্তে সিজদা শব্দ রয়েছে এবং পরে তিনি বলেন, এখানে সিজদার অর্থ রাকআত হবে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৬০৯ মুসলিমের শব্দসমুহ হচ্ছে من أدرك من العصر سجدة قبل أن تغرب الشمس، أو من الصبح قبل أن تطلع فقد أدركها যে ব্যক্তি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে আসরের সালাতের একটি সিজদাহ পেল সে আসরের সালাত পেয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি সূর্য উঠার পূর্বে ফযরের সালাতের এক সিজদা পেল সে ফযরের সালাত পেয়ে গেল। এখানে সিজদাহ হতে রাকয়াত উদ্দেশ্য।









বুলূগুল মারাম (163)


وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا صَلَاةَ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
وَلَفْظُ مُسْلِمٍ: لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (586)، ومسلم (827) وفي لفظ البخاري «ترتفع» بدل «تطلع». وأن لفظ مسلم فعدا عما ذكره الحافظ فقد وقع عنده تقديم النهي عن الصلاة بعد العصر على النهي بعد صلاة الفجر. وعنده أيضا «تغرب» بدل تغيب




১৬৩। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি তিনি বলেন; ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের সালাত ব্যতীত অন্য কোন সালাত (আদায় জায়েজ) নেই। আর ‘আসর সালাতের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত নেই।



মুসলিমের শব্দগুলো হচ্ছে: ফজরের সালাতের পর অন্য কোন সালাত নেই।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী ৫৮৬; মুসলিম ৮২৭।









বুলূগুল মারাম (164)


وَلَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ: ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّي فِيهِنَّ, وَأَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ, وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ, وَحِينَ تَتَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ
وَالْحُكْمُ الثَّانِي عِنْدَ «الشَّافِعِيِّ» مِنْ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (831) و «قائم الظهيرة»: أي قيام الشمس وقت الزوال، وذلك عند بلوغها وسط السماء فإنها عند ذلك يبطئ حركتها




১৬৪। এবং মুসলিমে ‘উকবাহ বিন ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এমন তিনটি সময় রয়েছে যে সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে, মৃতকে কবর দিতে নিষেধ করেছেনঃ (১) সূর্য উজ্জ্বল হয়ে উঠা হতে কিছুটা উপরে উঠা পর্যন্ত, (২) এবং ঠিক দুপুর হলে যে পর্যন্ত না সূর্য (পশ্চিম আকাশে) ঝুঁকে পড়ে, (৩) আর যখন সূর্য ঝুঁকে পড়ে অস্ত যাবার উপক্রম হয়।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ মুসলিম ৮৩১. “قائم الظهيرة” দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূর্য ঢলে যাবার পূর্বে স্থির হওয়া। এ সময় ঠিক আকাশের মাঝ বরাবর অবস্থান করে এবং সূর্যের গতি কিছুক্ষণের জন্য স্থির থাকে।









বুলূগুল মারাম (165)


حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ. وَزَادَ: إِلَّا يَوْمَ الْجُمْعَةِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الشافعي في «المسند» (139/ 408) عن أبي هريرة؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الصلاة نصف النهار، حتى تزول الشمس إلا يوم الجمعة. قلت: وفي إسناده متروكان




১৬৫। কিন্তু শাফিঈ (রহঃ)-এর নিকট দ্বিতীয় হুকুম যেটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে যঈফ সানাদে বর্ণনা করে তাতে বৃদ্ধি করেছেনঃ “জুমুআহর দিন ব্যতীত”।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অত্যন্ত যঈফ। শাফিয়ী তাঁর মুসনাদে (১৩৯, ৪০৮) আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক দুপুরে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না তা ঢলে যায়। তবে শুক্রবার ব্যতীত। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: এ হাদীসে দু’জন মাতরূক রাবী আছে।









বুলূগুল মারাম (166)


