বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَبِي السَّمْحِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم: «يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْجَارِيَةِ, وَيُرَشُّ مِنْ بَوْلِ الْغُلَامِ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (376)، والنسائي (158)، والحاكم (166) بسند حسن، عن أبي السمح، قال: كنت أخدم النبي صلى الله عليه وسلم، فكان إذا أراد أن يغتسل، قال: «ولني قفاك» فأوليه قفاي، فأستره به، فأتي بحسن أو حسين رضي الله عنهما، فبال على صدره، فجئت أغسله، فقال صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث. ومع حسن إسناده إلا أني صححته لورود شواهد أخرى كثيرة له، ذكرتها بالأصل
২৯। আবূস সামহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘শিশুকন্যার পেশাব লগলে ধুয়ে ফেলবে আর দুগ্ধপোষ্য পুত্ৰ সন্তানের পেশাব লাগলে তাতে পানি ছিটা দিবে। হাকিম একে সহিহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৩৭৬); নাসায়ী (১৫৮); হাকিম (১৬৬) আবু সামহ হতে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করছিলাম। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন গোসল দেয়ার ইচ্ছে করলেন, আমাকে বললেন, তুমি আমার দিকে পিঠ করে ঘুরে দাড়াও, আমি তাই করলাম। ইতোমধ্যে হাসান অথবা হুসাইনকে সেখানে নিয়ে আসা হলো। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিঠে পেশাব করে দিল। ফলে তা ধোয়ার জন্য উদ্ব্যত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। এ হাদীসের সনদ অত্যন্ত সুন্দর। তা না হলেও এর অনেক সমর্থক হাদীস থাকার কারণে আমি হাদীসটি সহীহ বলতাম।
وَعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فِي دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ: «تَحُتُّهُ, ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ, ثُمَّ تَنْضَحُهُ, ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْه
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (227)، (307)، مسلم (291) من طريق فاطمة بنت المنذر، عن جدتها أسماء، به
৩০। আবূ বাকর সিদ্দিক (রাঃ) এর কন্যা আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হায়িযের রক্ত কাপড়ে লেগে যাওয়া প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পানি দিয়ে ঘষা দিবে তারপর পানি দ্বারা ভালোভাবে ধৌত করবে। অতঃপর সালাত আদায় করবে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (২২৭), (৩০৭); মুসলিম (২৯১) ফাতিমাহ বিনতে মুনজির সূত্রে, তিনি তার দাদী আসমা হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন ।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَتْ خَوْلَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ, فَإِنْ لَمْ يَذْهَبْ الدَّمُ? قَالَ: «يَكْفِيكِ الْمَاءُ, وَلَا يَضُرُّكِ أَثَرُهُ». أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَسَنَدُهُ ضَعِيف
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه أبو داود (365) وغيره. «تنبيه» عزو الحافظ الحديث للترمذي إنما هو من باب الوهم وإن تبعه على ذلك غيره. وأما تضعيفه لسند الحديث فلعلة غير قادحة
৩১। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাওয়ালাহ বিনতে ইয়াসার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি রক্ত-চিহ্ন দূর না হয়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘কেবল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট, রক্তচিহ্ন তোমার কোন ক্ষতি করবে না।mdash;তিরমিযী দুর্বল সানাদে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। আবু দাউদ (৩৬৫) এবং অন্যান্য মুহাদ্দিস হাদীসটি বর্ণনা করেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ وُضُوءٍ». أَخْرَجَهُ مَالِكٌ, وأَحْمَدُ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَة
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. علقه البخاري (458/فتح) بصيغة الجزم، وعنده لفظ «عند» بدل «مع». ورواه أحمد (2/ 460 و 517)، والنسائي في «الكبرى» (298)، وابن خزيمة (140) وللحديث ألفاظ وطرق أخرى في «الصحيحين» وغيرهما، وقد ذكرتها بالأصل
