বুলূগুল মারাম
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ». أَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَابْنُ مَاجَهْ, بِإِسْنَادٍ ضَعِيفٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن بشواهده. رواه أحمد (2/ 418)، وأبو داود (101)، وابن ماجه (399)
৪৯। আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘(উযূর শুরুতে) যে ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ না বলে, তার ওযূ শুদ্ধ হয় না। ইবনু মাজাহ এটি দুর্বল সানাদে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] কতক শাহেদ তথা সমর্থক হাদীস থাকার কারণে হাদীসটি হাসান। আহমাদ (২/৪১৮); আবু দাউদ (১০১), ইবনু মাজাহ (৩৯৯)
وَلِلترْمِذِيِّ: عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
سنن الترمذي (25)
৫০। তিরমিযীতে হাদীসটি সাঈদ বিন যায়দ থেকে বর্ণিত হয়েছে।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সুনান তিরমিযী (২৫)
وَأَبِي سَعِيدٍ نَحْوُهُ
قَالَ أَحْمَدُ: لَا يَثْبُتُ فِيهِ شَيْءٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
العلل الكبير (112 - 113)
كما في «مسائل ابن هانيء» (1/ 16/3) قلت: ولكن الحديث حسن بشواهده، وصححه غير واحد من الحافظ، وقد فصلت القول فيه في الأصل
৫১। আবূ সাঈদ হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন[1]। আহমাদ বলেন, ‘বিসমিল্লাহ বলা প্রসঙ্গে কিছু প্রমাণিত নেই।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আল-ইলালুল কুবরা (১১২-১১৩)
[2] যেমনটি ‘মাসায়েল ইবনু হানী’তে (১/১৬/৩) বর্ণিত হয়েছে। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন; কিন্তু হাদীসটি কতক সমর্থক হাদীস থাকার কারণে সহীহ। হাফেজ ইবনু হাজার ব্যতীত অন্যান্যরা একে সহীহ বলেছেন।
وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم يَفْصِلُ بَيْنَ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادِ ضَعِيفٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (139)
৫২। ত্বালহা বিন মুসরিফ হতে বৰ্ণিত। তিনি (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (কাব বিন ‘আমর হামদানী) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য করতে দেখেছি। (অর্থাৎ দুই কাজে আলাদা আলাদা পানি ব্যবহার করতেন)। আবূ দাউদ এটি দুর্বল সানাদে বর্ণনা করেছেন।”[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ (১৩৯), ইবনুল মুলকিন তাঁর খুলাসা আল বাদারুল মুনীর (১/৩২) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন, আর তিনি একই গ্রন্থে (২/১০৪) এবং তুহফাতুল মুহতাজ (১/১৮২) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি দুর্বল, কেননা প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের নিকট লাইস বিন আবু সুলাইম দুর্বল বর্ণনাকারী হিসেবে পরিগণিত। ইমাম তাঁর খুলাসা (১/১০১) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন আর আল মাজমু (১/৩৮৫) গ্রন্থে বলেছেনঃ এর সনদ শক্তিশালী নয়। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/৮২) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে লাইস বিন আবু সুলাইম রয়েছেন যিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম শওকানী তাঁর সাইলুল জাররার গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটিকে মুসরিফ ওয়ালিদ তলহার অজ্ঞতার কারণে ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হয়। কিন্তু ইবনুস সালাহ এর সনদকে হাসান বলেছেন ........... ।
মুহাদিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসূদ (১/৪০৪), আওনুল মা’বুদ (১/১১৭) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী যঈফ আবু দাউদ (১৩৯) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার তাঁর আত তালখীসুল হাবীর (১/১১৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনেদ লাইস বিন আবু সুলাইম দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে ইয়াহইয়া ইবনুল কাত্তান, ইবনু মুঈন, আহমাদ বিন হাম্বাল পরিত্যাগ করেছেন।
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - فِي صِفَةِ الْوُضُوءِ: ثُمَّ تَمَضْمَضَ - صلى الله عليه وسلم - وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا, يُمَضْمِضُ وَيَنْثِرُ مِنَ الْكَفِّ الَّذِي يَأْخُذُ مِنْهُ الْمَاءَ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو جزء من الحديث المتقدم برقم (34)
৫৩। ‘আলী (রাঃ) হতে উযূর পদ্ধতি সম্বন্ধে বর্ণিত। “অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলি করলেন ও তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক ঝেড়ে নিলেন। তিনি কুলি করা এবং নাক ঝাড়ার কাজ একবার নেয়া পানিতেই সমাধা করলেন। -আবূ দাউদ ও নাসায়ী।”[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] এটি পূর্বের হাদীসের একটি অংশ। হাঃ ৩৪