وَكَذَا لِأَبِي دَاوُدَ: عَنْ أَبِي قَتَادَةَ نَحْوُهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (1083) عن أبي قتادة، عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ أنه كره الصلاة نصف النهار إلا يوم الجمعة، وقال: «إن جهنم تسجر إلا يوم الجمعة». قلت: وفي سنده ضعف وانقطاع. وأما عن الصلاة نصف النهار، فقد قال ابن القيم في «الزاد» (1/ 380): «اختلف الناس في كراهة الصلاة نصف النهار على ثلاثة أقوال. أحدها: أنه ليس وقت كراهة بحال، وهو مذهب مالك. الثاني: أنه وقت كراهة في يوم الجمعة وغيرها، وهو مذهب أبي حنيفة والمشهور من مذهب أحمد. الثالث: أنه وقت كراهة إلا يوم الجمعة، فليس بوقت كراهة، وهذا مذهب الشافعي». ا. هـ. قلت: ومذهب الشافعي هو أعدل المذاهب، وهو الذي تدل عليه الأحاديث الصحيحة




১৬৬। আবূ দাউদেও আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস রয়েছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ১০৮৩ আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক দুপুরে সালাত আদায় করা অপছন্দ করেছেন। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তাঁর যাদুল মা’আদে (১/৩৮০) বলেন, ঠিক দুপুরে সালাত আদায় অপছন্দনীয় হওয়ার ব্যাপারে মানুষেরা তিনটি অভিমত পোষণ করেছেন।

১. সেটা কোন অপছন্দনীয় সময় নয়। এটা ইমাম মালিকের অভিমত।

২. জুমুআহ এবং অন্যান্য সব সালাতের ক্ষেত্রেই সে সময়টায় সালাত আদায় অপছন্দীয়। এটা ইমাম আবু হানীফার অভিমত এবং ইমাম আহমাদ (রহঃ) এর প্রসিদ্ধ অভিমত।

৩. সে সময়টা জুমুআহ ব্যতীত অন্যান্য দিনের জন্য সালাত আদায়ের অপছন্দনীয় সময়। জুমুআর দিনে কোন অপছন্দনীয় সময় নেই। এটা ইমাম শাফিয়ীর (রহঃ) এর অভিমত। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: ইমাম শাফিয়ীর অভিমতই ন্যায়ভিত্তিক অভিমত। এ অভিমতের পক্ষে সহীহ হাদীসসমূহ প্রমাণিত রয়েছে। ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি মুরসাল। কেননা; বর্ণনাকারী আব্দুল খালীল আবু কাতাদাহ থেকে শুনেননি। এছাড়া এ হাদীসে লাইস বিন আবু সুলাইম রয়েছেন। তিনি দুর্বল রাবী (আত্-তালখীসুল হাবীর ১/৩১১), ইমাম শাওকানী বলেন, হাদীসটি মুনকাতি। এর মধ্যে লাইস বিন আবু সুলাইম দুর্বল। (নাইলুল আওতার ৩/১১২), ইমাম যাহাবীও লাইসকে দুর্বল বলেছেন। (তানকীহুত তাহকীক ১/২০২)। ইবনু হাজার বলেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ হচ্ছে একক বৰ্ণনাকারী আর তিনি সত্যবাদী। (আত্-তালখীসুল হাবীর ১/২৮৬), ইমাম শাওকানীও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন। (নাইলুল আওতার ১/৪১১), দারাকুতনী বলেন, হাদীসটি গরীব, এর সকল রাবী বিশ্বস্ত (আল-বাদারুল মুনীর ৩/১৮৮)









বুলূগুল মারাম (167)


وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ, لَا تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ [أَ] ونَهَارٍ». رَوَاهُ الْخَمْسَةُ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1894)، والنسائي (184 و 523)، والترمذي (868)، وابن ماجه (1254)، وأحمد (4/ 80 و 81 و 82 و 83 و 84)، وابن حبان (1552 و 1553 و 1554) وقال الترمذي: حديث حسن صحيح