৩২। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন, ‘আমি আমার উম্মাতের উপর কঠিন হওয়ার ধারণা না করতাম তবে প্রত্যেক উযূর সঙ্গে মিসওয়াক করার আদেশ করতাম। মালিক, আহমাদ ও নাসায়ী। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন। বুখারী এটিকে মুআল্লাক রূপে বর্ণনা করেছেন। (ইবনু খুযাইমাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] ইমাম বুখারী (ফাতহুল বারী ৪৫৮) দৃঢ়তার শব্দে হাদীসটিকে মু’আল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনায় عند শব্দের পরিবর্তে مع শব্দ রয়েছে। আহমাদ (২/৪৬০, ৫১৭); নাসায়ী তার সুনানুল কুরবায় (২৯৮); ইবনু খুযাইমাহ (১৪০)। বুখারী মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে আরো বিভিন্ন শব্দ এবং সনদ রয়েছে।
وَعَنْ حُمْرَانَ: أَنَّ عُثْمَانَ - رضي الله عنه - دَعَا بِوَضُوءٍ, فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ, ثُمَّ مَضْمَضَ, وَاسْتَنْشَقَ, وَاسْتَنْثَرَ, ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ, ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ, ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ, ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ, ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ, ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ, ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْه
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (159)، ومسلم (226) من طريق عطاء بن يزيد الليثي، عن حمران به
৩৩। হুমরান (রহঃ) হতে বৰ্ণিত। একদা ‘উসমান (রাঃ) উযূর পানি নিয়ে ডাকলেন এবং তিনি প্রথমে তিনবার দু#39; হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুলেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন, তারপর তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। তারপর তিনবার ডান হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করলেন। অতঃপর বাম হাতও অনুরূপভাবে ধৌত করলেন। অতঃপর তিনবার ডান পা ‘টাখনু সহ ধৌত করলেন, তারপর বাম পা একইভাবে ধৌত করলেন। তারপর বললেন, ‘আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার এ উযূর মতই উযূ করতে দেখেছি।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (১৫৯); মুসলিম (২২৬) আতা বিন ইয়াযিদ আল-লাইসী সূত্রে হুমরান থেকে বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه: فِي صِفَةِ وُضُوءِ النَّبِيِّ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- قَالَ: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَاحِدَةً. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُد، وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ بِإِسْنَادٍ صَحِيْحٍ، بَلْ قَالَ التِّرْمِذِيُّ: إِنَّهُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي البَابِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (111)
৩৪। আলী (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ করার পদ্ধতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাত্র একবার মাথা মাসেহ করেছিলেন। -আবূ দাউদ। নাসায়ী ও তিরমিযী সহীহ সানাদে; বরং তিরমিযী বলেন, এ বাবে বর্ণিত হাদীসগুলির মধ্যে এটি সর্বাধিক সহীহ।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (১১১)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَاصِمٍ - رضي الله عنه - فِي صِفَةِ الْوُضُوءِ - قَالَ: وَمَسَحَ - صلى الله عليه وسلم - بِرَأْسِهِ, فَأَقْبَلَ بِيَدَيْهِ وَأَدْبَرَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْه
وَفِي لَفْظٍ: بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ, حَتَّى ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ, ثُمَّ رَدَّهُمَا إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (186)، ومسلم (235)
البخاري (185)، ومسلم (235)
৩৫. আবদুল্লাহ বিন যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুহাতকে (মাথা মাসহ(মাসেহ)র সময়) সামনে থেকে পিছনে এবং পিছন থেকে সামনে টেনে নিয়ে এলেন।[1]
তাদের উভয়ের অন্য বর্ণনায় আছে, মাথার সম্মুখভাগ হতে মাসহ(মাসেহ) শুরু করলেন এবং হাতদ্বয়কে মাথার শেষ অবধি নিয়ে গেলেন। অতঃপর সেখান থেকে হাতদ্বয়কে শুরু করার স্থানে ফিরিয়ে আনলেন।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (১৮৬); মুসলিম (২৩৫)
[2] বুখারী (১৮৫); মুসলিম (২৩৫)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - فِي صِفَةِ الْوُضُوءِ - قَالَ: ثُمَّ مَسَحَ - صلى الله عليه وسلم - بِرَأْسِهِ, وَأَدْخَلَ إِصْبِعَيْهِ السَّبَّاحَتَيْنِ فِي أُذُنَيْهِ, وَمَسَحَ بِإِبْهَامَيْهِ ظَاهِرَ أُذُنَيْهِ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَة
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (135)، والنسائي (1/ 88) من طريق عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، وله شواهد أخرى، إلا أن في هذا الحديث عند أبي داود لفظة لا تصح كما في «الأصل». وصحح الحديث ابن خزيمة (174) ولكن ليس عنده محل الشاهد
৩৬। আবদুল্লাহ্ বিন ‘আমর (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি উযূর নিয়ম পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা মাসাহ করার জন্য তাঁর দু হাতের শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয়কে তাঁর দুকানের ছিদ্রে ঢুকালেন ও বৃদ্ধাঙ্গুলদ্বয় দিয়ে দুকানের উপরিভাগে মাসহ(মাসেহ) করলেন। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।”[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৯১৩৫); নাসায়ী (১/৮৮) “আমার বিন শুয়াইব সূত্রে তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন। এর আরো সমর্থক হাদীস রয়েছে। কিন্তু আবু দাউদে যে শব্দে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে তা সহীহ নয়।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلْيَسْتَنْثِرْ ثَلَاثًا, فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلَى خَيْشُومِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْه
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (3295)، ومسلم (238)
৩৭। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা হতে জাগ্রত হবে তখন সে যেন তিনবার তার নাক ঝেড়ে নেয়, কেননা শয়তান নাকের ছিদ্র পথে রাত্রি যাপন করে।”[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (৩২৯৫); মুসলিম (২৩৮)
وَعَنْهُ: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسُ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدَهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَهَذَا لَفْظُ مُسْلِمٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (162)، ومسلم (278)
৩৮। আবূ হুরাইরা (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন, ‘তোমাদের কেউ যেন ঘুম থেকে উঠে তিনবার তার হাত ধুয়ে না নেয়ার পূর্বে পানির পাত্রে না ডুবিয়ে দেয়। কেননা, সে তো জানে না যে, ঘুমের অবস্থায় তার হাত কোথায় ছিল।”[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ। বুখারী (১৬২); মুসলিম (২৭৮) শব্দ মুসলিমের।
وَعَنْ لَقِيطِ بْنُ صَبْرَةَ, - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَسْبِغِ الْوُضُوءَ, وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ, وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ, إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَة
وَلِأَبِي دَاوُدَ فِي رِوَايَةٍ: إِذَا تَوَضَّأْتَ فَمَضْمِضْ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (142 و 143)، والنسائي (1/ 66 و 69)، والترمذي، (38)، وابن ماجه (448)، وابن خزيمة (150 و 168) من طريق عاصم بن لقيط بن صبرة، عن أبيه، به
صحيح. سنن أبي داود (144)
৩৯। লাকীত বিন সাবিরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ভালভাবে উযূ কর ও আঙ্গুলের ফাঁকা স্থানে খিলাল কর, সওম পালনকারী না হলে নাকে পূর্ণমাত্রায় পানি প্রবেশ করাও”। আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন।[1]
আবূ দাউদের অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘যখন তুমি উযূ করবে তখন কুলি করবে।[2]”
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ। আবু দাউদ (১৪২, ১৪৩) নাসায়ী (১/৬৬,৬৯); তিরমিযী (৩৮); ইবনু মাজাহ (৪৪৮); ইবনু খুযাইমাহ (১৫০, ১৬৮) “আসিম বিন লাকীত বিন সাবেরাহ সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা হতে।
[2] সুনান আবু দাউদ (১৪৪)
وَعَنْ عُثْمَانَ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ فِي الْوُضُوءِ. أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَة
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه الترمذي (31)، وابن خزيمة (1/ 78 - 79) وقال الترمذي: حسن صحيح. قلت: يعني بشواهده، فله شواهد عن أكثر من عشرة من الصحابة رضي الله عنهم، وقد ذكرت ذلك مفصلا في الأصل