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ - رضي الله عنه - فِي صِفَةِ الْوُضُوءِ: ثُمَّ أَدْخَلَ - صلى الله عليه وسلم - يَدَهُ, فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدَةٍ, يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. وهو جزء من الحديث المتقدم برقم (35)
৫৪. আবদুল্লাহ বিনা যায়দ (রাঃ) হতে উযূর পদ্ধতি সম্বন্ধে বর্ণিত। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রে হাত প্রবেশ করালেন এবং একবারে নেয়া পানিতেই কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তিনি অনুরূপ তিনবার করলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] এটি পূর্বের হাদীসের একটি অংশ। হাঃ ৩৫
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: رَأَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - رَجُلًا, وَفِي قَدَمِهِ مِثْلُ الظُّفْرِ لَمْ يُصِبْهُ الْمَاءُ. فَقَالَ: «ارْجِعْ فَأَحْسِنْ وُضُوءَكَ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (173) ووهم الحافظ -رحمه الله- في عزوه للنسائي، إذا لم يروه لا في «الكبرى» ولا في «الصغرى» والله أعلم
৫৫। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির পায়ে নখ পরিমাণ জায়গায় উযূর পানি না পৌছা দেখে তাকে বললেন, ‘তুমি ফিরে গিয়ে তোমার উযূকে ভালভাবে সমাধা কর। আবূ দাউদ নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (১৭৩), হাদীসটিকে ইবনু হাজার নাসায়ীর সাথে সম্পৃক্ত করে ভুল করেছেন। কেননা হাদীসটিকে সুনানুল কুবরা ও সুনানুস সুগারাতে পাওয়া যায় না।
وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ, وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (201)، ومسلم (325) (51)
৫৬। উক্ত সাহাবী [আনাস (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ‘মুদ্দ (ছয় শত গ্রাম) পানি দিয়ে উযূ ও এক সা (আড়াই কেজির সামান্য বেশী) থেকে পাঁচ ‘মুদ্দ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন।” (এক সা অর্থাৎ ৪ মুদ্দ বা ২৬৬০ গ্রাম)[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (২০০১); মুসলিম (৫১, ৩২৫)
وَعَنْ عُمَرَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ, فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ, ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ, وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ, إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
وَالتِّرْمِذِيُّ, وَزَادَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ, وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (234) عن عقبة بن عامر قال: كانت علينا رعاية الإبل، فجاءت نوبتي، فروحتها بعشي، فأدركت رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما يحدث الناس، فأدركت من قوله: «ما من مسلم يتوضأ فيحسن وضوءه، ثم يقوم فيصلى ركعتين، مقبل عليهما بقلبه ووجهه، إلا وجبت له الجنة» قال: فقلت: ما أجود هذه، فإذا قاتل بين يدي يقول: التي قبلها أجود، فنظرت فإذا عمر. قال: إني قد رأيتك جئت آنفا، قال: فذكره. وزاد: «الثمانية، يدخل من أيها شاء
سنن الترمذي (55)، وهذه الزيادة التي عند الترمذي لا تصح، كما هو مبين بالأصل
৫৭। ‘উমার (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করবে অতঃপর বলবে- উচ্চারণ : আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু; আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাত তওয়াবীন ওয়াজ আলনী মিনাল মুতাত্বহহিরীন। অর্থঃ ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই, এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল। যে এই দুয়া পাঠ করবে সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে- মুসলিম[1] ও তিরমিযী।
তিরমিযীতে অতিরিক্ত আছে, “হে আল্লাহ আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা হাসিলকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর।” তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেয়া হবে।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (২৩৪)। উকবাহ বিন আমির হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের উপর। উট চরানোর দায়িত্ব ছিল। অতঃপর আমার বিশ্রামের পালা এসে গেল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলতে লক্ষ্য করলাম। আমি এ কথাটুকু শুনতে পেলাম, “কোন মুসলিম যখন উত্তমরূপে অযূ করে গভীর মনোযোগের সাথে দুরাকায়াত সালাত আদায় করে। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। রাবী বলেন, আমি বললাম এটা কতনা উত্তম। আমাকে হঠাৎ করে একজন বলল, এটা পূর্বে থেকেই উত্তম। অতঃপর আমি দেখি যে তিনি উমার (রাঃ)। তিনি বললেন, আমি তো দেখছি যে, তুমি এইমাত্র বুঝতে পেরেছ। তারপর তিনি এ হাদীস শুনালেন। এবং এর সাথে আরো বৃদ্ধি করে বললেন, আটটি দরজার যেকোনটি দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করতে পারবে।