১৬৭। যুবাইর বিন মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে ‘আবদি মানাফ এর বংশধরগণ, তোমরা কাউকে এ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং সালাত আদায় করতে নিষেধ করবে না। যে কোন সময় যে কেউ তা করতে চায়। তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ১৮৯৪; নাসায়ী ১৮৪, ৫২৩; তিরমিযী ৮৬৮; ইবনু মাজাহ ১২৬৫; আহমাদ ৪/৮০, ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪; ইবনু হিব্বান ১৫৫২, ১৫৫৩, ১৫৫৪। ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।









বুলূগুল মারাম (168)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «الشَّفَقُ الْحُمْرَةُ». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَصَحَّحَ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَغَيْرُهُ وَقْفَهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه الدارقطني في «السنن» (1/ 269/3) وتمام لفظه: فإذا غاب الشفق، وجبت الصلاة




১৬৮। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, ‘শাফাক্ব এর অর্থ হুমরা (সূর্যাস্তের পরবর্তী পশ্চিমাকাশে দৃশ্যমান লাল আভা)। ইমাম দারাকুতনী এটিকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন এবং অন্যান্যরা একে মাওকুফ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। দারাকুতনী ১/৩/২৬৯। হাদীসটির শব্দসমষ্টি হচ্ছেঃ فإذا غاب الشفق، وجبت الصلاة যখন শাফাক অস্তমিত হবে ইশার সালাতের সময় উপস্থিত হবে। শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলা যঈফাহ (৩৭৫৯) গ্রন্থে, যঈফুল জামে (৩৪৪০) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (৩৩৩) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে হাশীম বিন বাশীর রয়েছে সে আবদুল্লাহ আল উমরী থেকে কোন হাদীসই শুনেনি। ইমাম নববী তাঁর তাহযীব আল আসমা ওয়াল লুগাত (৩/১৬৫) গ্রন্থে বলেন, ইবনু উমার থেকে হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোন প্রমাণ নেই।









বুলূগুল মারাম (169)


وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «الْفَجْرُ فَجْرَانِ: فَجْرٌ يُحَرِّمُ الطَّعَامَ وَتَحِلُّ فِيهِ الصَّلَاةُ, وَفَجْرٌ تَحْرُمُ فِيهِ الصَّلَاةُ - أَيْ: صَلَاةُ الصُّبْحِ - وَيَحِلَّ فِيهِ الطَّعَامُ». رَوَاهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ, وَالْحَاكِمُ, وَصَحَّحَاهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه ابن خزيمة (356)، وعنه الحاكم (191)، ويشهد له ما بعده




১৬৯। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ফজর দু প্রকার- প্রথমতঃ ঐ ফজর (যাতে সওম-এর নিয়্যাতে) পানাহার করা হারাম করে দেয় আর তাতে সালাত আদায় করা হালাল, আর দ্বিতীয়তঃ সেই ফজর (সুবহি কাযিব) যাতে ফজরের সালাত আদায় করা হারাম এবং খাদ্য খাওয়া হালাল। ইবনু খুযাইমাহ এবং হাকিম এটিকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়ে একে সহীহ বলেছেন।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু খুযাইমাহ ৩৫৬; তার থেকে হাকিম ১৯১।









বুলূগুল মারাম (170)


وَلِلْحَاكِمِ فِي حَدِيثِ جَابِرٍ - رضي الله عنه - نَحْوُهُ, وَزَادَ فِي الَّذِي يُحَرِّمُ الطَّعَامَ: «إِنَّهُ يَذْهَبُ مُسْتَطِيلًا فِي الْأُفُقِ» وَفِي الْآخَرِ: إِنَّهُ كَذَنَبِ السِّرْحَان

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الحاكم (191) وقال: «إسناده صحيح». وقال الذهبي: «صحيح». «والسرحان»: هو: الذئب، والمراد أنه لا يذهب مستطيلا ممتدا، بل يرتفع في السماء كالعمود. قاله الصنعاني