৪০। ‘উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করার সময় তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] তিরমিযী (৩১); ইবনু খুযাইমাহ (১/৭৮-৭৯)। ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: শাহেদের কারণে হাদীসটি হাসান সহীহ। কেননা হাদীসটির দশের অধিক সাহাবা থেকে সমর্থক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - أَتَى بِثُلُثَيْ مُدٍّ, فَجَعَلَ يَدْلُكُ ذِرَاعَيْهِ. أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَة
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (4/ 39)، وابن خزيمة (118) واللفظ لابن خزيمة
৪১। ‘আবদুল্লাহ বিন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে দুই তৃতীয়াংশ মুদ (প্রায় আধা সের) পরিমাণ পানি পেশ করা হলে তিনি তা দিয়ে তাঁর দুহাতের কনুই পর্যন্ত ঘষে ধুতে লাগলেন”।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ (৪/৩৯); ইবনু খুযাইমাহ (২২৮) ইবনু খুযাইমাহ একে সহীহ বলেছেন। হাদীসের শব্দ ইবনু খুযাইমাহর।
وَعَنْهُ: أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - يَأْخُذُ لِأُذُنَيْهِ مَاءً خِلَافَ الْمَاءِ الَّذِي أَخَذَ لِرَأْسِهِ. أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ
وَهُوَ عِنْدَ مُسْلِمٍ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ بِلَفْظٍ: وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ بِمَاءٍ غَيْرَ فَضْلِ يَدَيْهِ, وَهُوَ الْمَحْفُوظُ
-
البيهقي (1/ 65) وقال: هذا إسناد صحيح
رواه مسلم (236)، وقال البيهقي: وهذا أصح من الذي قبله
৪২। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। ‘তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাথা মাসহ(মাসেহ)-এর অবশিষ্ট পানি ব্যতীত কান মাসাহ করতে নতুনভাবে পানি নিতে দেখেছেন।[1]
মুসলিমের সুরক্ষিত শব্দ বিন্যাস এরূপ- এবং তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করেছিলেন। তাঁর হস্তদ্বয়ের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত অন্য পানি দিয়ে।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বায়হাকী (১/৬৫); বায়হাকী বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। তিরমিযীও একে সহীহ বলেছেন। ইমাম নববী তাঁর আল-মাজমূ (১/৪১২) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ-শারহুল মুমতি (১/১৭৮) ও শারহে বুলুগুল মারাম (১/১৮৯) গ্রন্থে হাদীসটিকে শায বলেছেন। শায়খ আলবানী সিলসিলা সহীহাহ (১/৯০৫) গ্রন্থে হাদীসটি শায এবং সহীহ নয়।
[2] মুসলিম (২৩৬), ইমাম বায়হাকী বলেন, এটি পূর্বে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহীহ।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «إِنَّ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ, مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ, فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (136)، ومسلم (246) (35) وقوله: «فمن استطاع» مدرج من كلام أبي هريرة. والله أعلم
৪৩। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘কিয়ামতের দিনে আমার উম্মত উযূর চিহ্ন বহনকারী গুররান মুহাজ্জালীন (উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও হাত পা) সহ হাজির হবে। তাই ঐ উজ্জ্বলতা যারা বৃদ্ধি করতে সক্ষম তারা যেন তা বৃদ্ধি করে নেয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ। বুখারী (১৩৬); মুসলিম (৩৫, ২৪৬) শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। আর «فمن استطاع» কথাটি আবু হুরায়রা হতে মুদরাজ হিসেবে বর্ণিত।
وَعَنْ عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ فِي تَنَعُّلِهِ, وَتَرَجُّلِهِ, وَطُهُورِهُ, وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (168)، ومسلم (268) (67) من طريق مسروق، عن عائشة، به
৪৪। আয়িশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরিধান করা, চুল আচড়ানো, উযূ সহ সকল ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (১৬৮); মুসলিম (৬৭, ২৬৮) মাসরূকের সূত্রে আয়িশাহ (রাঃ) হতে।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَوَضَّأْتُمْ فَابْدَءُوا بِمَيَامِنِكُمْ». أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (4141)، والترمذي (1766)، والنسائي في «الكبرى» (5/ 482)، وابن ماجه (402)، وابن خزيمة (178) واللفظ لابن ماجه. وأما لفظ أبي داود، وابن خزيمة، فهو: «إذا لبستم، وإذا توضأتم فابدأوا بأيامنكم». وأما الترمذي والنسائي فلفظهما: كان إذا ليس قميصا بدأ بميامنه. ومن هذا يتضح لك خطأ الحافظ رحمه الله في عزوه الحديث لمخرجيه هكذا على الإطلاق