[2] সুনান তিরমিযী (৫৫) , তিরমিযী হতে এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি সহীহ নয়।
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَتَوَضَّأَ, فَأَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ, فَقَالَ: «دَعْهُمَا, فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ» فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (206)، ومسلم (274) (79)
৫৮। মুগীরাহ বিন শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (তাবুকের যুদ্ধে) উপস্থিত ছিলাম। তিনি (ফজরের) সালাতের জন্য উযূ করার সময় আমি তাঁর পায়ের মোজা দুটো খুলে নিতে চাইলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘ও দুটি থাকতে দাও, আমি ওগুলো উযূর অবস্থায় পরেছিলাম। অতঃপর তিনি ঐগুলোর উপর মাসাহ করলেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (২০৬); মুসলিম (৭৯, ২৭৪)
وَلِلْأَرْبَعَةِ عَنْهُ إِلَّا النَّسَائِيَّ: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - مَسَحَ أَعْلَى الْخُفِّ وَأَسْفَلَهُ. وَفِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (165)، والترمذي (97)، وابن ماجه (550) وله عدة علل، وقد ضعفه جمع كثير من الأئمة
৫৯. নাসায়ী ব্যতীত সুনান চতুষ্টয়ে (আবূ দাউদ, তিরমিজি ও ইবনু মাজাহ) বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার মোজার উপরে ও নীচের দিকে মাসাহ করেছিলেন। এটির সানাদ দুর্বল। [1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ (১৬৫) তিরমিযী (৯৭), ইবনু মাজাহ (৫৫০); এ হাদীসে কয়েকটি ত্রুটি আছে। সকল ইমাম এ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনানে (৯৭) ইমাম বুখারী একে বিশুদ্ধ নয় বলেছেন। এবং ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিতে ক্রটির কথা বলেছেন। ইমাম বাগাবী তাঁর আশ শারহুস সুন্নাহ (১/৩৩৩) গ্রন্থে বলেন, عن أبى زرعة و محمد بن اسماعيل ليس بصحيح। ইবনু কাসীর তার ইরশাদুল ফাকীহ (১/৪৬) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, হাদীসটি মুরসালরূপে বৰ্ণিত হয়েছে। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাঁর গায়াতুল মাকসুদ (২/৫২) ও আওনুল মা’বুদ (১/১৪০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাঁর তুহফাতুল আহওয়ায়ী (১/২৩৫) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ বিতর্ক রয়েছে। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (১/২২৪) গ্রন্থে, বিন বায তার হাশিয়া বুলুগুল মারাম (৯০) গ্রন্থে, শাইখ আলবানী যঈফ তিরমিযী (৯৭) ও যঈফ ইবনু মাজাহ (১০৮) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী তার ইলালুল কাবীর (৫৬) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীসটি সহীহ নয়। ইবনু আবদুল বার তার আল ইসতিযকার (১/২৬৯) গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনাকারী সাওর বিন যায়দ তিনি রাজা বিন হুওয়াই থেকে হাদীসটি শুনেননি।
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْيِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلَاهُ, وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِ خُفَّيْهِ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (162)
৬০. ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- ‘দ্বীন যদি কিয়াস বা বুদ্ধির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হত তবে মাসাহ করার ক্ষেত্রে মোজার উপরিভাগে মাসাহ করার চেয়ে নীচের দিক মাসাহ করাই উত্তম (গন্য) হত। অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছি। -আবূ দাউদ এটিকে হাসান সানাদে বর্ণনা করেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] সহীহ্ আবু দাউদ (১৬২)
وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفْرًا أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهِنَّ, إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ، وَلَكِنْ مِنْ غَائِطٍ, وَبَوْلٍ, وَنَوْمٍ. أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَاللَّفْظُ لَهُ, وَابْنُ خُزَيْمَةَ وَصَحَّحَاهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه النسائي (1/ 83 - 84)، والترمذي (96)، وابن خزيمة (196)، وقال الترمذي: حسن صحيح