১৭০। হাকিমে জাবির (রাঃ) হতে অনুরূপ আরো একটি হাদীস বর্ণিত আছে তাতে আরো আছে, যে ফজরে (সওমের নিয়্যাতে) পানাহার করা হারাম তার আলোক রশ্মি পূর্ব দিগন্তে বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে (যাকে সুবহি সাদিক বলা হয়)। আর অন্য ফজরের আলোক রেখা নেকড়ে বাঘের লেজের মতো উৰ্দ্ধমুখী থাকে (যাকে সুবহি কাযিব বলা হয়)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাকিম, ১৯১; হাকিম বলেছেন হাদীসের সনদ সহীহ। যাহাবী বলেছেন: সহীহ। “والسرحان” অর্থ নেকড়ে বাঘ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এ আলোক রশ্মিটা খুব বিস্তৃত ও লম্বা হবে না। বরং একটা খুঁটির মত আকাশের দিকে খাড়া থাকবে। এটা ইমাম সনয়ানীর অভিমত।









বুলূগুল মারাম (171)


وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ الصَّلَاةُ فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ, وَالْحَاكِمُ. وَصَحَّحَاهُ
وَأَصْلُهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (173)، والحاكم (188) واللفظ للحاكم




১৭১। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সবচেয়ে উৎকৃষ্টতর পুণ্য কাজ হচ্ছে ওয়াক্তের প্রথম ভাগে সালাত আদায় করা। তিরমিযী এবং হাকিম একে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন।[1] আর এ হাদীসের মূল রয়েছে বুখারী ও মুসলিমে।




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ, তিরমিযী ১৭৩; হা, ১৮৮। হাদীসের শব্দ বিন্যাস হাকিমের।









বুলূগুল মারাম (172)


وَعَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَوَّلُ الْوَقْتِ رِضْوَانُ اللَّهُ, وَأَوْسَطُهُ رَحْمَةُ اللَّهِ; وَآخِرُهُ عَفْوُ اللَّهِ». أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ جِدًّا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
موضوع. رواه الدارقطني (149 - 2502)




১৭২। আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: সালাতের সময়ের প্রথমাংশ সালাত কায়িম করা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ, মধ্যমাংশে কায়িম করা তাঁর অনুগ্রহ এবং শেষাংশে আল্লাহর ক্ষমা লাভের কারণ। (ইমাম দারাকুতনী অত্যন্ত দুর্বল সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন।)[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাদীসটি মাওজু’ বা জাল। দারাকুতনী ১৫৯-২৫০২ । ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/১৮৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইয়াকূব ইবনুল ওয়ালীদ আল-মাদানী রয়েছে। তার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, সে বড় মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত, ইবনু মুঈনও তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইমাম নাসাঈ তাকে পরিত্যাগ করেছেন, আর ইবনু হিব্বান তাকে হাদীস জালকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইবনুল মুলকিন তাঁর বদরুল মুনীর গ্রন্থে (৩/২০৯), ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (১/৪৪৭) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী যঈফুল জামে (২১৩১) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, তবে যঈফ তারাগীব (২১৮) গ্রন্থে একে জাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইবনুল কীসরানী তার দাখীরাতুল হুফফায (১৪৪) ও মারিফাতুত তাযকিরাহ (১৩০) গ্রন্থে বলেন, সে বিশ্বস্ত রাবীদের নামে হাদীস জাল করত। ইবনু আদী বলেন, আল কামিল ফিয যুআফা (২/২৭০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে দুজন অপরিচিত বৰ্ণনাকারী রয়েছে। শুধুমাত্র ইমাম সুয়ূত্বী (ভুলক্রমে) আল জামেউস সগীর (২৮০৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলে ফেলেছেন।









বুলূগুল মারাম (173)


وَلِلتِّرْمِذِيِّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ نَحْوُهُ, دُونَ الْأَوْسَطِ, وَهُوَ ضَعِيفٌ أَيْضًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
موضوع. كسابقه. رواه الترمذي (172)، وفي قول الحافظ: «ضعيف» تساهل؛ فإن في إسناده يعقوب بن الوليد كان من الكذابين الكبار كما قال أحمد