৪৫। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা যখন উযূ করবে তখন ডান দিক হতে আরম্ভ করবে”।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (৪১৪১); তিরমিযী (১৭৬৬); নাসায়ী তাঁর সুনানুল কুবরায় (৫/৪৮২); ইবনু মাজাহ (৪০২) ইবনু খুযাইমাহ (১৭৮) ইবনু খুযইমাহ একে সহীহ বলেছেন। হাদীসের শব্দ ইবনু মাজাহর। আর আবু দাউদ ও ইবনু খুযইমাহ শব্দ হল ذا لبستم، وإذا توضأتم فابدأوا بأيامنكم তোমরা যখন পোশাক পরবে বা অযূ করবে তখন তোমাদের ডানদিক হতে শুরু করবে। তিরমিযী ও নাসায়ীর শব্দ হচ্ছে كان إذا ليس قميصا بدأ بميامنه তিনি যখন পোশাক পরতেন তখন ডান দিক হতে শুরু করতেন। এ থেকে পরিস্কার হয়ে যায় যে, হাফেজ ইবনু হাজার (রহঃ) তাখরীজ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন।
وَعَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - تَوَضَّأَ, فَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ, وَعَلَى الْعِمَامَةِ وَالْخُفَّيْنِ. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (274) (83)
৪৬। মুগীরাহ বিন শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করাকালে তাঁর কপাল, পাগড়ি ও মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ মুসলিম (৮৩, ২৭৪)
وَعَنْ جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - فِي صِفَةِ حَجِّ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ صلى الله عليه وسلم: «ابْدَؤُوا بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ». أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ, هَكَذَا بِلَفْظِ الْأَمْرِ وَهُوَ عِنْدَ مُسْلِمٍ بِلَفْظِ الْخَبَرِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. النسائي (536)
مسلم (2/ 888)، أي: بلفظ: «أبدأ» وانظر رقم (742)
৪৭। জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ্জের পদ্ধতি বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘(কুরআনে) আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন তোমরাও (সায়ী) তা দিয়ে শুরু কর। নাসায়ী আদেশমূলক শব্দে বর্ণনা করেছেন।[1] এবং মুসলিমে (এটা বিবৃতি সূচক শব্দ দ্বারা) বর্ণিত হয়েছে।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ নাসায়ী (৫৩৬)
[2] মুসলিম (২/৮৮৮); তিনি ... শব্দে বর্ণনা করেন। দেখুন (৭৪২)
وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا تَوَضَّأَ أَدَارَ الْمَاءَ عَلَى مُرْفَقَيْهِ. أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ بِإِسْنَادِ ضَعِيفٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف جدا. رواه الدارقطني (1/ 15/83)
৪৮। জাবির (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূ করার সময় তাঁর দু কনুই-এর উপর পানি ফিরাতেন।-দারীকুতনী দুর্বল সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] অত্যন্ত দুর্বল। দারাকুতনী (১/১৫/৮৩) এ হাদীসের সনদে কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আকীল মাতরূক। যিয়াউদ্দীন মাকসেদী তাঁর আস সুনান ওয়াল আহকাম (১/৯৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উকাইল রয়েছে। ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেন, তিনি তেমন কেউ নন। আবু হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইমাম যাহাবী তার তানকীহুত তাহকীক (১/৪৭) গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম হচ্ছে মাতরূক। ইমাম যাঈলয়ীও তার তাখরীজুল কাশশাফ (১/৩৮৩) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আল কাফী আশ শাক (৯০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/৮০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আল কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন উকাইল রয়েছে যিনি মাতরূক। ইমাম দারাকুতনীও তাঁর সুনানে (১/২১৫) উক্ত রাবী শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন। ইমাম শওকানী ফাতহুল কাদীর (২/২৭) গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ মাতরূক আর তার দাদা দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম শাওকানী তার সাইলুল জাররার (১/৮৩) গ্রন্থে বলেন, উক্ত রাবীর বিতর্কের বিষয়টি অতি প্রসিদ্ধ। ইমাম তাঁর খুলাসা (১/১০৮) এবং আল মাজমু (১/৩৮৫) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলা সহীহাহ (২০৬৭) গ্রন্থে বলেন, এর আরও সূত্র থাকায় এটি শক্তিশালী হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি সহীহুল জামে (৪৬৯৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।