৬১। সাফওয়ান বিন ‘আসসাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ দিতেন যে, ‘আমরা যেন সফরে থাকাবস্থায় তিন দিন তিন রাত জানাবত (ফরয গোসলের কারণ) ব্যতীত মোজা না খুলি; এমনকি প্রস্রাব পায়খানা ও ঘুমের পরও নয়। শব্দগুলো তিরমিযী ও ইবনু খুযাইমাহর। দুজনেই এটাকে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। নাসায়ী (১/৮৩-৮৪); তিরমিযী (৯৬); ইবনু খুযাইমাহ (১৯৬); ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাসান সহীহ।
وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضي الله عنه - قَالَ: جَعَلَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ, وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ. يَعْنِي: فِي الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ. أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه مسلم (276) من طريق شريح بن هانيء، قال: أتيت عائشة أسألها عن المسح على الخفين؟ فقالت: عليك بابن أبي طالب فسله، فإنه كان يسافر مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. فسألناه فقال: فذكره دون قوله: يعني في المسح على الخفين، فإن هذه الجملة من صياغة الحافظ
৬২। ‘আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফির ব্যক্তির পক্ষে তিন দিন তিন রাত ও মুকিম ব্যক্তির পক্ষে এক দিন এক রাত নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ মোজার উপর মাসাহ করার সময়কাল।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] মুসলিম (২৭৬) শুরাইহ বিন হানীর সূত্রে। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) কে মোজার উপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এলাম। তিনি বললেন, তুমি ইবনু আবী তালিবকে বল কেননা সে আল্লাহর রাসূলের সাথে সফর করতো। অতঃপর আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তার উত্তরে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে في المسح على الخفين ব্যতীত বর্ণনা করেন।
وَعَنْ ثَوْبَانَ - رضي الله عنه - قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - سَرِيَّةً, فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَمْسَحُوا عَلَى الْعَصَائِبِ - يَعْنِي: الْعَمَائِمَ - وَالتَّسَاخِينِ- يَعْنِي: الْخِفَافَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أحمد (577)، وأبو داود (146)، والحاكم (169)، وقد أعل الحديث بما لا يقدح
৬৩। সওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট্ট সৈন্য বাহিনী প্রেরণ করেন। তাদেরকে পাগড়ি ও চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করতে জন্য আদেশ করেন। হাকিম একে সহীহ বলেছেন।[1]”
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আহমাদ (৫৭৭); আবু দাউদ (১৪৬); হাকিম (১৬৯); এ হাদীসের ত্রুটি বর্ণনা করা হলেও তা ক্ষতিকর নয়।
وَعَنْ عُمَرَ - مَوْقُوفًا - وَ [عَنْ] أَنَسٍ - مَرْفُوعًا: «إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ وَلَبِسَ خُفَّيْهِ فَلْيَمْسَحْ عَلَيْهِمَا, وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا, وَلَا يَخْلَعْهُمَا إِنْ شَاءَ إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ». أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَالْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
انظر الدارقطني (103 - 204)، والحاكم (181)
৬৪। ‘উমার (রাঃ) হতে মাওকুফভাবে এবং আনাস (রাঃ) হতে মারফূরূপে বৰ্ণিত হয়েছে, “তোমাদের কেউ যখন উযূ অবস্থায় মোজা পরবে সে ইচ্ছা করলে জানাবাত বা অপবিত্রতা ছাড়া মোজা না খুলে তার উপর মাসাহ করবে ও সালাত আদায় করবে; তবে গোসল করা হলে মোজা খুলতে হবে।” -দারাকুৎনী, হাকিম। হাকিম এটিকে সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] দারাকুতনী (১০৩-২০৪); হাকিম (১৮২)
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم: «أَنَّهُ رَخَّصَ لِلْمُسَافِرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ, وَلِلْمُقِيمِ يَوْمًا وَلَيْلَةً, إِذَا تَطَهَّرَ فَلَبِسَ خُفَّيْهِ: أَنْ يَمْسَحَ عَلَيْهِمَا. أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
حسن. رواه الدارقطني (194)، وابن خزيمة (192)، وهو وإن كان ضعيف السند، إلا أن له شواهد ذكرتها «بالأصل» ومن أجل ذلك حسنة البخاري، كما نقل عنه الترمذي في العلل
৬৫। আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন; “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফির ব্যক্তিকে তিন দিন তিন রাত আর মুকীম (স্থানীয়) ব্যক্তিকে এক দিন এক রাত মোজার উপর মাসাহ করতে অনুমতি প্ৰদান করেছেন, যদি সে উযূ অবস্থায় মোজা পরিধান করে থাকে।” দারাকুৎনী, আর একে ইবনু খুযাইমাহ সহীহ বলেছেন।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] হাসান। দারাকুতনী; ইবনু খুযাইমাহ (১৯২); এ হাদীসটি দুর্বল হলেও এর কয়েকটি সমর্থক হাদীস থাকার কারণে ইমাম বুখারী হাসান বলেছেন এবং ইমাম তিরমিযী তাঁর ইলাল গ্রন্থে অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।
وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ عِمَارَةَ - رضي الله عنه - أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ? قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: يَوْمًا? قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَيَوْمَيْنِ? قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَثَلَاثَةً? قَالَ: «نَعَمْ, وَمَا شِئْتَ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَقَالَ: لَيْسَ بِالْقَوِيِّ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
ضعيف. رواه أبو داود (158)
৬৬। ‘উবাই বিন ‘ইমারাহ (রাঃ) হতে বৰ্ণিত। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) আরয করলেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমি কি মোজার উপর মাসাহ করতে পারি? তিনি বললেন, “হাঁ; তিনি (সাহাবী) বললেন, “দুদিন পর্যন্ত করতে পারি?” তিনি বললেন, ‘হাঁ। তিনি (সাহাবী) বললেন, ‘তিনদিন পর্যন্ত করতে পারি?” তিনি বললেন, “হাঁ” আর তুমি যে কদিন ইচ্ছে কর।” আবূ দাউদের এ বর্ণনা মজবুত নয়।[1]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] যঈফ। আবু দাউদ (১৫৮), শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী যঈফ আবু দাউদ (১৫৮) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। মুহাদিস আযীমাবাদী তার আওনুল মা’বুদ (১/১৩৪) গ্রন্থে বলেন, বর্ণনার অজ্ঞতার কারণে এটি শক্তিশালী নয়। তাছাড়া ইয়াহইয়া বিন আইয়ুবকে নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর তাহযীবুস সুনান (১/২৬৬) গ্রন্থে বলেন, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুবকে নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আর আবদুর রহমান, মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ ও আইয়ুব বিন ক্বাতান সকলেই অপরিচিত বৰ্ণনাকারী।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - عَلَى عَهْدِهِ - يَنْتَظِرُونَ الْعِشَاءَ حَتَّى تَخْفِقَ رُؤُوسُهُمْ, ثُمَّ يُصَلُّونَ وَلَا يَتَوَضَّئُونَ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ
وَأَصْلُهُ فِي مُسْلِمٍ
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه أبو داود (200)، والدارقطني (1/ 131/3) وقال الدارقطني: صحيح
مسلم (376) ولفظه: كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينامون. ثم يصلون ولا يتوضأون. وله روايات أخرى ذكرتها بالأصل
৬৭। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তাঁর সহাবাগণ ‘ইশার সালাতের জামাআতের জন্য অপেক্ষায় থাকতেন। আর নিদ্রায় তাদের মাথা ঝুঁকে ঝুঁকে হেলে পড়ত, তারপরও তাঁরা পুনরায় উযূ না করেই সালাত আদায় করতেন”। আবূ দাউদ এবং দারাকুৎনী একে সহীহ বলেছেন;”[1] মুসলিমে এর মূল বর্ণনা রয়েছে।[2]
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] আবু দাউদ (২০০); দারাকুতনী (১/১৩১/৩); দারাকুতনী সহীহ বলেছেন।
[2] মুসলিম (৩৭৬) মুসলিমের শব্দ হচ্ছে كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينامون. ثم يصلون ولا يتوضأون রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণ ঘুমাতেন। অতঃপর সালাত আদায় করতেন তবে অযূ করতেন না।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلَا أَطْهُرُ, أَفَأَدَعُ الصَّلَاةَ? قَالَ: «لَا. إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ, وَلَيْسَ بِحَيْضٍ, فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلَاةَ, وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ, ثُمَّ صَلِّي». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَلِلْبُخَارِيِّ: ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ
وَأَشَارَ مُسْلِمٌ إِلَى أَنَّهُ حَذَفَهَا عَمْدًا
تحقيق وتخريج وتعليق: سمير بن أمين الزهيري
صحيح. رواه البخاري (328)، ومسلم (333)
(1/ 332/فتح)
৬৮। ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতে আবী হুবাইশ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন রক্ত-প্রদর রোগগ্ৰস্তা (ইস্তিহাযা) মহিলা। আমি কখনো পবিত্র হতে পারি না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত পরিত্যাগ করবো? আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, এতো শিরা হতে নির্গত রক্ত; হায়য নয়। তাই যখন তোমার হায়য আসবে তখন সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে।[1]
বুখারীর ইবারতে আছে- “প্রতি ওয়াক্তের সালাত আদায়ের জন্য উযূ করে নিবে।[2]” ইমাম মুসলিম এ অংশটি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে আভাস দিয়েছেন।
তাহক্বীক ও তাখরীজঃ শায়খ সামীর বিন আমীন আয যুহায়রী
[1] বুখারী (৩২৮); মুসলিম (৩৩৩)
[2] ফাতহুল বারী (১/৩৩২)