১৭৩। তিরমিযীতে ইবনু উমার হতে এরূপ একটি হাদীস রয়েছে। তাতে মধ্যমাংশ শব্দ নেই। এটির সানাদও দুর্বল।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মাওজূ’। তিরমিযী ১৭২। হাফিজ ইবনু হাজারের মতে যঈফ। যঈফ বলে শিখিলতা প্রদর্শন করা হয়েছে। কেননা, এ হাদীসের সনদে ইয়াকুব বিন ওয়ালীদ নাম একজন রাবী আছেন যার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেছেন সে বড় মিথ্যুকদের একজন।









বুলূগুল মারাম (174)


وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا صَلَاةَ بَعْدَ الْفَجْرِ إِلَّا سَجْدَتَيْنِ». أَخْرَجَهُ الْخَمْسَةُ, إِلَّا النَّسَائِيُّ
وَفِي رِوَايَةِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ: لَا صَلَاةَ بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ إِلَّا رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (1278)، والترمذي (419)، وأحمد (5811)، وعند أبي داود في أوله زيادة: «ليبلغ شاهدكم غائبكم». وقال الترمذي: «ومعنى هذا الحديث إنما يقول: لا صلاة بعد طلوع الفجر إلا ركعتي الفجر». قلت: وما قاله الترمذي هو لفظ رواية عبد الرازق. وأما ابن ماجه (235) فاقتصر على قوله: «ليبلغ شاهدكم غائبكم»، وبذلك يتبين أو عزو الحديث له غير دقيق من الحافظ رحمه الله

صحيح. رواه عبد الرازق في «المصنف» (3/ 53 /4760)




১৭৪। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন; ফজর সালাতের সময় সমাগত হলে ফজরের দুরাকআত (সুন্নাত) ব্যতীত অন্য কোন নফল সালাত (আদায় বৈধ) নেই।[1] আব্দুর রাযযাকের বর্ণনায় রয়েছে : ফজর উদিত হওয়ার পর ফজরের দুরাকআত (সুন্নাত) ছাড়া অন্য কোন সালাত নেই।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ১২৭৮; তিরমিযী ৪১৯; আহমাদ ৫৮১১।

[2] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৩/৫৩/৪৭৬০









বুলূগুল মারাম (175)


وَمِثْلُهُ لِلدَّارَقُطْنِيّ عَنِ ابْنِ عَمْرِوِ بْنِ الْعَاصِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح بما قبله. ورواه الدارقطني (1/ 419/3) ولفظه: لا صلاة بعد صلاة الفجر إلا ركعتين




১৭৫। ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) এর পুত্র (‘আব্দুল্লাহ) হতে দারাকুতনীতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী ১/৩/৪১৯। দারাকুতনী শব্দসমূহ হচ্ছেঃ لا صلاة بعد صلاة الفجر إلا ركعتين ফযর সালাতের পর দু’রাকয়াত ব্যতীত আর কোন সালাত নেই।









বুলূগুল মারাম (176)


وَعَنْ أَمْ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - الْعَصْرَ, ثُمَّ دَخَلَ بَيْتِي, فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ, فَسَأَلْتُهُ, فَقَالَ: «شُغِلْتُ عَنْ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ, فَصَلَّيْتُهُمَا الْآنَ»، قُلْتُ: أَفَنَقْضِيهِمَا إِذَا فَاتَتْنَا قَالَ: «لَا». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أحمد (6/ 315) وفي «الأصل» بيان علة الضعف مع الرد على تحسين الشيخ عبد العزيز بن باز - حفظه الله- للحديث في تعليقه على «الفتح» (2/ 65)




১৭৬। উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করার পর আমার ঘরে তাশরীফ আনলেন। অতঃপর দুরাকআত সালাত আদায় করলেন। আমি তাঁকে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “যুহরের পরের দুরাকাত সুন্নাত সালাত সময়ে অভাবে পড়া হয় নি তাই এখন তা পড়ে নিলাম” আমি তাকে বললাম: “আমরাও কি তা ছুটে গেলে (এভাবে কাযা হিসেবে) পড়ে নিব?” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: “না। (তা করবে না)।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আহমাদ ২৬১৩৮, নাসায়ী ৫৭৯, ৫৮০, ইবনু মাজাহ ১১৫৯, দারেমী ১৪৩৬; শাইখ বিন বায তাঁর বুলুগুল মারামের হাশিয়া (১৫৮) গ্রন্থে এর সনদকে উত্তম বলেছেন। তবে এর প্রতিবাদ করা হয়েছে। যেমন শাইখ সালিহ আল ফাওযান তাঁর মিনহাতুল আল্লাম কী শরহে বুলুগুল মারামে (১৭৬, ১৭৭) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসের দুটি ত্রুটি রয়েছে। প্রথমতঃ যাকওয়ান (আবু আমার আল মাদানী) ও আবু সালামার মাঝে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। দ্বিতীয়তঃ أَفَنَقْضِيهِمَا ؟ قال لَا এ কথাটি সাব্যস্ত কিনা সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনু হাযম তাঁর মুহাল্লা (২/২৭১) গ্রন্থে ইমাম বাইহাকীর কথা নকল করে বলেন, এ অতিরিক্ত অংশটি দুর্বল। এর দ্বারা দলীল সাব্যস্ত হয় না। (ফাতহুল বারী ২/৬৪)। ইবনু হাযম তাঁর মুহাল্লা (২/২৬৭) গ্রন্থে হাদীসটিকে মুনকার ও মুনকাতি’ বলেছেন।









বুলূগুল মারাম (177)


وَلِأَبِي دَاوُدَ عَنْ عَائِشَةَ بِمَعْنَاهُ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (1280) عن عائشة؛ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: كان يصلي بعد العصر وينهي عنها




১৭৭। আবূ দাউদে ‘আয়িশা (রাঃ) হতে উক্ত মর্মে হাদীস বর্ণিত আছে।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ ১২৮০। নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, এর সনদে ইনকিতার কারণে ত্রুটি রয়েছে। (ইরওয়া ২/১৮৮), সিলসিলা যাঈফা ৯৪৬ মুনকাররূপে। এ হাদীসের রাবীতে রয়েছে যাকওয়ান। আর উম্মু মাসলামা থেকে তার বর্ণিত হাদীসটি মুনকার (আল-মুহাল্লা আহমাদ শাকের ২/২৬৭)









বুলূগুল মারাম (178)


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ - رضي الله عنه - قَالَ: طَافَ بِي - وَأَنَا نَائِمٌ - رَجُلٌ فَقَالَ: تَقُولُ: اللَّهُ أَكْبَرَ اللَّهِ أَكْبَرُ, فَذَكَرَ الْآذَانَ - بِتَرْبِيع التَّكْبِيرِ بِغَيْرِ تَرْجِيعٍ, وَالْإِقَامَةَ فُرَادَى, إِلَّا قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ. قَالَ: فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «إِنَّهَا لَرُؤْيَا حَقٍّ ... ». الْحَدِيثَ. أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ خُزَيْمَةَ
وَزَادَ أَحْمَدُ فِي آخِرِهِ قِصَّةَ قَوْلِ بِلَالٍ فِي آذَانِ الْفَجْرِ: «الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح وإسناده حسن. رواه أبو داود (499)، والترمذي (189)، وأحمد (4/ 43)، وابن خزيمة (371) وقال الترمذي: «هذا حديث حسن صحيح». وقال ابن خزيمة (197): خبر ثابت صحيح من جهة النقل




১৭৮। আবদুল্লাহ বিন যায়দ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, স্বপ্নযোগে দেখলাম, কোন ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলছে- তুমি বল, ‘আল্লাহু আকবার ‘আল্লাহু আকবার অতঃপর তিনি পূর্ণ আযান বর্ণনা করলেন। এতে ‘আল্লাহু আকবার চার বার ছিল। কিন্তু ‘তারজী ছিল না। আর ইকামাতের সব বাক্যই একবার করে ছিল। কিন্তু ‘কাদকামাতিস সালাহ বাক্যটি ছিল দুবার। বর্ণনাকারী বলেছেন- সকাল হলে আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে (এসে স্বপ্নটির বর্ণনা দিলাম)। তিনি এ স্বপ্ন সম্বন্ধে বললেন স্বপ্নটি অবশ্যই সত্য। আহমাদ ও আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]



আহমাদ এ হাদীসের শেষাংশে- ফজরের সালাতের আযান সম্পকীয় বিলাল (রাঃ)-এর ঘটনাটিতে ‘ঘুম থেকে সালাত উত্তম অংশটি বাড়িয়েছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ ৪৯৯; তিরমিযী ১৮৯; আহমাদ ৪/৪৩; ইবনু খুযাইমাহ ৩৭১ ইমাম তিরমিযী বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু খুজাইমাহ বলেন (১৯৭) : বর্ণনাভঙ্গির দিক থেকে হাদীসটি প্রমাণিত সহীহ।

[2] আবু দাউদ ৪৯৯; তিরমিযী ১৮৯; আহমাদ ৪/৪৩; ইবনু খুযাইমাহ ৩৭১ ইমাম তিরমিযী বলেন হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু খুজাইমাহ বলেন (১৯৭) : বর্ণনাভঙ্গির দিক থেকে হাদীসটি প্রমাণিত সহীহ।









বুলূগুল মারাম (179)


وَلِابْنِ خُزَيْمَةَ: عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مِنَ السُّنَّةِ إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ فِي الْفَجْرِ: حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ, قَالَ: الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
رواه ابن خزيمة (386) بسند صحيح




১৭৯। ইবনু খুযাইমাহতে আনাস (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেছেন, যখন মুয়াযযিন ফজরের আযানে ‘হায়ইয়া আলাল ফালাহ বলেন তারপর ‘আস সালাতু খাইরুম মিনান্নাওম বলা সুন্নাত।[1]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইবনু খুযাইমাহ ৩৮৬ হাদীসটিকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।









বুলূগুল মারাম (180)


عَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ - رضي الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - عَلَّمَهُ الْآذَانَ, فَذَكَرَ فِيهِ التَّرْجِيعَ. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ. وَلَكِنْ ذَكَرَ التَّكْبِيرَ فِي أَوَّلِهِ مَرَّتَيْنِ فَقَطْ

وَرَوَاهُ الْخَمْسَةُ فَذَكَرُوهُ مُرَبَّعًا

تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (379) «والترجيع»: أي في الشهادتين فيقولها مرة بصوت منخفض، ومرة أخرى بصوت مرتفع

صحيح. رواه أبو داود (502)، والنسائي (2/ 4 - 5)، والترمذي (192)، وابن ماجه (709)، وأحمد (3/ 409 و 6/ 401)، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح




১৮০। আবূ মাহযূরাহ (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আযান শিখিয়েছিলেন। তিনি সেই আযানে ‘তারজী এর উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এ হাদীসের প্রথমে মাত্র দুবার তাকবীর[1] বলার কথা উল্লেখ করেছেন। আর (বুখারী, মুসলিম ব্যতীত) অন্য পাঁচ জনে বর্ণনা করে চার বার তাকবীর বলার কথা উল্লেখ করেছেন।[2]




তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম ৩৭৯। ‘তারজী’ অর্থ: শাহাদাতাইনকে প্রথমবার নিম্ন আওয়াজে, দ্বিতীয়বার উচ্চ আওয়াজে বলা।

[2] সহীহ আবু দাউদ ৫০২; নাসায়ী ২/৪-৫; তিরমিযী ১৯২; ইবনু মাজাহ ৭০৯; আহমাদ ৩/ ৪০৯, ৬/৪০১ ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।